শিরোনাম

ফরিদপুর পৌরসভার বর্জ্য নিয়ে এনজিওর লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর
নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর
ফরিদপুর পৌরসভার বর্জ্য নিয়ে এনজিওর লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য
ময়লা সংগ্রহ করেন পরিচ্ছন্নতা কর্মী

নেই কোন লিখিত চুক্তি, নেই কোন দায়বদ্ধতা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নামে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য করছে এনজিও সোসাইটি ডেভেলপমেন্ট কমিটি (এসডিসি)। তদারকির অভাবে অনিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ ও গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ফরিদপুর পৌরসভা। এটি ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এসব ওয়ার্ডের বর্জ্য অপসারণের দায়িত্বে রয়েছে এনজিও এসডিসি। ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি ফরিদপুর পৌরসভার কাছ থেকে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির আওতায় বর্জ্য অপসারণের দায়িত্ব পায়। তবে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না করা, স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা অভিযোগ পৌরবাসীর।

ফরিদপুর পৌরসভায় মোট গ্রাহকের সংখ্যা ৪০ হাজার। এরমধ্যে ১২ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে আদায় করা হয়। যা প্রতি মাসে মোট টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ২৪ লাখ টাকা। এসডিসির সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি প্রকল্পে ৪৮ জন কর্মচারী রয়েছে। তাদের ১৪ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন দেওয়া হয়। তবে অধিকাংশের বেতন ১৪ হাজার ৫০০ টাকা। গড়ে ১৬ হাজার টাকা মাথা পিছু বেতন দেওয়া হয়। সেই হিসাবে মোট বেতন ৭ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। এছাড়া ভ্যান মেরামত ও ট্রাকের তেলসহ অন্য খরচ প্রায় ১০ লাখ টাকা। তবে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রতি মাসে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা এসডিসি ব্যবসা করছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া রেস্টুরেন্ট ও হাসপাতাল এবং ক্লিনিক থেকে ১৫ শ থেকে ২ হাজার টাকা আদায় করছে এসডিসি। এই টাকা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করার কথা থাকলেও তা করতে দেখা যায়নি।

ফরিদপুর পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবদুল্লাহ শেখ বলেন, প্রতি মাসে একটি ফ্লাট থেকে ২০০ টাকা নেয়। তাদের শ্রমিকের বেতন ও অন্যান্য সব খরচ মিলিয়ে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ের কথা জানি। কিন্তু তারা মাসে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা ব্যবসা করছে।

ফরিদপুর পৌরসভা
ফরিদপুর পৌরসভা

জামাল মিয়া নামের এক নাগরিক বলেন, নাগরিক সেবা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ইচ্ছাধীন হতে পারে না। এসডিসি নির্ধারিত সময়ে বর্জ্য সংগ্রহ করে না। কিন্তু তা দেখার দায়িত্ব তো পৌরসভার।

ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি বালা বলেন, ফরিদপুর পৌরসভায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখনো প্রাগ ঐতিহাসিকভাবে চলছে। দেখার যেন কেউ নেই।

ফরিদপুর পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে ময়লা সংগ্রহ করে প্রথমে শহরের গোয়ালচামট বর্জ্য ডাম্পিং স্টেশনে নেয় কর্মীরা। এরপর পৌরসভার ট্রাকে নেওয়া হয় শহরতলীর আদমপুরে মূল বর্জ্য ডাম্পিং প্লান্টে।

সোসাইটি ডেভেলপমেন্ট কমিটির (এসডিসি) নির্বাহী পরিচালক কাজী আশরাফুল হাসান বলেন, ফরিদপুর পৌরসভার সাথে চুক্তির মাধ্যমেই আমরা বর্জ্য ব্যবস্থপনার কাজ করে আসছি। এ কালেকশন বাবদ ২০০ টাকা করে নিচ্ছি। আগে আমাদের লিখিত চুক্তি ছিল। এখন মৌখিক কথায় চলছে। আমরা চেষ্টা করছি প্রতিদিন যেন ময়লা নেয় সেই বিষয়টি সমাধান করতে।

নিয়মিত বর্জ্য অপসারণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমান সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, আমরা এরইমধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। বর্জ্য ব্যবস্থপনায় টেন্ডারের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

/এসআর/