শিরোনাম

অবশেষে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা পেলেন যে সুখবর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
অবশেষে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের 
আমানতকারীরা পেলেন যে সুখবর
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির লোগো

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিক করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে আমানতকারীদের আমানতের ওপর কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ থাকছে না। অর্থাৎ গ্রাহকেরা মুনাফাসহ পুরো টাকা ব্যাংক থেকে ফেরত পাবেন। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী স্কিমের বাইরে আমানতের মূল টাকা তুলতে পারবেন।

গতকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদারের বৈঠকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। গত সোমবার চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকায় ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের জোনাল অফিসে টাকা তুলতে না পেরে গ্রাহকদের আকুতি গণমাধ্যমে আসার পর বাংলাদেশ ব্যাংক জরুরি সভা করে এ সিদ্ধান্ত জানায়। এর আগে আমানতকারীদের জরুরি টাকা তোলার সুযোগ করে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককে বলা হয় বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। বর্তমান বিএনপি সরকারও এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।
আমানতকারীদের টাকা ফেরতের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক স্কিম ঘোষণা করলেও সে অনুযায়ী টাকা পাচ্ছেন না বেশির ভাগ আমানতকারী। পাশাপাশি আমানতের সুদ কেটে রাখার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ছিলেন আমানতকারীরা। হেয়ারকাট বাতিল ও টাকা তোলার সুযোগ বাড়ালে ব্যাংকটির ওপর গ্রাহকদের আস্থা বাড়বে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। এতে ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করা সহজ হবে।

সভায় যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো

গতকাল সকালে সভা শেষে একটি লিখিত বিজ্ঞপ্তি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়, জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট থাকবে না বলে ঘোষণা দিলেও এ বিষয়ে আমানতকারীদের মধ্যে এখনো কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সব আমানতকারীকে এ মর্মে স্পষ্টভাবে জানানো হবে যে আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট থাকবে না।

এতে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বরে ঘোষিত স্কিম অনুযায়ী ইতোমধ্যে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা যাতে তাঁদের আল-ওয়াদিয়াহ চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব ও মুদারাবা মেয়াদি আমানতের মূল অর্থ স্কিমে প্রদত্ত নির্দেশনার বাইরেও প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পান, ব্যাংক সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ব্যাংকটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক সব ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। ৩৫ হাজার কোটি টাকা মূলধন নিয়ে দেশের সর্ববৃহৎ এবং একমাত্র সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’।

আন্তর্জাতিক রীতি মেনে আমানতকারীদের দুই বছরের মুনাফা ‘হেয়ারকাট’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ১৪ জানুয়ারি পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসককে চিঠি দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, আমানতকারীরা ২০২৪ ও ২০২৫ সালের স্থিতির ওপর মুনাফা পাবে না। এতে ক্ষুব্ধ হন কিছু আমানতকারী।

পাঁচ ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধন ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে সরকার এবং বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার শেয়ার দেওয়া হবে আমানতকারীদের। এসব ব্যাংকে আমানতকারীদের জমানো টাকার পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত মার্চে পাঁচ ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা, যা তাদের মোট বিতরণ করা ঋণের ৮৪ দশমিক ২২ শতাংশ। সারা দেশে এসব ব্যাংকের মোট ৭৬০টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট ও ৯৭৫টি এটিএম বুথ রয়েছে। অর্থাৎ একক ব্যাংক হিসেবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারী, শাখা ও জনবলের পরিধি বেশ বড়।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের সাবেক চেয়ারম্যান আনিস এ খান বলেন, ‘আমাদের দেশে এভাবে ব্যাংক একীভূত করার ইতিহাস নেই। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক স্কিম ঘোষণা করে ব্যাংকটিকে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের পক্ষে এত টাকা দেওয়া সম্ভব না। তাই আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে এনে ব্যাংকটিকে এগিয়ে নিতে হবে। এরপর বিদেশি কৌশলগত বিনিয়োগকারী এনে ব্যাংকটির শেয়ার বিক্রি করতে হবে।

আনিস এ খান বলেন, ভাবমূর্তি হারানো পাঁচ ব্যাংককে এক করে সফল করতে হলে দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রয়োজন। প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ও সেবার মান বাড়িয়ে গ্রাহকের আস্থা বাড়াতে হবে। এ জন্য উদ্যোগ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সমর্থন দিয়ে যেতে হবে।

/বিবি/