দুর্বল হচ্ছে আটলান্টিকের স্রোত, বিপর্যয়ের মুখে ইউরোপ-আফ্রিকা-আমেরিকা
সিটিজেন ডেস্ক

দুর্বল হচ্ছে আটলান্টিকের স্রোত, বিপর্যয়ের মুখে ইউরোপ-আফ্রিকা-আমেরিকা
সিটিজেন ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯: ৩০

ছবি: সংগৃহীত
আটলান্টিক মহাসাগরের স্রোত ব্যবস্থা আগের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত গতিতে বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের যে মডেলগুলো মহাসাগরের এ স্রোত ধীর হয়ে যাওয়ার চরম পূর্বাভাস দিয়েছিল, সেগুলোই এখন সবচেয়ে বাস্তবসম্মত বলে প্রমাণিত হচ্ছে।
এ স্রোত ব্যবস্থাটি আটলান্টিক মেরিডিওনাল ওভারটার্নিং সার্কুলেশন বা অ্যামক (Amoc) নামে পরিচিত, যার সম্ভাব্য পতন ইউরোপ, আফ্রিকা ও আমেরিকা মহাদেশের জন্য বিপর্যয়কর পরিণতি বয়ে আনতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষকরা। বৈশ্বিক জলবায়ু ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান অংশটি গত ১,৬০০ বছরের মধ্যে বর্তমানে সবচাইতে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে এবং ২০২১ সালেই বিজ্ঞানীরা এর বিপর্যয়ের প্রাথমিক লক্ষণগুলো শনাক্ত করেছিলেন।
এর আগে পৃথিবীর সুদূর অতীতেও এ স্রোত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার নজির রয়েছে। ভবিষ্যৎ জলবায়ু পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য বিজ্ঞানীরা অসংখ্য কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করেন, তবে অ্যামক-এর মতো জটিল ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এ মডেলগুলোর ফলাফলে ব্যাপক ভিন্নতা দেখা যায়। কোনো মডেল ২১০০ সাল নাগাদ স্রোতের কোনো পরিবর্তন হবে না বলে আভাস দেয়, আবার কোনোটি কার্বন নিঃসরণ কমানো হলেও স্রোত ৬৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার কথা বলে।
এ অনিশ্চয়তা দূর করতে নতুন গবেষণায় বাস্তব জগতের মহাসাগরীয় পর্যবেক্ষণের সঙ্গে কম্পিউটার মডেলগুলোর সমন্বয় করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ২১০০ সাল নাগাদ এ স্রোত ব্যবস্থা ৪২ থেকে ৫৮ শতাংশ পর্যন্ত ধীর হয়ে যেতে পারে, যা মূলত এ ব্যবস্থার চূড়ান্ত পতনেরই ইঙ্গিত দেয়। অ্যামক স্রোত ব্যবস্থা মূলত ক্রান্তীয় অঞ্চল থেকে উষ্ণ পানি ইউরোপ ও উত্তর মেরুর দিকে নিয়ে যায়। সেখান থেকে পানি শীতল ও ঘন হয়ে নিচে তলিয়ে যায় এবং পুনরায় দক্ষিণে ফিরে আসে। এ প্রক্রিয়াটি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক বৃষ্টিপাতের ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে, যার ওপর কোটি কোটি মানুষের খাদ্য উৎপাদন নির্ভরশীল। এর ফলে পশ্চিম ইউরোপে তীব্র শীত এবং গ্রীষ্মকালীন খরা দেখা দেবে এবং আটলান্টিক উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৫০ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। ফ্রান্সের ইনরিয়া সেন্টার ডি রেচের্চে বোর্দো সাউথ-ওয়েস্টের গবেষক ড. ভ্যালেন্টিন পোর্টম্যান জানান, অ্যামক স্রোত প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে এবং এটি এখন বিপর্যয়ের একটি চূড়ান্ত বিন্দুর (টিপিং পয়েন্ট) খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে।
জার্মানির পটসডাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চের অধ্যাপক স্টিফেন রাহমস্টর্ফ এ ফলাফলকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নেতিবাচক মডেলগুলোই এখন পর্যবেক্ষণের সঙ্গে বেশি মিলে যাচ্ছে। রাহমস্টর্ফের মতে, শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই আমরা অ্যামক স্রোত ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে যেতে পারি। গত ৩৫ বছর ধরে এ স্রোত নিয়ে গবেষণা করা বিজ্ঞানী জানান, এক সময় এ বিপর্যয়ের সম্ভাবনা মাত্র ৫ শতাংশ মনে করা হলেও এখন তা ৫০ শতাংশেরও বেশি। পৃথিবীর গত ১ লক্ষ বছরের ইতিহাসে বড় ধরনের জলবায়ু পরিবর্তনগুলো তখনই ঘটেছে যখন অ্যামক স্রোতের গতিপথ বা অবস্থায় আমূল পরিবর্তন এসেছে।
উত্তর মেরু অঞ্চলের তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সমুদ্রের পানি আগের মতো শীতল হতে পারছে না। উষ্ণ পানি কম ঘন হওয়ায় তা সাগরের গভীরে সহজে ডুব দেয় না। পাশাপাশি অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি সাগরের লবণাক্ততা কমিয়ে পানিকে হালকা করে দিচ্ছে, যা স্রোতের গতি আরও কমিয়ে একটি চক্রাকার নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করছে।
সায়েন্স অ্যাডভান্সেস জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় রিজ রিগ্রেশন নামক একটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, যা দক্ষিণ আটলান্টিকের লবণাক্ততার তথ্যের ভিত্তিতে মডেলগুলোর নির্ভুলতা যাচাই করেছে। রাহমস্টর্ফ আরও সতর্ক করেছেন, ২১০০ সালে পরিস্থিতির অবনতি এ পূর্বাভাসের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। কারণ বর্তমান মডেলগুলোতে গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলে মিশে যাওয়া বিশাল পরিমাণ স্বাদু পানির প্রভাব পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যা সমুদ্রের পানির ঘনত্ব কমিয়ে স্রোতকে আরও দ্রুত থামিয়ে দিতে পারে। ফলে বিজ্ঞানীদের মতে, এ স্রোত রক্ষা করা এখন বিশ্ববাসীর জন্য একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আটলান্টিক মহাসাগরের স্রোত ব্যবস্থা আগের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত গতিতে বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের যে মডেলগুলো মহাসাগরের এ স্রোত ধীর হয়ে যাওয়ার চরম পূর্বাভাস দিয়েছিল, সেগুলোই এখন সবচেয়ে বাস্তবসম্মত বলে প্রমাণিত হচ্ছে।
এ স্রোত ব্যবস্থাটি আটলান্টিক মেরিডিওনাল ওভারটার্নিং সার্কুলেশন বা অ্যামক (Amoc) নামে পরিচিত, যার সম্ভাব্য পতন ইউরোপ, আফ্রিকা ও আমেরিকা মহাদেশের জন্য বিপর্যয়কর পরিণতি বয়ে আনতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষকরা। বৈশ্বিক জলবায়ু ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান অংশটি গত ১,৬০০ বছরের মধ্যে বর্তমানে সবচাইতে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে এবং ২০২১ সালেই বিজ্ঞানীরা এর বিপর্যয়ের প্রাথমিক লক্ষণগুলো শনাক্ত করেছিলেন।
এর আগে পৃথিবীর সুদূর অতীতেও এ স্রোত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার নজির রয়েছে। ভবিষ্যৎ জলবায়ু পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য বিজ্ঞানীরা অসংখ্য কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করেন, তবে অ্যামক-এর মতো জটিল ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এ মডেলগুলোর ফলাফলে ব্যাপক ভিন্নতা দেখা যায়। কোনো মডেল ২১০০ সাল নাগাদ স্রোতের কোনো পরিবর্তন হবে না বলে আভাস দেয়, আবার কোনোটি কার্বন নিঃসরণ কমানো হলেও স্রোত ৬৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার কথা বলে।
এ অনিশ্চয়তা দূর করতে নতুন গবেষণায় বাস্তব জগতের মহাসাগরীয় পর্যবেক্ষণের সঙ্গে কম্পিউটার মডেলগুলোর সমন্বয় করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ২১০০ সাল নাগাদ এ স্রোত ব্যবস্থা ৪২ থেকে ৫৮ শতাংশ পর্যন্ত ধীর হয়ে যেতে পারে, যা মূলত এ ব্যবস্থার চূড়ান্ত পতনেরই ইঙ্গিত দেয়। অ্যামক স্রোত ব্যবস্থা মূলত ক্রান্তীয় অঞ্চল থেকে উষ্ণ পানি ইউরোপ ও উত্তর মেরুর দিকে নিয়ে যায়। সেখান থেকে পানি শীতল ও ঘন হয়ে নিচে তলিয়ে যায় এবং পুনরায় দক্ষিণে ফিরে আসে। এ প্রক্রিয়াটি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক বৃষ্টিপাতের ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে, যার ওপর কোটি কোটি মানুষের খাদ্য উৎপাদন নির্ভরশীল। এর ফলে পশ্চিম ইউরোপে তীব্র শীত এবং গ্রীষ্মকালীন খরা দেখা দেবে এবং আটলান্টিক উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৫০ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। ফ্রান্সের ইনরিয়া সেন্টার ডি রেচের্চে বোর্দো সাউথ-ওয়েস্টের গবেষক ড. ভ্যালেন্টিন পোর্টম্যান জানান, অ্যামক স্রোত প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে এবং এটি এখন বিপর্যয়ের একটি চূড়ান্ত বিন্দুর (টিপিং পয়েন্ট) খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে।
জার্মানির পটসডাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চের অধ্যাপক স্টিফেন রাহমস্টর্ফ এ ফলাফলকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নেতিবাচক মডেলগুলোই এখন পর্যবেক্ষণের সঙ্গে বেশি মিলে যাচ্ছে। রাহমস্টর্ফের মতে, শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই আমরা অ্যামক স্রোত ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে যেতে পারি। গত ৩৫ বছর ধরে এ স্রোত নিয়ে গবেষণা করা বিজ্ঞানী জানান, এক সময় এ বিপর্যয়ের সম্ভাবনা মাত্র ৫ শতাংশ মনে করা হলেও এখন তা ৫০ শতাংশেরও বেশি। পৃথিবীর গত ১ লক্ষ বছরের ইতিহাসে বড় ধরনের জলবায়ু পরিবর্তনগুলো তখনই ঘটেছে যখন অ্যামক স্রোতের গতিপথ বা অবস্থায় আমূল পরিবর্তন এসেছে।
উত্তর মেরু অঞ্চলের তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সমুদ্রের পানি আগের মতো শীতল হতে পারছে না। উষ্ণ পানি কম ঘন হওয়ায় তা সাগরের গভীরে সহজে ডুব দেয় না। পাশাপাশি অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি সাগরের লবণাক্ততা কমিয়ে পানিকে হালকা করে দিচ্ছে, যা স্রোতের গতি আরও কমিয়ে একটি চক্রাকার নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করছে।
সায়েন্স অ্যাডভান্সেস জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় রিজ রিগ্রেশন নামক একটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, যা দক্ষিণ আটলান্টিকের লবণাক্ততার তথ্যের ভিত্তিতে মডেলগুলোর নির্ভুলতা যাচাই করেছে। রাহমস্টর্ফ আরও সতর্ক করেছেন, ২১০০ সালে পরিস্থিতির অবনতি এ পূর্বাভাসের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। কারণ বর্তমান মডেলগুলোতে গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলে মিশে যাওয়া বিশাল পরিমাণ স্বাদু পানির প্রভাব পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যা সমুদ্রের পানির ঘনত্ব কমিয়ে স্রোতকে আরও দ্রুত থামিয়ে দিতে পারে। ফলে বিজ্ঞানীদের মতে, এ স্রোত রক্ষা করা এখন বিশ্ববাসীর জন্য একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

দুর্বল হচ্ছে আটলান্টিকের স্রোত, বিপর্যয়ের মুখে ইউরোপ-আফ্রিকা-আমেরিকা
সিটিজেন ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯: ৩০

ছবি: সংগৃহীত
আটলান্টিক মহাসাগরের স্রোত ব্যবস্থা আগের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত গতিতে বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের যে মডেলগুলো মহাসাগরের এ স্রোত ধীর হয়ে যাওয়ার চরম পূর্বাভাস দিয়েছিল, সেগুলোই এখন সবচেয়ে বাস্তবসম্মত বলে প্রমাণিত হচ্ছে।
এ স্রোত ব্যবস্থাটি আটলান্টিক মেরিডিওনাল ওভারটার্নিং সার্কুলেশন বা অ্যামক (Amoc) নামে পরিচিত, যার সম্ভাব্য পতন ইউরোপ, আফ্রিকা ও আমেরিকা মহাদেশের জন্য বিপর্যয়কর পরিণতি বয়ে আনতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষকরা। বৈশ্বিক জলবায়ু ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান অংশটি গত ১,৬০০ বছরের মধ্যে বর্তমানে সবচাইতে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে এবং ২০২১ সালেই বিজ্ঞানীরা এর বিপর্যয়ের প্রাথমিক লক্ষণগুলো শনাক্ত করেছিলেন।
এর আগে পৃথিবীর সুদূর অতীতেও এ স্রোত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার নজির রয়েছে। ভবিষ্যৎ জলবায়ু পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য বিজ্ঞানীরা অসংখ্য কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করেন, তবে অ্যামক-এর মতো জটিল ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এ মডেলগুলোর ফলাফলে ব্যাপক ভিন্নতা দেখা যায়। কোনো মডেল ২১০০ সাল নাগাদ স্রোতের কোনো পরিবর্তন হবে না বলে আভাস দেয়, আবার কোনোটি কার্বন নিঃসরণ কমানো হলেও স্রোত ৬৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার কথা বলে।
এ অনিশ্চয়তা দূর করতে নতুন গবেষণায় বাস্তব জগতের মহাসাগরীয় পর্যবেক্ষণের সঙ্গে কম্পিউটার মডেলগুলোর সমন্বয় করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ২১০০ সাল নাগাদ এ স্রোত ব্যবস্থা ৪২ থেকে ৫৮ শতাংশ পর্যন্ত ধীর হয়ে যেতে পারে, যা মূলত এ ব্যবস্থার চূড়ান্ত পতনেরই ইঙ্গিত দেয়। অ্যামক স্রোত ব্যবস্থা মূলত ক্রান্তীয় অঞ্চল থেকে উষ্ণ পানি ইউরোপ ও উত্তর মেরুর দিকে নিয়ে যায়। সেখান থেকে পানি শীতল ও ঘন হয়ে নিচে তলিয়ে যায় এবং পুনরায় দক্ষিণে ফিরে আসে। এ প্রক্রিয়াটি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক বৃষ্টিপাতের ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে, যার ওপর কোটি কোটি মানুষের খাদ্য উৎপাদন নির্ভরশীল। এর ফলে পশ্চিম ইউরোপে তীব্র শীত এবং গ্রীষ্মকালীন খরা দেখা দেবে এবং আটলান্টিক উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৫০ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। ফ্রান্সের ইনরিয়া সেন্টার ডি রেচের্চে বোর্দো সাউথ-ওয়েস্টের গবেষক ড. ভ্যালেন্টিন পোর্টম্যান জানান, অ্যামক স্রোত প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে এবং এটি এখন বিপর্যয়ের একটি চূড়ান্ত বিন্দুর (টিপিং পয়েন্ট) খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে।
জার্মানির পটসডাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চের অধ্যাপক স্টিফেন রাহমস্টর্ফ এ ফলাফলকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নেতিবাচক মডেলগুলোই এখন পর্যবেক্ষণের সঙ্গে বেশি মিলে যাচ্ছে। রাহমস্টর্ফের মতে, শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই আমরা অ্যামক স্রোত ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে যেতে পারি। গত ৩৫ বছর ধরে এ স্রোত নিয়ে গবেষণা করা বিজ্ঞানী জানান, এক সময় এ বিপর্যয়ের সম্ভাবনা মাত্র ৫ শতাংশ মনে করা হলেও এখন তা ৫০ শতাংশেরও বেশি। পৃথিবীর গত ১ লক্ষ বছরের ইতিহাসে বড় ধরনের জলবায়ু পরিবর্তনগুলো তখনই ঘটেছে যখন অ্যামক স্রোতের গতিপথ বা অবস্থায় আমূল পরিবর্তন এসেছে।
উত্তর মেরু অঞ্চলের তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সমুদ্রের পানি আগের মতো শীতল হতে পারছে না। উষ্ণ পানি কম ঘন হওয়ায় তা সাগরের গভীরে সহজে ডুব দেয় না। পাশাপাশি অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি সাগরের লবণাক্ততা কমিয়ে পানিকে হালকা করে দিচ্ছে, যা স্রোতের গতি আরও কমিয়ে একটি চক্রাকার নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করছে।
সায়েন্স অ্যাডভান্সেস জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় রিজ রিগ্রেশন নামক একটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, যা দক্ষিণ আটলান্টিকের লবণাক্ততার তথ্যের ভিত্তিতে মডেলগুলোর নির্ভুলতা যাচাই করেছে। রাহমস্টর্ফ আরও সতর্ক করেছেন, ২১০০ সালে পরিস্থিতির অবনতি এ পূর্বাভাসের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। কারণ বর্তমান মডেলগুলোতে গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলে মিশে যাওয়া বিশাল পরিমাণ স্বাদু পানির প্রভাব পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যা সমুদ্রের পানির ঘনত্ব কমিয়ে স্রোতকে আরও দ্রুত থামিয়ে দিতে পারে। ফলে বিজ্ঞানীদের মতে, এ স্রোত রক্ষা করা এখন বিশ্ববাসীর জন্য একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
/এমএকে/




