‘বীমা খাতে আস্থা ফেরাতে ডিজিটাল রূপান্তর ও সুশাসনের বিকল্প নেই’

‘বীমা খাতে আস্থা ফেরাতে ডিজিটাল রূপান্তর ও সুশাসনের বিকল্প নেই’
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বাংলাদেশের বীমা খাতকে একটি কার্যকর, টেকসই ও জন-আস্থাভিত্তিক খাতে পরিণত করতে হলে দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তর, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর তদারকির অভাব, প্রযুক্তির সীমিত ব্যবহার এবং সুশাসনের ঘাটতির কারণে বীমা খাতে দীর্ঘদিন ধরে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে হলে খাতটিকে আধুনিক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থায় রূপান্তর করতে হবে।
শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরের হোটেল একাত্তরে ইন্স্যুরেন্স রিপোর্টার্স ফোরাম (আইআরএফ) আয়োজিত ‘বাজেট-পরবর্তী বীমা খাত: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ড. তিতুমীর।
ড. তিতুমীর বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের বীমা খাতে প্রত্যাশিত মাত্রায় ডিজিটালাইজেশন হয়নি। ফলে গ্রাহকসেবা, দাবি নিষ্পত্তি, তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নানা সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে শুধু গ্রাহক সন্তুষ্টিই বাড়বে না, একই সঙ্গে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দক্ষতাও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। তাই দুর্যোগজনিত ক্ষতি মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী বীমা খাত গড়ে তোলা সময়ের দাবি। কিন্তু প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও নীতিগত ঘাটতির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান কার্যকরভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারছে না।
অধ্যাপক তিতুমীর বলেন, শুধু প্রচলিত তদারকির ওপর নির্ভর করলে হবে না। খাতভিত্তিক নিরীক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতা বাড়িয়ে আরও কার্যকর ও স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার, সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করেই বীমা খাতের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
সেমিনারে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, বীমা খাতের টেকসই সংস্কারের জন্য তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে—গ্রাহকের আস্থা পুনরুদ্ধার, নিয়ন্ত্রক কাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ শক্তিশালী করা এবং মানবসম্পদের সক্ষমতা বৃদ্ধি।
তিনি জানান, বর্তমানে বীমা খাতে গ্রাহকদের প্রায় সাত হাজার কোটি টাকার দাবি অনিষ্পন্ন রয়েছে। এর কিছু সমস্যা পুরো খাতের, আবার কিছু নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কারণে সৃষ্টি হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে আইডিআরএ ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বিক্রিতে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করার পাশাপাশি ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালু করতে হবে। একই সঙ্গে দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশের বাস্তবতায় কৃষি, জলবায়ু ও মাইক্রোইন্স্যুরেন্সের মতো নতুন খাতে বীমা সেবা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাঈদ আহমেদ (এমপি) বলেন, বীমা কমিশনকে ব্যবসায়িক স্বার্থ ও অনিয়মের প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। একই সঙ্গে মোটরযান বীমাকে আরও কার্যকরভাবে বাধ্যতামূলক করা এবং নতুন নতুন খাতে বীমা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে হবে।
বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের সভাপতি বিএম ইউসুফ আলী বলেন, দেশে এমন অনেক বীমা কোম্পানি রয়েছে, যারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রাহকের দাবি নিষ্পত্তি করে। কিন্তু এসব ইতিবাচক উদ্যোগ খুব কমই প্রচার পায়। বরং যেখানে দাবি পরিশোধে বিলম্ব বা জটিলতা হয়, সেগুলোই বেশি আলোচিত হয়। ফলে বীমা খাতের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডও জনসাধারণের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।
জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম নুরুজ্জামান বলেন, নন-লাইফের তুলনায় লাইফ বীমা খাতে সংকট বেশি। অনেক প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বিক্রি এবং তারল্য সংকট নিরসনে ব্যাংক ঋণ সহায়তা ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা সহজ করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, দেশের অর্থনীতিতে বীমা খাতের গুরুত্ব অনেক হলেও এটি এখনো অবহেলিত। বীমার প্রবেশযোগ্যতা খুবই কম, যা বাড়াতে হবে। দুর্বল নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা, স্বল্পমেয়াদী লাভের মানসিকতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব এ খাতের প্রধান সমস্যা। পাশাপাশি কৃষি ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বীমার পরিধি বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
তিনি আরও বলেন, আর্থিক খাতে নৈতিক ঝুঁকি, দুর্বল সুশাসন ও জবাবদিহির সংকট দূর করা না গেলে বীমা খাতেরও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে না।
আইআরএফের সভাপতি গোলাম মওলার সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দৈনিক যুগান্তরের বিজনেস এডিটর মনির হোসেন।
মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, অর্থনীতির আকারে বিশ্বের ৩৫তম হলেও বীমা শিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান ৬০তম, যা খাতটির অপার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে না পারারই প্রতিফলন। দেশে মাথাপিছু বীমা ব্যয়, বীমা প্রবেশযোগ্যতা (পেনিট্রেশন রেট) এবং বৈশ্বিক বাজারে অংশগ্রহণ– সব সূচকেই বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
মনির হোসেন বলেন, বীমা খাতের প্রধান সংকট হলো গ্রাহকের আস্থাহীনতা, দুর্বল সুশাসন, সচেতনতার অভাব, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সীমিত সক্ষমতা, দক্ষ জনবলের সংকট, প্রযুক্তির স্বল্প ব্যবহার এবং অস্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা। অনেক কোম্পানির দাবি নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা ও অনিয়মের কারণে পুরো খাতের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের আর্থিক খাতের মধ্যে সবচেয়ে অবহেলিত খাত হলো বীমা। বাজেটে এ খাতের জন্য কার্যকর নীতিগত দিকনির্দেশনা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সংখ্যক বীমা কোম্পানির কারণে অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।
বীমা খাতের সম্ভাবনার কথা তোলে ধরে দৈনিক যুগান্তরের বিজনেস এডিটর বলেন, দুর্যোগপ্রবণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশে বীমা খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। শিল্পায়ন, মানুষের আয় বৃদ্ধি, শিক্ষার প্রসার এবং কৃষি ও নতুন খাতে বীমা সম্প্রসারণের সুযোগকে কাজে লাগানো গেলে খাতটি অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।
মূল প্রবন্ধে তিনি জাতীয় বীমা নীতির বাস্তবায়ন, আইডিআরের সক্ষমতা ও জনবল বৃদ্ধি, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু, কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ, গ্রাহকের অনিষ্পন্ন দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সেবার মানের ভিত্তিতে বীমা কোম্পানির ক্যাটাগরি নির্ধারণের সুপারিশ করেন।
সেমিনারের বক্তারা একমত হন, বীমা খাতের উন্নয়নে গ্রাহকের আস্থা পুনর্গঠন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং খাত-সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া বীমা খাতের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এশিয়া ইন্স্যুরেন্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমাম শাহীন, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুর রহমান, প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাইদুল আমিন, পদ্মা ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিদুজ্জামান, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদ মুজতবা সিদ্দিকী, ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সেলিম, এনআরবি ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ জামাল হাওলাদার, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম শহিদুল্লাহ প্রমুখ।

বাংলাদেশের বীমা খাতকে একটি কার্যকর, টেকসই ও জন-আস্থাভিত্তিক খাতে পরিণত করতে হলে দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তর, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর তদারকির অভাব, প্রযুক্তির সীমিত ব্যবহার এবং সুশাসনের ঘাটতির কারণে বীমা খাতে দীর্ঘদিন ধরে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে হলে খাতটিকে আধুনিক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থায় রূপান্তর করতে হবে।
শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরের হোটেল একাত্তরে ইন্স্যুরেন্স রিপোর্টার্স ফোরাম (আইআরএফ) আয়োজিত ‘বাজেট-পরবর্তী বীমা খাত: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ড. তিতুমীর।
ড. তিতুমীর বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের বীমা খাতে প্রত্যাশিত মাত্রায় ডিজিটালাইজেশন হয়নি। ফলে গ্রাহকসেবা, দাবি নিষ্পত্তি, তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নানা সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে শুধু গ্রাহক সন্তুষ্টিই বাড়বে না, একই সঙ্গে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দক্ষতাও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। তাই দুর্যোগজনিত ক্ষতি মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী বীমা খাত গড়ে তোলা সময়ের দাবি। কিন্তু প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও নীতিগত ঘাটতির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান কার্যকরভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারছে না।
অধ্যাপক তিতুমীর বলেন, শুধু প্রচলিত তদারকির ওপর নির্ভর করলে হবে না। খাতভিত্তিক নিরীক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতা বাড়িয়ে আরও কার্যকর ও স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার, সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করেই বীমা খাতের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
সেমিনারে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, বীমা খাতের টেকসই সংস্কারের জন্য তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে—গ্রাহকের আস্থা পুনরুদ্ধার, নিয়ন্ত্রক কাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ শক্তিশালী করা এবং মানবসম্পদের সক্ষমতা বৃদ্ধি।
তিনি জানান, বর্তমানে বীমা খাতে গ্রাহকদের প্রায় সাত হাজার কোটি টাকার দাবি অনিষ্পন্ন রয়েছে। এর কিছু সমস্যা পুরো খাতের, আবার কিছু নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কারণে সৃষ্টি হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে আইডিআরএ ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বিক্রিতে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করার পাশাপাশি ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালু করতে হবে। একই সঙ্গে দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশের বাস্তবতায় কৃষি, জলবায়ু ও মাইক্রোইন্স্যুরেন্সের মতো নতুন খাতে বীমা সেবা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাঈদ আহমেদ (এমপি) বলেন, বীমা কমিশনকে ব্যবসায়িক স্বার্থ ও অনিয়মের প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। একই সঙ্গে মোটরযান বীমাকে আরও কার্যকরভাবে বাধ্যতামূলক করা এবং নতুন নতুন খাতে বীমা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে হবে।
বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের সভাপতি বিএম ইউসুফ আলী বলেন, দেশে এমন অনেক বীমা কোম্পানি রয়েছে, যারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রাহকের দাবি নিষ্পত্তি করে। কিন্তু এসব ইতিবাচক উদ্যোগ খুব কমই প্রচার পায়। বরং যেখানে দাবি পরিশোধে বিলম্ব বা জটিলতা হয়, সেগুলোই বেশি আলোচিত হয়। ফলে বীমা খাতের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডও জনসাধারণের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।
জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম নুরুজ্জামান বলেন, নন-লাইফের তুলনায় লাইফ বীমা খাতে সংকট বেশি। অনেক প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বিক্রি এবং তারল্য সংকট নিরসনে ব্যাংক ঋণ সহায়তা ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা সহজ করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, দেশের অর্থনীতিতে বীমা খাতের গুরুত্ব অনেক হলেও এটি এখনো অবহেলিত। বীমার প্রবেশযোগ্যতা খুবই কম, যা বাড়াতে হবে। দুর্বল নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা, স্বল্পমেয়াদী লাভের মানসিকতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব এ খাতের প্রধান সমস্যা। পাশাপাশি কৃষি ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বীমার পরিধি বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
তিনি আরও বলেন, আর্থিক খাতে নৈতিক ঝুঁকি, দুর্বল সুশাসন ও জবাবদিহির সংকট দূর করা না গেলে বীমা খাতেরও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে না।
আইআরএফের সভাপতি গোলাম মওলার সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দৈনিক যুগান্তরের বিজনেস এডিটর মনির হোসেন।
মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, অর্থনীতির আকারে বিশ্বের ৩৫তম হলেও বীমা শিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান ৬০তম, যা খাতটির অপার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে না পারারই প্রতিফলন। দেশে মাথাপিছু বীমা ব্যয়, বীমা প্রবেশযোগ্যতা (পেনিট্রেশন রেট) এবং বৈশ্বিক বাজারে অংশগ্রহণ– সব সূচকেই বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
মনির হোসেন বলেন, বীমা খাতের প্রধান সংকট হলো গ্রাহকের আস্থাহীনতা, দুর্বল সুশাসন, সচেতনতার অভাব, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সীমিত সক্ষমতা, দক্ষ জনবলের সংকট, প্রযুক্তির স্বল্প ব্যবহার এবং অস্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা। অনেক কোম্পানির দাবি নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা ও অনিয়মের কারণে পুরো খাতের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের আর্থিক খাতের মধ্যে সবচেয়ে অবহেলিত খাত হলো বীমা। বাজেটে এ খাতের জন্য কার্যকর নীতিগত দিকনির্দেশনা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সংখ্যক বীমা কোম্পানির কারণে অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।
বীমা খাতের সম্ভাবনার কথা তোলে ধরে দৈনিক যুগান্তরের বিজনেস এডিটর বলেন, দুর্যোগপ্রবণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশে বীমা খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। শিল্পায়ন, মানুষের আয় বৃদ্ধি, শিক্ষার প্রসার এবং কৃষি ও নতুন খাতে বীমা সম্প্রসারণের সুযোগকে কাজে লাগানো গেলে খাতটি অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।
মূল প্রবন্ধে তিনি জাতীয় বীমা নীতির বাস্তবায়ন, আইডিআরের সক্ষমতা ও জনবল বৃদ্ধি, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু, কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ, গ্রাহকের অনিষ্পন্ন দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সেবার মানের ভিত্তিতে বীমা কোম্পানির ক্যাটাগরি নির্ধারণের সুপারিশ করেন।
সেমিনারের বক্তারা একমত হন, বীমা খাতের উন্নয়নে গ্রাহকের আস্থা পুনর্গঠন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং খাত-সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া বীমা খাতের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এশিয়া ইন্স্যুরেন্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমাম শাহীন, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুর রহমান, প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাইদুল আমিন, পদ্মা ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিদুজ্জামান, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদ মুজতবা সিদ্দিকী, ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সেলিম, এনআরবি ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ জামাল হাওলাদার, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম শহিদুল্লাহ প্রমুখ।

‘বীমা খাতে আস্থা ফেরাতে ডিজিটাল রূপান্তর ও সুশাসনের বিকল্প নেই’
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বাংলাদেশের বীমা খাতকে একটি কার্যকর, টেকসই ও জন-আস্থাভিত্তিক খাতে পরিণত করতে হলে দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তর, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর তদারকির অভাব, প্রযুক্তির সীমিত ব্যবহার এবং সুশাসনের ঘাটতির কারণে বীমা খাতে দীর্ঘদিন ধরে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে হলে খাতটিকে আধুনিক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থায় রূপান্তর করতে হবে।
শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরের হোটেল একাত্তরে ইন্স্যুরেন্স রিপোর্টার্স ফোরাম (আইআরএফ) আয়োজিত ‘বাজেট-পরবর্তী বীমা খাত: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ড. তিতুমীর।
ড. তিতুমীর বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের বীমা খাতে প্রত্যাশিত মাত্রায় ডিজিটালাইজেশন হয়নি। ফলে গ্রাহকসেবা, দাবি নিষ্পত্তি, তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নানা সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে শুধু গ্রাহক সন্তুষ্টিই বাড়বে না, একই সঙ্গে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দক্ষতাও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। তাই দুর্যোগজনিত ক্ষতি মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী বীমা খাত গড়ে তোলা সময়ের দাবি। কিন্তু প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও নীতিগত ঘাটতির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান কার্যকরভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারছে না।
অধ্যাপক তিতুমীর বলেন, শুধু প্রচলিত তদারকির ওপর নির্ভর করলে হবে না। খাতভিত্তিক নিরীক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতা বাড়িয়ে আরও কার্যকর ও স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার, সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করেই বীমা খাতের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
সেমিনারে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, বীমা খাতের টেকসই সংস্কারের জন্য তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে—গ্রাহকের আস্থা পুনরুদ্ধার, নিয়ন্ত্রক কাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ শক্তিশালী করা এবং মানবসম্পদের সক্ষমতা বৃদ্ধি।
তিনি জানান, বর্তমানে বীমা খাতে গ্রাহকদের প্রায় সাত হাজার কোটি টাকার দাবি অনিষ্পন্ন রয়েছে। এর কিছু সমস্যা পুরো খাতের, আবার কিছু নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কারণে সৃষ্টি হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে আইডিআরএ ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বিক্রিতে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করার পাশাপাশি ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালু করতে হবে। একই সঙ্গে দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশের বাস্তবতায় কৃষি, জলবায়ু ও মাইক্রোইন্স্যুরেন্সের মতো নতুন খাতে বীমা সেবা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাঈদ আহমেদ (এমপি) বলেন, বীমা কমিশনকে ব্যবসায়িক স্বার্থ ও অনিয়মের প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। একই সঙ্গে মোটরযান বীমাকে আরও কার্যকরভাবে বাধ্যতামূলক করা এবং নতুন নতুন খাতে বীমা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে হবে।
বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের সভাপতি বিএম ইউসুফ আলী বলেন, দেশে এমন অনেক বীমা কোম্পানি রয়েছে, যারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রাহকের দাবি নিষ্পত্তি করে। কিন্তু এসব ইতিবাচক উদ্যোগ খুব কমই প্রচার পায়। বরং যেখানে দাবি পরিশোধে বিলম্ব বা জটিলতা হয়, সেগুলোই বেশি আলোচিত হয়। ফলে বীমা খাতের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডও জনসাধারণের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।
জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম নুরুজ্জামান বলেন, নন-লাইফের তুলনায় লাইফ বীমা খাতে সংকট বেশি। অনেক প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বিক্রি এবং তারল্য সংকট নিরসনে ব্যাংক ঋণ সহায়তা ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা সহজ করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, দেশের অর্থনীতিতে বীমা খাতের গুরুত্ব অনেক হলেও এটি এখনো অবহেলিত। বীমার প্রবেশযোগ্যতা খুবই কম, যা বাড়াতে হবে। দুর্বল নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা, স্বল্পমেয়াদী লাভের মানসিকতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব এ খাতের প্রধান সমস্যা। পাশাপাশি কৃষি ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বীমার পরিধি বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
তিনি আরও বলেন, আর্থিক খাতে নৈতিক ঝুঁকি, দুর্বল সুশাসন ও জবাবদিহির সংকট দূর করা না গেলে বীমা খাতেরও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে না।
আইআরএফের সভাপতি গোলাম মওলার সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দৈনিক যুগান্তরের বিজনেস এডিটর মনির হোসেন।
মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, অর্থনীতির আকারে বিশ্বের ৩৫তম হলেও বীমা শিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান ৬০তম, যা খাতটির অপার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে না পারারই প্রতিফলন। দেশে মাথাপিছু বীমা ব্যয়, বীমা প্রবেশযোগ্যতা (পেনিট্রেশন রেট) এবং বৈশ্বিক বাজারে অংশগ্রহণ– সব সূচকেই বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
মনির হোসেন বলেন, বীমা খাতের প্রধান সংকট হলো গ্রাহকের আস্থাহীনতা, দুর্বল সুশাসন, সচেতনতার অভাব, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সীমিত সক্ষমতা, দক্ষ জনবলের সংকট, প্রযুক্তির স্বল্প ব্যবহার এবং অস্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা। অনেক কোম্পানির দাবি নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা ও অনিয়মের কারণে পুরো খাতের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের আর্থিক খাতের মধ্যে সবচেয়ে অবহেলিত খাত হলো বীমা। বাজেটে এ খাতের জন্য কার্যকর নীতিগত দিকনির্দেশনা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সংখ্যক বীমা কোম্পানির কারণে অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।
বীমা খাতের সম্ভাবনার কথা তোলে ধরে দৈনিক যুগান্তরের বিজনেস এডিটর বলেন, দুর্যোগপ্রবণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশে বীমা খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। শিল্পায়ন, মানুষের আয় বৃদ্ধি, শিক্ষার প্রসার এবং কৃষি ও নতুন খাতে বীমা সম্প্রসারণের সুযোগকে কাজে লাগানো গেলে খাতটি অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।
মূল প্রবন্ধে তিনি জাতীয় বীমা নীতির বাস্তবায়ন, আইডিআরের সক্ষমতা ও জনবল বৃদ্ধি, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু, কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ, গ্রাহকের অনিষ্পন্ন দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সেবার মানের ভিত্তিতে বীমা কোম্পানির ক্যাটাগরি নির্ধারণের সুপারিশ করেন।
সেমিনারের বক্তারা একমত হন, বীমা খাতের উন্নয়নে গ্রাহকের আস্থা পুনর্গঠন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং খাত-সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া বীমা খাতের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এশিয়া ইন্স্যুরেন্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমাম শাহীন, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুর রহমান, প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাইদুল আমিন, পদ্মা ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিদুজ্জামান, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদ মুজতবা সিদ্দিকী, ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সেলিম, এনআরবি ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ জামাল হাওলাদার, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম শহিদুল্লাহ প্রমুখ।

৯ সাধারণ বীমা প্রতিষ্ঠানে আইডিআরএর পরিদর্শন
বাংলাদেশের ব্যাংক খাত সংস্কারে ৪৫ কোটি ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক


