শিরোনাম

বোনকে দুদিন ধরে ফোনে পাচ্ছিলেন না, বাসায় এসে দেখলেন সবাই লাশ

রংপুর সংবাদদাতা
রংপুর সংবাদদাতা
বোনকে দুদিন ধরে ফোনে পাচ্ছিলেন না, বাসায় এসে দেখলেন সবাই লাশ
স্বজনদের আহাজারি

দুদিন ধরে বোনকে ফোন দিয়ে পাচ্ছিলেন না। শেষে শনিবার রাতে বাসায় এসে দেখেন গেট বন্ধ। বাইরে থেকে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু বাড়ির ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে ডাকে। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকতে সহায়তা করে। এরপর বোন, ভগ্নিপতি ও দুই ভাগনে-ভাগিনার লাশ দেখতে পান।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি তালাবদ্ধ বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন- জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী।

স্থানীয়রা বলছেন, শনিবার রাতে প্রীতিলতার বোন পূজা চক্রবর্তী এসে ডাকাডাকি করেন। বাড়ির ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তিনি পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে ফটক বন্ধ দেখে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে ডাকে। ফায়ার সার্ভিসের লোকেরা এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকতে সহায়তা করে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজন ও প্রতিবেশীরা সেখানে ভিড় করেন। কেউ আহাজারি করছিলেন, কেউ তাদের সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গত দুদিন ধরে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাসার গেট তালাবদ্ধ ছিলো। বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিলো। প্রীতিলতার বোন পূজা চক্রবর্তী দুই দিন ধরে অনবরত বোনকে ফোন দেওয়ার পরও কেউই রিসিভ না করায় তার সন্দেহ হয়। এরপর বাসায় আসেন।

পুলিশ বলছে, গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী ও কন্যার লাশ পাওয়া যায় ছাদের সিঁড়িতে। প্রীয়ম চক্রবর্তীর লাশ পাওয়া যায় বিছানার নিচে। আর গণপতি চক্রবর্তীর লাশ পাওয়া যায় ছাদের এক প্রান্তে।

জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। মেঝেতে কাপড়-চোপড় ও গয়নার বাক্স পড়ে ছিলো।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, শহরের কামাল কাছনা এলাকার মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তীর দোতলা বাড়ির কাজ এখনো শেষ হয়নি। সেই বাড়ির দোতলায় সম্প্রতি পরিবার নিয়ে থাকা শুরু করেছিলেন। বাড়ির নিচতলাটা ফাঁকাই। তারা নতুন এসেছেন বলে এখনো প্রতিবেশীদের সঙ্গে তেমন একটা পরিচয় হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম নাজমুল কাদের বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, দুই-তিন দিন আগে ওই হত্যার ঘটনা ঘটেছে।’

রংপুর সিআইডির ইনচার্জ সুমিত চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের রাত ১টার দিকে বলেন, ‘আপাতত আমরা যা দেখলাম, তাতে মনে হচ্ছে ডাকাতির ঘটনা। মনে হচ্ছে ৩-৪ দিন আগের ঘটনা। বাসার বৈদ্যুতিক সংযোগ ছিল বিচ্ছিন্ন। টাকাপয়সা যেখানে থাকে, সবকিছু ভেঙে ফেলা হয়েছে। গলায় রশি কিংবা গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’

রংপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি, তাদের খুন করা হয়েছে। তাদের গলায় দড়ি পেঁচানো রয়েছে। তাদের পুরো ঘরবাড়ি তছনছ অবস্থায় রয়েছে। আমরা ধারণা করছি, এটা ডাকাতি হতে পারে।’

/এসআর/