শিরোনাম

শৈশবের সেই দুঃসহ স্মৃতি আজও তাড়া করে প্রিয়ন্তীর

বিনোদন ডেস্ক
শৈশবের সেই দুঃসহ স্মৃতি আজও তাড়া করে প্রিয়ন্তীর
প্রিয়ন্তী উর্বী।

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড কাঁপিয়ে দিয়েছে পুরো দেশকে। নৃশংস এই ঘটনায় প্রতিবাদ জানাচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। ক্রিকেটার থেকে শোবিজ অঞ্চনের তারকারাও শিশু রামিসা হত্যার বিচার দাবি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিচ্ছেন। আবার অনেকেই শৈশবে নিজেদের সঙ্গে ঘটা ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করছেন। এমনই একজন বর্তমান সময়ের অভিনেত্রী প্রিয়ন্তী উর্বী। নিজের শৈশবের এক ভয়াবহ ও ট্রমাটিক অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করে দেশের চলমান শিশু নির্যাতনের ঘটনা আবেগঘন এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।

মাত্র ৪ থেকে ৫ বছর বয়সে অভিনেত্রীও আপত্তিকর স্পর্শের শিকার হয়েছিলেন। শৈশবের সেই দুঃসহ স্মৃতি আজও তাড়া করে ফেরে বলে জানান প্রিয়ন্তী।

ফেসবুক পোস্টে শৈশবের সেই দিনগুলোর মানসিক যন্ত্রণা ফুটিয়ে তুলে তিনি লেখেন, তখন বুঝতাম না ঠিক কী হচ্ছে। শুধু মনে হতো এটা স্বাভাবিক না। আব্বু-আম্মু তো কখনো এভাবে ধরেনি। আজ ভাবি, ৪-৫ বছরের একটা বাচ্চার মনে কতটা ভয় ঢুকে যায় এসব থেকে। কত প্রশ্ন, কত অস্বস্তি, কত-না বলা কান্না জমে থাকে বছরের পর বছর।

শিশুর নির্যাতন কিংবা ধর্ষণের খবর সামনে আসলেই অভিনেত্রী ভেতর থেকে ভেঙে পড়েন। রেপিস্ট আর অ্যাবিউজারদের কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত বলে মনে করেন প্রিয়ন্তী। তার মতে, তারা শুধু একটা মানুষকে না, একটা শিশুর নিরাপত্তাবোধ, বিশ্বাস আর শৈশবকে মেরে ফেলে। অভিনেত্রী বলেন, একটা জিনিস আমি খুব বিশ্বাস করি, মানুষের কর্মের ফল একদিন না একদিন এই পৃথিবীতেই ফিরে আসে। আল্লাহ সব দেখেন।

ধর্ষণ ও হত্যার শিকার রামিসার বাবার কান্না সবার মনেই দাগ কেটেছে। স্ট্যাটাসে নিজের বাবার প্রতি গভীর ভালোবাসা জানিয়েছেন প্রিয়ন্তী। তিনি লেখেন, আজ খুব আব্বুকে মিস করছি। শুটিং, কাজ, ব্যস্ততা সবকিছুর মাঝেও মাঝে মাঝে মনে হয়, কোথাও হারিয়ে যাই, এমন একটা জায়গায় যেখানে কেউ আমাকে চেনে না। হয়তো সেখানে একটু শান্তি পাওয়া যেত।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবী সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে রামিসা আক্তার নামে ৮ বছর বয়সী এক শিশুর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত রামিসা সিরাজদিখানের মধ্যম শিয়ালদী গ্রামের হান্নান মোল্লার মেয়ে। সে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে।

বুধবার (২০ মে) বিকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওহিদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অভিযুক্ত সোহেল রানা রামিসাকে টয়লেটে নিয়ে প্রথমে ধর্ষণ করে। পরে তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে সে।

/জেএইচ/