প্রকল্প অনুমোদনের আগেই রমনা পার্কে মসজিদ!

প্রকল্প অনুমোদনের আগেই রমনা পার্কে মসজিদ!
সেলিনা আক্তার

সচিব রমনা পার্কে নিয়মিত হাঁটেন। তাই উনার চাহিদামতো সেখানে রাতারাতি তৈরি করা হলো একটি মসজিদ। কিন্তু বিপত্তি বাধে প্রচলিত আইনে। যে প্রকল্পের নাম দিয়ে কয়েক কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে সেটি তখনও সরকারের কোনো পর্যায়ে অনুমোদন হয়নি।
প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হওয়া এই মসজিদ নিয়ে এখন বিপাকে পড়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কুশলী নির্মাতা লিমিটেড। একাধিক প্রকৌশলী অভিযোগ করে বলেন, রমনা পার্ক ঘিরে ৪টি মসজিদ থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন প্রভাবশালী গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিনের একক আগ্রহে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই মূলত সচিবকে খুশি করতে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। আর এ জন্য তারা পরবর্তীতে আগারগাঁও এলাকায় পূর্তের ১০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ের কাজ বাগিয়ে নেন। এখন মসজিদের নির্মাণে ব্যয় হওয়া অর্থ পেতে তৎপরতা চালাচ্ছে কুলশী নির্মাতা লিমিটেড।
গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীসহ দায়িত্বশীল কয়েকজন কর্মকর্তা আমাকে অনুরোধ করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে, আপনি নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ড্রইং-ডিজাইন সবকিছু স্থাপত্য অধিদপ্তর থেকেই দেওয়া হয়েছিল। তাদের কথায় আস্থা রেখে আমি কোনো কার্যাদেশ ছাড়াই কাজটি সম্পন্ন করেছি। যেহেতু আমি এই সংস্থার (গণপূর্ত অধিদপ্তর) নিয়মিত ঠিকাদার তাই তাদের অনুরোধে কাজটি করে ফেলেছি
রফিকুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কুশলী নির্মাতা লিমিটেড
পূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সার্কিট হাউজ এলাকায় সরকারি বাংলোতে বসবাস করতেন সাবেক পূর্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন। গোপালগঞ্জের বাসিন্দা এই কর্মকর্তা পূর্ত মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত চাকরির পরও চুক্তিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। আর এদিকে রমনা পার্ক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। ফলে পার্কের নানা বিষয়েই নিয়মিত হস্তক্ষেপ করাই ছিলো তার অন্যতম কাজ। একপর্যায়ে পার্কে একটি অংশে একটি মসজিদ নির্মাণের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। তার সেই ইচ্ছা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেন গণপূর্তের তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জামিলুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। তাদের তদারকিতেই কোনো অনুমোদিত প্রকল্প বা কার্যাদেশ ছাড়াই মাত্র তিন মাসে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে মসজিদটি নির্মাণ করে কুশলী নির্মাতা লিমিটেড।
অভিযোগ রয়েছে, মসজিদ নির্মাণে ব্যয় হওয়া অর্থের ‘ক্ষতিপূরণ’ হিসেবে পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কুশলী লিমিটেডকে আগারগাঁও সমন্বিত অফিস কমপ্লেক্স নির্মাণের শতকোটি টাকার অধিক একটি প্রকল্পের কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) কুশলী নির্মাতা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেন এই প্রতিনিধি। তিনি সিটিজেন জার্নাল বলেন, ‘গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীসহ দায়িত্বশীল কয়েকজন কর্মকর্তা আমাকে অনুরোধ করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে, আপনি নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ড্রইং-ডিজাইন সবকিছু স্থাপত্য অধিদপ্তর থেকেই দেওয়া হয়েছিল। তাদের কথায় আস্থা রেখে আমি কোনো কার্যাদেশ ছাড়াই কাজটি সম্পন্ন করেছি। যেহেতু আমি এই সংস্থার (গণপূর্ত অধিদপ্তর) নিয়মিত ঠিকাদার তাই তাদের অনুরোধে কাজটি করে ফেলেছি।’
প্রকল্প অনুমোদন পাওয়ার আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে কাজ করিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থা অর্থাৎ পূর্ত অধিদপ্তর বিদ্যমান আইন লঙ্ঘন করেছে। রমনা পার্কের মতো পাবলিক প্লেসে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করার জন্য অবশ্যই রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকে নকশা পাশ করিয়ে নিতে হবে। তা না করে সেখানে মসজিদ নির্মাণ করে পূর্ত অধিদপ্তর আরেক দফা আইনের লঙ্ঘন করেছে
অধ্যাপক ড. আদিল মাহমুদ খান, সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য আমরা যোগাযোগ করি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মাহমুদ খানের সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রকল্প অনুমোদন পাওয়ার আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে কাজ করিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থা অর্থাৎ পূর্ত অধিদপ্তর বিদ্যমান আইন লঙ্ঘন করেছে। রমনা পার্কের মতো পাবলিক প্লেসে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করার জন্য অবশ্যই রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকে নকশা পাশ করিয়ে নিতে হবে। তা না করে সেখানে মসজিদ নির্মাণ করে পূর্ত অধিদপ্তর আরেক দফা আইনের লঙ্ঘন করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, জাতীয় টেনিস কমপ্লেক্স সংলগ্ন রমনা পার্কের গেট দিয়ে বা দিকে কয়েক মিটার হেঁটে গেলেই চোখে পড়ে রমনা পার্কের অংশে একটি মসজিদ। মসজিদের বাঁ পাশে তাকালে দেখা যায়, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকার পেছনের অংশ, আর বিপরীত দিকে রয়েছে রমনা পার্কের ফিটনেস সেন্টার। দুই তলাবিশিষ্ট মসজিদটির জায়গায়ও আগেও অস্থায়ীভাবে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা ছিল। বর্তমানে মসজিদের পাশে ভিত্তিস্তরে বসেনি উদ্ভোধনী ফলক।
রমনা পার্কে দীর্ঘদিন ধরে মালি হিসেবে কাজ করেন মো. রফিক। তিনি গত মঙ্গলবার (২ জুন) সিটিজেন জার্নালকে জানান, এখানে আগেও একটি নামাজের জন্য স্থাপনা ছিল। সেটি ভেঙে বছর দুয়েক আগে নতুন করে এই মসজিদ নির্মাণ করা হয়। মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসা তামিম হাসান নামের একজন বলেন, ‘আগে খোলামেলা নামাজের জন্য খোলামলো একতলার মতো একটি স্থাপনা ছিল। সেটি বর্তমানটির তুলনায় ভালো ছিল।’

জানা গেছে, রমনা পার্কে মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদনের জন্য পাঠানো ফাইল তৎকালীন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের কাছে গেলে তিনি সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়ার আগেই মসজিদ নির্মাণের কাজ প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেছে কুশলী নির্মাতা লিমিটেড। পরে তিনি প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে ফাইলটি ফেরত পাঠান। সেইসঙ্গে ফাইলে তিনি প্রশ্ন তুলেন, পার্ক ও পার্ক সংলগ্ণ কাকরাইল, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন এবং শাহবাগে মোট ৪টি মসজিদ থাকার পরও কেন নতুন করে আবার মসজিদ নির্মাণ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা কী।
শুধু এই প্রকল্পই নয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কুশলী নির্মাতা লিমিটেডের বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজ-সংক্রান্ত একাধিক ফাইল গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হলেও সেগুলো ফেরত আসে। সংশ্লিষ্টরা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করে প্রতিষ্ঠানটি অস্বাভাবিক পরিমাণ সরকারি কাজ বাগিয়ে নিয়েছিল। সে কারণেই তাদের বিভিন্ন প্রকল্প নতুন করে যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় আনা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে বিস্তারিত বার্তা পাঠানো হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে মসজিদ নির্মাণের সময় নগর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা মাহবুবুর রহমানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সার্বিক বিষয়ে জানতে পূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

সচিব রমনা পার্কে নিয়মিত হাঁটেন। তাই উনার চাহিদামতো সেখানে রাতারাতি তৈরি করা হলো একটি মসজিদ। কিন্তু বিপত্তি বাধে প্রচলিত আইনে। যে প্রকল্পের নাম দিয়ে কয়েক কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে সেটি তখনও সরকারের কোনো পর্যায়ে অনুমোদন হয়নি।
প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হওয়া এই মসজিদ নিয়ে এখন বিপাকে পড়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কুশলী নির্মাতা লিমিটেড। একাধিক প্রকৌশলী অভিযোগ করে বলেন, রমনা পার্ক ঘিরে ৪টি মসজিদ থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন প্রভাবশালী গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিনের একক আগ্রহে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই মূলত সচিবকে খুশি করতে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। আর এ জন্য তারা পরবর্তীতে আগারগাঁও এলাকায় পূর্তের ১০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ের কাজ বাগিয়ে নেন। এখন মসজিদের নির্মাণে ব্যয় হওয়া অর্থ পেতে তৎপরতা চালাচ্ছে কুলশী নির্মাতা লিমিটেড।
গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীসহ দায়িত্বশীল কয়েকজন কর্মকর্তা আমাকে অনুরোধ করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে, আপনি নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ড্রইং-ডিজাইন সবকিছু স্থাপত্য অধিদপ্তর থেকেই দেওয়া হয়েছিল। তাদের কথায় আস্থা রেখে আমি কোনো কার্যাদেশ ছাড়াই কাজটি সম্পন্ন করেছি। যেহেতু আমি এই সংস্থার (গণপূর্ত অধিদপ্তর) নিয়মিত ঠিকাদার তাই তাদের অনুরোধে কাজটি করে ফেলেছি
রফিকুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কুশলী নির্মাতা লিমিটেড
পূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সার্কিট হাউজ এলাকায় সরকারি বাংলোতে বসবাস করতেন সাবেক পূর্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন। গোপালগঞ্জের বাসিন্দা এই কর্মকর্তা পূর্ত মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত চাকরির পরও চুক্তিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। আর এদিকে রমনা পার্ক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। ফলে পার্কের নানা বিষয়েই নিয়মিত হস্তক্ষেপ করাই ছিলো তার অন্যতম কাজ। একপর্যায়ে পার্কে একটি অংশে একটি মসজিদ নির্মাণের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। তার সেই ইচ্ছা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেন গণপূর্তের তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জামিলুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। তাদের তদারকিতেই কোনো অনুমোদিত প্রকল্প বা কার্যাদেশ ছাড়াই মাত্র তিন মাসে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে মসজিদটি নির্মাণ করে কুশলী নির্মাতা লিমিটেড।
অভিযোগ রয়েছে, মসজিদ নির্মাণে ব্যয় হওয়া অর্থের ‘ক্ষতিপূরণ’ হিসেবে পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কুশলী লিমিটেডকে আগারগাঁও সমন্বিত অফিস কমপ্লেক্স নির্মাণের শতকোটি টাকার অধিক একটি প্রকল্পের কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) কুশলী নির্মাতা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেন এই প্রতিনিধি। তিনি সিটিজেন জার্নাল বলেন, ‘গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীসহ দায়িত্বশীল কয়েকজন কর্মকর্তা আমাকে অনুরোধ করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে, আপনি নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ড্রইং-ডিজাইন সবকিছু স্থাপত্য অধিদপ্তর থেকেই দেওয়া হয়েছিল। তাদের কথায় আস্থা রেখে আমি কোনো কার্যাদেশ ছাড়াই কাজটি সম্পন্ন করেছি। যেহেতু আমি এই সংস্থার (গণপূর্ত অধিদপ্তর) নিয়মিত ঠিকাদার তাই তাদের অনুরোধে কাজটি করে ফেলেছি।’
প্রকল্প অনুমোদন পাওয়ার আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে কাজ করিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থা অর্থাৎ পূর্ত অধিদপ্তর বিদ্যমান আইন লঙ্ঘন করেছে। রমনা পার্কের মতো পাবলিক প্লেসে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করার জন্য অবশ্যই রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকে নকশা পাশ করিয়ে নিতে হবে। তা না করে সেখানে মসজিদ নির্মাণ করে পূর্ত অধিদপ্তর আরেক দফা আইনের লঙ্ঘন করেছে
অধ্যাপক ড. আদিল মাহমুদ খান, সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য আমরা যোগাযোগ করি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মাহমুদ খানের সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রকল্প অনুমোদন পাওয়ার আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে কাজ করিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থা অর্থাৎ পূর্ত অধিদপ্তর বিদ্যমান আইন লঙ্ঘন করেছে। রমনা পার্কের মতো পাবলিক প্লেসে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করার জন্য অবশ্যই রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকে নকশা পাশ করিয়ে নিতে হবে। তা না করে সেখানে মসজিদ নির্মাণ করে পূর্ত অধিদপ্তর আরেক দফা আইনের লঙ্ঘন করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, জাতীয় টেনিস কমপ্লেক্স সংলগ্ন রমনা পার্কের গেট দিয়ে বা দিকে কয়েক মিটার হেঁটে গেলেই চোখে পড়ে রমনা পার্কের অংশে একটি মসজিদ। মসজিদের বাঁ পাশে তাকালে দেখা যায়, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকার পেছনের অংশ, আর বিপরীত দিকে রয়েছে রমনা পার্কের ফিটনেস সেন্টার। দুই তলাবিশিষ্ট মসজিদটির জায়গায়ও আগেও অস্থায়ীভাবে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা ছিল। বর্তমানে মসজিদের পাশে ভিত্তিস্তরে বসেনি উদ্ভোধনী ফলক।
রমনা পার্কে দীর্ঘদিন ধরে মালি হিসেবে কাজ করেন মো. রফিক। তিনি গত মঙ্গলবার (২ জুন) সিটিজেন জার্নালকে জানান, এখানে আগেও একটি নামাজের জন্য স্থাপনা ছিল। সেটি ভেঙে বছর দুয়েক আগে নতুন করে এই মসজিদ নির্মাণ করা হয়। মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসা তামিম হাসান নামের একজন বলেন, ‘আগে খোলামেলা নামাজের জন্য খোলামলো একতলার মতো একটি স্থাপনা ছিল। সেটি বর্তমানটির তুলনায় ভালো ছিল।’

জানা গেছে, রমনা পার্কে মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদনের জন্য পাঠানো ফাইল তৎকালীন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের কাছে গেলে তিনি সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়ার আগেই মসজিদ নির্মাণের কাজ প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেছে কুশলী নির্মাতা লিমিটেড। পরে তিনি প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে ফাইলটি ফেরত পাঠান। সেইসঙ্গে ফাইলে তিনি প্রশ্ন তুলেন, পার্ক ও পার্ক সংলগ্ণ কাকরাইল, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন এবং শাহবাগে মোট ৪টি মসজিদ থাকার পরও কেন নতুন করে আবার মসজিদ নির্মাণ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা কী।
শুধু এই প্রকল্পই নয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কুশলী নির্মাতা লিমিটেডের বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজ-সংক্রান্ত একাধিক ফাইল গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হলেও সেগুলো ফেরত আসে। সংশ্লিষ্টরা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করে প্রতিষ্ঠানটি অস্বাভাবিক পরিমাণ সরকারি কাজ বাগিয়ে নিয়েছিল। সে কারণেই তাদের বিভিন্ন প্রকল্প নতুন করে যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় আনা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে বিস্তারিত বার্তা পাঠানো হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে মসজিদ নির্মাণের সময় নগর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা মাহবুবুর রহমানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সার্বিক বিষয়ে জানতে পূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

প্রকল্প অনুমোদনের আগেই রমনা পার্কে মসজিদ!
সেলিনা আক্তার

সচিব রমনা পার্কে নিয়মিত হাঁটেন। তাই উনার চাহিদামতো সেখানে রাতারাতি তৈরি করা হলো একটি মসজিদ। কিন্তু বিপত্তি বাধে প্রচলিত আইনে। যে প্রকল্পের নাম দিয়ে কয়েক কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে সেটি তখনও সরকারের কোনো পর্যায়ে অনুমোদন হয়নি।
প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হওয়া এই মসজিদ নিয়ে এখন বিপাকে পড়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কুশলী নির্মাতা লিমিটেড। একাধিক প্রকৌশলী অভিযোগ করে বলেন, রমনা পার্ক ঘিরে ৪টি মসজিদ থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন প্রভাবশালী গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিনের একক আগ্রহে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই মূলত সচিবকে খুশি করতে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। আর এ জন্য তারা পরবর্তীতে আগারগাঁও এলাকায় পূর্তের ১০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ের কাজ বাগিয়ে নেন। এখন মসজিদের নির্মাণে ব্যয় হওয়া অর্থ পেতে তৎপরতা চালাচ্ছে কুলশী নির্মাতা লিমিটেড।
গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীসহ দায়িত্বশীল কয়েকজন কর্মকর্তা আমাকে অনুরোধ করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে, আপনি নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ড্রইং-ডিজাইন সবকিছু স্থাপত্য অধিদপ্তর থেকেই দেওয়া হয়েছিল। তাদের কথায় আস্থা রেখে আমি কোনো কার্যাদেশ ছাড়াই কাজটি সম্পন্ন করেছি। যেহেতু আমি এই সংস্থার (গণপূর্ত অধিদপ্তর) নিয়মিত ঠিকাদার তাই তাদের অনুরোধে কাজটি করে ফেলেছি
রফিকুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কুশলী নির্মাতা লিমিটেড
পূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সার্কিট হাউজ এলাকায় সরকারি বাংলোতে বসবাস করতেন সাবেক পূর্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন। গোপালগঞ্জের বাসিন্দা এই কর্মকর্তা পূর্ত মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত চাকরির পরও চুক্তিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। আর এদিকে রমনা পার্ক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। ফলে পার্কের নানা বিষয়েই নিয়মিত হস্তক্ষেপ করাই ছিলো তার অন্যতম কাজ। একপর্যায়ে পার্কে একটি অংশে একটি মসজিদ নির্মাণের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। তার সেই ইচ্ছা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেন গণপূর্তের তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জামিলুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। তাদের তদারকিতেই কোনো অনুমোদিত প্রকল্প বা কার্যাদেশ ছাড়াই মাত্র তিন মাসে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে মসজিদটি নির্মাণ করে কুশলী নির্মাতা লিমিটেড।
অভিযোগ রয়েছে, মসজিদ নির্মাণে ব্যয় হওয়া অর্থের ‘ক্ষতিপূরণ’ হিসেবে পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কুশলী লিমিটেডকে আগারগাঁও সমন্বিত অফিস কমপ্লেক্স নির্মাণের শতকোটি টাকার অধিক একটি প্রকল্পের কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) কুশলী নির্মাতা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেন এই প্রতিনিধি। তিনি সিটিজেন জার্নাল বলেন, ‘গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীসহ দায়িত্বশীল কয়েকজন কর্মকর্তা আমাকে অনুরোধ করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে, আপনি নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ড্রইং-ডিজাইন সবকিছু স্থাপত্য অধিদপ্তর থেকেই দেওয়া হয়েছিল। তাদের কথায় আস্থা রেখে আমি কোনো কার্যাদেশ ছাড়াই কাজটি সম্পন্ন করেছি। যেহেতু আমি এই সংস্থার (গণপূর্ত অধিদপ্তর) নিয়মিত ঠিকাদার তাই তাদের অনুরোধে কাজটি করে ফেলেছি।’
প্রকল্প অনুমোদন পাওয়ার আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে কাজ করিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থা অর্থাৎ পূর্ত অধিদপ্তর বিদ্যমান আইন লঙ্ঘন করেছে। রমনা পার্কের মতো পাবলিক প্লেসে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করার জন্য অবশ্যই রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকে নকশা পাশ করিয়ে নিতে হবে। তা না করে সেখানে মসজিদ নির্মাণ করে পূর্ত অধিদপ্তর আরেক দফা আইনের লঙ্ঘন করেছে
অধ্যাপক ড. আদিল মাহমুদ খান, সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য আমরা যোগাযোগ করি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মাহমুদ খানের সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রকল্প অনুমোদন পাওয়ার আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে কাজ করিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থা অর্থাৎ পূর্ত অধিদপ্তর বিদ্যমান আইন লঙ্ঘন করেছে। রমনা পার্কের মতো পাবলিক প্লেসে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করার জন্য অবশ্যই রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকে নকশা পাশ করিয়ে নিতে হবে। তা না করে সেখানে মসজিদ নির্মাণ করে পূর্ত অধিদপ্তর আরেক দফা আইনের লঙ্ঘন করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, জাতীয় টেনিস কমপ্লেক্স সংলগ্ন রমনা পার্কের গেট দিয়ে বা দিকে কয়েক মিটার হেঁটে গেলেই চোখে পড়ে রমনা পার্কের অংশে একটি মসজিদ। মসজিদের বাঁ পাশে তাকালে দেখা যায়, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকার পেছনের অংশ, আর বিপরীত দিকে রয়েছে রমনা পার্কের ফিটনেস সেন্টার। দুই তলাবিশিষ্ট মসজিদটির জায়গায়ও আগেও অস্থায়ীভাবে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা ছিল। বর্তমানে মসজিদের পাশে ভিত্তিস্তরে বসেনি উদ্ভোধনী ফলক।
রমনা পার্কে দীর্ঘদিন ধরে মালি হিসেবে কাজ করেন মো. রফিক। তিনি গত মঙ্গলবার (২ জুন) সিটিজেন জার্নালকে জানান, এখানে আগেও একটি নামাজের জন্য স্থাপনা ছিল। সেটি ভেঙে বছর দুয়েক আগে নতুন করে এই মসজিদ নির্মাণ করা হয়। মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসা তামিম হাসান নামের একজন বলেন, ‘আগে খোলামেলা নামাজের জন্য খোলামলো একতলার মতো একটি স্থাপনা ছিল। সেটি বর্তমানটির তুলনায় ভালো ছিল।’

জানা গেছে, রমনা পার্কে মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদনের জন্য পাঠানো ফাইল তৎকালীন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের কাছে গেলে তিনি সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়ার আগেই মসজিদ নির্মাণের কাজ প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেছে কুশলী নির্মাতা লিমিটেড। পরে তিনি প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে ফাইলটি ফেরত পাঠান। সেইসঙ্গে ফাইলে তিনি প্রশ্ন তুলেন, পার্ক ও পার্ক সংলগ্ণ কাকরাইল, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন এবং শাহবাগে মোট ৪টি মসজিদ থাকার পরও কেন নতুন করে আবার মসজিদ নির্মাণ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা কী।
শুধু এই প্রকল্পই নয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কুশলী নির্মাতা লিমিটেডের বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজ-সংক্রান্ত একাধিক ফাইল গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হলেও সেগুলো ফেরত আসে। সংশ্লিষ্টরা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করে প্রতিষ্ঠানটি অস্বাভাবিক পরিমাণ সরকারি কাজ বাগিয়ে নিয়েছিল। সে কারণেই তাদের বিভিন্ন প্রকল্প নতুন করে যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় আনা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে বিস্তারিত বার্তা পাঠানো হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে মসজিদ নির্মাণের সময় নগর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা মাহবুবুর রহমানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সার্বিক বিষয়ে জানতে পূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।




