শিরোনাম

নতুন আমদানি নীতি: এলসি ছাড়াই পণ্য আমদানির সুযোগ

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
নতুন আমদানি নীতি: এলসি ছাড়াই পণ্য আমদানির সুযোগ
কোলাজ: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গতিশীলতা আনতে নতুন ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯’ জারি করেছে সরকার। এ নীতিমালা অনুযায়ী, এখন থেকে ঋণপত্র বা এলসির পাশাপাশি মূল্যসীমা ছাড়াই ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে পণ্য আমদানি করতে পারবেন শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আমদানিকারকেরা। একই সঙ্গে ৩৭৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল আমদানির সুযোগ, ফ্রি ট্রেড জোন ও সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউজ প্রতিষ্ঠার বিধানসহ ব্যবসা ও বিনিয়োগে বেশ কিছু নতুন সুবিধাও রয়েছে নতুন নীতিমালায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২১–২০২৪ নীতিতেও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এলসি ছাড়া আমদানির সুযোগ ছিল। তবে বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে অর্থ পরিশোধ করে এলসি ছাড়া আমদানির বার্ষিক সীমা ছিল ৫ লাখ মার্কিন ডলার। বিশেষ কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে আলাদা সীমাও ছিল।

তবে নতুন নীতিমালায় এসব সীমাবদ্ধতার পরিবর্তে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ফলে ব্যাংকিং চ্যানেলে এলসি খোলার বাধ্যবাধকতা কমিয়ে আমদানিকারক ও বিদেশি সরবরাহকারীর মধ্যে সরাসরি বাণিজ্যিক চুক্তির সুযোগ বাড়বে।

আগের নীতিমালায় মোটরযান আমদানিতে ১৬৫ সিসির সীমা থাকলেও, সেটি বাড়িয়ে নতুন নীতিতে সর্বোচ্চ ৩৭৫ সিসি ক্ষমতার ইঞ্জিনসম্পন্ন সিবিইউ মোটরসাইকেল আমদানির অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এ ধরনের মোটরসাইকেল আমদানি করা যাবে।

সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউজ নির্মাণের সুযোগ

২০২১–২০২৪ নীতিতে রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে বন্ডসহ বিভিন্ন সুবিধা ছিল। তবে নতুন আমদানি নীতিতে ফ্রি ট্রেড জোন ও সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউজ প্রতিষ্ঠার সুযোগও যুক্ত করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বাণিজ্য, লজিস্টিকস ও পুনঃরপ্তানির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে।

এ ছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনুমোদিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মূলধনি যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে।

পাশাপাশি নতুন নীতিতে রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও উচ্চ মূল্য সংযোজনসম্পন্ন পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে বিভিন্ন রপ্তানিমুখী শিল্পে বিনা মূল্যে বা ‘ফ্রি অব কস্ট’ ভিত্তিতে কাঁচামাল ও উৎপাদন উপকরণ আমদানির সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

আমদানি নীতির পরিবর্তনগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২১–২০২৪ আদেশের মূল লক্ষ্য ছিল আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করা এবং রপ্তানিমুখী শিল্পকে সহায়তা করা। নতুন ২০২৬–২০২৯ আদেশে সেই ধারা আরও বিস্তৃত করে আমদানি অর্থায়ন, বিনিয়োগ, লজিস্টিকস, পুনঃরপ্তানি ও প্রবাসী বিনিয়োগকে একই কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশের আমদানি ব্যবস্থাকে এলসি-নির্ভর প্রচলিত কাঠামো থেকে আরও নমনীয়, চুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যচর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবস্থার দিকে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। যা দেশীয় বাণিজ্য খাতকে আধুনিক ও বৈশ্বিক পদ্ধতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ করে তুলবে।

উল্লেখ্য, ২০২১-২০২৪ আমদানি নীতির মেয়াদ ২০২৪ সালের ৩০ জুন শেষ হলেও নতুন আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত আগের নীতিই কার্যকর ছিল।

/এফআর/