চাপে বাংলাদেশের অর্থনীতি, সংকট কাটাতে ৮ সংস্কার প্রস্তাব এডিবির

চাপে বাংলাদেশের অর্থনীতি, সংকট কাটাতে ৮ সংস্কার প্রস্তাব এডিবির
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঘন ঘন রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি নানামুখী চাপে পড়েছে বলে নতুন মূল্যায়ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বা এডিবি। চরম এই অর্থনৈতিক সংকট বাংলাদেশ কীভাবে সামাল দিতে পারে, এডিবি তাদের প্রতিবেদনে সেই উপায়ও বাতলে দিয়েছে। তারা এই সংকট কাটাতে আটটি সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে।
‘বাংলাদেশ অ্যাট এ ক্রসরোডস অব রিফর্মস’ শীর্ষক ৫০ পৃষ্ঠার এ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকটে পড়ার কিছু কারণও উল্লেখ করা হয়েছে।
যেসব কারণে অর্থনৈতিক সংকট
দুর্বল ভিত: বাংলাদেশ কৃষি, পোশাকশিল্প ও প্রবাসী আয়ের ওপর ভর করে প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও অর্থনীতির কাঠামো সংকীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। সরবরাহব্যবস্থার বিঘ্ন, জ্বালানিঘাটতি, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে চাপ বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
কর-জিডিপি অনুপাত কম: প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কাঠামোগত দুর্বলতাগুলোর একটি হচ্ছে রাজস্ব ব্যবস্থা। দেশের কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। জটিল করহার, অসংখ্য কর-ছাড়, দুর্বল প্রশাসন, কাগজনির্ভর প্রক্রিয়া ও কর কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের অনানুষ্ঠানিক সমঝোতার কারণে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে।
ঋণের চাপ ও ব্যাংক খাতে ঝুঁকি: বাংলাদেশের সরকারি ও সরকারি নিশ্চয়তাপ্রাপ্ত ঋণ ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপির ৪১ শতাংশে পৌঁছেছে। এর বড় অংশই অভ্যন্তরীণ ঋণ। ফলে ব্যাংকনির্ভর ঋণব্যবস্থা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এডিবি বলছে বাংলাদেশের ঋণ–ব্যবস্থাপনা এখনো সমন্বিত নয়। অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তথ্য সমন্বয়ের ঘাটতি আছে।
উন্নয়ন প্রকল্পে বিশৃঙ্খলা: সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় বড় দুর্বলতা উঠে এসেছে এডিবির পর্যবেক্ষণে। বাজেট ও বাস্তব ব্যয়ের মধ্যে প্রায়ই বড় ফারাক দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে তারা। অনেক উন্নয়ন প্রকল্প যথাযথ অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ ছাড়াই অনুমোদন পায়। পরিবহন খাতের ৩২৯টি প্রকল্প বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক প্রকল্পেই সময় ও ব্যয় বেড়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে দায় বাড়া: রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থাকেও ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে এডিবি। ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পদে মুনাফার হার ৭৮ শতাংশ এবং ইকুইটিতে মুনাফার হার ৮৮ শতাংশ কমেছে। এডিবির মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের মালিকানা নীতি, নজরদারি ও জবাবদিহির কাঠামো দুর্বল হওয়ায় সরকারের সামগ্রিক আর্থিক ঝুঁকি বাড়ছে।
দুর্নীতি দমন ও জবাবদিহিতায় সমস্যা: এডিবি বলছে, বাংলাদেশে দুর্নীতিবিরোধী আইন থাকলেও বাস্তব প্রয়োগ দুর্বল এবং রাজনৈতিক প্রভাবে দুষ্ট। দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিয়েও সমালোচনা আছে।
নতুন সরকারের লক্ষ্য কতটা বাস্তবসম্মত: প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন বা লাখ কোটি ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করতে চায়। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো, ১ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
অর্থনৈতিক সংকট সামাল দেওয়ার জন্য জরুরি ভিত্তিতে আটটি ক্ষেত্রে বড় সংস্কার করার পরামর্শ প্রতিবেদনটিতে দিয়েছে এডিবি। সংস্কারের ক্ষেত্রগুলো হচ্ছে এনবিআর পুনর্গঠন ও করব্যবস্থার পূর্ণ ডিজিটালাইজেশন, কেন্দ্রীয় ঋণব্যবস্থাপনা কাঠামো গঠন, পরিকল্পনা ও বাজেটের মধ্যে সমন্বয়, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা জোরদার, উন্নয়ন প্রকল্প মূল্যায়ন ও ক্রয়ব্যবস্থা সংস্কার, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি বাড়ানো, নিরীক্ষা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা।

ঘন ঘন রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি নানামুখী চাপে পড়েছে বলে নতুন মূল্যায়ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বা এডিবি। চরম এই অর্থনৈতিক সংকট বাংলাদেশ কীভাবে সামাল দিতে পারে, এডিবি তাদের প্রতিবেদনে সেই উপায়ও বাতলে দিয়েছে। তারা এই সংকট কাটাতে আটটি সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে।
‘বাংলাদেশ অ্যাট এ ক্রসরোডস অব রিফর্মস’ শীর্ষক ৫০ পৃষ্ঠার এ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকটে পড়ার কিছু কারণও উল্লেখ করা হয়েছে।
যেসব কারণে অর্থনৈতিক সংকট
দুর্বল ভিত: বাংলাদেশ কৃষি, পোশাকশিল্প ও প্রবাসী আয়ের ওপর ভর করে প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও অর্থনীতির কাঠামো সংকীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। সরবরাহব্যবস্থার বিঘ্ন, জ্বালানিঘাটতি, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে চাপ বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
কর-জিডিপি অনুপাত কম: প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কাঠামোগত দুর্বলতাগুলোর একটি হচ্ছে রাজস্ব ব্যবস্থা। দেশের কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। জটিল করহার, অসংখ্য কর-ছাড়, দুর্বল প্রশাসন, কাগজনির্ভর প্রক্রিয়া ও কর কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের অনানুষ্ঠানিক সমঝোতার কারণে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে।
ঋণের চাপ ও ব্যাংক খাতে ঝুঁকি: বাংলাদেশের সরকারি ও সরকারি নিশ্চয়তাপ্রাপ্ত ঋণ ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপির ৪১ শতাংশে পৌঁছেছে। এর বড় অংশই অভ্যন্তরীণ ঋণ। ফলে ব্যাংকনির্ভর ঋণব্যবস্থা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এডিবি বলছে বাংলাদেশের ঋণ–ব্যবস্থাপনা এখনো সমন্বিত নয়। অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তথ্য সমন্বয়ের ঘাটতি আছে।
উন্নয়ন প্রকল্পে বিশৃঙ্খলা: সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় বড় দুর্বলতা উঠে এসেছে এডিবির পর্যবেক্ষণে। বাজেট ও বাস্তব ব্যয়ের মধ্যে প্রায়ই বড় ফারাক দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে তারা। অনেক উন্নয়ন প্রকল্প যথাযথ অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ ছাড়াই অনুমোদন পায়। পরিবহন খাতের ৩২৯টি প্রকল্প বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক প্রকল্পেই সময় ও ব্যয় বেড়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে দায় বাড়া: রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থাকেও ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে এডিবি। ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পদে মুনাফার হার ৭৮ শতাংশ এবং ইকুইটিতে মুনাফার হার ৮৮ শতাংশ কমেছে। এডিবির মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের মালিকানা নীতি, নজরদারি ও জবাবদিহির কাঠামো দুর্বল হওয়ায় সরকারের সামগ্রিক আর্থিক ঝুঁকি বাড়ছে।
দুর্নীতি দমন ও জবাবদিহিতায় সমস্যা: এডিবি বলছে, বাংলাদেশে দুর্নীতিবিরোধী আইন থাকলেও বাস্তব প্রয়োগ দুর্বল এবং রাজনৈতিক প্রভাবে দুষ্ট। দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিয়েও সমালোচনা আছে।
নতুন সরকারের লক্ষ্য কতটা বাস্তবসম্মত: প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন বা লাখ কোটি ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করতে চায়। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো, ১ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
অর্থনৈতিক সংকট সামাল দেওয়ার জন্য জরুরি ভিত্তিতে আটটি ক্ষেত্রে বড় সংস্কার করার পরামর্শ প্রতিবেদনটিতে দিয়েছে এডিবি। সংস্কারের ক্ষেত্রগুলো হচ্ছে এনবিআর পুনর্গঠন ও করব্যবস্থার পূর্ণ ডিজিটালাইজেশন, কেন্দ্রীয় ঋণব্যবস্থাপনা কাঠামো গঠন, পরিকল্পনা ও বাজেটের মধ্যে সমন্বয়, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা জোরদার, উন্নয়ন প্রকল্প মূল্যায়ন ও ক্রয়ব্যবস্থা সংস্কার, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি বাড়ানো, নিরীক্ষা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা।

চাপে বাংলাদেশের অর্থনীতি, সংকট কাটাতে ৮ সংস্কার প্রস্তাব এডিবির
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঘন ঘন রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি নানামুখী চাপে পড়েছে বলে নতুন মূল্যায়ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বা এডিবি। চরম এই অর্থনৈতিক সংকট বাংলাদেশ কীভাবে সামাল দিতে পারে, এডিবি তাদের প্রতিবেদনে সেই উপায়ও বাতলে দিয়েছে। তারা এই সংকট কাটাতে আটটি সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে।
‘বাংলাদেশ অ্যাট এ ক্রসরোডস অব রিফর্মস’ শীর্ষক ৫০ পৃষ্ঠার এ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকটে পড়ার কিছু কারণও উল্লেখ করা হয়েছে।
যেসব কারণে অর্থনৈতিক সংকট
দুর্বল ভিত: বাংলাদেশ কৃষি, পোশাকশিল্প ও প্রবাসী আয়ের ওপর ভর করে প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও অর্থনীতির কাঠামো সংকীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। সরবরাহব্যবস্থার বিঘ্ন, জ্বালানিঘাটতি, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে চাপ বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
কর-জিডিপি অনুপাত কম: প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কাঠামোগত দুর্বলতাগুলোর একটি হচ্ছে রাজস্ব ব্যবস্থা। দেশের কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। জটিল করহার, অসংখ্য কর-ছাড়, দুর্বল প্রশাসন, কাগজনির্ভর প্রক্রিয়া ও কর কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের অনানুষ্ঠানিক সমঝোতার কারণে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে।
ঋণের চাপ ও ব্যাংক খাতে ঝুঁকি: বাংলাদেশের সরকারি ও সরকারি নিশ্চয়তাপ্রাপ্ত ঋণ ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপির ৪১ শতাংশে পৌঁছেছে। এর বড় অংশই অভ্যন্তরীণ ঋণ। ফলে ব্যাংকনির্ভর ঋণব্যবস্থা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এডিবি বলছে বাংলাদেশের ঋণ–ব্যবস্থাপনা এখনো সমন্বিত নয়। অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তথ্য সমন্বয়ের ঘাটতি আছে।
উন্নয়ন প্রকল্পে বিশৃঙ্খলা: সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় বড় দুর্বলতা উঠে এসেছে এডিবির পর্যবেক্ষণে। বাজেট ও বাস্তব ব্যয়ের মধ্যে প্রায়ই বড় ফারাক দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে তারা। অনেক উন্নয়ন প্রকল্প যথাযথ অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ ছাড়াই অনুমোদন পায়। পরিবহন খাতের ৩২৯টি প্রকল্প বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক প্রকল্পেই সময় ও ব্যয় বেড়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে দায় বাড়া: রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থাকেও ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে এডিবি। ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পদে মুনাফার হার ৭৮ শতাংশ এবং ইকুইটিতে মুনাফার হার ৮৮ শতাংশ কমেছে। এডিবির মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের মালিকানা নীতি, নজরদারি ও জবাবদিহির কাঠামো দুর্বল হওয়ায় সরকারের সামগ্রিক আর্থিক ঝুঁকি বাড়ছে।
দুর্নীতি দমন ও জবাবদিহিতায় সমস্যা: এডিবি বলছে, বাংলাদেশে দুর্নীতিবিরোধী আইন থাকলেও বাস্তব প্রয়োগ দুর্বল এবং রাজনৈতিক প্রভাবে দুষ্ট। দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিয়েও সমালোচনা আছে।
নতুন সরকারের লক্ষ্য কতটা বাস্তবসম্মত: প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন বা লাখ কোটি ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করতে চায়। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো, ১ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
অর্থনৈতিক সংকট সামাল দেওয়ার জন্য জরুরি ভিত্তিতে আটটি ক্ষেত্রে বড় সংস্কার করার পরামর্শ প্রতিবেদনটিতে দিয়েছে এডিবি। সংস্কারের ক্ষেত্রগুলো হচ্ছে এনবিআর পুনর্গঠন ও করব্যবস্থার পূর্ণ ডিজিটালাইজেশন, কেন্দ্রীয় ঋণব্যবস্থাপনা কাঠামো গঠন, পরিকল্পনা ও বাজেটের মধ্যে সমন্বয়, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা জোরদার, উন্নয়ন প্রকল্প মূল্যায়ন ও ক্রয়ব্যবস্থা সংস্কার, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি বাড়ানো, নিরীক্ষা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা।

বাংলাদেশকে ৪০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতে সন্তুষ্ট এডিবি: অর্থ উপদেষ্টা


