যে সম্মান হারিয়েছি, রাষ্ট্র কি তার দায় নেবে: পরীমণি

যে সম্মান হারিয়েছি, রাষ্ট্র কি তার দায় নেবে: পরীমণি
বিনোদন ডেস্ক

ঢাকাই সিনেমার আলোচিত অভিনেত্রী পরীমণি। সিনেমার চেয়ে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনায় থাকেন তিনি। চার বছর আগে র্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার হন অভিনেত্রী। এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন পরীমণি। তার দাবি, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট তাকে বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এজন্য তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ অভিনেত্রীর।
শুক্রবার (১০ জুলাই) মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক একাউন্টে দীর্ঘ স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন পরীমণি।
পোস্টে র্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানান পরীমনি। তার দাবি, সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে দেরিতে হলেও র্যাবের এই কর্মকর্তা এমন কিছু সত্য প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, যার মাধ্যমে কেন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো দেশের মানুষ সেটা জানতে পেরেছে। পরীমণি লেখেন, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট বনানীতে আমার বাসায় দীর্ঘ সময় অভিযান চালানোর নামে নাটকীয়তার পর তৎকালীন র্যাব প্রধান ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশে আমাকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরীর ভাষায়, তাকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এবং বিশেষ মহলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
অভিনেত্রী লেখেন, পরবর্তীতে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৭ দিনের রিমান্ড, টানা ২০ দিন কারাগারে রাখা হয়েছিল। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা আমার জীবনকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত করেছে, তা আল্লাহ আর আমি ছাড়া পৃথিবীর আর কারও পক্ষে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়।
‘তবুও আমি বিশ্বাস করি, সত্য একদিন না একদিন প্রকাশিত হয়। সময় লাগতে পারে, কিন্তু সত্যকে চিরদিন চাপা রাখা যায় না,’ যোগ করেন পরীমণি।
অভিনেত্রী লেখেন, গ্রেপ্তারের দিন থেকে আজ পর্যন্ত আমি সেই ঘটনার একজন ভুক্তভোগী হয়েই জীবন কাটাচ্ছি। যেভাবে আমাকে অপদস্থ করা হয়েছে, আমার সম্মান, নৈতিকতা এবং চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে। রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীকে ব্যবহার করে একজন সাধারণ নারী শিল্পীর জীবনকে যেভাবে বিপর্যস্ত করা হয়েছে, আমি শুধু চাই ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এমন অভিজ্ঞতার শিকার না হন।
তিনি বলেন, এতোগুলা দিন পর আমি কোনো ক্ষোভ বা প্রতিশোধের কথা বলতে চাই না। আমি শুধু সত্য, ন্যায়বিচার এবং মানবিকতার পক্ষে কথা বলতে চাই।
মামলা থেকে অব্যাহতি পাবেন এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে পরীমণি লেখেন, এবার হয়তো রাষ্ট্রীয় সেই সাজানো মামলা থেকে মাননীয় আদালত আমাকে অব্যাহতি দিবেন। কিন্তু আমার সেই দিনগুলো কি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব? যে জীবন, যে সম্মান, যে মানসিক শান্তি আমি হারিয়েছি, তা কি আর কখনো ফিরে পাব? মানুষের মনে আমাকে নিয়ে যে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত ধারণা তৈরি করা হয়েছে, রাষ্ট্র কি তার দায় নেবে? রাষ্ট্রের কাছে আমি এই প্রশ্নগুলোর জবাব চাইলে কি দিতে পারবেন?
অভিনেত্রী কখনো চাইনি আমার পরিচয় একজন বিতর্কিত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। তিনি সব সময় একজন শিল্পী হিসেবে মানুষের ভালোবাসা নিয়েই বেঁচে থাকতে চেয়েছি। কিন্তু ওই একটি ঘটনা তার জীবনকে বদলে দিয়েছে। পরীমণির ভাষায়, একটি ঘটনার অভিঘাত আমার জীবনকে এমনভাবে বদলে দিয়েছে, যার দ্বায়ভার আমাকে আজও বহন করতে হচ্ছে।
ন্যায়বিচারের আশা প্রকাশ করে পরীমণি আরও লেখেন, আমি কাউকে ছোট বা অপমান করতেও চাই না। আমি শুধু চাই, ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এ ধরনের অন্যায়ের শিকার না হন। রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা অটুট থাকুক। সেই আস্থার ভিত্তি হোক ন্যায়বিচার, আইনের শাসন এবং জবাবদিহিতামূলক।
তিনি লেখেন, যারা সেই কঠিন সময়ে কোনো প্রশ্ন না করেই আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আমার পরিবার, সহকর্মী, বন্ধু, সাংবাদিক এবং আমার অসংখ্য ভক্ত- আপনাদের প্রতি আমি আজীবন গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আপনাদের বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং সমর্থনই আমাকে বারবার উঠে দাঁড়ানোর শক্তি দিয়েছে।
ভবিষ্যৎ নিয়ে পরীমণি লেখেন, আমি অতীতের ক্ষত বয়ে বেড়াতে চাই না। আমি মুক্ত আকাশে পরীর মতো করেই উড়তে চাই। আমি বাঁচতে ভালোবাসি আর আমার কাজ, আমার সন্তান, আমার পরিবার এবং আমার দর্শকদের ভালোবাসা নিয়েই আমি বাকি জীবন বাঁচতে চাই।
সবশেষ তিনি লেখেন, আমি বিশ্বাস করি, সত্যকে কখনো চিরদিন চাপা রাখা যায় না। আর ন্যায়বিচারের পথে হাঁটা কখনো বৃথা যায় না। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি যেন আরও ভালো কাজের মাধ্যমে আপনাদের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে পারি।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে পরীমণিকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এ ঘটনা দেশব্যাপী ব্যাপক সাড়া ফেলে। পরে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। মামলাটি বর্তমানে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এ সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া ঢাকা বোট ক্লাবের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া দুটি মামলাও বর্তমানে বিচারাধীন।
সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে র্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) খাইরুল ইসলাম পরীমলণিকে গ্রেপ্তারের ঘটনাটি নিয়ে মুখ খোলেন। তিনি দাবি করেন, পরীমণিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক ও সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের কাছ থেকে এসেছিল।
তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক তাকে (খাইরুল ইসলাম) বলেছিলেন, ‘পরীমণি উর্ধ্বতন মহলের অনেককে ডিস্টার্ব করতেছেন, অনেককে ব্ল্যাকমেইল করতেছেন। এটাকে একটু প্রতিরোধ করা দরকার ছিল।’

ঢাকাই সিনেমার আলোচিত অভিনেত্রী পরীমণি। সিনেমার চেয়ে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনায় থাকেন তিনি। চার বছর আগে র্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার হন অভিনেত্রী। এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন পরীমণি। তার দাবি, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট তাকে বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এজন্য তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ অভিনেত্রীর।
শুক্রবার (১০ জুলাই) মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক একাউন্টে দীর্ঘ স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন পরীমণি।
পোস্টে র্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানান পরীমনি। তার দাবি, সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে দেরিতে হলেও র্যাবের এই কর্মকর্তা এমন কিছু সত্য প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, যার মাধ্যমে কেন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো দেশের মানুষ সেটা জানতে পেরেছে। পরীমণি লেখেন, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট বনানীতে আমার বাসায় দীর্ঘ সময় অভিযান চালানোর নামে নাটকীয়তার পর তৎকালীন র্যাব প্রধান ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশে আমাকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরীর ভাষায়, তাকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এবং বিশেষ মহলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
অভিনেত্রী লেখেন, পরবর্তীতে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৭ দিনের রিমান্ড, টানা ২০ দিন কারাগারে রাখা হয়েছিল। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা আমার জীবনকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত করেছে, তা আল্লাহ আর আমি ছাড়া পৃথিবীর আর কারও পক্ষে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়।
‘তবুও আমি বিশ্বাস করি, সত্য একদিন না একদিন প্রকাশিত হয়। সময় লাগতে পারে, কিন্তু সত্যকে চিরদিন চাপা রাখা যায় না,’ যোগ করেন পরীমণি।
অভিনেত্রী লেখেন, গ্রেপ্তারের দিন থেকে আজ পর্যন্ত আমি সেই ঘটনার একজন ভুক্তভোগী হয়েই জীবন কাটাচ্ছি। যেভাবে আমাকে অপদস্থ করা হয়েছে, আমার সম্মান, নৈতিকতা এবং চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে। রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীকে ব্যবহার করে একজন সাধারণ নারী শিল্পীর জীবনকে যেভাবে বিপর্যস্ত করা হয়েছে, আমি শুধু চাই ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এমন অভিজ্ঞতার শিকার না হন।
তিনি বলেন, এতোগুলা দিন পর আমি কোনো ক্ষোভ বা প্রতিশোধের কথা বলতে চাই না। আমি শুধু সত্য, ন্যায়বিচার এবং মানবিকতার পক্ষে কথা বলতে চাই।
মামলা থেকে অব্যাহতি পাবেন এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে পরীমণি লেখেন, এবার হয়তো রাষ্ট্রীয় সেই সাজানো মামলা থেকে মাননীয় আদালত আমাকে অব্যাহতি দিবেন। কিন্তু আমার সেই দিনগুলো কি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব? যে জীবন, যে সম্মান, যে মানসিক শান্তি আমি হারিয়েছি, তা কি আর কখনো ফিরে পাব? মানুষের মনে আমাকে নিয়ে যে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত ধারণা তৈরি করা হয়েছে, রাষ্ট্র কি তার দায় নেবে? রাষ্ট্রের কাছে আমি এই প্রশ্নগুলোর জবাব চাইলে কি দিতে পারবেন?
অভিনেত্রী কখনো চাইনি আমার পরিচয় একজন বিতর্কিত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। তিনি সব সময় একজন শিল্পী হিসেবে মানুষের ভালোবাসা নিয়েই বেঁচে থাকতে চেয়েছি। কিন্তু ওই একটি ঘটনা তার জীবনকে বদলে দিয়েছে। পরীমণির ভাষায়, একটি ঘটনার অভিঘাত আমার জীবনকে এমনভাবে বদলে দিয়েছে, যার দ্বায়ভার আমাকে আজও বহন করতে হচ্ছে।
ন্যায়বিচারের আশা প্রকাশ করে পরীমণি আরও লেখেন, আমি কাউকে ছোট বা অপমান করতেও চাই না। আমি শুধু চাই, ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এ ধরনের অন্যায়ের শিকার না হন। রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা অটুট থাকুক। সেই আস্থার ভিত্তি হোক ন্যায়বিচার, আইনের শাসন এবং জবাবদিহিতামূলক।
তিনি লেখেন, যারা সেই কঠিন সময়ে কোনো প্রশ্ন না করেই আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আমার পরিবার, সহকর্মী, বন্ধু, সাংবাদিক এবং আমার অসংখ্য ভক্ত- আপনাদের প্রতি আমি আজীবন গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আপনাদের বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং সমর্থনই আমাকে বারবার উঠে দাঁড়ানোর শক্তি দিয়েছে।
ভবিষ্যৎ নিয়ে পরীমণি লেখেন, আমি অতীতের ক্ষত বয়ে বেড়াতে চাই না। আমি মুক্ত আকাশে পরীর মতো করেই উড়তে চাই। আমি বাঁচতে ভালোবাসি আর আমার কাজ, আমার সন্তান, আমার পরিবার এবং আমার দর্শকদের ভালোবাসা নিয়েই আমি বাকি জীবন বাঁচতে চাই।
সবশেষ তিনি লেখেন, আমি বিশ্বাস করি, সত্যকে কখনো চিরদিন চাপা রাখা যায় না। আর ন্যায়বিচারের পথে হাঁটা কখনো বৃথা যায় না। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি যেন আরও ভালো কাজের মাধ্যমে আপনাদের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে পারি।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে পরীমণিকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এ ঘটনা দেশব্যাপী ব্যাপক সাড়া ফেলে। পরে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। মামলাটি বর্তমানে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এ সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া ঢাকা বোট ক্লাবের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া দুটি মামলাও বর্তমানে বিচারাধীন।
সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে র্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) খাইরুল ইসলাম পরীমলণিকে গ্রেপ্তারের ঘটনাটি নিয়ে মুখ খোলেন। তিনি দাবি করেন, পরীমণিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক ও সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের কাছ থেকে এসেছিল।
তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক তাকে (খাইরুল ইসলাম) বলেছিলেন, ‘পরীমণি উর্ধ্বতন মহলের অনেককে ডিস্টার্ব করতেছেন, অনেককে ব্ল্যাকমেইল করতেছেন। এটাকে একটু প্রতিরোধ করা দরকার ছিল।’

যে সম্মান হারিয়েছি, রাষ্ট্র কি তার দায় নেবে: পরীমণি
বিনোদন ডেস্ক

ঢাকাই সিনেমার আলোচিত অভিনেত্রী পরীমণি। সিনেমার চেয়ে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনায় থাকেন তিনি। চার বছর আগে র্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার হন অভিনেত্রী। এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন পরীমণি। তার দাবি, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট তাকে বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এজন্য তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ অভিনেত্রীর।
শুক্রবার (১০ জুলাই) মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক একাউন্টে দীর্ঘ স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন পরীমণি।
পোস্টে র্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানান পরীমনি। তার দাবি, সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে দেরিতে হলেও র্যাবের এই কর্মকর্তা এমন কিছু সত্য প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, যার মাধ্যমে কেন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো দেশের মানুষ সেটা জানতে পেরেছে। পরীমণি লেখেন, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট বনানীতে আমার বাসায় দীর্ঘ সময় অভিযান চালানোর নামে নাটকীয়তার পর তৎকালীন র্যাব প্রধান ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশে আমাকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরীর ভাষায়, তাকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এবং বিশেষ মহলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
অভিনেত্রী লেখেন, পরবর্তীতে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৭ দিনের রিমান্ড, টানা ২০ দিন কারাগারে রাখা হয়েছিল। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা আমার জীবনকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত করেছে, তা আল্লাহ আর আমি ছাড়া পৃথিবীর আর কারও পক্ষে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়।
‘তবুও আমি বিশ্বাস করি, সত্য একদিন না একদিন প্রকাশিত হয়। সময় লাগতে পারে, কিন্তু সত্যকে চিরদিন চাপা রাখা যায় না,’ যোগ করেন পরীমণি।
অভিনেত্রী লেখেন, গ্রেপ্তারের দিন থেকে আজ পর্যন্ত আমি সেই ঘটনার একজন ভুক্তভোগী হয়েই জীবন কাটাচ্ছি। যেভাবে আমাকে অপদস্থ করা হয়েছে, আমার সম্মান, নৈতিকতা এবং চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে। রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীকে ব্যবহার করে একজন সাধারণ নারী শিল্পীর জীবনকে যেভাবে বিপর্যস্ত করা হয়েছে, আমি শুধু চাই ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এমন অভিজ্ঞতার শিকার না হন।
তিনি বলেন, এতোগুলা দিন পর আমি কোনো ক্ষোভ বা প্রতিশোধের কথা বলতে চাই না। আমি শুধু সত্য, ন্যায়বিচার এবং মানবিকতার পক্ষে কথা বলতে চাই।
মামলা থেকে অব্যাহতি পাবেন এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে পরীমণি লেখেন, এবার হয়তো রাষ্ট্রীয় সেই সাজানো মামলা থেকে মাননীয় আদালত আমাকে অব্যাহতি দিবেন। কিন্তু আমার সেই দিনগুলো কি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব? যে জীবন, যে সম্মান, যে মানসিক শান্তি আমি হারিয়েছি, তা কি আর কখনো ফিরে পাব? মানুষের মনে আমাকে নিয়ে যে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত ধারণা তৈরি করা হয়েছে, রাষ্ট্র কি তার দায় নেবে? রাষ্ট্রের কাছে আমি এই প্রশ্নগুলোর জবাব চাইলে কি দিতে পারবেন?
অভিনেত্রী কখনো চাইনি আমার পরিচয় একজন বিতর্কিত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। তিনি সব সময় একজন শিল্পী হিসেবে মানুষের ভালোবাসা নিয়েই বেঁচে থাকতে চেয়েছি। কিন্তু ওই একটি ঘটনা তার জীবনকে বদলে দিয়েছে। পরীমণির ভাষায়, একটি ঘটনার অভিঘাত আমার জীবনকে এমনভাবে বদলে দিয়েছে, যার দ্বায়ভার আমাকে আজও বহন করতে হচ্ছে।
ন্যায়বিচারের আশা প্রকাশ করে পরীমণি আরও লেখেন, আমি কাউকে ছোট বা অপমান করতেও চাই না। আমি শুধু চাই, ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এ ধরনের অন্যায়ের শিকার না হন। রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা অটুট থাকুক। সেই আস্থার ভিত্তি হোক ন্যায়বিচার, আইনের শাসন এবং জবাবদিহিতামূলক।
তিনি লেখেন, যারা সেই কঠিন সময়ে কোনো প্রশ্ন না করেই আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আমার পরিবার, সহকর্মী, বন্ধু, সাংবাদিক এবং আমার অসংখ্য ভক্ত- আপনাদের প্রতি আমি আজীবন গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আপনাদের বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং সমর্থনই আমাকে বারবার উঠে দাঁড়ানোর শক্তি দিয়েছে।
ভবিষ্যৎ নিয়ে পরীমণি লেখেন, আমি অতীতের ক্ষত বয়ে বেড়াতে চাই না। আমি মুক্ত আকাশে পরীর মতো করেই উড়তে চাই। আমি বাঁচতে ভালোবাসি আর আমার কাজ, আমার সন্তান, আমার পরিবার এবং আমার দর্শকদের ভালোবাসা নিয়েই আমি বাকি জীবন বাঁচতে চাই।
সবশেষ তিনি লেখেন, আমি বিশ্বাস করি, সত্যকে কখনো চিরদিন চাপা রাখা যায় না। আর ন্যায়বিচারের পথে হাঁটা কখনো বৃথা যায় না। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি যেন আরও ভালো কাজের মাধ্যমে আপনাদের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে পারি।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে পরীমণিকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এ ঘটনা দেশব্যাপী ব্যাপক সাড়া ফেলে। পরে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। মামলাটি বর্তমানে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এ সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া ঢাকা বোট ক্লাবের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া দুটি মামলাও বর্তমানে বিচারাধীন।
সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে র্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) খাইরুল ইসলাম পরীমলণিকে গ্রেপ্তারের ঘটনাটি নিয়ে মুখ খোলেন। তিনি দাবি করেন, পরীমণিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক ও সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের কাছ থেকে এসেছিল।
তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক তাকে (খাইরুল ইসলাম) বলেছিলেন, ‘পরীমণি উর্ধ্বতন মহলের অনেককে ডিস্টার্ব করতেছেন, অনেককে ব্ল্যাকমেইল করতেছেন। এটাকে একটু প্রতিরোধ করা দরকার ছিল।’

পরীমণিকাণ্ডে বাধ্যতামূলক অবসরে এডিসি সাকলায়েন
পরীমণিকে হত্যার হুমকি
ব্যবসায় নামছেন পরীমনি


