শিরোনাম

বাজারে অগ্নিমূল্য, সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাজারে অগ্নিমূল্য, সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস
ছবি: সিটিজেন জার্নাল

বাজারে প্রায় সব পণ্যের অগ্নিমূল্যে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। ভোগ্যপণ্য, কাঁচাবাজার, মাছ-মাংস, জ্বালানি– সব কিছুরই দাম বেড়েছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, কোনো পণ্যই এখন হাতের নাগালে নেই। এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং লোডশেডিংয়ের কারণে রাজধানীর বাজারে পণ্য সরবরাহ কমেছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনপ্রতি ডিমের দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে ১১০-১২০ টাকায় বিক্রি হলেও এদিন এলাকাভেদে এক ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ১৩৫-১৪০ টাকায়।

চিনির দাম কেজিতে বেড়েছে ৫-৭ টাকা। খুচরা দোকানে প্রতি কেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকা।

গত এক সপ্তাহে মোটা ও মাঝারি চাল, খোলা আটা, ময়দা ও সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে। মাঝারি চাল (বিআর-২৮ ও পাইজাম) প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। আর মোটা চাল (স্বর্ণা ও চায়না ইরি) বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৫৩ টাকায়। আটার দাম কেজিতে ৪ টাকা, ময়দা ৫ ও ছোলা ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

এদিকে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সোনালি মুরগি। প্রতি কেজি হাইব্রিড সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০-৩৩০ টাকায় আর সোনালি ৩৫০-৩৬০ টাকায়। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০-১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতারা জানান, গত কয়েক মাসে বিশ্ববাজারে বেশ কিছু পণ্য ও কাঁচামালের দাম বেড়েছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ায় দেশে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। সরবরাহ-সংকট থেকেও কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। আর সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের কারণে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবও বাজারে পড়তে শুরু করেছে।

বেড়েছে জ্বালানির দাম

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসের মধ্যে গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। এর মধ্যে চলতি মাসে দুই দফায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজির) দাম কেজিতে প্রায় ৫০ টাকা বেড়েছে। এতে বাসাবাড়িতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি সিলিন্ডারে ৬০০ টাকা দাম বেড়েছে। তবে বাজারে এর চেয়ে বাড়তি দামে গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে হয়।

দেশে ভোক্তা পর্যায়ে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দামও বাড়িয়েছে সরকার। তাতে প্রতি লিটার ডিজেলে ১৫ টাকা, কেরোসিনে ১৮ টাকা, অকটেনে ২০ টাকা ও পেট্রলে ১৯ টাকা দাম বেড়েছে। এসব জ্বালানির দাম বাড়ায় কৃষি উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পণ্যের দামে।

খাদ্য মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিতে দেশ

বাজারে পণ্যের দাম বাড়লে ভোগান্তি বাড়ে সাধারণ মানুষের। সরকারি হিসাবে দেখা গেছে, টানা তিন বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে আছে দেশ। সাধারণত সাড়ে ৮ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে মূল্যস্ফীতি থাকছে।

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রায় ৩ বছর ধরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশ ‘লাল’ শ্রেণিতে রয়েছে। এর মানে হলো, বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি কমছে না, বরং মধ্যপ্রাচ্য সংকটে তা আরও বাড়তে পারে।

/এফসি/