শিরোনাম

আবাসন সংকটে জবি, হল উদ্ধারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগ

জবি প্রতিনিধি
আবাসন সংকটে জবি, হল উদ্ধারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগ
ছবি: সিটিজেন জার্নাল

দেশের অন্যতম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) দীর্ঘদিন ধরে তীব্র আবাসন সংকটে ভুগছে। ২০০৫ সালে কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পর থেকেই অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও পরিকল্পনার অভাবে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ স্থায়ী রূপ নিয়েছে। এ সংকট নিরসনে বেদখল সম্পদ উদ্ধারে উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মাত্র ৭ একর আয়তনের বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করলেও আবাসিক সুবিধা বলতে রয়েছে কেবল একটি হল। ২০২০ সালে আন্দোলনের মুখে ছাত্রীদের জন্য নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানি হল নির্মিত হলেও তাতে সংকটের সামান্যই উপশম হয়েছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী এখনো হলবিহীন অবস্থায় উচ্চ ব্যয়ে বিভিন্ন মেস বা বাসা বাড়িতে থাকতে বাধ্য হচ্ছে।

আবাসন সংকটই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক অবকাঠামোতেও রয়েছে চরম ঘাটতি। একটি মাত্র ক্যান্টিনে নিম্নমানের খাবার ও ফুডকোর্টে উচ্চ দামে খাবার কিনতে বাধ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও পর্যাপ্ত পরিবহন সুবিধার অভাব রয়েছে। কেন্দ্রীয় ও উন্মুক্ত লাইব্রেরির আসন সংখ্যাও সন্তোষজনক নয়। আবাসন সুবিধা না থাকায় শিক্ষার্থীরা অনেক ক্ষেত্রে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ১২টি হল থাকলেও সেগুলো গত চার দশক ধরে স্থানীয়দের দখলে রয়েছে। একাধিকবার আন্দোলনের মাধ্যমে হল পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা হলেও রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক জটিলতায় তা সফল হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫ অনুযায়ী পূর্ববর্তী জগন্নাথ কলেজের ১২টি হলের অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও সেগুলোর বেশিরভাগই বর্তমানে বেদখল অবস্থায় রয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে তদন্ত কমিটি গঠন, লিজ ও অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও আইনি জটিলতায় তা এগোয়নি।

বেদখল হওয়া হলগুলো উদ্ধারে আইনিভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অনেক স্থানে মালিকানা জটিলতা, ভুয়া কাগজপত্র ও আদালতের ইনজাংশনের কারণে প্রক্রিয়া জটিল হলেও ধাপে ধাপে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি উদ্ধারকৃত জায়গায় নতুন হল নির্মাণের কাজও পুনরায় শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে হল উদ্ধারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আরও জোরালো হয়েছে। গত ৩১ মার্চ ২০২৬ পুরান ঢাকায় অবস্থিত আব্দুর রহমান হল ছাড়তে দখলকারীদের ১০ দিনের আল্টিমেটাম দেয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। এদিকে বাণী ভবনের জায়গা নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। একটি পক্ষ জায়গাটি নিজেদের দাবি করে মামলা করেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রনেতারা জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলে সেখানে হল নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. রইছ উদ্দিন সিটিজেন জার্নালকে বলেন, অনেক হল সময়ের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে। সব হল হয়তো উদ্ধার সম্ভব হবে না। অনেকেই কাগজপত্র দেখিয়ে মালিকানা দাবি করছে, আবার কেউ ভুয়া কাগজ তৈরি করে ইনজাংশন নিয়েছে। কোথাও বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করে স্পেসও বিক্রি করা হয়েছে। তবুও আইনিভাবে কাজ চালিয়ে যাবো এবং অন্যদিকে যতটুকু সম্ভব বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ উদ্ধার করা হবে।

তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট এলাকার বর্তমান সংসদ সদস্য এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি নির্মাণাধীন নতুন হলের কাজও জমি সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে পুনরায় চালু হয়েছে। প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা বেদখলকৃত হল উদ্ধারে কাজ করবো। এটি সময়সাপেক্ষ হলেও শিক্ষার্থীদের স্বার্থেই আমাদের এগোতে হবে।

/এমএকে/