শিরোনাম

অবিবাহিতদের জন্য ১২ ঘণ্টার স্বাধীনতা! অদ্ভুত গল্পের সিনেমা ‘ওয়ান নাইট অনলি’

বিনোদন ডেস্ক
বিনোদন ডেস্ক
অবিবাহিতদের জন্য ১২ ঘণ্টার স্বাধীনতা! অদ্ভুত গল্পের সিনেমা ‘ওয়ান নাইট অনলি’
‘ওয়ান নাইট অনলি’ সিনেমার দৃশ্য

ভাবুন তো এমন এক পৃথিবীর কথা, যেখানে ভালোবাসা প্রকাশে বাধা না থাকলেও বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ! আর এই নিয়ম কড়াকড়িভাবে পাহারা দিচ্ছে অত্যাধুনিক বায়োসেন্সর। তবে পুরো বছর জুড়ে কেবল একটি রাতের জন্যই মেলে ছাড়পত্র- ঠিক ১২ ঘণ্টার জন্য রাষ্ট্র তুলে নেয় সেই নিষেধাজ্ঞা। শুনতে কোনো রাজনৈতিক কল্পবিজ্ঞানের গল্প মনে হলেও, অদ্ভুত এই ধারণাকে রোমান্টিক কমেডির মোড়কে রূপালি পর্দায় এনেছেন পরিচালক উইল গ্লাক। শনিবার (৭ আগস্ট) মুক্তি পাওয়া তার নতুন সিনেমা ‘ওয়ান নাইট অনলি’ এখন দর্শক ও সমালোচকদের আলোচনার কেন্দ্রে।

সিনেমার গল্পটি গড়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কাল্পনিক আইনকে কেন্দ্র করে। সেখানে অবিবাহিতদের মেলামেশা নিষিদ্ধ হলেও সরকার বছরের একটি দিনকে ‘ন্যাশনাল সেক্স নাইট’ হিসেবে ঘোষণা করে। সেই বিশেষ রাতে সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত মাত্র ১২ ঘণ্টার জন্য আইনি ঝামেলা ছাড়াই মেলামেশার সুযোগ পায় নাগরিকেরা। শরীরের রাসায়নিক পরিবর্তন মেপে দেখার জন্য সবার গায়ে পরা থাকে ট্র্যাকিং ডিভাইস, আর নিয়ম ভাঙলেই মেলে কঠোর শাস্তি। ফলে এই একটি রাতকে ঘিরে পুরো দেশে নেমে আসে চরম উন্মাদনা, যা ছড়িয়ে পড়ে ক্লাব, রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে ডেটিং অ্যাপগুলোতে।

অবিবাহিতদের জন্য ১২ ঘণ্টার স্বাধীনতা! অদ্ভুত গল্পের সিনেমা ‘ওয়ান নাইট অনলি’ (1)

এই উন্মাদনার রাতেই মুখোমুখি হয় গল্পের প্রধান দুই চরিত্র- ম্যানহাটনের সাধারণ পিৎজা বিক্রেতা ওভেন এবং জিঙ্গেল গায়িকা অ্যালি। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে বিশেষ এই রাতে দুজনেরই নিজ নিজ সঙ্গীর সাথে পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। নিঃসঙ্গ ও মনভাঙা ওভেনের সাথে হুট করেই নিউ ইয়র্কের ঝলমলে রাস্তায় দেখা হয়ে যায় অ্যালির। প্রথম দেখাটা বেশ বিদঘুটে ও অস্বস্তিকর হলেও, রাতের নিউ ইয়র্কে বারবার তাদের পথ এক হয়ে যেতে থাকে। সাবওয়ে, ব্রুকলিন ব্রিজের বাতাস আর নিরিবিলি ক্যাফেতে সময় কাটাতে কাটাতে শারীরিক আকর্ষণের চেয়ে দুজন দুজনের মনকে চিনতে শুরু করে।

ছবিটিতে ওভেন চরিত্রে ক্যালাম টার্নার এবং অ্যালি চরিত্রে মনিকা বারবারোর রসায়ন বেশ জমে উঠেছে। ক্যালামের সরলতা আর মনিকার আত্মবিশ্বাসী রূপ চরিত্র দুটিকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে। পরিচালক উইল গ্লাক নিউ ইয়র্ক শহরটিকে কেবল প্রেক্ষাপট হিসেবে না রেখে গল্পের অন্যতম জীবন্ত চরিত্র হিসেবে ফুটিয়ে তুলেছেন। তবে এই হালকা মেজাজের রোমান্টিক গল্পের আড়ালে সিনেমাটি কিছু কঠিন প্রশ্নও ছুড়ে দেয়-রাষ্ট্র কি মানুষের অতি ব্যক্তিগত অনুভূতি আর জীবনযাত্রাকে এভাবে শাসন করতে পারে?

অবিবাহিতদের জন্য ১২ ঘণ্টার স্বাধীনতা! অদ্ভুত গল্পের সিনেমা ‘ওয়ান নাইট অনলি’ (2)

মুক্তির পর থেকেই ছবিটি নিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত দর্শক ও সমালোচকেরা। একদলের মতে, এটি অসম্ভব এক পরিস্থিতির মাঝে গড়ে ওঠা দুটি মানুষের ভালোবাসার গল্প। কিন্তু বিপরীত মতটি বেশ কড়া। আন্তর্জাতিক সমালোচক ও খ্যাতনামা পত্রিকা ‘দ্য গার্ডিয়ান’ এর মতে, প্রজনন অধিকার ও ব্যক্তিস্বাধীনতা নিয়ে চলা বাস্তব রাজনৈতিক বিতর্কের সময়ে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের মতো সংবেদনশীল ধারণাকে রোমান্টিক কমেডি বানিয়ে ফেলা অনুচিত হয়েছে। ছবিটিতে রাষ্ট্রীয় স্বৈরাচারকে হালকাভাবে দেখিয়ে একধরনের কৃত্রিম নৈতিক সংযমকে রোমান্টিসাইজ করা হয়েছে। এটি আদতে স্বস্তিদায়ক নয়। সব মিলিয়ে, সিনেমাটি যতই বিতর্ক তৈরি করুক না কেন, দর্শককে যে ভাবাতে পেরেছে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

/এমএকে/