শিরোনাম

দাদা-দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত শিশু রামিসা

মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা
দাদা-দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত শিশু রামিসা

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার শিকার ছোট্ট শিশু রামিসা আক্তারের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (২০ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জানাজা শেষে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে দাদা-দাদির কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়েছে।

এর আগে রাত ৮টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তার লাশ ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। রামিসার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

এর আগে মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবী সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত রামিসা আক্তার সিরাজদিখানের মধ্যম শিয়ালদী গ্রামের হান্নান মোল্লার মেয়ে। ৮ বছর বয়সী রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

এদিকে রামিসার হত্যার ঘটনায় তার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার এবং অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে।

বুধবার (২০ মে) বিকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওহিদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অভিযুক্ত সোহেল রানা রামিসাকে টয়লেটে নিয়ে প্রথমে ধর্ষণ করে। পরে তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে সে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তবে তার আগেই অভিযুক্ত সোহেল রানা মরদেহটি বিছানার নিচে লুকিয়ে ফেলে। পরে টয়লেটের ভেতরে থাকা একটি বালতি থেকে শিশুটির বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই পুলিশ স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরে আত্মগোপনে থাকা সোহেল রানাকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মামলার অপর অজ্ঞাত আসামি এখনও পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত সূত্র জানিয়েছে, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মতি দিয়েছে।

/জেএইচ/