শিরোনাম

দুদকের অনুসন্ধানের মধ্যেই পদোন্নতি পেলেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
দুদকের অনুসন্ধানের মধ্যেই পদোন্নতি পেলেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্মকর্তা
ছবি: সিটিজেন জার্নাল

দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় চট্টগ্রাম বন্দরের এক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বন্দর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে সহকারী জাহাজ পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেনকে দশম গ্রেডের 'ইন্সপেক্টর ক্রাফটস' পদে পদায়ন করা হয়।

এর আগে একই অভিযোগের প্রেক্ষিতে দেলোয়ার হোসেনের পদোন্নতি প্রক্রিয়াটি আটকে দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার বোর্ড সভার বিশেষ অনুমোদনের মাধ্যমে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে এই নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৬ এপ্রিল) বোর্ডে দেলোয়ার হোসেনের পদোন্নতির বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। পরদিন বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুকের সই করা চিঠিতে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত কার্যকর করার বিষয়টি জানানো হয়।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চট্টগ্রাম বন্দরের ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, জাহাজ ক্রয়ে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন- নৌ বিভাগের উপসংরক্ষক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জহিরুল ইসলাম, সহকারী জাহাজ পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন, সিবিএর সাবেক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. নায়েবুল ইসলাম ফটিক, নৌ বিভাগের প্রথম শ্রেণির মাস্টার ইব্রাহিম সেলিম এবং ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পরিবহন পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম রনি।

আরও জানা গেছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিয়োগ-বাণিজ্য, কর্মস্থলে প্রভাব,অবৈধ সম্পদ, জাহাজ ক্রয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মসহ আরও বেশ কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর ছিল 'এমটি কাণ্ডারি-১০' জাহাজের ইঞ্জিন ও যন্ত্রাংশ ক্রয় সংক্রান্ত। অভিযোগ অনুযায়ী, জাহাজটির জন্য দুটি নতুন ম্যান ইঞ্জিন কেনা বাবদ ১৪ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হয়। এছাড়া গিয়ার বক্স পরিবর্তনের অজুহাতে আরও ১৭ কোটি টাকার একটি ব্যয় প্রস্তাব ফাইলে তোলা হয়েছিল। এসব বড় মাপের দুর্নীতির অভিযোগ শুরুতে সামনে এলেও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাৎক্ষণিকভাবে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি। অবশেষে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘটনার অনুসন্ধান শুরু করার নির্দেশনা জারি করে।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরের প্রভাবশালী এই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধান শুরু করেন চট্টগ্রাম দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২-এর তৎকালীন উপপরিচালক মো. আতিকুল আলম। ২০২৫ সালের এপ্রিলে আতিকুল আলম বদলি হয়ে গেলে অনুসন্ধানের দায়িত্ব পড়ে আরেক তৎকালীন উপপরিচালক আহসানুল কবীর পলাশের ওপর। উপপরিচালক হিসেবে আহসানুল কবীর পলাশ গত বছরের এপ্রিলের শেষ দিকে চট্টগ্রামে যোগদান করার পর অনুসন্ধান কার্যক্রমে শুরু করেন। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের সংশ্লিষ্ট বিভাগ পরিদর্শন করেন তিনি। কিন্তু গত বছরের জুলাইয়ের শেষ দিকে তিনিও বদলি হয়ে যান।

এরপর কাজ শুরু করেন উপসহকারী পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন।

তিনি জানান, উল্লিখিত অভিযোগে অনেকগুলো টেকনিক্যাল বিষয় রয়েছে। এই কারণে আমরা নিরপেক্ষ সংস্থার প্রতিনিধি দিয়ে টেকনিক্যাল বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করব। এই লক্ষ্যে কয়েকদিনের মধ্যেই আমরা চিঠি ইস্যু করব।

এই বিষয়ে বন্দরের জাহাজ পরিদর্শক হিসেবে দেলোয়ার হোসেনকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, পদোন্নতির বিষয়ে বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। এখানে একক কারও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকে না। বোর্ডে মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিও থাকেন। হয়তো বোর্ড তাকে যোগ্য মনে করেছেন, যে কারণে তার পদোন্নতি হয়েছে।

এর আগে, একই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বন্দর সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মো. নায়েবুল ইসলাম ফটিককে সম্প্রতি চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

বিষয়টি বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিবকে অবহিত করা হলে তিনি বলেন, আগের বার হয়তো কাগজপত্র বা যোগ্যতার ক্ষেত্রে সমস্যা ছিল। এখন সেই সমস্যা নেই।

/এসবি/