তামাকজনিত রোগে প্রতিবছর প্রাণ হারান ২ লাখ মানুষ: বিএসআরএফ

তামাকজনিত রোগে প্রতিবছর প্রাণ হারান ২ লাখ মানুষ: বিএসআরএফ
বিশেষ প্রতিনিধি

তামাকজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ)। এজন্য জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকপণ্যের ওপর কার্যকর করারোপ ও মূল্যবৃদ্ধির জন্য কঠোর কর নীতি প্রয়োগের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সিরডাপ অডিটোরিয়ামে ঢাকা আহছানিয়া মিশন ও বিএসআরএফের যৌথ উদ্যোগে ‘আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপের গুরুত্ব’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এই দাবি জানানো হয়েছে।
সভায় জানানো হয়, ২০২৪ সালে তামাকের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে এই খাত থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের পরিমাণ মাত্র ৪০ হাজার কোটি টাকা। এই ক্ষতি কমাতে তামাক খাতকে কেবল রাজস্ব আয়ের চশমা দিয়ে না দেখে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য কার্যকর করারোপের মাধ্যমে তামাকপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই বলে জানান তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ব স্বাস্থ্য অনুবিভাগ) শেখ মোমেনা মনি বলেন, বাংলাদেশে তামাকপণ্যের সহজলভ্যতা তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য এটা বিরাট হুমকি। এই স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ক্ষতি কমাতে তামাকপণ্যের দাম কেবল বাড়ালেই হবে না বরং তা অবশ্যই মূল্যস্ফীতি ও মানুষের আয় বৃদ্ধির তুলনায় বেশি হতে হবে।
সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসআরএফের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল এবং বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা আহছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমান। এসময় বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের ইসি কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের তুলনায় তামাকদ্রব্য খুবই সস্তা। প্রতিবছর মূল্যস্ফীতি ও আয়বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে তামাকপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি না হওয়ায় এসব পণ্য ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই থেকে যায়। তাই কার্যকরভাবে দাম বৃদ্ধি না করলে তামাকপণ্য তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের মধ্যেই থেকে যাবে এবং তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ক্রমেই বৃদ্ধি পাবে।
তারা আরও বলেন, তামাকপণ্যের বর্তমান কর কাঠামোর কারণে সরকার বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের সুযোগ হারাচ্ছে। কার্যকর তামাক কর এমন একটি শক্তিশালী নীতি যা বাস্তবায়ন করলে ধূমপান কমবে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত হবে, একইসঙ্গে সরকারের আয় বৃদ্ধি পাবে।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের প্রোজেক্ট কো-অর্ডিনেটর শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ২০২১-২৩ সাল পর্যন্ত তামাক ও নিত্যপণ্যের দামের তুলনা করলে দেখা যায়, এই সময়ে চিনির দাম ৮৮.৯৭ শতাংশ, আলুর দাম ৮৬.৫৮ শতাংশ এবং আটার দাম ৭৫.০৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম ১৫.৩৮ শতাংশ, মধ্যম স্তরের সিগারেটের দাম ৬.৩৫ শতাংশ এবং প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের দাম মাত্র ১১.১১ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোক্তা মধ্যম স্তরের সিগারেটের, যেটির দাম বেড়েছে সবচেয়ে কম। অর্থাৎ নিত্যপণ্যের তুলনায় প্রতিনিয়ত সিগারেট আরও সস্তা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে বাজারে নিম্ন, মধ্যম, উচ্চ, ও অতি উচ্চ– এই চার স্তরের সিগারেট বিক্রি হচ্ছে। আসন্ন অর্থবছরে নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্রিত করে নতুন তিন স্তরের সিগারেটের ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম যথাক্রমে ১০০ টাকা, ১৫০ টাকা ও ২০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি সকল স্তরে ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করতে হবে।
বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হক জানান, বাজেটের আগে তামাকের কর ও দাম বৃদ্ধি ঠেকাতে কোম্পানিগুলো ‘চোরাচালান বাড়বে’ বলে যে প্রচারণা চালায় ভিত্তিহীন গুজব। বাস্তবে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে সিগারেটের দাম অনেক কম হওয়ায় চোরাচালানের কোনো সুযোগ নেই। তামাক কোম্পানিগুলোর এমন কূটকৌশল দূরীকরণ এবং জাল পণ্যের গুজব প্রতিরোধে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম সংবাদমাধ্যমে সবসময় সোচ্চার ভূমিকা পালন করবে।

তামাকজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ)। এজন্য জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকপণ্যের ওপর কার্যকর করারোপ ও মূল্যবৃদ্ধির জন্য কঠোর কর নীতি প্রয়োগের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সিরডাপ অডিটোরিয়ামে ঢাকা আহছানিয়া মিশন ও বিএসআরএফের যৌথ উদ্যোগে ‘আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপের গুরুত্ব’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এই দাবি জানানো হয়েছে।
সভায় জানানো হয়, ২০২৪ সালে তামাকের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে এই খাত থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের পরিমাণ মাত্র ৪০ হাজার কোটি টাকা। এই ক্ষতি কমাতে তামাক খাতকে কেবল রাজস্ব আয়ের চশমা দিয়ে না দেখে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য কার্যকর করারোপের মাধ্যমে তামাকপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই বলে জানান তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ব স্বাস্থ্য অনুবিভাগ) শেখ মোমেনা মনি বলেন, বাংলাদেশে তামাকপণ্যের সহজলভ্যতা তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য এটা বিরাট হুমকি। এই স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ক্ষতি কমাতে তামাকপণ্যের দাম কেবল বাড়ালেই হবে না বরং তা অবশ্যই মূল্যস্ফীতি ও মানুষের আয় বৃদ্ধির তুলনায় বেশি হতে হবে।
সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসআরএফের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল এবং বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা আহছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমান। এসময় বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের ইসি কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের তুলনায় তামাকদ্রব্য খুবই সস্তা। প্রতিবছর মূল্যস্ফীতি ও আয়বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে তামাকপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি না হওয়ায় এসব পণ্য ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই থেকে যায়। তাই কার্যকরভাবে দাম বৃদ্ধি না করলে তামাকপণ্য তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের মধ্যেই থেকে যাবে এবং তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ক্রমেই বৃদ্ধি পাবে।
তারা আরও বলেন, তামাকপণ্যের বর্তমান কর কাঠামোর কারণে সরকার বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের সুযোগ হারাচ্ছে। কার্যকর তামাক কর এমন একটি শক্তিশালী নীতি যা বাস্তবায়ন করলে ধূমপান কমবে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত হবে, একইসঙ্গে সরকারের আয় বৃদ্ধি পাবে।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের প্রোজেক্ট কো-অর্ডিনেটর শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ২০২১-২৩ সাল পর্যন্ত তামাক ও নিত্যপণ্যের দামের তুলনা করলে দেখা যায়, এই সময়ে চিনির দাম ৮৮.৯৭ শতাংশ, আলুর দাম ৮৬.৫৮ শতাংশ এবং আটার দাম ৭৫.০৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম ১৫.৩৮ শতাংশ, মধ্যম স্তরের সিগারেটের দাম ৬.৩৫ শতাংশ এবং প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের দাম মাত্র ১১.১১ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোক্তা মধ্যম স্তরের সিগারেটের, যেটির দাম বেড়েছে সবচেয়ে কম। অর্থাৎ নিত্যপণ্যের তুলনায় প্রতিনিয়ত সিগারেট আরও সস্তা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে বাজারে নিম্ন, মধ্যম, উচ্চ, ও অতি উচ্চ– এই চার স্তরের সিগারেট বিক্রি হচ্ছে। আসন্ন অর্থবছরে নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্রিত করে নতুন তিন স্তরের সিগারেটের ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম যথাক্রমে ১০০ টাকা, ১৫০ টাকা ও ২০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি সকল স্তরে ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করতে হবে।
বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হক জানান, বাজেটের আগে তামাকের কর ও দাম বৃদ্ধি ঠেকাতে কোম্পানিগুলো ‘চোরাচালান বাড়বে’ বলে যে প্রচারণা চালায় ভিত্তিহীন গুজব। বাস্তবে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে সিগারেটের দাম অনেক কম হওয়ায় চোরাচালানের কোনো সুযোগ নেই। তামাক কোম্পানিগুলোর এমন কূটকৌশল দূরীকরণ এবং জাল পণ্যের গুজব প্রতিরোধে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম সংবাদমাধ্যমে সবসময় সোচ্চার ভূমিকা পালন করবে।

তামাকজনিত রোগে প্রতিবছর প্রাণ হারান ২ লাখ মানুষ: বিএসআরএফ
বিশেষ প্রতিনিধি

তামাকজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ)। এজন্য জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকপণ্যের ওপর কার্যকর করারোপ ও মূল্যবৃদ্ধির জন্য কঠোর কর নীতি প্রয়োগের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সিরডাপ অডিটোরিয়ামে ঢাকা আহছানিয়া মিশন ও বিএসআরএফের যৌথ উদ্যোগে ‘আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপের গুরুত্ব’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এই দাবি জানানো হয়েছে।
সভায় জানানো হয়, ২০২৪ সালে তামাকের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে এই খাত থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের পরিমাণ মাত্র ৪০ হাজার কোটি টাকা। এই ক্ষতি কমাতে তামাক খাতকে কেবল রাজস্ব আয়ের চশমা দিয়ে না দেখে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য কার্যকর করারোপের মাধ্যমে তামাকপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই বলে জানান তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ব স্বাস্থ্য অনুবিভাগ) শেখ মোমেনা মনি বলেন, বাংলাদেশে তামাকপণ্যের সহজলভ্যতা তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য এটা বিরাট হুমকি। এই স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ক্ষতি কমাতে তামাকপণ্যের দাম কেবল বাড়ালেই হবে না বরং তা অবশ্যই মূল্যস্ফীতি ও মানুষের আয় বৃদ্ধির তুলনায় বেশি হতে হবে।
সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসআরএফের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল এবং বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা আহছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমান। এসময় বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের ইসি কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের তুলনায় তামাকদ্রব্য খুবই সস্তা। প্রতিবছর মূল্যস্ফীতি ও আয়বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে তামাকপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি না হওয়ায় এসব পণ্য ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই থেকে যায়। তাই কার্যকরভাবে দাম বৃদ্ধি না করলে তামাকপণ্য তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের মধ্যেই থেকে যাবে এবং তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ক্রমেই বৃদ্ধি পাবে।
তারা আরও বলেন, তামাকপণ্যের বর্তমান কর কাঠামোর কারণে সরকার বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের সুযোগ হারাচ্ছে। কার্যকর তামাক কর এমন একটি শক্তিশালী নীতি যা বাস্তবায়ন করলে ধূমপান কমবে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত হবে, একইসঙ্গে সরকারের আয় বৃদ্ধি পাবে।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের প্রোজেক্ট কো-অর্ডিনেটর শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ২০২১-২৩ সাল পর্যন্ত তামাক ও নিত্যপণ্যের দামের তুলনা করলে দেখা যায়, এই সময়ে চিনির দাম ৮৮.৯৭ শতাংশ, আলুর দাম ৮৬.৫৮ শতাংশ এবং আটার দাম ৭৫.০৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম ১৫.৩৮ শতাংশ, মধ্যম স্তরের সিগারেটের দাম ৬.৩৫ শতাংশ এবং প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের দাম মাত্র ১১.১১ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোক্তা মধ্যম স্তরের সিগারেটের, যেটির দাম বেড়েছে সবচেয়ে কম। অর্থাৎ নিত্যপণ্যের তুলনায় প্রতিনিয়ত সিগারেট আরও সস্তা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে বাজারে নিম্ন, মধ্যম, উচ্চ, ও অতি উচ্চ– এই চার স্তরের সিগারেট বিক্রি হচ্ছে। আসন্ন অর্থবছরে নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্রিত করে নতুন তিন স্তরের সিগারেটের ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম যথাক্রমে ১০০ টাকা, ১৫০ টাকা ও ২০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি সকল স্তরে ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করতে হবে।
বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হক জানান, বাজেটের আগে তামাকের কর ও দাম বৃদ্ধি ঠেকাতে কোম্পানিগুলো ‘চোরাচালান বাড়বে’ বলে যে প্রচারণা চালায় ভিত্তিহীন গুজব। বাস্তবে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে সিগারেটের দাম অনেক কম হওয়ায় চোরাচালানের কোনো সুযোগ নেই। তামাক কোম্পানিগুলোর এমন কূটকৌশল দূরীকরণ এবং জাল পণ্যের গুজব প্রতিরোধে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম সংবাদমাধ্যমে সবসময় সোচ্চার ভূমিকা পালন করবে।

তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ প্রথম সংসদে আইনে পরিণতের আহ্বান
তামাক ব্যবহার নিয়ে উঠে এল ভয়াবহ চিত্র


