চালক থেকে কোটিপতি, দুদকের জালে আসিফ মাহমুদের সাবেক এপিএসের ভাই

চালক থেকে কোটিপতি, দুদকের জালে আসিফ মাহমুদের সাবেক এপিএসের ভাই
মরিয়ম সেঁজুতি

দীর্ঘ ১৭ বছর ভাড়ায় গাড়ি চালিয়েছেন রিয়াজুল ইসলাম। মাস শেষে যা আয় হতো, তা দিয়েই টেনেটুনে চলত সংসার। কিন্তু সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মাত্র আট মাসে বদলে গেছে তাঁর জীবন। কিনেছেন দুটি গাড়ি। ব্যাংকে আছে মোটা অঙ্কের আমানত। সব মিলিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকার সম্পদ আছে তার। ২০২৪-২০২৫ করবর্ষের আয়কর নথিতে এই সম্পদের হিসাব দেখিয়েছেন তিনি। আয়ের সঙ্গে সম্পদের অসঙ্গতি থাকায় তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।
এই রিয়াজুল ইসলাম সাবেক স্থানীয় সরকার ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের বড় ভাই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাধারণ গাড়িচালক থেকে কোটিপতি বনে যান তিনি।
দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) সূত্রে জানা গেছে, গত দেড় বছর ধরে তার সম্পদের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে দুদক। পাশাপাশি নতুন করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) থেকেও তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এই সম্পদের ব্যাপারে কথা বলার জন্য বৃহস্পতিবার (২১ মে) রিয়াজুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমেই উত্তেজিত হয়ে সিটিজেন জার্নালের এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি নিজের ক্যাশ টাকায় গাড়ি কিনেছি।’ কিন্তু কিছুক্ষণ পর তিনি বলেন, গাড়ি কিনতে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন। অর্থাৎ শুরু থেকেই তার কথায় স্ববিরোধিতা ছিল।
মেজাজ ঠিক নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সারাদিন গাড়ি চালিয়ে মেজাজ ঠিক রাখা যায় না। আমি সাংবাদিকদের কাছে এগুলো বলতে বলতে বিরক্ত হয়ে যাচ্ছি। আপনারা যদি কিছু খুঁজে পান তাহলে নিয়ে যান।’
আমার দুইটা গাড়ি আর ব্যাংকের কিছু টাকার এফডিআর ছাড়া আর কিছুই নাই। থাকলে দুদক তো মামলা করত। দুদক থেকে দেড় বছরেও কিছু খুঁজে পায়নি কেন?’ আয়করের নথিতে ব্যবসায়িক মূলধন দেখানোর বিষয়ে রিয়াজ বলেন, আইনজীবী করেছে, আমি এ বিষয়ে জানি না। আমার সব মিলিয়ে ৮০ লাখ টাকার বেশি সম্পদ হবে না। রিয়াজুল ইসলাম, আসিফ মাহমুদের সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের বড় ভাই।
তিনি আরো বলেন, ‘আমার দুইটা গাড়ি আর ব্যাংকের কিছু টাকার এফডিআর ছাড়া আর কিছুই নাই। থাকলে দুদক তো মামলা করত। দুদক থেকে দেড় বছরেও কিছু খুঁজে পায়নি কেন?। আয়করের নথিতে ব্যবসায়িক মূলধন দেখানোর বিষয়ে রিয়াজ বলেন, আইনজীবী করেছে, আমি এ বিষয়ে জানি না। আমার সব মিলিয়ে ৮০ লাখ টাকার বেশি সম্পদ হবে না।’
দুদক থেকে এ বিষয়ে সর্বশেষ কবে ডেকেছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গত এপ্রিল মাসে দুদক থেকে ডেকে নথিপত্র তলব করেছে। আমি সেখানে বয়ান দিয়েছি। এছাড়া সমস্ত কাগজপত্র জমা দিয়েছি। তারা (দুদক) বলেছে, চেয়াম্যান আসলে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দেওয়া হবে। এখন আবার হঠাৎ করে গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত শুরু করেছে।’
গাড়ি কেনার বিষয়ে তিনি আবার দাবি করেন, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে থাকা ডিপিএস (ডিপোজিট পেনশন স্কিম) ভেঙে এবং স্ত্রীর পোশাক কারখানার চাকরির বেতনের টাকা দিয়ে ২০২২ সালে তিনি গাড়িগুলো কিনেছেন। কিন্তু তার আয়কর নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি গাড়িগুলো ২০২৪ ও ২০২৫ সালে কিনেছেন। অর্থাৎ গাড়ি কেনার বিষয়েও তিনি মিথ্যা কথা বলছেন।
যেভাবে দুদকের জালে রিয়াজুল
রিয়াজুল ইসলাম হঠাৎ করেই গত বছর এনবিআরে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন যেখানে তিনি প্রায় দুই কোটি টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছেন। বিপুল এই সম্পদ অর্জনে সময়ের ব্যবধান মাত্র আট মাস। দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে, এসব সম্পদ অর্জনের পক্ষে রিয়াজুল ইসলাম বৈধ কোনো উৎস দেখাতে পারেননি।
মূলত গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার এপিএস মোয়াজ্জেমের নামে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আসে দুদকে। পরে অভিযোগটি অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। কিন্তু সেই সময়ে অজ্ঞাত কারণে অনুসন্ধান থেমে যায়। তবে গত ৩০ মার্চ সিআইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে মোয়াজ্জেমের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। ওই আবেদনে বলা হয়েছে, শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান চলার কারণে মোয়াজ্জেম হোসেনের বিদেশযাত্রা রোধ করা প্রয়োজন।
জানা গেছে, মোয়াজ্জেম হোসেন ও রিয়াজুলের বাড়ি মাগুরার মহম্মদপুর। তাদের বাবা মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুরের দহিনপাড়ার কৃষিশ্রমিক আজিজার মণ্ডল। তাদের আরও এক ভাই আছে। তিনিও গাড়িচালক।
আয়কর নথিতে সম্পদের হদিস
নথিতে রিয়াজুল তার ব্যবসায়িক মূলধন হিসেবে দেখিয়েছেন, ৯৬ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা। এ ছাড়া ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসির রাজধানীর শ্যামলী শাখায় ১৪৮১৫৮০০৮৪২৭৫ হিসাব নম্বরে তার ১৬ লাখ ৯৯ হাজার ৭২৮ টাকার এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিট রিসিট) রয়েছে। এই এফডিআরে থাকা অর্থ অর্জনের তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে গত বছরের ১০ নভেম্বর। এর ঠিক দুই দিন আগে একই হিসাব নম্বরের একটি সঞ্চয়ী আমানতে ৪ লাখ ২৮ হাজার ৮৬৭ টাকা অর্জনের তারিখ উল্লেখ করেন তিনি।
আয়কর নথিতে গত বছরের ৩০ জুন রিয়াজুলের হাতে নগদ ৩ লাখ ১৫ হাজার ৯৩১ টাকা অর্জনের তথ্য দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্সে তার জমা রয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৩৯২ টাকা।
রিয়াজুল নিজের নামেই গাড়ি কিনেননি, ভালোবেসে তার স্ত্রী সাথী খাতুনের নামেও কিনেছেন। আর এই দুটি গাড়ি তিনি কিনেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে। রিয়াজুল তার নিজের নামে কেনা (নোয়া মাইক্রোবাস ঢাকা মেট্রো গ-৩১-৫২৯৮) গাড়িটির মূল্য আয়কর নথিতে দেখিয়েছেন ৪৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। গাড়িটি তিনি কিনেছেন ২০২৪ সালের ৩০ নভেম্বর।
এ ছাড়া রিয়াজুলের স্ত্রী সাথী খাতুনের নামে থাকা আরেকটি প্রাইভেট কার রয়েছে, যার নম্বর ঢাকা মেট্রো চ-১২-৬৮৯৭। আয়কর নথিতে গাড়িটির মূল্য দেখানো হয়েছে ১২ লাখ ৯০ হাজার ৫০০ টাকা। এটি কেনা হয়েছে গত বছরের ৩০ জুন।
দুদকের বক্তব্য
রিয়াজুলের বিষয়ে জানতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘রিয়াজুলের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ আমাদের হাতে এসেছে। প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের পর একটি বিশেষ টিম গঠন করে তার এই অবৈধ সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখা হবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম সিটিজেন জার্নালকে বলেন, সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেমের ভাই রিয়াজুল ইসলামের বিষয়ে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাকে নথি জমা দিতে বলা হয়েছিল। তার প্রেক্ষিতে তিনি কিছু নথি জমা দিয়েছেন। অনুসন্ধান সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে দুদক।

দীর্ঘ ১৭ বছর ভাড়ায় গাড়ি চালিয়েছেন রিয়াজুল ইসলাম। মাস শেষে যা আয় হতো, তা দিয়েই টেনেটুনে চলত সংসার। কিন্তু সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মাত্র আট মাসে বদলে গেছে তাঁর জীবন। কিনেছেন দুটি গাড়ি। ব্যাংকে আছে মোটা অঙ্কের আমানত। সব মিলিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকার সম্পদ আছে তার। ২০২৪-২০২৫ করবর্ষের আয়কর নথিতে এই সম্পদের হিসাব দেখিয়েছেন তিনি। আয়ের সঙ্গে সম্পদের অসঙ্গতি থাকায় তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।
এই রিয়াজুল ইসলাম সাবেক স্থানীয় সরকার ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের বড় ভাই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাধারণ গাড়িচালক থেকে কোটিপতি বনে যান তিনি।
দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) সূত্রে জানা গেছে, গত দেড় বছর ধরে তার সম্পদের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে দুদক। পাশাপাশি নতুন করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) থেকেও তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এই সম্পদের ব্যাপারে কথা বলার জন্য বৃহস্পতিবার (২১ মে) রিয়াজুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমেই উত্তেজিত হয়ে সিটিজেন জার্নালের এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি নিজের ক্যাশ টাকায় গাড়ি কিনেছি।’ কিন্তু কিছুক্ষণ পর তিনি বলেন, গাড়ি কিনতে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন। অর্থাৎ শুরু থেকেই তার কথায় স্ববিরোধিতা ছিল।
মেজাজ ঠিক নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সারাদিন গাড়ি চালিয়ে মেজাজ ঠিক রাখা যায় না। আমি সাংবাদিকদের কাছে এগুলো বলতে বলতে বিরক্ত হয়ে যাচ্ছি। আপনারা যদি কিছু খুঁজে পান তাহলে নিয়ে যান।’
আমার দুইটা গাড়ি আর ব্যাংকের কিছু টাকার এফডিআর ছাড়া আর কিছুই নাই। থাকলে দুদক তো মামলা করত। দুদক থেকে দেড় বছরেও কিছু খুঁজে পায়নি কেন?’ আয়করের নথিতে ব্যবসায়িক মূলধন দেখানোর বিষয়ে রিয়াজ বলেন, আইনজীবী করেছে, আমি এ বিষয়ে জানি না। আমার সব মিলিয়ে ৮০ লাখ টাকার বেশি সম্পদ হবে না। রিয়াজুল ইসলাম, আসিফ মাহমুদের সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের বড় ভাই।
তিনি আরো বলেন, ‘আমার দুইটা গাড়ি আর ব্যাংকের কিছু টাকার এফডিআর ছাড়া আর কিছুই নাই। থাকলে দুদক তো মামলা করত। দুদক থেকে দেড় বছরেও কিছু খুঁজে পায়নি কেন?। আয়করের নথিতে ব্যবসায়িক মূলধন দেখানোর বিষয়ে রিয়াজ বলেন, আইনজীবী করেছে, আমি এ বিষয়ে জানি না। আমার সব মিলিয়ে ৮০ লাখ টাকার বেশি সম্পদ হবে না।’
দুদক থেকে এ বিষয়ে সর্বশেষ কবে ডেকেছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গত এপ্রিল মাসে দুদক থেকে ডেকে নথিপত্র তলব করেছে। আমি সেখানে বয়ান দিয়েছি। এছাড়া সমস্ত কাগজপত্র জমা দিয়েছি। তারা (দুদক) বলেছে, চেয়াম্যান আসলে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দেওয়া হবে। এখন আবার হঠাৎ করে গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত শুরু করেছে।’
গাড়ি কেনার বিষয়ে তিনি আবার দাবি করেন, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে থাকা ডিপিএস (ডিপোজিট পেনশন স্কিম) ভেঙে এবং স্ত্রীর পোশাক কারখানার চাকরির বেতনের টাকা দিয়ে ২০২২ সালে তিনি গাড়িগুলো কিনেছেন। কিন্তু তার আয়কর নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি গাড়িগুলো ২০২৪ ও ২০২৫ সালে কিনেছেন। অর্থাৎ গাড়ি কেনার বিষয়েও তিনি মিথ্যা কথা বলছেন।
যেভাবে দুদকের জালে রিয়াজুল
রিয়াজুল ইসলাম হঠাৎ করেই গত বছর এনবিআরে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন যেখানে তিনি প্রায় দুই কোটি টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছেন। বিপুল এই সম্পদ অর্জনে সময়ের ব্যবধান মাত্র আট মাস। দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে, এসব সম্পদ অর্জনের পক্ষে রিয়াজুল ইসলাম বৈধ কোনো উৎস দেখাতে পারেননি।
মূলত গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার এপিএস মোয়াজ্জেমের নামে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আসে দুদকে। পরে অভিযোগটি অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। কিন্তু সেই সময়ে অজ্ঞাত কারণে অনুসন্ধান থেমে যায়। তবে গত ৩০ মার্চ সিআইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে মোয়াজ্জেমের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। ওই আবেদনে বলা হয়েছে, শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান চলার কারণে মোয়াজ্জেম হোসেনের বিদেশযাত্রা রোধ করা প্রয়োজন।
জানা গেছে, মোয়াজ্জেম হোসেন ও রিয়াজুলের বাড়ি মাগুরার মহম্মদপুর। তাদের বাবা মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুরের দহিনপাড়ার কৃষিশ্রমিক আজিজার মণ্ডল। তাদের আরও এক ভাই আছে। তিনিও গাড়িচালক।
আয়কর নথিতে সম্পদের হদিস
নথিতে রিয়াজুল তার ব্যবসায়িক মূলধন হিসেবে দেখিয়েছেন, ৯৬ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা। এ ছাড়া ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসির রাজধানীর শ্যামলী শাখায় ১৪৮১৫৮০০৮৪২৭৫ হিসাব নম্বরে তার ১৬ লাখ ৯৯ হাজার ৭২৮ টাকার এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিট রিসিট) রয়েছে। এই এফডিআরে থাকা অর্থ অর্জনের তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে গত বছরের ১০ নভেম্বর। এর ঠিক দুই দিন আগে একই হিসাব নম্বরের একটি সঞ্চয়ী আমানতে ৪ লাখ ২৮ হাজার ৮৬৭ টাকা অর্জনের তারিখ উল্লেখ করেন তিনি।
আয়কর নথিতে গত বছরের ৩০ জুন রিয়াজুলের হাতে নগদ ৩ লাখ ১৫ হাজার ৯৩১ টাকা অর্জনের তথ্য দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্সে তার জমা রয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৩৯২ টাকা।
রিয়াজুল নিজের নামেই গাড়ি কিনেননি, ভালোবেসে তার স্ত্রী সাথী খাতুনের নামেও কিনেছেন। আর এই দুটি গাড়ি তিনি কিনেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে। রিয়াজুল তার নিজের নামে কেনা (নোয়া মাইক্রোবাস ঢাকা মেট্রো গ-৩১-৫২৯৮) গাড়িটির মূল্য আয়কর নথিতে দেখিয়েছেন ৪৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। গাড়িটি তিনি কিনেছেন ২০২৪ সালের ৩০ নভেম্বর।
এ ছাড়া রিয়াজুলের স্ত্রী সাথী খাতুনের নামে থাকা আরেকটি প্রাইভেট কার রয়েছে, যার নম্বর ঢাকা মেট্রো চ-১২-৬৮৯৭। আয়কর নথিতে গাড়িটির মূল্য দেখানো হয়েছে ১২ লাখ ৯০ হাজার ৫০০ টাকা। এটি কেনা হয়েছে গত বছরের ৩০ জুন।
দুদকের বক্তব্য
রিয়াজুলের বিষয়ে জানতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘রিয়াজুলের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ আমাদের হাতে এসেছে। প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের পর একটি বিশেষ টিম গঠন করে তার এই অবৈধ সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখা হবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম সিটিজেন জার্নালকে বলেন, সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেমের ভাই রিয়াজুল ইসলামের বিষয়ে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাকে নথি জমা দিতে বলা হয়েছিল। তার প্রেক্ষিতে তিনি কিছু নথি জমা দিয়েছেন। অনুসন্ধান সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে দুদক।

চালক থেকে কোটিপতি, দুদকের জালে আসিফ মাহমুদের সাবেক এপিএসের ভাই
মরিয়ম সেঁজুতি

দীর্ঘ ১৭ বছর ভাড়ায় গাড়ি চালিয়েছেন রিয়াজুল ইসলাম। মাস শেষে যা আয় হতো, তা দিয়েই টেনেটুনে চলত সংসার। কিন্তু সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মাত্র আট মাসে বদলে গেছে তাঁর জীবন। কিনেছেন দুটি গাড়ি। ব্যাংকে আছে মোটা অঙ্কের আমানত। সব মিলিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকার সম্পদ আছে তার। ২০২৪-২০২৫ করবর্ষের আয়কর নথিতে এই সম্পদের হিসাব দেখিয়েছেন তিনি। আয়ের সঙ্গে সম্পদের অসঙ্গতি থাকায় তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।
এই রিয়াজুল ইসলাম সাবেক স্থানীয় সরকার ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের বড় ভাই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাধারণ গাড়িচালক থেকে কোটিপতি বনে যান তিনি।
দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) সূত্রে জানা গেছে, গত দেড় বছর ধরে তার সম্পদের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে দুদক। পাশাপাশি নতুন করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) থেকেও তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এই সম্পদের ব্যাপারে কথা বলার জন্য বৃহস্পতিবার (২১ মে) রিয়াজুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমেই উত্তেজিত হয়ে সিটিজেন জার্নালের এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি নিজের ক্যাশ টাকায় গাড়ি কিনেছি।’ কিন্তু কিছুক্ষণ পর তিনি বলেন, গাড়ি কিনতে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন। অর্থাৎ শুরু থেকেই তার কথায় স্ববিরোধিতা ছিল।
মেজাজ ঠিক নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সারাদিন গাড়ি চালিয়ে মেজাজ ঠিক রাখা যায় না। আমি সাংবাদিকদের কাছে এগুলো বলতে বলতে বিরক্ত হয়ে যাচ্ছি। আপনারা যদি কিছু খুঁজে পান তাহলে নিয়ে যান।’
আমার দুইটা গাড়ি আর ব্যাংকের কিছু টাকার এফডিআর ছাড়া আর কিছুই নাই। থাকলে দুদক তো মামলা করত। দুদক থেকে দেড় বছরেও কিছু খুঁজে পায়নি কেন?’ আয়করের নথিতে ব্যবসায়িক মূলধন দেখানোর বিষয়ে রিয়াজ বলেন, আইনজীবী করেছে, আমি এ বিষয়ে জানি না। আমার সব মিলিয়ে ৮০ লাখ টাকার বেশি সম্পদ হবে না। রিয়াজুল ইসলাম, আসিফ মাহমুদের সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের বড় ভাই।
তিনি আরো বলেন, ‘আমার দুইটা গাড়ি আর ব্যাংকের কিছু টাকার এফডিআর ছাড়া আর কিছুই নাই। থাকলে দুদক তো মামলা করত। দুদক থেকে দেড় বছরেও কিছু খুঁজে পায়নি কেন?। আয়করের নথিতে ব্যবসায়িক মূলধন দেখানোর বিষয়ে রিয়াজ বলেন, আইনজীবী করেছে, আমি এ বিষয়ে জানি না। আমার সব মিলিয়ে ৮০ লাখ টাকার বেশি সম্পদ হবে না।’
দুদক থেকে এ বিষয়ে সর্বশেষ কবে ডেকেছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গত এপ্রিল মাসে দুদক থেকে ডেকে নথিপত্র তলব করেছে। আমি সেখানে বয়ান দিয়েছি। এছাড়া সমস্ত কাগজপত্র জমা দিয়েছি। তারা (দুদক) বলেছে, চেয়াম্যান আসলে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দেওয়া হবে। এখন আবার হঠাৎ করে গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত শুরু করেছে।’
গাড়ি কেনার বিষয়ে তিনি আবার দাবি করেন, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে থাকা ডিপিএস (ডিপোজিট পেনশন স্কিম) ভেঙে এবং স্ত্রীর পোশাক কারখানার চাকরির বেতনের টাকা দিয়ে ২০২২ সালে তিনি গাড়িগুলো কিনেছেন। কিন্তু তার আয়কর নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি গাড়িগুলো ২০২৪ ও ২০২৫ সালে কিনেছেন। অর্থাৎ গাড়ি কেনার বিষয়েও তিনি মিথ্যা কথা বলছেন।
যেভাবে দুদকের জালে রিয়াজুল
রিয়াজুল ইসলাম হঠাৎ করেই গত বছর এনবিআরে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন যেখানে তিনি প্রায় দুই কোটি টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছেন। বিপুল এই সম্পদ অর্জনে সময়ের ব্যবধান মাত্র আট মাস। দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে, এসব সম্পদ অর্জনের পক্ষে রিয়াজুল ইসলাম বৈধ কোনো উৎস দেখাতে পারেননি।
মূলত গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার এপিএস মোয়াজ্জেমের নামে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আসে দুদকে। পরে অভিযোগটি অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। কিন্তু সেই সময়ে অজ্ঞাত কারণে অনুসন্ধান থেমে যায়। তবে গত ৩০ মার্চ সিআইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে মোয়াজ্জেমের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। ওই আবেদনে বলা হয়েছে, শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান চলার কারণে মোয়াজ্জেম হোসেনের বিদেশযাত্রা রোধ করা প্রয়োজন।
জানা গেছে, মোয়াজ্জেম হোসেন ও রিয়াজুলের বাড়ি মাগুরার মহম্মদপুর। তাদের বাবা মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুরের দহিনপাড়ার কৃষিশ্রমিক আজিজার মণ্ডল। তাদের আরও এক ভাই আছে। তিনিও গাড়িচালক।
আয়কর নথিতে সম্পদের হদিস
নথিতে রিয়াজুল তার ব্যবসায়িক মূলধন হিসেবে দেখিয়েছেন, ৯৬ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা। এ ছাড়া ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসির রাজধানীর শ্যামলী শাখায় ১৪৮১৫৮০০৮৪২৭৫ হিসাব নম্বরে তার ১৬ লাখ ৯৯ হাজার ৭২৮ টাকার এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিট রিসিট) রয়েছে। এই এফডিআরে থাকা অর্থ অর্জনের তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে গত বছরের ১০ নভেম্বর। এর ঠিক দুই দিন আগে একই হিসাব নম্বরের একটি সঞ্চয়ী আমানতে ৪ লাখ ২৮ হাজার ৮৬৭ টাকা অর্জনের তারিখ উল্লেখ করেন তিনি।
আয়কর নথিতে গত বছরের ৩০ জুন রিয়াজুলের হাতে নগদ ৩ লাখ ১৫ হাজার ৯৩১ টাকা অর্জনের তথ্য দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্সে তার জমা রয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৩৯২ টাকা।
রিয়াজুল নিজের নামেই গাড়ি কিনেননি, ভালোবেসে তার স্ত্রী সাথী খাতুনের নামেও কিনেছেন। আর এই দুটি গাড়ি তিনি কিনেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে। রিয়াজুল তার নিজের নামে কেনা (নোয়া মাইক্রোবাস ঢাকা মেট্রো গ-৩১-৫২৯৮) গাড়িটির মূল্য আয়কর নথিতে দেখিয়েছেন ৪৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। গাড়িটি তিনি কিনেছেন ২০২৪ সালের ৩০ নভেম্বর।
এ ছাড়া রিয়াজুলের স্ত্রী সাথী খাতুনের নামে থাকা আরেকটি প্রাইভেট কার রয়েছে, যার নম্বর ঢাকা মেট্রো চ-১২-৬৮৯৭। আয়কর নথিতে গাড়িটির মূল্য দেখানো হয়েছে ১২ লাখ ৯০ হাজার ৫০০ টাকা। এটি কেনা হয়েছে গত বছরের ৩০ জুন।
দুদকের বক্তব্য
রিয়াজুলের বিষয়ে জানতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘রিয়াজুলের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ আমাদের হাতে এসেছে। প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের পর একটি বিশেষ টিম গঠন করে তার এই অবৈধ সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখা হবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম সিটিজেন জার্নালকে বলেন, সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেমের ভাই রিয়াজুল ইসলামের বিষয়ে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাকে নথি জমা দিতে বলা হয়েছিল। তার প্রেক্ষিতে তিনি কিছু নথি জমা দিয়েছেন। অনুসন্ধান সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে দুদক।

ধানমন্ডিবাসীর পাম্পের জমিতে বিআরবির বাণিজ্যিক ভবন

