শিরোনাম

পরিবারের তিন সদস্যসহ স্বর্ণ ব্যবসায়ী ‘নিখোঁজ’

চাঁদপুর সংবাদদাতা
চাঁদপুর সংবাদদাতা
পরিবারের তিন সদস্যসহ স্বর্ণ ব্যবসায়ী ‘নিখোঁজ’
(ডান পাশ থেকে) পিন্টু দাস ও তার পরিবার

চাঁদপুর শহরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসসহ তার পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। তবে তিনি নিখোঁজ নাকি আত্মগোপনে গেছেন– এ নিয়ে এলাকায় চলছে জোর আলোচনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা ধার দিতেন পিন্টু দাস। তিনি ঋণে জর্জরিত হওয়ার পাশাপাশি বন্ধক রাখা স্বর্ণ ফেরত দিতে পারছিলেন না তিনি। তাই সম্প্রতি গ্রাহকদের বন্ধক রাখা স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করে পালিয়েছেন বলে দাবি তাদের।

বুধবার (২৬ আগস্ট) নিখোঁজের তথ্য নিশ্চিত করেন পিন্টু দাসের নিকটাত্মীয় জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক উপমা দে।

পরিবারের অন্য সদস্যরা হলেন, পিন্টু দাসের স্ত্রী রিমি দাস, তাদের বড় ছেলে ১০ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত প্রিয়ম দাস ও ছোট ছেলে রুপম দাস।

উপমা দে জানান, পিন্টু দাসের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায়। ৫-৬ মাস আগে তিনি চাঁদপুর শহরের আখন্দ মার্কেটে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। মার্কেটের নিচতলায় ‘এসকে শিল্পালয়’ নামে তার একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘পিন্টু দাস তার পরিবারসহ শহরে ভাড়া থাকতো। সে নানা কারণে ঋণগ্রস্ত ছিল। সম্প্রতি পাটোয়ারি বাড়ির এক ব্যক্তি তাকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছিল বলে খবর পাই। আর এরপরই তিনি প্রাণ বাঁচাতে হয়তো স্বপরিবারে নিখোঁজ।’

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন জানান, পিন্টু দাস স্বর্ণের বন্ধকি ব্যবসা করতেন। দীর্ঘদিন তিনি লোকজনের স্বর্ণ বন্ধক রেখে তা আর ফেরত দিতে পারছিলেন না। এছাড়াও বিভিন্ন সমিতি থেকেও ব্যবসার নামে লোন নিয়ে ঋণে জর্জরিত ছিলেন তিনি। একাধিক স্থানে দোকান স্থানান্তর করলেও সবশেষ তিনি মদিনা মার্কেটের নীচ তলায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালাতেন। সেখানে যে পরিমাণ স্বর্ণ তিনি বন্ধক রাখতেন, তার চার ভাগের একভাগ টাকা দিতেন।

স্থানীয় রঘুনাথপুরের বাসিন্দা রাসেল খান দাবি করেন, তিনি আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার পিন্টুর কাছে ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক দেন। পরে তাকে ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে তার স্বর্ণালংকার আনতে যান। কিন্তু পিন্টু দাস স্বর্ণ না দিয়ে তিনি তাকে পরের দিন আসার জন্য বলেন। পরবর্তীতে পিন্টু দাস সপরিবারে উধাও হওয়ার সংবাদ পান।

এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগও করেছেন বলে জানান রাসেল।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ বলেন, ব্যবসায়ী পিন্টু দাসসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে শুনেছি। তার কাছে বন্ধক রাখা স্বর্ণ অনেকে তা ফেরত পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হবে।

/এফআর/