শিরোনাম

হাওরে নতুন করে তলিয়েছে আড়াই হাজার হেক্টর জমির ধান

কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা
হাওরে নতুন করে তলিয়েছে আড়াই হাজার হেক্টর জমির ধান
পানিতে ধান কাটেন কৃষকরা। ছবি: সংবাদদাতা

টানা অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে নতুন করে আরও আড়াই হাজার হেক্টর বোরো ধানের জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এর ফলে জেলার ৮ উপজেলার মোট ১২ হাজার ৫২২ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলার হাওর এলাকায়। এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯ হাজার ১৫৬ জনে।

এদিকে, মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে সূর্যের দেখা মিলেছে। সকাল থেকেই ধান কাটার পাশাপাশি কৃষকরা মাড়াই ও শুকানোর কাজ করছেন। দীর্ঘদিন রোদ না থাকায় ইতোমধ্যে শত শত মণ ধান নষ্ট হয়ে গেছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উজানের ঢলের কারণে হাওরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি এখনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে পাকা ধানের জমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

নিকলী হাওরের কৃষক জুয়েল মিয়া বলেন, অনেক দিন পর রোদের দেখা মিললো। ভেজা ধান রোদে দিয়েছি। কয়েক দিন রোদ থাকলে বাকি ধান কেটে শুকাতে পারব।

ধান

করিমগঞ্জের বড় হাওরের কৃষক শাফায়েত জানান, বৃষ্টির কারণে মাড়াই করা প্রায় ৮০ মণ ধান পচে গেছে। রোদ থাকলে বাকি ধানগুলো শুকাতে পারব।

মিঠামইন উপজেলার জিউলের হাওরের কৃষক নাজিম উদ্দিন বলেন, প্রতি শ্রমিককে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে দিয়ে ধান কাটাচ্ছি। অনন্ত কয়েক দিন রোদ থাকলে বাকি ধান ঘরে তুলতে পারব।

নিকলী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র অবজারভার আখতার ফারুক জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, আমাদের কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পাশে রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা তৈরি করে সরকারের কাছে পাঠানো হচ্ছে, যেন প্রকৃতরা সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন।

/এসআর/