পাপ বাপকেও ছাড়ে না, সংসদে জামায়াত আমির

পাপ বাপকেও ছাড়ে না, সংসদে জামায়াত আমির
নিজস্ব প্রতিবেদক

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় ফিরে আওয়ামী লীগ এই ব্যবস্থার অবসান ঘটায়। বিচার বিভাগের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পথ তৈরি করা হয়েছিলো। পাপ বাপকেও ছাড়ে না। যে যেখানে যতটুকু অন্যায় করবেন, দুনিয়াতেই কোনো না কোনোভাবে তার প্রাপ্তি তাকে ভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে একথা বলেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, ১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনের সূচনা হয়েছিলো এবং ১৯৫২ সালে এসে তা চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে। ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার এই আন্দোলনে যারা সোচ্চার হয়েছিলেন, তাদের অনেককে কারাবরণ করতে হয়েছে, নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে এবং জীবনও দিতে হয়েছে। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। একই সঙ্গে সেই সময়ের ভাষাসংগ্রামীদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানাই। তাদের ত্যাগের কারণেই শেষ পর্যন্ত বাংলা ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জনগণের রায় পেয়ে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়। এমনকি সমগ্র পাকিস্তানের আসন বিবেচনায়ও দলটি সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিলো। কিন্তু জনগণের সেই রায়কে অগ্রাহ্য করার ফলে পরিস্থিতি অনিবার্যভাবে মুক্তিযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যায়। সেই যুদ্ধে অনেকে জীবন দিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। স্বাধীনতার জন্য যারা লড়াই করেছেন এবং স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, আমি তাদের সবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি স্বাধীন দেশ পাওয়ার পর জনগণ আশা করেছিলো-এ দেশে আর কোনো বঞ্চনা ও বৈষম্য থাকবে না। সন্তানরা সুশিক্ষা পাবে, সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে, মেধা ও যোগ্যতার স্বীকৃতি পাবে এবং রাষ্ট্র তাদের মেধাবী সেবা থেকে উপকৃত হবে। একই সঙ্গে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, অর্থনৈতিক বৈষম্য কমবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তবে বাস্তবে এসব প্রত্যাশার বিপরীত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিলো। অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে নানা সংকট দেখা দিয়েছিল। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা এলেও জনগণের জন্য বরাদ্দ ত্রাণ ও সম্পদ লুটপাটের অভিযোগ ওঠে।
তিনি বলেন, জনগণের ভালোবাসায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠা নেতৃত্ব পরবর্তী সময়ে জনগণের ওপর আস্থা হারিয়ে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলো। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধিতা দমনে রক্ষীবাহিনী গঠন করে। এই বাহিনীর হাতে বহু পরিবার স্বজন হারিয়েছে, বহু নারী বিধবা হয়েছেন এবং বহু শিশু এতিম হয়েছে। এসব হত্যাকাণ্ডের অনেক ঘটনাই বিচারের আওতায় আনা হয়নি। অপরাধ হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা যেত। কিন্তু সে পথে না গিয়ে রক্ষীবাহিনীকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ও লুটপাটের ফলে দেশে ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছিলো। অনাহারে মানুষ রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় মৃত্যুবরণ করেছিল। মৃতদেহ দাফনের ব্যবস্থাও অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়েছিলো। এ সময় আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম মানবিক দায়িত্ব পালন করে মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব করেছিলো।দারিদ্র্য ও খাদ্যসংকটের কারণে লজ্জা নিবারণের জন্য এক নারীকে জাল ও গাছের পাতা ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছিলেন। ঐতিহাসিক বাসন্তীর ঘটনা আমরা সবাই জানি।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় বিশৃঙ্খলা, অনাচার ও ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে একপর্যায়ে জনগণের আন্দোলন গড়ে ওঠে। আল্লাহর ইচ্ছায় সেই শাসনের পতনও ঘটে এবং মানুষ কিছু সময়ের জন্য স্বস্তি পায়।পরবর্তী সময়ে আবারও জনগণের অধিকার হরণ করা হয়। একজন সেনাপতি নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে চাপের মুখে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য করেন এবং দেশ আবারও দীর্ঘ সময়ের স্বৈরশাসনের কবলে পড়ে।
জামায়াত আমির বলেন, সেই স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন সবাই করেছে। আজকের এই সংসদে আমরা যারা আছি, আমাদের সবাইকেই কোনো না কোনোভাবে সেই আন্দোলনে অংশ নিতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বৈরশাসনের পতন হয়। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেলেও এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। সে সময় জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের তৎকালীন নেতা অধ্যাপক গোলাম আযমের নেতৃত্বে দলটি বিএনপিকে সরকার গঠনে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেয়।
তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে আমরা বিএনপিকে সরকার গঠনে সমর্থন দিয়েছিলাম। এর বিনিময়ে কোনো স্বার্থ বা শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়নি। আমরা নিঃশর্তভাবে তাদের সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছিলাম এবং নিজেরা বিরোধী দলে অবস্থান নিয়েছিলাম। একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন নিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনার জন্য অধ্যাপক গোলাম আযমের পক্ষ থেকে আব্বাস আলী খানের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করেছিলো। আলোচনায় সন্তোষজনক সমাধান না হওয়ায় তারা বিষয়টি জনগণের সামনে তুলে ধরতে বাধ্য হন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, পরবর্তীতে এ নিয়ে আন্দোলন গড়ে ওঠে। প্রথমদিকে আওয়ামী লীগ এ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত না থাকলেও আন্দোলন জনপ্রিয় হয়ে উঠলে তারা এতে যোগ দেয়। শেষ পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে যুক্ত হয়। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের সময় এ দাবি বাস্তবায়ন হয়নি। পরে ১৯৯৬ সালে স্বল্পমেয়াদি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং বিএনপি সরকারের সময় সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিধান যুক্ত করা হয়।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তার একটি রিহার্সাল ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনাগুলোর মধ্য দিয়ে দেখা গিয়েছিলো। ওই সময় গাজীপুর, সিরাজগঞ্জ ও রংপুরসহ বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় ২৪ জন মানুষ নিহত হন। প্রকাশ্য দিবালোকে অসংখ্য টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে এসব ঘটনা ঘটেছিলো এবং দেশ-বিদেশের মানুষ তা প্রত্যক্ষ করেছিল। এসব ঘটনায় মামলা হলেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সেসব মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় এবং বিচারপ্রক্রিয়া এগোয়নি। এভাবেই দেশটি বিভিন্ন সময়ে বারবার অসুস্থ রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশের মুখোমুখি হয়েছে এবং নানা সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় ফিরে আওয়ামী লীগ এই ব্যবস্থার অবসান ঘটায়। বিচার বিভাগের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পথ তৈরি করা হয়েছিলো। পাপ বাপকেও ছাড়ে না। যে যেখানে যতটুকু অন্যায় করবেন, দুনিয়াতেই কোনো না কোনোভাবে তার প্রাপ্তি তাকে ভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে একথা বলেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, ১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনের সূচনা হয়েছিলো এবং ১৯৫২ সালে এসে তা চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে। ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার এই আন্দোলনে যারা সোচ্চার হয়েছিলেন, তাদের অনেককে কারাবরণ করতে হয়েছে, নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে এবং জীবনও দিতে হয়েছে। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। একই সঙ্গে সেই সময়ের ভাষাসংগ্রামীদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানাই। তাদের ত্যাগের কারণেই শেষ পর্যন্ত বাংলা ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জনগণের রায় পেয়ে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়। এমনকি সমগ্র পাকিস্তানের আসন বিবেচনায়ও দলটি সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিলো। কিন্তু জনগণের সেই রায়কে অগ্রাহ্য করার ফলে পরিস্থিতি অনিবার্যভাবে মুক্তিযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যায়। সেই যুদ্ধে অনেকে জীবন দিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। স্বাধীনতার জন্য যারা লড়াই করেছেন এবং স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, আমি তাদের সবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি স্বাধীন দেশ পাওয়ার পর জনগণ আশা করেছিলো-এ দেশে আর কোনো বঞ্চনা ও বৈষম্য থাকবে না। সন্তানরা সুশিক্ষা পাবে, সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে, মেধা ও যোগ্যতার স্বীকৃতি পাবে এবং রাষ্ট্র তাদের মেধাবী সেবা থেকে উপকৃত হবে। একই সঙ্গে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, অর্থনৈতিক বৈষম্য কমবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তবে বাস্তবে এসব প্রত্যাশার বিপরীত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিলো। অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে নানা সংকট দেখা দিয়েছিল। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা এলেও জনগণের জন্য বরাদ্দ ত্রাণ ও সম্পদ লুটপাটের অভিযোগ ওঠে।
তিনি বলেন, জনগণের ভালোবাসায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠা নেতৃত্ব পরবর্তী সময়ে জনগণের ওপর আস্থা হারিয়ে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলো। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধিতা দমনে রক্ষীবাহিনী গঠন করে। এই বাহিনীর হাতে বহু পরিবার স্বজন হারিয়েছে, বহু নারী বিধবা হয়েছেন এবং বহু শিশু এতিম হয়েছে। এসব হত্যাকাণ্ডের অনেক ঘটনাই বিচারের আওতায় আনা হয়নি। অপরাধ হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা যেত। কিন্তু সে পথে না গিয়ে রক্ষীবাহিনীকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ও লুটপাটের ফলে দেশে ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছিলো। অনাহারে মানুষ রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় মৃত্যুবরণ করেছিল। মৃতদেহ দাফনের ব্যবস্থাও অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়েছিলো। এ সময় আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম মানবিক দায়িত্ব পালন করে মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব করেছিলো।দারিদ্র্য ও খাদ্যসংকটের কারণে লজ্জা নিবারণের জন্য এক নারীকে জাল ও গাছের পাতা ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছিলেন। ঐতিহাসিক বাসন্তীর ঘটনা আমরা সবাই জানি।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় বিশৃঙ্খলা, অনাচার ও ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে একপর্যায়ে জনগণের আন্দোলন গড়ে ওঠে। আল্লাহর ইচ্ছায় সেই শাসনের পতনও ঘটে এবং মানুষ কিছু সময়ের জন্য স্বস্তি পায়।পরবর্তী সময়ে আবারও জনগণের অধিকার হরণ করা হয়। একজন সেনাপতি নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে চাপের মুখে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য করেন এবং দেশ আবারও দীর্ঘ সময়ের স্বৈরশাসনের কবলে পড়ে।
জামায়াত আমির বলেন, সেই স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন সবাই করেছে। আজকের এই সংসদে আমরা যারা আছি, আমাদের সবাইকেই কোনো না কোনোভাবে সেই আন্দোলনে অংশ নিতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বৈরশাসনের পতন হয়। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেলেও এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। সে সময় জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের তৎকালীন নেতা অধ্যাপক গোলাম আযমের নেতৃত্বে দলটি বিএনপিকে সরকার গঠনে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেয়।
তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে আমরা বিএনপিকে সরকার গঠনে সমর্থন দিয়েছিলাম। এর বিনিময়ে কোনো স্বার্থ বা শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়নি। আমরা নিঃশর্তভাবে তাদের সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছিলাম এবং নিজেরা বিরোধী দলে অবস্থান নিয়েছিলাম। একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন নিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনার জন্য অধ্যাপক গোলাম আযমের পক্ষ থেকে আব্বাস আলী খানের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করেছিলো। আলোচনায় সন্তোষজনক সমাধান না হওয়ায় তারা বিষয়টি জনগণের সামনে তুলে ধরতে বাধ্য হন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, পরবর্তীতে এ নিয়ে আন্দোলন গড়ে ওঠে। প্রথমদিকে আওয়ামী লীগ এ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত না থাকলেও আন্দোলন জনপ্রিয় হয়ে উঠলে তারা এতে যোগ দেয়। শেষ পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে যুক্ত হয়। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের সময় এ দাবি বাস্তবায়ন হয়নি। পরে ১৯৯৬ সালে স্বল্পমেয়াদি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং বিএনপি সরকারের সময় সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিধান যুক্ত করা হয়।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তার একটি রিহার্সাল ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনাগুলোর মধ্য দিয়ে দেখা গিয়েছিলো। ওই সময় গাজীপুর, সিরাজগঞ্জ ও রংপুরসহ বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় ২৪ জন মানুষ নিহত হন। প্রকাশ্য দিবালোকে অসংখ্য টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে এসব ঘটনা ঘটেছিলো এবং দেশ-বিদেশের মানুষ তা প্রত্যক্ষ করেছিল। এসব ঘটনায় মামলা হলেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সেসব মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় এবং বিচারপ্রক্রিয়া এগোয়নি। এভাবেই দেশটি বিভিন্ন সময়ে বারবার অসুস্থ রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশের মুখোমুখি হয়েছে এবং নানা সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে।

পাপ বাপকেও ছাড়ে না, সংসদে জামায়াত আমির
নিজস্ব প্রতিবেদক

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় ফিরে আওয়ামী লীগ এই ব্যবস্থার অবসান ঘটায়। বিচার বিভাগের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পথ তৈরি করা হয়েছিলো। পাপ বাপকেও ছাড়ে না। যে যেখানে যতটুকু অন্যায় করবেন, দুনিয়াতেই কোনো না কোনোভাবে তার প্রাপ্তি তাকে ভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে একথা বলেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, ১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনের সূচনা হয়েছিলো এবং ১৯৫২ সালে এসে তা চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে। ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার এই আন্দোলনে যারা সোচ্চার হয়েছিলেন, তাদের অনেককে কারাবরণ করতে হয়েছে, নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে এবং জীবনও দিতে হয়েছে। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। একই সঙ্গে সেই সময়ের ভাষাসংগ্রামীদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানাই। তাদের ত্যাগের কারণেই শেষ পর্যন্ত বাংলা ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জনগণের রায় পেয়ে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়। এমনকি সমগ্র পাকিস্তানের আসন বিবেচনায়ও দলটি সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিলো। কিন্তু জনগণের সেই রায়কে অগ্রাহ্য করার ফলে পরিস্থিতি অনিবার্যভাবে মুক্তিযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যায়। সেই যুদ্ধে অনেকে জীবন দিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। স্বাধীনতার জন্য যারা লড়াই করেছেন এবং স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, আমি তাদের সবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি স্বাধীন দেশ পাওয়ার পর জনগণ আশা করেছিলো-এ দেশে আর কোনো বঞ্চনা ও বৈষম্য থাকবে না। সন্তানরা সুশিক্ষা পাবে, সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে, মেধা ও যোগ্যতার স্বীকৃতি পাবে এবং রাষ্ট্র তাদের মেধাবী সেবা থেকে উপকৃত হবে। একই সঙ্গে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, অর্থনৈতিক বৈষম্য কমবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তবে বাস্তবে এসব প্রত্যাশার বিপরীত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিলো। অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে নানা সংকট দেখা দিয়েছিল। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা এলেও জনগণের জন্য বরাদ্দ ত্রাণ ও সম্পদ লুটপাটের অভিযোগ ওঠে।
তিনি বলেন, জনগণের ভালোবাসায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠা নেতৃত্ব পরবর্তী সময়ে জনগণের ওপর আস্থা হারিয়ে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলো। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধিতা দমনে রক্ষীবাহিনী গঠন করে। এই বাহিনীর হাতে বহু পরিবার স্বজন হারিয়েছে, বহু নারী বিধবা হয়েছেন এবং বহু শিশু এতিম হয়েছে। এসব হত্যাকাণ্ডের অনেক ঘটনাই বিচারের আওতায় আনা হয়নি। অপরাধ হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা যেত। কিন্তু সে পথে না গিয়ে রক্ষীবাহিনীকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ও লুটপাটের ফলে দেশে ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছিলো। অনাহারে মানুষ রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় মৃত্যুবরণ করেছিল। মৃতদেহ দাফনের ব্যবস্থাও অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়েছিলো। এ সময় আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম মানবিক দায়িত্ব পালন করে মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব করেছিলো।দারিদ্র্য ও খাদ্যসংকটের কারণে লজ্জা নিবারণের জন্য এক নারীকে জাল ও গাছের পাতা ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছিলেন। ঐতিহাসিক বাসন্তীর ঘটনা আমরা সবাই জানি।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় বিশৃঙ্খলা, অনাচার ও ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে একপর্যায়ে জনগণের আন্দোলন গড়ে ওঠে। আল্লাহর ইচ্ছায় সেই শাসনের পতনও ঘটে এবং মানুষ কিছু সময়ের জন্য স্বস্তি পায়।পরবর্তী সময়ে আবারও জনগণের অধিকার হরণ করা হয়। একজন সেনাপতি নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে চাপের মুখে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য করেন এবং দেশ আবারও দীর্ঘ সময়ের স্বৈরশাসনের কবলে পড়ে।
জামায়াত আমির বলেন, সেই স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন সবাই করেছে। আজকের এই সংসদে আমরা যারা আছি, আমাদের সবাইকেই কোনো না কোনোভাবে সেই আন্দোলনে অংশ নিতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বৈরশাসনের পতন হয়। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেলেও এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। সে সময় জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের তৎকালীন নেতা অধ্যাপক গোলাম আযমের নেতৃত্বে দলটি বিএনপিকে সরকার গঠনে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেয়।
তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে আমরা বিএনপিকে সরকার গঠনে সমর্থন দিয়েছিলাম। এর বিনিময়ে কোনো স্বার্থ বা শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়নি। আমরা নিঃশর্তভাবে তাদের সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছিলাম এবং নিজেরা বিরোধী দলে অবস্থান নিয়েছিলাম। একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন নিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনার জন্য অধ্যাপক গোলাম আযমের পক্ষ থেকে আব্বাস আলী খানের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করেছিলো। আলোচনায় সন্তোষজনক সমাধান না হওয়ায় তারা বিষয়টি জনগণের সামনে তুলে ধরতে বাধ্য হন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, পরবর্তীতে এ নিয়ে আন্দোলন গড়ে ওঠে। প্রথমদিকে আওয়ামী লীগ এ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত না থাকলেও আন্দোলন জনপ্রিয় হয়ে উঠলে তারা এতে যোগ দেয়। শেষ পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে যুক্ত হয়। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের সময় এ দাবি বাস্তবায়ন হয়নি। পরে ১৯৯৬ সালে স্বল্পমেয়াদি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং বিএনপি সরকারের সময় সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিধান যুক্ত করা হয়।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তার একটি রিহার্সাল ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনাগুলোর মধ্য দিয়ে দেখা গিয়েছিলো। ওই সময় গাজীপুর, সিরাজগঞ্জ ও রংপুরসহ বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় ২৪ জন মানুষ নিহত হন। প্রকাশ্য দিবালোকে অসংখ্য টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে এসব ঘটনা ঘটেছিলো এবং দেশ-বিদেশের মানুষ তা প্রত্যক্ষ করেছিল। এসব ঘটনায় মামলা হলেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সেসব মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় এবং বিচারপ্রক্রিয়া এগোয়নি। এভাবেই দেশটি বিভিন্ন সময়ে বারবার অসুস্থ রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশের মুখোমুখি হয়েছে এবং নানা সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে।

র্যাবের বিলুপ্তি চেয়েছিলাম, একই বাহিনী চাইনি: জামায়াত আমির
সংসদে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ চাইলেন রুমিন ফারহানা




