শিরোনাম

ময়মনসিংহে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতে বিএনপি কর্মী নিহত

ময়মনসিংহ সংবাদদাতা
ময়মনসিংহে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতে বিএনপি কর্মী নিহত
নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর প্রচারণায় রানা মিয়া। কোলাজ: সিটিজেন গ্রাফিক্স

ময়মনসিংহে কথা কাটাকাটির জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতে রানা মিয়া (২৮) নামে বিএনপির এক কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিকাল ৫টার দিকে নগরীর চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যপাড়া এলাকার গাঙ্গের বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রানা মিয়া ওই এলাকার মৃত শরাফ উদ্দিনের ছেলে। পেশায় অটোরিকশাচালক এবং বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার এক বাগবিতণ্ডার জের ধরে মঙ্গলবার বিকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হলে রানা মিয়া ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আরও কয়েকজন আহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় রানাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহতরা হলেন- আশাদ (৩৬), মোফাজ্জল (৩৫), শাহান (৪৫), মুনসুর আলী (৫০), শাকিল (৩০) ও দিনি মিয়া (৩৫)।

স্থানীয় সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত মাহিন ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মফিদুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে।

নিহতের স্বজনদের দাবি, ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছিলেন। এ সময় থেকেই ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মফিদুল ইসলাম মাস্টারের পরিবারের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলে আসছিল। সোমবার ফুটবল খেলা শেষে কয়েকজন তরুণ তাদের বাড়ির সামনে একটি দোকানে এলে রানার সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেলেও বিকালে মফিদুল ইসলামের ছেলে মাহিনসহ ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় মাহিন ছুরি দিয়ে রানার বুকে আঘাত করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বড় ভাই তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমার ভাইকে বুকে ছুরি মেরে হত্যা করা হয়েছে। আমরা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মফিদুল ইসলাম মাস্টার বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ঘটনার সময় আমি বা আমার ছেলে সেখানে উপস্থিত ছিলাম না।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমির কামরুল এহসান ইমরুল বলেন, ঘটনাটি পরিবার বা গোষ্ঠীগত বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পেয়েছি। এটা রাজনৈতিক নয়।

ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, নিহত রানা বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। সে বিগত নির্বাচনে আমার পক্ষে এলাকায় কাজ করেছে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পেয়েছি। তবে ঘটনা রাজনৈতিক কিংবা অন্য কোনো কারণে ঘটেছে কিনা সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।

এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে বলেও জানান তিনি।

/জেএইচ/