শিরোনাম

ডিজিটাল মাধ্যমে মাদক বেচাকেনায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ডিজিটাল মাধ্যমে মাদক বেচাকেনায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড
সংসদ অধিবেশন

সাইবার স্পেস ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মাদকদ্রব্যের প্রচার, কেনাবেচা, সরবরাহ কিংবা এ-সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

সোমবার (১৪ জুলাই) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা অনুমোদন পায়।

নতুন সংশোধনীতে ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ক্ষমতা ও কার্যক্রম সম্প্রসারণেরও বিধান রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সংস্থাটিকে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি, নিজস্ব ডগ স্কোয়াড গঠন এবং পৃথক মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার সুযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বর্তমান আইন অনুযায়ী, মাদক উৎপাদন, বিক্রি ও সেবনের মতো নির্দিষ্ট অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। নতুন সংশোধনের মাধ্যমে সেই কঠোরতা এবার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত মাদক অপরাধের ক্ষেত্রেও যুক্ত করা হলো।

আইন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন কিংবা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্যের প্রচার, বিক্রি, সরবরাহ, ক্রয় অথবা এসব কার্যক্রমে মধ্যস্থতা করা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল পেমেন্ট, ই-ওয়ালেট, ক্রিপ্টোকারেন্সি বা অন্য যেকোনো ভার্চুয়াল সম্পদ ব্যবহার করে মাদক-সংক্রান্ত লেনদেনও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

সংশোধিত আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত এসব অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে সরাসরি মাদক উদ্ধার হওয়া অপরাধ প্রমাণের পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচিত হবে না।

আইন অনুযায়ী, অপরাধ প্রমাণিত হলে দোষী ব্যক্তিকে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যাবে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে।

তবে অপরাধটি যদি কোনো আন্তর্জাতিক বা সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে সংঘটিত হয়, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার সুযোগ থাকবে।

ডিজিটাল মাধ্যমে মাদক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যকারিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সংশোধনীতে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এর আওতায় ডিএনসি নিজস্ব ডগ স্কোয়াড গঠন করতে পারবে এবং সংস্থাটির সদস্যদের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের আইনি প্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সাধারণ আদালতের বিচারিক এখতিয়ার বহাল রেখে মাদকপ্রবণ এলাকায় মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে পৃথক মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠনের সুযোগও রাখা হয়েছে।

সংসদে বিলটি পাসের আগে জনমত যাচাই এবং বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব উত্থাপিত হলেও তা নাকচ হয়ে যায়।

বিলের ওপর আলোচনার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগও সংসদে উঠে আসে।

এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি জানান, এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

/এমআর/