সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে আসিফ নজরুলের হাতিয়ার রমজান-মাইকেল

সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে আসিফ নজরুলের হাতিয়ার রমজান-মাইকেল
মরিয়ম সেঁজুতি

আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ নিবন্ধন অধিদপ্তরে সাব-রেজিস্ট্রার বদলিকে কেন্দ্র করে এক বিশাল দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে আইন মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে ঘিরে। সিন্ডিকেটের নেপথ্যে সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের হাতিয়ার ছিলেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত রমজান খান ও মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনামলে মাত্র আট মাসে কেবল এই বদলি বাণিজ্য থেকেই প্রায় শতকোটি টাকা অবৈধভাবে লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে গত সোমবার (১৫ এপ্রিল) দুর্নীতি দমন কমিশনে আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাফসান আল আলভী।
এর আগে গত ৮ এপ্রিল ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন অবৈধ প্রক্রিয়ায় সাব-রেজিস্ট্রারদের ব্যাপক বদলির মাধ্যমে শতকোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও তার ব্যক্তিগত সহকারী মাসুমের বিরুদ্ধে আবেদন করেন।
এ বিষয়ে দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম সিটিজেন জার্নালকে বলেন, আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবি রাফসান আল আলভীর একটি অভিযোগ হাতে পেয়েছি। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করে তদন্ত শেষে এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তথ্য অনুযায়ী, কমিটির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই গত ১২ জানুয়ারি নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্টার খন্দকার জামিলুর রহমানকে নামমাত্র সভাপতি করে মহাসচিবের দায়িত্ব নিয়ে মাইকেল মহিউদ্দিন সাব-রেজিস্ট্রারদের একক নিয়ন্ত্রণে এনে নতুন করে বদলি বাণিজ্য শুরু করেন।
বিগত সরকার আমলেও নানা দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত ছিলেন মাইকেল মহিউদ্দিন। ঢাকার সাভার, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, টঙ্গি, মুন্সিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পদায়ন নিতে তিনি বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সাব-রেজিস্ট্রারদের ভাষ্যমতে, এসব পদায়নে ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। তৎকালীন ‘বদলি সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত রমজান খানের ছত্রছায়ায় থাকায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস পায়নি কেউ।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মাত্র আট মাসে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি কেন্দ্র করে বিপুল পরিমাণ ঘুষ লেনদেন হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় বদলির ক্ষেত্রে কোনো নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি এবং আর্থিক লেনদেনের ভিত্তিতেই অধিকাংশ বদলি সম্পন্ন হয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট নিজেদের সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার বিরুদ্ধে সচিবালয়ে বিক্ষোভের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে নিজেদের আধিপত্যের জানান দেন রমজান খান। পরবর্তীতে নির্বাচন ছাড়াই আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রভাব বিস্তারকারী রমজান কমিটি পুনরায় সক্রিয় হয়। সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে থাকা রমজান খান তার ঘনিষ্ঠ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাইকেল মহিউদ্দিনকে সামনে নিয়ে আসেন।
বদলি বাণিজ্যের সুনিপুণ ছক
তদন্তে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র আট মাসে নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে অন্তত ২৮২ জনকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বদলি করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা করা হয়নি। এমনকি ঘুষের টাকা পরিশোধে বিলম্ব হলে বদলির আদেশ স্থগিত রাখার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
নিয়মানুযায়ী দুই বছর একই স্থানে থাকার কথা থাকলেও, অনেক ক্ষেত্রে সাব-রেজিস্ট্রারদের মাত্র এক মাসের ব্যবধানে নতুন জায়গায় পদায়ন করা হয়েছে। এছাড়া ছয় থেকে সাত মাসের মধ্যে কোনো কোনো কর্মকর্তাকে তিন-চার বার পর্যন্ত বদলি করে টাকা আদায় করা হয়েছে।
নীতিমালাহীন বদলি ও অর্থের লেনদেন
২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে অন্তত ২৮২ জনকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বদলি করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি।
দুদকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘুষের টাকা পরিশোধে বিলম্ব হলে এমনকি জারিকৃত বদলির আদেশ স্থগিত রাখার নজিরও সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের দুই বছরের নিয়ম ভেঙে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে কিংবা সাত মাসের মধ্যে তিন-চার বার পর্যন্ত বদলি করে টাকা আদায় করা হয়েছে। সিন্ডিকেটের শীর্ষ নায়ক ও আস্তানা এই দুর্নীতির নেটওয়ার্ক পরিচালনায় প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন মুন্সিগঞ্জ সদরের জেলা রেজিস্ট্রার রমজান খান এবং ঢাকার খিলগাঁওয়ের সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল।
রাজধানীর গুলশানের ‘গ্লোরিয়া জিন্স’ রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন নামি-দামি হোটেলে এসব বদলি বাণিজ্যের আলাপ-আলোচনা চূড়ান্ত হতো। সংগৃহীত বিশাল অংকের অর্থের একটি বড় অংশ সরাসরি সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের কাছে যেত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া, বদলিকৃত কর্মস্থলে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে কর্মকর্তাদের নিয়মিত মাইকেলকে ‘মাসোহারা’ প্রদান করতে হতো। বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান কমিটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অত্যন্ত লোভনীয় পদায়ন লাভ করেছেন।
কয়েকজনের বদলি
আলোচিত এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কমিটির বিভিন্ন সদস্যও লোভনীয় পদায়ন পেয়েছেন। যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোস্তফা চুয়াডাঙ্গা থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়, জাহাঙ্গির আলম শেরপুর থেকে বাড্ডায় বদলি হন। সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন বাবর মিরোজ মানিকগঞ্জের শিংগার থেকে ঢাকার কেরানিগঞ্জে আসেন। মো. আব্দুল বাতেন নবাবগঞ্জ থেকে গাজীপুর সদরে পদায়ন নেন। সাংস্কৃতিক সম্পাদক আদনান নোমান এবং যুগ্ম সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেনও লোভনীয় পদায়ন পান; সাজ্জাদ সিলেটের গোলাপগঞ্জ থেকে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে আসেন।
ক্রীড়া সম্পাদক খায়রুল বাসার অল্প সময়ের মধ্যে একাধিকবার বদলি হয়ে শেষ পর্যন্ত আশুলিয়ায় পদায়ন নেন। তার বিরুদ্ধে দলিল স্বাক্ষরের জন্য অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ থাকলেও তিনি বহাল রয়েছেন। অন্যদিকে, আশুলিয়ায় পদায়িত খালেদা বেগম প্রয়োজনীয় অর্থ দিতে রাজি না হওয়ায় মাত্র দুই মাসের মাথায় তাকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বদলি করা হয়।
এছাড়া যুগ্ম সম্পাদক খিদমতের দায়িত্বে থাকা মো. জাহিদুর রহমান গাজীপুরের কালীগঞ্জ থেকে কক্সবাজার সদরে বদলি হন। কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও একই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পদায়ন পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গোপন সূত্রে জানা যায়, ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তুলতে গাজীপুর সদরের সাব-রেজিস্ট্রার ও কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল বাতেনের মাধ্যমে অধিকাংশ লেনদেন সম্পন্ন করা হতো।
এ বিষয়ে গত বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশনে আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন। আবেদনের সঙ্গে ‘৮ মাসে ঘুষ লেনদেন শতকোটি’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের আট মাসে (অক্টোবর ২০২৪ থেকে এপ্রিল ২০২৫) নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে ২৮২ জনকে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ২০০ জন ঘুষের মাধ্যমে পছন্দের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে পদায়ন পান। জনপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একই ব্যক্তিকে ছয় থেকে সাত মাসে তিন থেকে চারবার বদলি করা হয়েছে। অথচ বদলির ক্ষেত্রে নির্ধারিত ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ গ্রেড অনুযায়ী পদায়নের নীতিমালা থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
আইনি প্রতিকারের দাবি
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাফসান-আল-আলভি এই নজিরবিহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছেন। তিনি এই চক্রের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের স্বপক্ষে তিনি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনের তথ্যসূত্রও দিয়েছেন।

আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ নিবন্ধন অধিদপ্তরে সাব-রেজিস্ট্রার বদলিকে কেন্দ্র করে এক বিশাল দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে আইন মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে ঘিরে। সিন্ডিকেটের নেপথ্যে সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের হাতিয়ার ছিলেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত রমজান খান ও মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনামলে মাত্র আট মাসে কেবল এই বদলি বাণিজ্য থেকেই প্রায় শতকোটি টাকা অবৈধভাবে লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে গত সোমবার (১৫ এপ্রিল) দুর্নীতি দমন কমিশনে আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাফসান আল আলভী।
এর আগে গত ৮ এপ্রিল ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন অবৈধ প্রক্রিয়ায় সাব-রেজিস্ট্রারদের ব্যাপক বদলির মাধ্যমে শতকোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও তার ব্যক্তিগত সহকারী মাসুমের বিরুদ্ধে আবেদন করেন।
এ বিষয়ে দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম সিটিজেন জার্নালকে বলেন, আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবি রাফসান আল আলভীর একটি অভিযোগ হাতে পেয়েছি। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করে তদন্ত শেষে এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তথ্য অনুযায়ী, কমিটির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই গত ১২ জানুয়ারি নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্টার খন্দকার জামিলুর রহমানকে নামমাত্র সভাপতি করে মহাসচিবের দায়িত্ব নিয়ে মাইকেল মহিউদ্দিন সাব-রেজিস্ট্রারদের একক নিয়ন্ত্রণে এনে নতুন করে বদলি বাণিজ্য শুরু করেন।
বিগত সরকার আমলেও নানা দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত ছিলেন মাইকেল মহিউদ্দিন। ঢাকার সাভার, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, টঙ্গি, মুন্সিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পদায়ন নিতে তিনি বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সাব-রেজিস্ট্রারদের ভাষ্যমতে, এসব পদায়নে ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। তৎকালীন ‘বদলি সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত রমজান খানের ছত্রছায়ায় থাকায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস পায়নি কেউ।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মাত্র আট মাসে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি কেন্দ্র করে বিপুল পরিমাণ ঘুষ লেনদেন হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় বদলির ক্ষেত্রে কোনো নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি এবং আর্থিক লেনদেনের ভিত্তিতেই অধিকাংশ বদলি সম্পন্ন হয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট নিজেদের সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার বিরুদ্ধে সচিবালয়ে বিক্ষোভের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে নিজেদের আধিপত্যের জানান দেন রমজান খান। পরবর্তীতে নির্বাচন ছাড়াই আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রভাব বিস্তারকারী রমজান কমিটি পুনরায় সক্রিয় হয়। সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে থাকা রমজান খান তার ঘনিষ্ঠ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাইকেল মহিউদ্দিনকে সামনে নিয়ে আসেন।
বদলি বাণিজ্যের সুনিপুণ ছক
তদন্তে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র আট মাসে নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে অন্তত ২৮২ জনকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বদলি করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা করা হয়নি। এমনকি ঘুষের টাকা পরিশোধে বিলম্ব হলে বদলির আদেশ স্থগিত রাখার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
নিয়মানুযায়ী দুই বছর একই স্থানে থাকার কথা থাকলেও, অনেক ক্ষেত্রে সাব-রেজিস্ট্রারদের মাত্র এক মাসের ব্যবধানে নতুন জায়গায় পদায়ন করা হয়েছে। এছাড়া ছয় থেকে সাত মাসের মধ্যে কোনো কোনো কর্মকর্তাকে তিন-চার বার পর্যন্ত বদলি করে টাকা আদায় করা হয়েছে।
নীতিমালাহীন বদলি ও অর্থের লেনদেন
২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে অন্তত ২৮২ জনকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বদলি করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি।
দুদকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘুষের টাকা পরিশোধে বিলম্ব হলে এমনকি জারিকৃত বদলির আদেশ স্থগিত রাখার নজিরও সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের দুই বছরের নিয়ম ভেঙে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে কিংবা সাত মাসের মধ্যে তিন-চার বার পর্যন্ত বদলি করে টাকা আদায় করা হয়েছে। সিন্ডিকেটের শীর্ষ নায়ক ও আস্তানা এই দুর্নীতির নেটওয়ার্ক পরিচালনায় প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন মুন্সিগঞ্জ সদরের জেলা রেজিস্ট্রার রমজান খান এবং ঢাকার খিলগাঁওয়ের সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল।
রাজধানীর গুলশানের ‘গ্লোরিয়া জিন্স’ রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন নামি-দামি হোটেলে এসব বদলি বাণিজ্যের আলাপ-আলোচনা চূড়ান্ত হতো। সংগৃহীত বিশাল অংকের অর্থের একটি বড় অংশ সরাসরি সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের কাছে যেত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া, বদলিকৃত কর্মস্থলে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে কর্মকর্তাদের নিয়মিত মাইকেলকে ‘মাসোহারা’ প্রদান করতে হতো। বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান কমিটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অত্যন্ত লোভনীয় পদায়ন লাভ করেছেন।
কয়েকজনের বদলি
আলোচিত এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কমিটির বিভিন্ন সদস্যও লোভনীয় পদায়ন পেয়েছেন। যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোস্তফা চুয়াডাঙ্গা থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়, জাহাঙ্গির আলম শেরপুর থেকে বাড্ডায় বদলি হন। সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন বাবর মিরোজ মানিকগঞ্জের শিংগার থেকে ঢাকার কেরানিগঞ্জে আসেন। মো. আব্দুল বাতেন নবাবগঞ্জ থেকে গাজীপুর সদরে পদায়ন নেন। সাংস্কৃতিক সম্পাদক আদনান নোমান এবং যুগ্ম সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেনও লোভনীয় পদায়ন পান; সাজ্জাদ সিলেটের গোলাপগঞ্জ থেকে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে আসেন।
ক্রীড়া সম্পাদক খায়রুল বাসার অল্প সময়ের মধ্যে একাধিকবার বদলি হয়ে শেষ পর্যন্ত আশুলিয়ায় পদায়ন নেন। তার বিরুদ্ধে দলিল স্বাক্ষরের জন্য অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ থাকলেও তিনি বহাল রয়েছেন। অন্যদিকে, আশুলিয়ায় পদায়িত খালেদা বেগম প্রয়োজনীয় অর্থ দিতে রাজি না হওয়ায় মাত্র দুই মাসের মাথায় তাকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বদলি করা হয়।
এছাড়া যুগ্ম সম্পাদক খিদমতের দায়িত্বে থাকা মো. জাহিদুর রহমান গাজীপুরের কালীগঞ্জ থেকে কক্সবাজার সদরে বদলি হন। কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও একই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পদায়ন পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গোপন সূত্রে জানা যায়, ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তুলতে গাজীপুর সদরের সাব-রেজিস্ট্রার ও কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল বাতেনের মাধ্যমে অধিকাংশ লেনদেন সম্পন্ন করা হতো।
এ বিষয়ে গত বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশনে আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন। আবেদনের সঙ্গে ‘৮ মাসে ঘুষ লেনদেন শতকোটি’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের আট মাসে (অক্টোবর ২০২৪ থেকে এপ্রিল ২০২৫) নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে ২৮২ জনকে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ২০০ জন ঘুষের মাধ্যমে পছন্দের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে পদায়ন পান। জনপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একই ব্যক্তিকে ছয় থেকে সাত মাসে তিন থেকে চারবার বদলি করা হয়েছে। অথচ বদলির ক্ষেত্রে নির্ধারিত ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ গ্রেড অনুযায়ী পদায়নের নীতিমালা থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
আইনি প্রতিকারের দাবি
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাফসান-আল-আলভি এই নজিরবিহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছেন। তিনি এই চক্রের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের স্বপক্ষে তিনি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনের তথ্যসূত্রও দিয়েছেন।

সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে আসিফ নজরুলের হাতিয়ার রমজান-মাইকেল
মরিয়ম সেঁজুতি

আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ নিবন্ধন অধিদপ্তরে সাব-রেজিস্ট্রার বদলিকে কেন্দ্র করে এক বিশাল দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে আইন মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে ঘিরে। সিন্ডিকেটের নেপথ্যে সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের হাতিয়ার ছিলেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত রমজান খান ও মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনামলে মাত্র আট মাসে কেবল এই বদলি বাণিজ্য থেকেই প্রায় শতকোটি টাকা অবৈধভাবে লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে গত সোমবার (১৫ এপ্রিল) দুর্নীতি দমন কমিশনে আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাফসান আল আলভী।
এর আগে গত ৮ এপ্রিল ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন অবৈধ প্রক্রিয়ায় সাব-রেজিস্ট্রারদের ব্যাপক বদলির মাধ্যমে শতকোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও তার ব্যক্তিগত সহকারী মাসুমের বিরুদ্ধে আবেদন করেন।
এ বিষয়ে দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম সিটিজেন জার্নালকে বলেন, আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবি রাফসান আল আলভীর একটি অভিযোগ হাতে পেয়েছি। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করে তদন্ত শেষে এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তথ্য অনুযায়ী, কমিটির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই গত ১২ জানুয়ারি নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্টার খন্দকার জামিলুর রহমানকে নামমাত্র সভাপতি করে মহাসচিবের দায়িত্ব নিয়ে মাইকেল মহিউদ্দিন সাব-রেজিস্ট্রারদের একক নিয়ন্ত্রণে এনে নতুন করে বদলি বাণিজ্য শুরু করেন।
বিগত সরকার আমলেও নানা দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত ছিলেন মাইকেল মহিউদ্দিন। ঢাকার সাভার, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, টঙ্গি, মুন্সিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পদায়ন নিতে তিনি বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সাব-রেজিস্ট্রারদের ভাষ্যমতে, এসব পদায়নে ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। তৎকালীন ‘বদলি সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত রমজান খানের ছত্রছায়ায় থাকায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস পায়নি কেউ।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মাত্র আট মাসে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি কেন্দ্র করে বিপুল পরিমাণ ঘুষ লেনদেন হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় বদলির ক্ষেত্রে কোনো নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি এবং আর্থিক লেনদেনের ভিত্তিতেই অধিকাংশ বদলি সম্পন্ন হয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট নিজেদের সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার বিরুদ্ধে সচিবালয়ে বিক্ষোভের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে নিজেদের আধিপত্যের জানান দেন রমজান খান। পরবর্তীতে নির্বাচন ছাড়াই আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রভাব বিস্তারকারী রমজান কমিটি পুনরায় সক্রিয় হয়। সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে থাকা রমজান খান তার ঘনিষ্ঠ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাইকেল মহিউদ্দিনকে সামনে নিয়ে আসেন।
বদলি বাণিজ্যের সুনিপুণ ছক
তদন্তে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র আট মাসে নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে অন্তত ২৮২ জনকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বদলি করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা করা হয়নি। এমনকি ঘুষের টাকা পরিশোধে বিলম্ব হলে বদলির আদেশ স্থগিত রাখার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
নিয়মানুযায়ী দুই বছর একই স্থানে থাকার কথা থাকলেও, অনেক ক্ষেত্রে সাব-রেজিস্ট্রারদের মাত্র এক মাসের ব্যবধানে নতুন জায়গায় পদায়ন করা হয়েছে। এছাড়া ছয় থেকে সাত মাসের মধ্যে কোনো কোনো কর্মকর্তাকে তিন-চার বার পর্যন্ত বদলি করে টাকা আদায় করা হয়েছে।
নীতিমালাহীন বদলি ও অর্থের লেনদেন
২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে অন্তত ২৮২ জনকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বদলি করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি।
দুদকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘুষের টাকা পরিশোধে বিলম্ব হলে এমনকি জারিকৃত বদলির আদেশ স্থগিত রাখার নজিরও সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের দুই বছরের নিয়ম ভেঙে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে কিংবা সাত মাসের মধ্যে তিন-চার বার পর্যন্ত বদলি করে টাকা আদায় করা হয়েছে। সিন্ডিকেটের শীর্ষ নায়ক ও আস্তানা এই দুর্নীতির নেটওয়ার্ক পরিচালনায় প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন মুন্সিগঞ্জ সদরের জেলা রেজিস্ট্রার রমজান খান এবং ঢাকার খিলগাঁওয়ের সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল।
রাজধানীর গুলশানের ‘গ্লোরিয়া জিন্স’ রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন নামি-দামি হোটেলে এসব বদলি বাণিজ্যের আলাপ-আলোচনা চূড়ান্ত হতো। সংগৃহীত বিশাল অংকের অর্থের একটি বড় অংশ সরাসরি সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের কাছে যেত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া, বদলিকৃত কর্মস্থলে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে কর্মকর্তাদের নিয়মিত মাইকেলকে ‘মাসোহারা’ প্রদান করতে হতো। বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান কমিটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অত্যন্ত লোভনীয় পদায়ন লাভ করেছেন।
কয়েকজনের বদলি
আলোচিত এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কমিটির বিভিন্ন সদস্যও লোভনীয় পদায়ন পেয়েছেন। যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোস্তফা চুয়াডাঙ্গা থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়, জাহাঙ্গির আলম শেরপুর থেকে বাড্ডায় বদলি হন। সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন বাবর মিরোজ মানিকগঞ্জের শিংগার থেকে ঢাকার কেরানিগঞ্জে আসেন। মো. আব্দুল বাতেন নবাবগঞ্জ থেকে গাজীপুর সদরে পদায়ন নেন। সাংস্কৃতিক সম্পাদক আদনান নোমান এবং যুগ্ম সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেনও লোভনীয় পদায়ন পান; সাজ্জাদ সিলেটের গোলাপগঞ্জ থেকে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে আসেন।
ক্রীড়া সম্পাদক খায়রুল বাসার অল্প সময়ের মধ্যে একাধিকবার বদলি হয়ে শেষ পর্যন্ত আশুলিয়ায় পদায়ন নেন। তার বিরুদ্ধে দলিল স্বাক্ষরের জন্য অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ থাকলেও তিনি বহাল রয়েছেন। অন্যদিকে, আশুলিয়ায় পদায়িত খালেদা বেগম প্রয়োজনীয় অর্থ দিতে রাজি না হওয়ায় মাত্র দুই মাসের মাথায় তাকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বদলি করা হয়।
এছাড়া যুগ্ম সম্পাদক খিদমতের দায়িত্বে থাকা মো. জাহিদুর রহমান গাজীপুরের কালীগঞ্জ থেকে কক্সবাজার সদরে বদলি হন। কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও একই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পদায়ন পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গোপন সূত্রে জানা যায়, ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তুলতে গাজীপুর সদরের সাব-রেজিস্ট্রার ও কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল বাতেনের মাধ্যমে অধিকাংশ লেনদেন সম্পন্ন করা হতো।
এ বিষয়ে গত বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশনে আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন। আবেদনের সঙ্গে ‘৮ মাসে ঘুষ লেনদেন শতকোটি’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের আট মাসে (অক্টোবর ২০২৪ থেকে এপ্রিল ২০২৫) নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে ২৮২ জনকে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ২০০ জন ঘুষের মাধ্যমে পছন্দের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে পদায়ন পান। জনপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একই ব্যক্তিকে ছয় থেকে সাত মাসে তিন থেকে চারবার বদলি করা হয়েছে। অথচ বদলির ক্ষেত্রে নির্ধারিত ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ গ্রেড অনুযায়ী পদায়নের নীতিমালা থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
আইনি প্রতিকারের দাবি
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাফসান-আল-আলভি এই নজিরবিহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছেন। তিনি এই চক্রের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের স্বপক্ষে তিনি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনের তথ্যসূত্রও দিয়েছেন।




