শিরোনাম

মনের কষ্ট লুকাতে সাইকেল চালান স্বপ্না

মোহাম্মদ শাহীনুর রহমান, পাবনা
মনের কষ্ট লুকাতে সাইকেল চালান স্বপ্না
মহাসড়কে নানা কায়দায় বাইসাইকেল চালান স্বপ্না। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

ব্যস্ত সড়কে দূরন্ত গতিতে বাইসাইকেল চালিয়ে সবার নজর কেড়েছেন এক নারী। নাম তার স্বপ্না শেখ। তিনি দুই সন্তানের মা। তার বাড়ি পাবনার চাটমোহর উপজেলার বাহাদুরপুর মধ্যপাড়া গ্রামে। সাইকেল চালিয়ে ব্যাপক পরিচিতির কারণে সবাই তাকে সাইকেল কন্যা নামে চেনে। সাইকেল চালানো অবস্থায় তিনি বিভিন্ন কসরতও দেখান, যা দেখে মুগ্ধ হন সবাই।

আলাপকালে স্বপ্না জানান, ছোটবেলা থেকেই সাইকেল চালানো ছিল তার শখ। ভাইদের সাইকেল চালানো দেখে নিজেরও সাইকেল চালাতে ইচ্ছা করতো। তখন থেকে সাইকলে চালানোর শখ, এখন রূপ নিয়েছে তা এক প্রকার নেশায়। সাইকেল চালানোর পাশাপাশি রপ্ত করেছেন নানা গান। এভাবেই জীবনটা উপভোগ করছেন স্বপ্না। তিনি বলেন, সাইকেল না চালালে ভালো লাগে না।

বিয়ে, সংসার এমন কী মা হওয়ার পরেও থেমে যাননি স্বপ্না। নিজের সব কষ্ট লুকিয়ে নিয়মিত চাটমোহরের সড়কে সাইকেল চালান তিনি। বাস, মিনিবাস, সিএনজি কিংবা অটোরিকশাকেও পিছনে ফেলে দূরন্ত গতিতে এগিয়ে যান। সড়কে বড় গাড়ি দেখে ভয় পান না উল্লেখ করে বলেন, উল্টো ওই সব গাড়ির চালকরা আমরা সাইকেল চালানো দেখে ভয় পায়।

একটি নতুন সাইকেল কেনার স্বপ্ন তার। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
একটি নতুন সাইকেল কেনার স্বপ্ন তার। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

ভাইরাল হওয়ার জন্য তিনি সাইকেল চালান না বলে জানান স্বপ্না। বলেন, তারপরও কীভাবে যেন ভাইরাল হয়ে গেছি। এখন আমার খুব সমস্যা হয়। কারণ যখন তখন বিভিন্ন সাংবাদিক, কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ইউটিউবাররা ফোন করে সাইকেল চালানোর ভিডিও করার জন্য। ফলে আমার কষ্ট হয়। সাইকেলটা ঠিক মতো চালাতে পারি না।

মুদি দোকানদার গোলজার হোসেনের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সবার ছোট স্বপ্না। ২০১০ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে ভাঙ্গুড়া থানায় বিয়ে তার। ভালোই চলছিল সংসার জীবন। জন্ম নেয় এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান। তার কিছুদিন পর নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। স্বামী মাদকাসক্ত হওয়ায় আয় রোজগার বন্ধ হয়ে যায়। এক পর্যায়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। ৭ বছর আগে দুই সন্তান নিয়ে বাধ্য হয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন স্বপ্না। কিন্তু দরিদ্র বাবার ঘরে বসে খেতে তার খুব খারাপ লাগে। কিছু করতে না পারার কষ্ট তাকে কুড়ে কুড়ে খায়।

পথচারীদের অবাক করতে সাইকেল নিয়ে নানা কসরতও দেখান স্বপ্না। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
পথচারীদের অবাক করতে সাইকেল নিয়ে নানা কসরতও দেখান স্বপ্না। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

কয়েক বছর আগে কাপড়ের ব্যবসা করে মোটা অংকের টাকা লোকসান হওয়ায় ভেঙে পরেন স্বপ্না। তিনি বলেন, আমি নাটক বা মিউজিক ভিডিওতে অভিনয়ের সুযোগ পেলে কাজ করব।

প্রতিবেশী আব্দুল কাদের জানান, দুই সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকায় অনেকটা কষ্টে দিন কাটছে স্বপ্নার। আয়ের উৎস না থাকায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি। তাকে সহযোগিতার জন্য বিত্তবান মানুষদের আহ্বান জানাচ্ছি।

স্বপ্নার বাবা গোলজার হোসেন বলেন, একদিন সাইকেল চালাতে না দিলে স্বপ্না বাড়িঘর ভাঙচুর করে। কী করবো, তার মুখের দিকে তাকিয়ে সাইকেল চালাতে দিতে বাধ্য হই। তবে মেয়েটার কষ্টের কথা কমবেশি সবাই জানে। আজ পর্যন্ত আমার মেয়ের একটা গতি হলো না। কোনো জায়গা থেকে কোনো সহযোগিতা এলো না।

/এসআর/