শিরোনাম

উদ্বোধনের আড়াই মাসের মাথায় অকেজো চলন্ত সিঁড়ি

মোহাম্মদ আলিফ মিয়া
উদ্বোধনের আড়াই মাসের মাথায় অকেজো চলন্ত সিঁড়ি

রাজধানীর ব্যস্ততম বিপণিবিতান এলাকা নিউমার্কেটে পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে চলন্ত
সিঁড়িযুক্ত
যে ফুটওভার ব্রিজ তৈরি করা হয়েছিল, সেটি এখন অকেজো হয়ে পড়ে আছে। সড়ক পারাপার নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) পুরাতন ফুটওভার ব্রিজ ভেঙে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন নতুন ব্রিজ নির্মাণ করলেও, উদ্বোধনের আড়াই মাসের মাথায় তা পথচারীদের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ব্রিজের চলন্ত সিঁড়ি বা এস্কেলেটর এখন অকেজো ও তালাবদ্ধ, আর পুরো চত্বর চলে গেছে হকারদের দখলে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফুটওভার ব্রিজটি সরাসরি ঢাকা নিউ সুপার মার্কেট এবং গাউছিয়া মার্কেটের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে। সড়ক পার না হয়েই এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেটে গিয়ে কেনাকাটার সুযোগ তৈরি হওয়ায়, শুরুতে এটি ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয়ের মধ্যেই ইতিবাচক সাড়া ফেলেছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পর স্বস্তি ফিরেছিল এই অঞ্চলের যানজট ও পথচারী ব্যবস্থাপনায়। কিন্তু সেই স্বস্তি এখন রূপ নিয়েছে তীব্র ভোগান্তিতে।

বর্তমানে নিউ সুপার মার্কেটের দিকের এস্কেলেটরটি সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে সাধারণ পথচারীদের হেঁটে হেঁটেই ওপরে উঠতে হচ্ছে। অন্যদিকে, গাউছিয়া মার্কেটের দিকের চলন্ত সিঁড়িটির অবস্থা আরও করুণ, সেটির কেঁচি গেট সবসময় তালাবদ্ধই থাকে। সিঁড়িটির ওপর জমে আছে ধুলোবালি ও আবর্জনা। শুধু তাই নয়, ব্রিজের প্রবেশপথের সিংহভাগ বন্ধ করে বসেছে হকারদের দোকানপাট। ফলে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচলের জায়গাটুকুও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

ফুটওভার ব্রিজ পার হওয়ার সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজিব নামের এক যুবক বলেন, আমরা যুবক, তাই আমাদের উঠতে-নামতে খুব একটা কষ্ট হচ্ছে না। কিন্তু যারা বয়স্ক, তাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন অন্তঃসত্ত্বা নারীরা। যদি সিঁড়িই ভাঙতে হবে, তবে এত টাকা খরচের মানে কী?

একই চিত্র দেখা গেল ৫০ বছর বয়সি সায়লা বেগমের ক্ষেত্রে। ছেলেকে নিয়ে নিউমার্কেটে আসা এই নারী হাঁপাতে হাঁপাতে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে বলেন, যত দ্রুত সম্ভব এই এস্কেলেটরটি যেন সচল করা হয়। কোটি কোটি টাকা খরচ করে অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, অথচ তা জনগণের কোনো কাজে আসছে না।

ভোগান্তি নিয়ে কথা বলেন নিউমার্কেটের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পিপুল। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই এস্কেলেটর অনেকদিন যাবৎ বন্ধ আছে এবং আরেক পাশেরটা তালা মারা। আমাদের কিছু করার নাই, আমরা আছি শুধু ভোগান্তিতে। সাধারণ মানুষের কষ্ট দেখার যেন কেউ নেই।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তথ্য কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, এস্কেলেটরটি সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা এবং দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চালু থাকে।

তবে যখন তাকে সুনির্দিষ্টভাবে জানানো হয় যে, এস্কেলেটরের কেঁচি গেটে তালা মারা রয়েছে এবং প্রবেশপথে অবৈধ দোকান বসানো হয়েছে, তখন তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

উদ্বোধনের অল্প দিনের মধ্যেই এমন অব্যবস্থাপনা ও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ রাজধানীর সাধারণ মানুষ। সচেতন মহলের প্রশ্ন, এই বিপুল ব্যয়ের আধুনিক অবকাঠামো কি আসলেই জনগণের উপকারের জন্য, নাকি শুধুই লোক-দেখানো কোনো প্রজেক্ট?

/এমআর/