শিরোনাম

ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়িতে প্রগতি সরণিতে ভোগান্তি

ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়িতে প্রগতি সরণিতে ভোগান্তি
প্রগতি সরণির সড়কটি দিন দিন হয়ে উঠছে নগরবাসীর চূড়ান্ত ভোগান্তির কারণ। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত সড়ক প্রগতি সরণি। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে বিমানবন্দর, কুড়িল, নতুনবাজার, বাড্ডা, রামপুরা, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও পূর্বাঞ্চলের লাখো মানুষের চলাচল। অথচ বছরজুড়ে এ সড়কে লেগে থাকে তীব্র যানজট। ফলে পথটি দিয়ে চলাচলে নগরবাসীকে পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি। নষ্ট হচ্ছে অসংখ্য কর্মঘণ্টা।

নতুনবাজার থেকে কুড়িল পর্যন্ত ওয়াসার ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন স্থাপনের সাইনবোর্ডে ১২০ দিনের নির্ধারিত সময়সীমা ঝুললেও বাস্তবে কাজের অগ্রগতি একেবারেই ধীরগতির। প্রায় তিন মাস ধরে সড়কের এক পাশ খুঁড়ে রাখায় গাড়িগুলো এক সারিতে কোনোমতে বের হচ্ছে। এতে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।

মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) নতুন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা ওয়াসার পাইপলাইন স্থাপন ও এমআরটি লাইন-১ এর অংশ হিসেবে বিমানবন্দর থেকে কুড়িল হয়ে প্রগতি সরণি পর্যন্ত ইউটিলিটি হস্তান্তর প্রকল্পের কাজও চলছে ।

বর্তমানে নতুন বাজার এলাকায় সড়কে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলছে। যেখানে যানবাহন চলাচল অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে জট কাটাতে অনেক যাত্রীকে তীব্র গরম ও ধুলাবালির মধ্য দিয়েই বাধ্য হয়ে মাইলের পর মাইল হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা যাচ্ছে।

ওয়াসার পাইপলাইন স্থাপন প্রকল্পের এক কর্মী বলেন, ‘এই প্রকল্পের কাজ কতদিন ধরে চলছে আমি সঠিক জানি না। আমি গত সপ্তাহে কাজ করতে আসছি। কাজ শেষ হতে আরও বেশ কিছু দিন সময় লাগবে।’

বিআরটিসি পরিবহন বাসের যাত্রী ইউসুফ বলেন, ‘এ সড়কের জ্যামে বসে থেকে এখন অভ্যস্ত হয়ে গেছি। কাকরাইল থেকে কুড়িল যেতে প্রায়ই নতুন বাজার, যমুনা ফিউচার পার্কের সড়কে এসে জ্যামে পড়তে হয়। নতুন বাজার ময়লার ডাম্পিং এর পাশে মূল সড়কের চার লেনের রাস্তা এখন এক লেনে পরিনত হয়েছে।

ভিক্টর পরিবহন বাসের এক ড্রাইভার বলেন, ‘আগে প্রতিদিন যেখানে চারবার আপ-ডাউন দিতে পারতাম এখন দুইবার দেওয়া কষ্টকর হচ্ছে। সড়কে এসব কাজ করলে বিকল্প ব্যবস্থা রেখে কাজ করা উচিত। জ্যামে পড়লে যাত্রীরা গাড়ি থেকে নেমে যায়। তেল খরচ ঠিকই হয়। কিন্তু প্রাপ্য ভাড়া থেকে বঞ্চিত হই।’

এসব বিষয়ে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, ‘নতুন বাজারে ১৫-২০ দিন হয় কাজ শুরু হয়েছে। জুলাই মাসে কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আমরা পাইনি। এখানে অন্য আরেকটা একটা প্রকল্পের কাজ চলতেছে , পুলিশ আমাদের এক্সেস দেয়নি। পুলিশের অনুমতি পেয়ে আগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকে কাজ শুরু করছি। আমাদের এই প্রজেক্টে যমুনার ওখানে কাজ চলছে, বাড্ডায় কাজ হয়েছে। তারপরে রামপুরা ব্রিজের দিকে কাজ শেষ হয়েছে। নতুন বাজার এমআরটি-১ এর কাজ ও আমাদের কাজ একত্রে চলায় সড়কে একটু সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। কাজ শেষ হতে আনুমানিক চার-পাঁচ মাস সময় লাগবে।’

/টিই/