বেক্সিমকোর ঋণ জালিয়াতির নথিপত্র সংগ্রহে দুদক

বেক্সিমকোর ঋণ জালিয়াতির নথিপত্র সংগ্রহে দুদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা এবং আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান সালমান ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, জনতা ব্যাংক থেকে ঋণের নামে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে ভুয়া ও বেনামি প্রতিষ্ঠান খুলে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইতোমধ্যে ১১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সম্প্রতি দুদকের সহকারী পরিচালক ও তদন্তকারী কর্মকর্তা মিনহাজ বিন ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জনতা ব্যাংক পিএলসি-র লোকাল অফিসের মহাব্যবস্থাপককে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক তানজীর আহমেদ জানিয়েছেন, মামলাগুলো তদন্তে নথিপত্র সংগ্রহের কাজ শুরু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহে ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে নথি জব্দ করা হচ্ছে এবং তদন্ত এগিয়ে নিতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আসামিরা পরস্পর যোগ-সাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। তারা জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিস থেকে ‘কাঁচপুর অ্যাপারেলস লিমিটেড’ নামক একটি কাগুজে বা নব্যসৃষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ইডিএফ সুবিধাসহ বিভিন্ন ঋণ সুবিধা প্রদান করেন। পরবর্তীতে সেই ঋণের অর্থ দিয়ে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার মাধ্যমে ভুয়া ‘অ্যাকোমোডেশন বিল’ তৈরি করা হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এভাবে মোট ৮ কোটি ৪০ লাখ ২৯ হাজার ৫৪৭ মার্কিন ডলার অর্থাৎ ৭১৪ কোটি ২৫ লাখ ১১ হাজার ৫৩২ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া প্রত্যাবাসিত না হওয়া রপ্তানি আয়সহ (২৯ লাখ ৭৯ হাজার ডলার বা ২৫ কোটি ৩২ লাখ ৯৩ হাজার টাকা) সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭৪০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এই বিশাল পরিমাণ অর্থ পরবর্তীতে রূপান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করা হয়েছে।
এদিকে,তদন্তের স্বার্থে দুদক জনতা ব্যাংকের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তলব করেছে, যার মধ্যে রয়েছে- কাঁচপুর অ্যাপারেলস লিমিটেডের হিসাব খোলার ফরম ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র। শুরু থেকে অদ্যাবধি ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং জমা-উত্তোলনের সব ইনস্ট্রুমেন্ট (চেক, পে-অর্ডার ইত্যাদি)। ঋণ মঞ্জুরিপত্র, মর্টগেজ দলিল, ব্যক্তিগত গ্যারান্টি ও পরিদর্শন প্রতিবেদন। এছাড়াও ক্রিসেন্ট এক্সেসরিজ লিমিটেড, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড এবং আরআর ওয়াশিং লিমিটেড-এর সাথে সংশ্লিষ্ট এলসি ও শিপিং ডকুমেন্টস তলব করা হয়েছে। বিদেশে পণ্য রপ্তানি সংক্রান্ত যাবতীয় অডিট প্রতিবেদন ও নীতিগত অনুমোদনের কপিও তলব করেছে দুদক।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, এই অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা বা অবহেলা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে এসব নথিপত্র পর্যালোচনার মাধ্যমেই ঘটনার মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রেকর্ডপত্র জব্দের বিষয়টি পরে জানানো হবে, তবে আপাতত তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য এর ফটোকপি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরবরাহ করতে হবে।
এর আগে, সালমান ফজলুর রহমানের ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতের নির্দেশনায় এসব সম্পদ বর্তমানে দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের আওতায় রয়েছে।
দুদকের নেতৃত্বাধীন জাতীয় টাস্কফোর্সের অধীনে এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ২৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে দুদক ১১টি এবং সিআইডি ১৭টি মামলা করেছে। এসব মামলার বিপরীতে আদালতের নির্দেশনায় সম্পদগুলো ফ্রিজ রাখা হয়েছে। জাতীয় টাস্কফোর্সের অধীনে যৌথ টিমের করা মামলার বিপরীতে আদালতের আদেশে ফ্রিজ হওয়া সম্পদের মধ্যে রয়েছে— ১০৭টি বিও অ্যাকাউন্টে ৬৭.৫৫ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা। ৯৪টি কোম্পানির শতভাগ শেয়ার। এছাড়া, ১৯৭০.৪৬৭ শতাংশ জমি (আনুমানিক মূল্য ১১.৯৩ কোটি টাকা) এবং লন্ডনে দুটি ফ্ল্যাট (আনুমানিক মূল্য ৭.৭৫ মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড বা প্রায় ১২৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা)।
মামলাগুলোতে জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিস থেকে আত্মসাৎ করা অর্থের মধ্যে পিয়ারলেস গার্মেন্টস লিমিটেড দেখিয়ে ৫ কোটি ২ লাখ ৫০ হাজার ৭৭২.২৫ মার্কিন ডলার, প্লাটিনাম গার্মেন্টস লিমিটেডের নামে ১ কোটি ৮৮ লাখ ৩ হাজার ৬৫৮.৯১ ডলার, কাঁচপুর এপারেলস লিমিটেডের নামে ৮ কোটি ৪০ লাখ ২৯ হাজার ৫৪৭.৪৫ ডলার, স্কাইনেট অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে ১ কোটি ৪৭ লাখ ২৯ হাজার ৩৪০ ডলার এবং ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নামে ৪ কোটি ৭৭ লাখ ১৫ হাজার ৪৮২.৪৬ ডলার আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা এবং আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান সালমান ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, জনতা ব্যাংক থেকে ঋণের নামে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে ভুয়া ও বেনামি প্রতিষ্ঠান খুলে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইতোমধ্যে ১১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সম্প্রতি দুদকের সহকারী পরিচালক ও তদন্তকারী কর্মকর্তা মিনহাজ বিন ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জনতা ব্যাংক পিএলসি-র লোকাল অফিসের মহাব্যবস্থাপককে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক তানজীর আহমেদ জানিয়েছেন, মামলাগুলো তদন্তে নথিপত্র সংগ্রহের কাজ শুরু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহে ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে নথি জব্দ করা হচ্ছে এবং তদন্ত এগিয়ে নিতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আসামিরা পরস্পর যোগ-সাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। তারা জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিস থেকে ‘কাঁচপুর অ্যাপারেলস লিমিটেড’ নামক একটি কাগুজে বা নব্যসৃষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ইডিএফ সুবিধাসহ বিভিন্ন ঋণ সুবিধা প্রদান করেন। পরবর্তীতে সেই ঋণের অর্থ দিয়ে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার মাধ্যমে ভুয়া ‘অ্যাকোমোডেশন বিল’ তৈরি করা হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এভাবে মোট ৮ কোটি ৪০ লাখ ২৯ হাজার ৫৪৭ মার্কিন ডলার অর্থাৎ ৭১৪ কোটি ২৫ লাখ ১১ হাজার ৫৩২ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া প্রত্যাবাসিত না হওয়া রপ্তানি আয়সহ (২৯ লাখ ৭৯ হাজার ডলার বা ২৫ কোটি ৩২ লাখ ৯৩ হাজার টাকা) সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭৪০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এই বিশাল পরিমাণ অর্থ পরবর্তীতে রূপান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করা হয়েছে।
এদিকে,তদন্তের স্বার্থে দুদক জনতা ব্যাংকের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তলব করেছে, যার মধ্যে রয়েছে- কাঁচপুর অ্যাপারেলস লিমিটেডের হিসাব খোলার ফরম ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র। শুরু থেকে অদ্যাবধি ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং জমা-উত্তোলনের সব ইনস্ট্রুমেন্ট (চেক, পে-অর্ডার ইত্যাদি)। ঋণ মঞ্জুরিপত্র, মর্টগেজ দলিল, ব্যক্তিগত গ্যারান্টি ও পরিদর্শন প্রতিবেদন। এছাড়াও ক্রিসেন্ট এক্সেসরিজ লিমিটেড, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড এবং আরআর ওয়াশিং লিমিটেড-এর সাথে সংশ্লিষ্ট এলসি ও শিপিং ডকুমেন্টস তলব করা হয়েছে। বিদেশে পণ্য রপ্তানি সংক্রান্ত যাবতীয় অডিট প্রতিবেদন ও নীতিগত অনুমোদনের কপিও তলব করেছে দুদক।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, এই অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা বা অবহেলা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে এসব নথিপত্র পর্যালোচনার মাধ্যমেই ঘটনার মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রেকর্ডপত্র জব্দের বিষয়টি পরে জানানো হবে, তবে আপাতত তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য এর ফটোকপি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরবরাহ করতে হবে।
এর আগে, সালমান ফজলুর রহমানের ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতের নির্দেশনায় এসব সম্পদ বর্তমানে দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের আওতায় রয়েছে।
দুদকের নেতৃত্বাধীন জাতীয় টাস্কফোর্সের অধীনে এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ২৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে দুদক ১১টি এবং সিআইডি ১৭টি মামলা করেছে। এসব মামলার বিপরীতে আদালতের নির্দেশনায় সম্পদগুলো ফ্রিজ রাখা হয়েছে। জাতীয় টাস্কফোর্সের অধীনে যৌথ টিমের করা মামলার বিপরীতে আদালতের আদেশে ফ্রিজ হওয়া সম্পদের মধ্যে রয়েছে— ১০৭টি বিও অ্যাকাউন্টে ৬৭.৫৫ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা। ৯৪টি কোম্পানির শতভাগ শেয়ার। এছাড়া, ১৯৭০.৪৬৭ শতাংশ জমি (আনুমানিক মূল্য ১১.৯৩ কোটি টাকা) এবং লন্ডনে দুটি ফ্ল্যাট (আনুমানিক মূল্য ৭.৭৫ মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড বা প্রায় ১২৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা)।
মামলাগুলোতে জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিস থেকে আত্মসাৎ করা অর্থের মধ্যে পিয়ারলেস গার্মেন্টস লিমিটেড দেখিয়ে ৫ কোটি ২ লাখ ৫০ হাজার ৭৭২.২৫ মার্কিন ডলার, প্লাটিনাম গার্মেন্টস লিমিটেডের নামে ১ কোটি ৮৮ লাখ ৩ হাজার ৬৫৮.৯১ ডলার, কাঁচপুর এপারেলস লিমিটেডের নামে ৮ কোটি ৪০ লাখ ২৯ হাজার ৫৪৭.৪৫ ডলার, স্কাইনেট অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে ১ কোটি ৪৭ লাখ ২৯ হাজার ৩৪০ ডলার এবং ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নামে ৪ কোটি ৭৭ লাখ ১৫ হাজার ৪৮২.৪৬ ডলার আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

বেক্সিমকোর ঋণ জালিয়াতির নথিপত্র সংগ্রহে দুদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা এবং আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান সালমান ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, জনতা ব্যাংক থেকে ঋণের নামে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে ভুয়া ও বেনামি প্রতিষ্ঠান খুলে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইতোমধ্যে ১১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সম্প্রতি দুদকের সহকারী পরিচালক ও তদন্তকারী কর্মকর্তা মিনহাজ বিন ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জনতা ব্যাংক পিএলসি-র লোকাল অফিসের মহাব্যবস্থাপককে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক তানজীর আহমেদ জানিয়েছেন, মামলাগুলো তদন্তে নথিপত্র সংগ্রহের কাজ শুরু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহে ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে নথি জব্দ করা হচ্ছে এবং তদন্ত এগিয়ে নিতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আসামিরা পরস্পর যোগ-সাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। তারা জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিস থেকে ‘কাঁচপুর অ্যাপারেলস লিমিটেড’ নামক একটি কাগুজে বা নব্যসৃষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ইডিএফ সুবিধাসহ বিভিন্ন ঋণ সুবিধা প্রদান করেন। পরবর্তীতে সেই ঋণের অর্থ দিয়ে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার মাধ্যমে ভুয়া ‘অ্যাকোমোডেশন বিল’ তৈরি করা হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এভাবে মোট ৮ কোটি ৪০ লাখ ২৯ হাজার ৫৪৭ মার্কিন ডলার অর্থাৎ ৭১৪ কোটি ২৫ লাখ ১১ হাজার ৫৩২ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া প্রত্যাবাসিত না হওয়া রপ্তানি আয়সহ (২৯ লাখ ৭৯ হাজার ডলার বা ২৫ কোটি ৩২ লাখ ৯৩ হাজার টাকা) সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭৪০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এই বিশাল পরিমাণ অর্থ পরবর্তীতে রূপান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করা হয়েছে।
এদিকে,তদন্তের স্বার্থে দুদক জনতা ব্যাংকের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তলব করেছে, যার মধ্যে রয়েছে- কাঁচপুর অ্যাপারেলস লিমিটেডের হিসাব খোলার ফরম ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র। শুরু থেকে অদ্যাবধি ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং জমা-উত্তোলনের সব ইনস্ট্রুমেন্ট (চেক, পে-অর্ডার ইত্যাদি)। ঋণ মঞ্জুরিপত্র, মর্টগেজ দলিল, ব্যক্তিগত গ্যারান্টি ও পরিদর্শন প্রতিবেদন। এছাড়াও ক্রিসেন্ট এক্সেসরিজ লিমিটেড, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড এবং আরআর ওয়াশিং লিমিটেড-এর সাথে সংশ্লিষ্ট এলসি ও শিপিং ডকুমেন্টস তলব করা হয়েছে। বিদেশে পণ্য রপ্তানি সংক্রান্ত যাবতীয় অডিট প্রতিবেদন ও নীতিগত অনুমোদনের কপিও তলব করেছে দুদক।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, এই অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা বা অবহেলা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে এসব নথিপত্র পর্যালোচনার মাধ্যমেই ঘটনার মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রেকর্ডপত্র জব্দের বিষয়টি পরে জানানো হবে, তবে আপাতত তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য এর ফটোকপি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরবরাহ করতে হবে।
এর আগে, সালমান ফজলুর রহমানের ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতের নির্দেশনায় এসব সম্পদ বর্তমানে দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের আওতায় রয়েছে।
দুদকের নেতৃত্বাধীন জাতীয় টাস্কফোর্সের অধীনে এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ২৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে দুদক ১১টি এবং সিআইডি ১৭টি মামলা করেছে। এসব মামলার বিপরীতে আদালতের নির্দেশনায় সম্পদগুলো ফ্রিজ রাখা হয়েছে। জাতীয় টাস্কফোর্সের অধীনে যৌথ টিমের করা মামলার বিপরীতে আদালতের আদেশে ফ্রিজ হওয়া সম্পদের মধ্যে রয়েছে— ১০৭টি বিও অ্যাকাউন্টে ৬৭.৫৫ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা। ৯৪টি কোম্পানির শতভাগ শেয়ার। এছাড়া, ১৯৭০.৪৬৭ শতাংশ জমি (আনুমানিক মূল্য ১১.৯৩ কোটি টাকা) এবং লন্ডনে দুটি ফ্ল্যাট (আনুমানিক মূল্য ৭.৭৫ মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড বা প্রায় ১২৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা)।
মামলাগুলোতে জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিস থেকে আত্মসাৎ করা অর্থের মধ্যে পিয়ারলেস গার্মেন্টস লিমিটেড দেখিয়ে ৫ কোটি ২ লাখ ৫০ হাজার ৭৭২.২৫ মার্কিন ডলার, প্লাটিনাম গার্মেন্টস লিমিটেডের নামে ১ কোটি ৮৮ লাখ ৩ হাজার ৬৫৮.৯১ ডলার, কাঁচপুর এপারেলস লিমিটেডের নামে ৮ কোটি ৪০ লাখ ২৯ হাজার ৫৪৭.৪৫ ডলার, স্কাইনেট অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে ১ কোটি ৪৭ লাখ ২৯ হাজার ৩৪০ ডলার এবং ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নামে ৪ কোটি ৭৭ লাখ ১৫ হাজার ৪৮২.৪৬ ডলার আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।




