শিরোনাম

এশিয়া থেকে শেষ বিমানবাহী রণতরীও সরাচ্ছে পেন্টাগন

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
এশিয়া থেকে শেষ বিমানবাহী রণতরীও সরাচ্ছে পেন্টাগন
মার্কিন বিমিনবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন

ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সামরিক অভিযানের জেরে মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের উপস্থিতি জোরদার রাখতে গিয়ে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে নিজেদের রণতরী সরিয়ে ফেলতে হচ্ছে ওয়াশিংটনকে। আগে থেকে মোতায়েন করা ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের মেয়াদ বাড়ানোর পর এবার ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে। তবে দীর্ঘদিন সমুদ্রে অবস্থান করায় সেনাসদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য ও রসদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে পেন্টাগনে উদ্বেগ বাড়ছে। অন্যদিকে প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন উপস্থিতি সাময়িকভাবে কমে যাওয়ায় এ অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের নতুন সুযোগ হিসেবে দেখছে চীন।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া প্রোগ্রামের পরিচালক গ্রেগ পোলিং মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিজস্ব ঘোষিত নীতির ঠিক বিপরীত কাজ করছে। ট্রাম্প প্রশাসন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে নজর দেওয়ার কথা বললেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতেই আটকে যাচ্ছে। ফলে এ অঞ্চলের মার্কিন মিত্রদের দুশ্চিন্তায় পড়েছে। হাডসন ইনস্টিটিউটের সামরিক বিশেষজ্ঞ ব্রায়ান ক্লার্কের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরে যুদ্ধজাহাজের শূন্যতাকে কাজে লাগিয়ে বেইজিং প্রতিবেশীদের বোঝাতে চাইছে এ অঞ্চলে একক শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব নেই। ফিলিপাইন, জাপান বা ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোকে চীন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে টানার চেষ্টা করছে।

এমন পরিস্থিতিতে মিত্রদের আশ্বস্ত করতে সম্প্রতি ম্যানিলা সফর করেছেন মার্কিন স্পেশাল অপারেশনস কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ফ্র্যাঙ্ক ​​ব্র্যাডলি। তিনি ফিলিপাইনকে যৌথ সামরিক মহড়া বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাশাপাশি একই বার্তা নিয়ে জাপানেও যাচ্ছেন। ক্যাটো ইনস্টিটিউটের গবেষক ইভান স্যাঙ্কি বলছেন, এ রণতরীগুলো মিত্রদের জন্য একটি মনস্তাত্ত্বিক ভরসা। তাই এগুলো সরিয়ে নেওয়া মানেই এ প্রকাশ হয় যে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে বিভ্রান্ত।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সামরিক অভিযানগুলোতে বিমানবাহী রণতরীর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ১১ মাসের দীর্ঘ মোতায়েন শেষে ফেরা ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর দীর্ঘতম সময় সমুদ্রে কাটায়। ইরানবিরোধী মিশন ও ভেনিজুয়েলার সাবেক নেতা নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের অভিযানে যুক্ত থাকার পর জাহাজটির লন্ড্রি বিভাগে আগুন লাগায় নাবিকরা মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েন। এছাড়া টানা ২৪০ দিনের বেশি সময় ধরে সমুদ্রে থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন জাহাজের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে তদন্ত দাবি করেছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। কেন্টাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রবার্ট ফার্লি বলেছেন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পাওয়ায় কর্মীদের কাজের সর্বোচ্চ কর্মদক্ষতা ক্রমেই কমে যাচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদী ইরান যুদ্ধের পূর্বাভাস ও পরিকল্পনার অভাবেই এ সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নৌবাহিনীর হাতে থাকা ১১টি বিমানবাহী রণতরীর মধ্যে সাধারণত দুই-তিনটি মোতায়েন থাকে। তবে সান ডিয়েগো থেকে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট রওনা হলে মোতায়েন সংখ্যা চারে পৌঁছাতে পারে। কিন্তু এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের শিপইয়ার্ডগুলোতে বিশাল রক্ষণাবেক্ষণ জট তৈরি হবে। ফলে আগামী বছরগুলোতে সাগরে রণতরীর সংখ্যা আরও কমিয়ে দিতে পারে। এর বাইরে, দ্রুত পরিবর্তনশীল যুদ্ধরীতির যুগে বিশেষজ্ঞরা বিশালাকার এই রণতরীগুলোর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, কারণ আধুনিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে এগুলো সহজ লক্ষ্যবস্তু। মার্কিন নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডলও স্বীকার করেছেন, সবসময় বিশাল রণতরীর ওপর ভরসা না করে ছোট ও নতুন প্রজন্মের যুদ্ধজাহাজ ব্যবহারের দিকেই তাদের কৌশল রূপান্তর করা প্রয়োজন।

সূত্র: এনডিটিভি

/এমএকে/