শিরোনাম

হাসনাত আব্দুল্লাহর ওপর হামলা, যুবদলের বিরুদ্ধে মবের অভিযোগ যুবশক্তির

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
হাসনাত আব্দুল্লাহর ওপর হামলা, যুবদলের বিরুদ্ধে মবের অভিযোগ যুবশক্তির
কোলাজ: সিটিজেন গ্রাফিক্স

চট্টগ্রামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর ওপর যুবদল মব করে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় যুবশক্তি। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

জাতীয় যুবশক্তির যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) আসাদুর রহমান সই করা প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, ‘আমরা গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দার সঙ্গে জানাচ্ছি যে, কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর ওপর চট্টগ্রামে সংগঠিত মব সন্ত্রাস ও হেনস্তার ঘটনা সম্পূর্ণরূপে ন্যক্কারজনক এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।’

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাতে পাঠানো এ প্রতিবাদলিপিতে দাবি করা হয়, ‘হাসনাত আব্দুল্লাহ চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র ও বিএনপির সাবেক নেতা মনজুর আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন। মনজুর আলম ২০১০ ও ২০১৫ সালে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী ছিলেন এবং খালেদা জিয়ার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করেছেন। তখন কোনো ধরনের প্রতিবাদ দেখা না গেলেও মঙ্গলবার তাকে (হাসনাত আব্দুল্লাহ) ‘দোসর’ আখ্যা দিয়ে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ওপর মব সন্ত্রাস চালানো স্পষ্ট দ্বিচারিতা ও রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতার বহিঃপ্রকাশ।’

জাতীয় যুবশক্তি মনে করে, ‘রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু তা কখনোই সহিংসতা, হুমকি বা মব সৃষ্টির মাধ্যমে প্রকাশ করা গ্রহণযোগ্য নয়। তাই এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

প্রসঙ্গত, হাসনাত আবদুল্লাহ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমের বাসায় যান। বিষয়টি জানতে পেরে চট্টগ্রামে মনজুর আলমের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন জুলাই যোদ্ধা বলে পরিচয় দেওয়া একদল লোক। হাসনাত ওই বাসা থেকে বের হলে তাকে ঘিরে এক ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন লোকেরা।

জুলাই যোদ্ধা পরিচয় দেওয়া লোকেরা হাসনাতের কাছে চান, কেন তিনি স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করতে এসেছেন। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে থাকেন, আওয়ামী লীগের দালালেরা হুঁশিয়ার, সাবধান।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় হাসনাত আবদুল্লাহ কথা বলেন উপস্থিত লোকদের সঙ্গে। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে দ্রুত গাড়িতে করে স্থান ত্যাগ করেন এই সংসদ সদস্য।

জানা গেছে, এম মনজুর আলমের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় আওয়ামী লীগের মাধ্যমে। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ছিলেন এবং টানা চারবার চসিকের ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তৎকালীন মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তার হলে এম মনজুর আলম প্রায় দুই বছর ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।

২০১০ সালের চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন মনজুর আলম। ওই নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে তিনি মহিউদ্দিন চৌধুরীকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন।

তবে ২০১৫ সালের চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা আ জ ম নাছির উদ্দীনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচনের দিনই কারচুপির অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেন এবং রাজনীতি থেকে স্থায়ী অবসরের ঘোষণা দেন।

যদিও পরবর্তীতে তাকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় দেখা যায়। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্রও সংগ্রহ করেছিলেন। সবশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের পর কখনো বিএনপি কখনো এনসিপির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টায় রয়েছেন মনজুর আলম।

/এফআর/