বৃষ্টি হলেই ডুবে ঢাকা, সমস্যা চিহ্নিত হলেও সমাধানের উদ্যোগ নেই

বৃষ্টি হলেই ডুবে ঢাকা, সমস্যা চিহ্নিত হলেও সমাধানের উদ্যোগ নেই
আয়নাল হোসেন

বৃষ্টি হলেই রাজধানী ঢাকার অধিকাংশ এলাকার সড়ক পানির নিচে চলে যায়। আগে বৃষ্টির পানি সড়ক থেকে অল্প সময়ের মধ্যে নেমে যেত। এখন বৃষ্টি শেষ হওয়ার ৯-১০ ঘণ্টা পরও পানি নামছে না। এতে সড়কে যানজট সৃষ্টি হওয়ায় অফিসগামী যাত্রীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ভোগান্তি হচ্ছে পথচারীদেরও।
বিশেষ করে এবার জলাবদ্ধতার সমস্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে স্থানীয় সরকার বিভাগ কাজ করছে। তারা জলাবদ্ধতার কারণগুলোও চিহ্নিত করেছে। তবে এই সমস্যা সমাধানের কোনো যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগ জলাবদ্ধতার কারণ জানার জন্য পাঠপর্যায়ে জরিপ চালিয়েছে। ওই জরিপের প্রতিবেদনে জলাবদ্ধতার বেশকিছু কারণ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে জলাশয় ও প্রাকৃতিক ড্রেনেজ দখল ও ভরাট হওয়া, অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সরু ড্রেন, ড্রেনে প্লাস্টিকসহ নানা ধরনের বর্জ্য ফেলা, ড্রেনের ওপর সড়ক ও ভবন নির্মাণ, নিচু জমি ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ, ঢাকা ওয়াসা, সিটি করপোরেশন, রাজউক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি ও অপরিকল্পিত নগরায়নের বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া ঢাকার আশপাশের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর পানির স্তর উঁচু হলে ড্রেনে জমে থাকা পানি সহজে বের হতে পারে না। এতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
ঢাকায় জলাবদ্ধতার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাবেক সভাপতি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘রাজধানীর জলবদ্ধতার জন্য আমরাই দায়ী। আগে নদীর সঙ্গে খালের সংযোগ ছিল। তখন পানির প্রবাহের কারণে ময়লা–আবর্জনা জমে থাকার সুযোগ ছিল না। কিন্তু জলাশয় দখল করে ভবন নির্মাণ করায় এবং ময়লা–আবর্জনা নর্দমায় ফেলায় সেগুলো ভরাট হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি সহজে বের হতে পারে না। ঢাকাকে বাঁচাতে হলে খাল–নদী উদ্ধার করে পানির প্রবাহের পথ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে।’
রাজধানীর জলাবদ্ধতা এবং অতিবৃষ্টিতে পানি জমির ওঠার বিষয়ে পুরান ঢাকা পরিবেশ উন্নয়ন ফোরামের সদস্যসচিব ও সিদ্দিক বাজারের বাসিন্দা জাভেদ জাহান বলেন, অতিবৃষ্টিতে সিদ্দিক বাজার, আলু বাজার, নাজিরা বাজার, আগামসি লেন, আগা সাদেক রোডসহ আশপাশের সব সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, ডিএসসিসির সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপসের সময় বেশ কিছু বড় পাইপ স্থাপনের কাজ করা হয়েছিল। কিন্তু গত ২২ মাসে এগুলো পরিষ্কার না করায় পানি দ্রুত সরছে না।
রাজধানীর জলবদ্ধতা নিরসনে সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা
স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে নর্দমা, বক্স-কালভার্ট ও খালগুলো থেকে পলি-বর্জ্য অপসারণ করা, ভারী বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা থেকে পোর্টেবল পাম্পের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি অপসারণ, বিদ্যমান পাম্প ষ্টেশনের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন করা, ওয়ার্ডভিত্তিক ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গঠন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ডগুলোতে জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ।
মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা
মধ্যমেয়াদী পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে রয়েছে জিয়া সরণী খাল ও শ্যামপুর খালের পানি কাছের বুড়িগঙ্গা নদীতে নিষ্কাশনে আউটলেট নির্মাণ, পানি নিষ্কাশনে নর্দমা নির্মাণ, পানি প্রবাহের বাঁধা নিরসন করা, নর্দমা সংস্কার ও মেরামত করা, ঢাকা মহানগরে খোলা ও সবুজ এলাকা বৃদ্ধি, পানি নিষ্কাশনে পাম্পস্টেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নতুন পাম্পস্টেশন স্থাপন, নর্দমায় বর্জ্য ফেলা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও আইনের প্রয়োগ করা। এ ছাড়া জলাভূমি ভরাট বন্ধ করা ও সংরক্ষণের উদ্যোগ, রাজউকের মাধ্যমে প্রতিটি ভবন ও অবকাঠামোতে সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ নিশ্চিত এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যানের কার্যক্রম গ্রহণ করা।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
৫০ কিলোমিটার খাল উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন ওয়ার্ডগুলোতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সড়ক উন্নয়ন, ড্রেনেজ মাস্টারপ্লান আপগ্রেড করা, খাল ও জলাভূমিকে ব্যবহার করে বৃষ্টির পানির ধারণ ক্ষমতা বাড়ানো, বিদ্যমান ড্রেনেজ, বক্স-কালভার্ট ও খালে পানির প্রবাহ বাড়ানো, নর্দমা ব্যবস্থায় বিদ্যমান বিভিন্ন সংস্থার ইউটিলিটি লাইনের প্রতিবন্ধকতা অপসারণ, স্টর্ম-রেইন ওয়াটার ড্রেনেজ লাইন ও স্যুয়ারেজ পৃথক করা, খাল ও নদী দূষণ রোধে নর্দমায় স্যুয়ারেজ লাইনের সংযোগ বন্ধ করা ও নদীতে নিষ্কাশনের আগে পানি শোধনাগার প্রকল্পের মাধ্যমে শোধন করা, সাংগাঠনিক কাঠামোয় ড্রেনেজ সংক্রান্ত বিভাগ সংযোজন করে পৃথক জনবল নিয়োগ করা।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা
অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষা, দ্রুত ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে সবাইকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জনসহ মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন।

বৃষ্টি হলেই রাজধানী ঢাকার অধিকাংশ এলাকার সড়ক পানির নিচে চলে যায়। আগে বৃষ্টির পানি সড়ক থেকে অল্প সময়ের মধ্যে নেমে যেত। এখন বৃষ্টি শেষ হওয়ার ৯-১০ ঘণ্টা পরও পানি নামছে না। এতে সড়কে যানজট সৃষ্টি হওয়ায় অফিসগামী যাত্রীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ভোগান্তি হচ্ছে পথচারীদেরও।
বিশেষ করে এবার জলাবদ্ধতার সমস্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে স্থানীয় সরকার বিভাগ কাজ করছে। তারা জলাবদ্ধতার কারণগুলোও চিহ্নিত করেছে। তবে এই সমস্যা সমাধানের কোনো যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগ জলাবদ্ধতার কারণ জানার জন্য পাঠপর্যায়ে জরিপ চালিয়েছে। ওই জরিপের প্রতিবেদনে জলাবদ্ধতার বেশকিছু কারণ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে জলাশয় ও প্রাকৃতিক ড্রেনেজ দখল ও ভরাট হওয়া, অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সরু ড্রেন, ড্রেনে প্লাস্টিকসহ নানা ধরনের বর্জ্য ফেলা, ড্রেনের ওপর সড়ক ও ভবন নির্মাণ, নিচু জমি ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ, ঢাকা ওয়াসা, সিটি করপোরেশন, রাজউক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি ও অপরিকল্পিত নগরায়নের বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া ঢাকার আশপাশের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর পানির স্তর উঁচু হলে ড্রেনে জমে থাকা পানি সহজে বের হতে পারে না। এতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
ঢাকায় জলাবদ্ধতার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাবেক সভাপতি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘রাজধানীর জলবদ্ধতার জন্য আমরাই দায়ী। আগে নদীর সঙ্গে খালের সংযোগ ছিল। তখন পানির প্রবাহের কারণে ময়লা–আবর্জনা জমে থাকার সুযোগ ছিল না। কিন্তু জলাশয় দখল করে ভবন নির্মাণ করায় এবং ময়লা–আবর্জনা নর্দমায় ফেলায় সেগুলো ভরাট হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি সহজে বের হতে পারে না। ঢাকাকে বাঁচাতে হলে খাল–নদী উদ্ধার করে পানির প্রবাহের পথ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে।’
রাজধানীর জলাবদ্ধতা এবং অতিবৃষ্টিতে পানি জমির ওঠার বিষয়ে পুরান ঢাকা পরিবেশ উন্নয়ন ফোরামের সদস্যসচিব ও সিদ্দিক বাজারের বাসিন্দা জাভেদ জাহান বলেন, অতিবৃষ্টিতে সিদ্দিক বাজার, আলু বাজার, নাজিরা বাজার, আগামসি লেন, আগা সাদেক রোডসহ আশপাশের সব সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, ডিএসসিসির সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপসের সময় বেশ কিছু বড় পাইপ স্থাপনের কাজ করা হয়েছিল। কিন্তু গত ২২ মাসে এগুলো পরিষ্কার না করায় পানি দ্রুত সরছে না।
রাজধানীর জলবদ্ধতা নিরসনে সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা
স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে নর্দমা, বক্স-কালভার্ট ও খালগুলো থেকে পলি-বর্জ্য অপসারণ করা, ভারী বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা থেকে পোর্টেবল পাম্পের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি অপসারণ, বিদ্যমান পাম্প ষ্টেশনের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন করা, ওয়ার্ডভিত্তিক ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গঠন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ডগুলোতে জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ।
মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা
মধ্যমেয়াদী পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে রয়েছে জিয়া সরণী খাল ও শ্যামপুর খালের পানি কাছের বুড়িগঙ্গা নদীতে নিষ্কাশনে আউটলেট নির্মাণ, পানি নিষ্কাশনে নর্দমা নির্মাণ, পানি প্রবাহের বাঁধা নিরসন করা, নর্দমা সংস্কার ও মেরামত করা, ঢাকা মহানগরে খোলা ও সবুজ এলাকা বৃদ্ধি, পানি নিষ্কাশনে পাম্পস্টেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নতুন পাম্পস্টেশন স্থাপন, নর্দমায় বর্জ্য ফেলা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও আইনের প্রয়োগ করা। এ ছাড়া জলাভূমি ভরাট বন্ধ করা ও সংরক্ষণের উদ্যোগ, রাজউকের মাধ্যমে প্রতিটি ভবন ও অবকাঠামোতে সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ নিশ্চিত এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যানের কার্যক্রম গ্রহণ করা।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
৫০ কিলোমিটার খাল উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন ওয়ার্ডগুলোতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সড়ক উন্নয়ন, ড্রেনেজ মাস্টারপ্লান আপগ্রেড করা, খাল ও জলাভূমিকে ব্যবহার করে বৃষ্টির পানির ধারণ ক্ষমতা বাড়ানো, বিদ্যমান ড্রেনেজ, বক্স-কালভার্ট ও খালে পানির প্রবাহ বাড়ানো, নর্দমা ব্যবস্থায় বিদ্যমান বিভিন্ন সংস্থার ইউটিলিটি লাইনের প্রতিবন্ধকতা অপসারণ, স্টর্ম-রেইন ওয়াটার ড্রেনেজ লাইন ও স্যুয়ারেজ পৃথক করা, খাল ও নদী দূষণ রোধে নর্দমায় স্যুয়ারেজ লাইনের সংযোগ বন্ধ করা ও নদীতে নিষ্কাশনের আগে পানি শোধনাগার প্রকল্পের মাধ্যমে শোধন করা, সাংগাঠনিক কাঠামোয় ড্রেনেজ সংক্রান্ত বিভাগ সংযোজন করে পৃথক জনবল নিয়োগ করা।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা
অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষা, দ্রুত ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে সবাইকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জনসহ মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন।

বৃষ্টি হলেই ডুবে ঢাকা, সমস্যা চিহ্নিত হলেও সমাধানের উদ্যোগ নেই
আয়নাল হোসেন

বৃষ্টি হলেই রাজধানী ঢাকার অধিকাংশ এলাকার সড়ক পানির নিচে চলে যায়। আগে বৃষ্টির পানি সড়ক থেকে অল্প সময়ের মধ্যে নেমে যেত। এখন বৃষ্টি শেষ হওয়ার ৯-১০ ঘণ্টা পরও পানি নামছে না। এতে সড়কে যানজট সৃষ্টি হওয়ায় অফিসগামী যাত্রীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ভোগান্তি হচ্ছে পথচারীদেরও।
বিশেষ করে এবার জলাবদ্ধতার সমস্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে স্থানীয় সরকার বিভাগ কাজ করছে। তারা জলাবদ্ধতার কারণগুলোও চিহ্নিত করেছে। তবে এই সমস্যা সমাধানের কোনো যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগ জলাবদ্ধতার কারণ জানার জন্য পাঠপর্যায়ে জরিপ চালিয়েছে। ওই জরিপের প্রতিবেদনে জলাবদ্ধতার বেশকিছু কারণ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে জলাশয় ও প্রাকৃতিক ড্রেনেজ দখল ও ভরাট হওয়া, অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সরু ড্রেন, ড্রেনে প্লাস্টিকসহ নানা ধরনের বর্জ্য ফেলা, ড্রেনের ওপর সড়ক ও ভবন নির্মাণ, নিচু জমি ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ, ঢাকা ওয়াসা, সিটি করপোরেশন, রাজউক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি ও অপরিকল্পিত নগরায়নের বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া ঢাকার আশপাশের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর পানির স্তর উঁচু হলে ড্রেনে জমে থাকা পানি সহজে বের হতে পারে না। এতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
ঢাকায় জলাবদ্ধতার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাবেক সভাপতি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘রাজধানীর জলবদ্ধতার জন্য আমরাই দায়ী। আগে নদীর সঙ্গে খালের সংযোগ ছিল। তখন পানির প্রবাহের কারণে ময়লা–আবর্জনা জমে থাকার সুযোগ ছিল না। কিন্তু জলাশয় দখল করে ভবন নির্মাণ করায় এবং ময়লা–আবর্জনা নর্দমায় ফেলায় সেগুলো ভরাট হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি সহজে বের হতে পারে না। ঢাকাকে বাঁচাতে হলে খাল–নদী উদ্ধার করে পানির প্রবাহের পথ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে।’
রাজধানীর জলাবদ্ধতা এবং অতিবৃষ্টিতে পানি জমির ওঠার বিষয়ে পুরান ঢাকা পরিবেশ উন্নয়ন ফোরামের সদস্যসচিব ও সিদ্দিক বাজারের বাসিন্দা জাভেদ জাহান বলেন, অতিবৃষ্টিতে সিদ্দিক বাজার, আলু বাজার, নাজিরা বাজার, আগামসি লেন, আগা সাদেক রোডসহ আশপাশের সব সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, ডিএসসিসির সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপসের সময় বেশ কিছু বড় পাইপ স্থাপনের কাজ করা হয়েছিল। কিন্তু গত ২২ মাসে এগুলো পরিষ্কার না করায় পানি দ্রুত সরছে না।
রাজধানীর জলবদ্ধতা নিরসনে সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা
স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে নর্দমা, বক্স-কালভার্ট ও খালগুলো থেকে পলি-বর্জ্য অপসারণ করা, ভারী বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা থেকে পোর্টেবল পাম্পের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি অপসারণ, বিদ্যমান পাম্প ষ্টেশনের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন করা, ওয়ার্ডভিত্তিক ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গঠন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ডগুলোতে জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ।
মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা
মধ্যমেয়াদী পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে রয়েছে জিয়া সরণী খাল ও শ্যামপুর খালের পানি কাছের বুড়িগঙ্গা নদীতে নিষ্কাশনে আউটলেট নির্মাণ, পানি নিষ্কাশনে নর্দমা নির্মাণ, পানি প্রবাহের বাঁধা নিরসন করা, নর্দমা সংস্কার ও মেরামত করা, ঢাকা মহানগরে খোলা ও সবুজ এলাকা বৃদ্ধি, পানি নিষ্কাশনে পাম্পস্টেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নতুন পাম্পস্টেশন স্থাপন, নর্দমায় বর্জ্য ফেলা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও আইনের প্রয়োগ করা। এ ছাড়া জলাভূমি ভরাট বন্ধ করা ও সংরক্ষণের উদ্যোগ, রাজউকের মাধ্যমে প্রতিটি ভবন ও অবকাঠামোতে সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ নিশ্চিত এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যানের কার্যক্রম গ্রহণ করা।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
৫০ কিলোমিটার খাল উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন ওয়ার্ডগুলোতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সড়ক উন্নয়ন, ড্রেনেজ মাস্টারপ্লান আপগ্রেড করা, খাল ও জলাভূমিকে ব্যবহার করে বৃষ্টির পানির ধারণ ক্ষমতা বাড়ানো, বিদ্যমান ড্রেনেজ, বক্স-কালভার্ট ও খালে পানির প্রবাহ বাড়ানো, নর্দমা ব্যবস্থায় বিদ্যমান বিভিন্ন সংস্থার ইউটিলিটি লাইনের প্রতিবন্ধকতা অপসারণ, স্টর্ম-রেইন ওয়াটার ড্রেনেজ লাইন ও স্যুয়ারেজ পৃথক করা, খাল ও নদী দূষণ রোধে নর্দমায় স্যুয়ারেজ লাইনের সংযোগ বন্ধ করা ও নদীতে নিষ্কাশনের আগে পানি শোধনাগার প্রকল্পের মাধ্যমে শোধন করা, সাংগাঠনিক কাঠামোয় ড্রেনেজ সংক্রান্ত বিভাগ সংযোজন করে পৃথক জনবল নিয়োগ করা।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা
অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষা, দ্রুত ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে সবাইকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জনসহ মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন।




