শিরোনাম

চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

নেত্রকোনা সংবাদদাতা
নেত্রকোনা সংবাদদাতা
চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
পিটিয়ে হত্যার প্রতীকী ছবি। গ্রাফিক্স: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় চুরির অপবাদ দিয়ে এক যুবককে গাছে বেঁধে মারধরের পর তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে উপজেলার রোয়াইলবাড়ি আমতলা ইউনিয়নের গামরুলী পুরানবাড়ি গ্রামের দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবকের নাম ইমন মিয়া। তিনি ওই গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে।

ইমনের বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ছেলেডারে চুরির অপবাদ দিয়া যারা পিডাইয়া মারছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। লাশ দাফনের পর মামলা করব।’

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার দিবাগত রাত ৪টার দিকে গামরুলী পুরানবাড়ি গ্রামের পল্লী চিকিৎসক লিটন মিয়ার বাড়িতে সিঁধ কেটে চুরি হয়। এ সময় স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একজোড়া স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়। এরপর লিটনসহ কয়েকজন চুরির ঘটনায় ইমনকে সন্দেহ করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ইমনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরির অভিযোগ ছিলো। এ কারণে তিনি বেশ কিছুদিন ধরে এলাকাছাড়া ছিলেন। তবে মাঝেমধ্যে গ্রামে এসে বিভিন্ন স্থানে চুরি করে চলে যেতেন বলে তাদের অভিযোগ।

গতকাল সকালে লিটন মিয়া ও তার সহযোগী সাদেক মিয়া ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি রেলস্টেশন এলাকায় ইমনকে দেখতে পান। সেখানে তাকে আটক করে চুরির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ইমন চুরির বিষয়টি অস্বীকার করলে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি চুরির কথা স্বীকার করেন। পরে ইমনকে ধরে গামরুলী পুরানবাড়ি গ্রামে নিয়ে আসা হয়।

স্থানীয় লোকজন জানায়, এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি ইমনকে দক্ষিণপাড়া বায়তুল আমান জামে মসজিদের পাশে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন। একপর্যায়ে ইমন গুরুতর অসুস্থ হয়ে মারা যান। পরে তার লাশ ঘটনাস্থলে রেখে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা চলে যান।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত লিটন মিয়া ও সাদেক মিয়ার মুঠোফোন নম্বরে কল করলে সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে তারা এলাকা ছেড়ে পলাতক আছেন।

ইমনের সৎ মা পারভীন আক্তার বলেন, ‘ইমনের বাবা নুরুল ইসলাম সিলেটে থাইক্কা কাম করেন। তারে বিষয়টা জানানো হয়। চুরির অভিযোগ দিয়া ইমনরে ধইরা আইন্না মাইনসে মারদুর করে মইরা ফালাইছে। পরে তার লাশ একটা খাইট্টার মধ্যে রাইখ্খা সবাই পলাইয়া গেছে গা। ইমন চুরি করলেও তো এইবায় কেউ জানে মারতে পারে না।’

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে।

/এসআর/