ঈদকে ঘিরে জমজমাট মিটফোর্ডের ‘পারফিউম লেন’

ঈদকে ঘিরে জমজমাট মিটফোর্ডের ‘পারফিউম লেন’
শেখ শাহরিয়ার হোসেন

ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকার ‘পারফিউম লেন’। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এখন দোকানগুলোতে সুগন্ধির ক্রেতাদের ভিড় বেশি। নানা ধরনের আতর ও পারফিউমের ঘ্রাণে পুরো এলাকা যেন আলাদা এক আবহ তৈরি করেছে।
রাজধানীর ব্যস্ততা, আবর্জনার স্তূপ আর তীব্র দুর্গন্ধের মাঝেও পুরান ঢাকার এই ছোট্ট সড়কটি যেন ভিন্ন এক জগৎ। মিটফোর্ড রোডের দুই পাশে সারি সারি দোকানে সাজানো রয়েছে শত শত ধরনের সুগন্ধি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খুচরা বিক্রেতা ও সাধারণ ক্রেতারা এখানে আসেন সুগন্ধি কিনতে।
আর্মেনিয়ান চার্চ সংলগ্ন বাবুবাজার রোড থেকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের দিকে যে সড়কটি গেছে, সেটিই স্থানীয়দের কাছে ‘পারফিউম লেন’ নামে পরিচিত। রাস্তার দুই পাশে কয়েকশ দোকানে কাচের বোতলে সাজানো থাকে বিভিন্ন রঙ ও ঘ্রাণের আতর ও পারফিউম। এই পথ দিয়ে হাঁটলে চারপাশ থেকে ভেসে আসে নানা ধরনের সুগন্ধি।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুরান ঢাকায় এই সুগন্ধির ব্যবসা প্রায় এক শতাব্দী পুরোনো। মিটফোর্ড এলাকার প্রথম সুগন্ধির দোকান– ওটিস পারফিউম হাউজ। ১৯৪৫ সালে ভারতের মাদ্রাজ থেকে আসা ব্যবসায়ী কেপি মুহাম্মদের হাত ধরে এর প্রতিষ্ঠা হয়। তারা বাবা কলকাতায় সুগন্ধির ব্যবসা করতেন। সেখান থেকেই তিনি ঢাকায় এসে ব্যবসার সম্ভাবনা দেখে মুগ্ধ হন। পরবর্তীতে এখানেই স্থায়ীভাবে সুগন্ধির ব্যবসা শুরু করেন।

সময়ের সঙ্গে সেই ছোট উদ্যোগ এখন বড় বাজারে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে মিটফোর্ড এলাকায় পাঁচশর বেশি দোকানে অ্যালকোহলবিহীন সুগন্ধি বিক্রি হচ্ছে।
মিটফোর্ড টাওয়ারের নিচতলায় অবস্থিত লাহোর পাফফিউমারী হাউজের স্বত্বাধিকারী মাহমুদ হাসান বলেন, প্রায় দুই যুগ ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। আমরা নিজেরাই কাঁচামাল আমদানি করে সুগন্ধি তৈরী করি। ঈদ সামনে রেখে নতুন করে আরও প্রায় ১৫০ ধরনের সুগন্ধি আনা হয়েছে। এখন ক্রেতার চাপও আগের চেয়ে বেশি।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের পাশাপাশি ফ্রান্স, ইতালি ও ইংল্যান্ড থেকে সুগন্ধি আমদানি করা হয়। এখানে পাইকারি ও খুচরা– দুইভাবেই বিক্রি হয়। নারী, পুরুষ ও ইউনিসেক্স সব ধরনের মানুষের জন্যই সুগন্ধি পাওয়া যায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, বাংলাদেশের পারফিউম বাজারের আকার এখন শত কোটি টাকার বেশি। একসময় কেবল ধনীদের মধ্যে সুগন্ধি ব্যবহারের প্রচলন থাকলেও এখন মধ্যবিত্তের মধ্যেও এর ব্যবহার বেড়েছে। ফলে প্রতি বছরই এই বাজার বড় হচ্ছে।
শরিয়তপুর থেকে সুগন্ধি কিনতে আসা রাকিব খান বলেন, প্রতি ঈদের আগে আমি এখানে আসি। পৃথিবীর অনেক নামি ব্র্যান্ডের পারফিউম এখানে পাওয়া যায়। ঈদকে ঘিরে এলাকায় খুচরা বিক্রি করার জন্য কিনতে এসেছি।
মিটফোর্ডের আরেক ব্যবসায়ী বোরহান পারফিউমারি হাউজের মুহাম্মদ মামুন বলেন, ঢাকার বাইরে থেকেও অনেক ক্রেতা এখানে আসেন। আবার অনেকে এখান থেকে পাইকারি আতর কিনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করেন।
তিনি জানান, দোকানগুলোতে ৫০ থেকে ৩০০ মিলিলিটার পর্যন্ত বিভিন্ন আকারের বোতল পাওয়া যায়। সাধারণ সুগন্ধির দাম প্রতি মিলিলিটার ২০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। তবে আগরকাঠ, কস্তুরি বা বিশেষ ধরনের সুগন্ধির দাম প্রতি মিলিলিটার ৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে ছোট আকারের ‘পকেট পারফিউমের চাহিদাও বেড়েছে। ৬ থেকে ৩০ মিলিলিটার আকারের এসব সুগন্ধির দাম সাধারণত ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে।
শুধু সরাসরি বিক্রি নয়, অনলাইন ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত হচ্ছেন অনেকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইফতেখার আহমেদ জয় বলেন, আমি এখান থেকে পাইকারি আতর কিনে ফেসবুকের মাধ্যমে বিক্রি করি। প্রচার না করলেও মাসে ১৫-২০ হাজার টাকার বিক্রি হয়। আর বিজ্ঞাপন দিলে বিক্রি এক থেকে দেড় লাখ টাকাও হয়।
ঈদ সামনে রেখে পুরান ঢাকার এই ঐতিহ্যবাহী সুগন্ধির বাজার এখন আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে। কোলাহল আর ব্যস্ততার মাঝেও মিটফোর্ডের এই ছোট্ট সড়কে ভেসে বেড়াচ্ছে নানা ঘ্রাণের মিশেল, তা যেন পুরান ঢাকার নিজস্ব এক ইতিহাস।

ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকার ‘পারফিউম লেন’। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এখন দোকানগুলোতে সুগন্ধির ক্রেতাদের ভিড় বেশি। নানা ধরনের আতর ও পারফিউমের ঘ্রাণে পুরো এলাকা যেন আলাদা এক আবহ তৈরি করেছে।
রাজধানীর ব্যস্ততা, আবর্জনার স্তূপ আর তীব্র দুর্গন্ধের মাঝেও পুরান ঢাকার এই ছোট্ট সড়কটি যেন ভিন্ন এক জগৎ। মিটফোর্ড রোডের দুই পাশে সারি সারি দোকানে সাজানো রয়েছে শত শত ধরনের সুগন্ধি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খুচরা বিক্রেতা ও সাধারণ ক্রেতারা এখানে আসেন সুগন্ধি কিনতে।
আর্মেনিয়ান চার্চ সংলগ্ন বাবুবাজার রোড থেকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের দিকে যে সড়কটি গেছে, সেটিই স্থানীয়দের কাছে ‘পারফিউম লেন’ নামে পরিচিত। রাস্তার দুই পাশে কয়েকশ দোকানে কাচের বোতলে সাজানো থাকে বিভিন্ন রঙ ও ঘ্রাণের আতর ও পারফিউম। এই পথ দিয়ে হাঁটলে চারপাশ থেকে ভেসে আসে নানা ধরনের সুগন্ধি।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুরান ঢাকায় এই সুগন্ধির ব্যবসা প্রায় এক শতাব্দী পুরোনো। মিটফোর্ড এলাকার প্রথম সুগন্ধির দোকান– ওটিস পারফিউম হাউজ। ১৯৪৫ সালে ভারতের মাদ্রাজ থেকে আসা ব্যবসায়ী কেপি মুহাম্মদের হাত ধরে এর প্রতিষ্ঠা হয়। তারা বাবা কলকাতায় সুগন্ধির ব্যবসা করতেন। সেখান থেকেই তিনি ঢাকায় এসে ব্যবসার সম্ভাবনা দেখে মুগ্ধ হন। পরবর্তীতে এখানেই স্থায়ীভাবে সুগন্ধির ব্যবসা শুরু করেন।

সময়ের সঙ্গে সেই ছোট উদ্যোগ এখন বড় বাজারে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে মিটফোর্ড এলাকায় পাঁচশর বেশি দোকানে অ্যালকোহলবিহীন সুগন্ধি বিক্রি হচ্ছে।
মিটফোর্ড টাওয়ারের নিচতলায় অবস্থিত লাহোর পাফফিউমারী হাউজের স্বত্বাধিকারী মাহমুদ হাসান বলেন, প্রায় দুই যুগ ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। আমরা নিজেরাই কাঁচামাল আমদানি করে সুগন্ধি তৈরী করি। ঈদ সামনে রেখে নতুন করে আরও প্রায় ১৫০ ধরনের সুগন্ধি আনা হয়েছে। এখন ক্রেতার চাপও আগের চেয়ে বেশি।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের পাশাপাশি ফ্রান্স, ইতালি ও ইংল্যান্ড থেকে সুগন্ধি আমদানি করা হয়। এখানে পাইকারি ও খুচরা– দুইভাবেই বিক্রি হয়। নারী, পুরুষ ও ইউনিসেক্স সব ধরনের মানুষের জন্যই সুগন্ধি পাওয়া যায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, বাংলাদেশের পারফিউম বাজারের আকার এখন শত কোটি টাকার বেশি। একসময় কেবল ধনীদের মধ্যে সুগন্ধি ব্যবহারের প্রচলন থাকলেও এখন মধ্যবিত্তের মধ্যেও এর ব্যবহার বেড়েছে। ফলে প্রতি বছরই এই বাজার বড় হচ্ছে।
শরিয়তপুর থেকে সুগন্ধি কিনতে আসা রাকিব খান বলেন, প্রতি ঈদের আগে আমি এখানে আসি। পৃথিবীর অনেক নামি ব্র্যান্ডের পারফিউম এখানে পাওয়া যায়। ঈদকে ঘিরে এলাকায় খুচরা বিক্রি করার জন্য কিনতে এসেছি।
মিটফোর্ডের আরেক ব্যবসায়ী বোরহান পারফিউমারি হাউজের মুহাম্মদ মামুন বলেন, ঢাকার বাইরে থেকেও অনেক ক্রেতা এখানে আসেন। আবার অনেকে এখান থেকে পাইকারি আতর কিনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করেন।
তিনি জানান, দোকানগুলোতে ৫০ থেকে ৩০০ মিলিলিটার পর্যন্ত বিভিন্ন আকারের বোতল পাওয়া যায়। সাধারণ সুগন্ধির দাম প্রতি মিলিলিটার ২০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। তবে আগরকাঠ, কস্তুরি বা বিশেষ ধরনের সুগন্ধির দাম প্রতি মিলিলিটার ৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে ছোট আকারের ‘পকেট পারফিউমের চাহিদাও বেড়েছে। ৬ থেকে ৩০ মিলিলিটার আকারের এসব সুগন্ধির দাম সাধারণত ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে।
শুধু সরাসরি বিক্রি নয়, অনলাইন ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত হচ্ছেন অনেকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইফতেখার আহমেদ জয় বলেন, আমি এখান থেকে পাইকারি আতর কিনে ফেসবুকের মাধ্যমে বিক্রি করি। প্রচার না করলেও মাসে ১৫-২০ হাজার টাকার বিক্রি হয়। আর বিজ্ঞাপন দিলে বিক্রি এক থেকে দেড় লাখ টাকাও হয়।
ঈদ সামনে রেখে পুরান ঢাকার এই ঐতিহ্যবাহী সুগন্ধির বাজার এখন আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে। কোলাহল আর ব্যস্ততার মাঝেও মিটফোর্ডের এই ছোট্ট সড়কে ভেসে বেড়াচ্ছে নানা ঘ্রাণের মিশেল, তা যেন পুরান ঢাকার নিজস্ব এক ইতিহাস।

ঈদকে ঘিরে জমজমাট মিটফোর্ডের ‘পারফিউম লেন’
শেখ শাহরিয়ার হোসেন

ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকার ‘পারফিউম লেন’। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এখন দোকানগুলোতে সুগন্ধির ক্রেতাদের ভিড় বেশি। নানা ধরনের আতর ও পারফিউমের ঘ্রাণে পুরো এলাকা যেন আলাদা এক আবহ তৈরি করেছে।
রাজধানীর ব্যস্ততা, আবর্জনার স্তূপ আর তীব্র দুর্গন্ধের মাঝেও পুরান ঢাকার এই ছোট্ট সড়কটি যেন ভিন্ন এক জগৎ। মিটফোর্ড রোডের দুই পাশে সারি সারি দোকানে সাজানো রয়েছে শত শত ধরনের সুগন্ধি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খুচরা বিক্রেতা ও সাধারণ ক্রেতারা এখানে আসেন সুগন্ধি কিনতে।
আর্মেনিয়ান চার্চ সংলগ্ন বাবুবাজার রোড থেকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের দিকে যে সড়কটি গেছে, সেটিই স্থানীয়দের কাছে ‘পারফিউম লেন’ নামে পরিচিত। রাস্তার দুই পাশে কয়েকশ দোকানে কাচের বোতলে সাজানো থাকে বিভিন্ন রঙ ও ঘ্রাণের আতর ও পারফিউম। এই পথ দিয়ে হাঁটলে চারপাশ থেকে ভেসে আসে নানা ধরনের সুগন্ধি।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুরান ঢাকায় এই সুগন্ধির ব্যবসা প্রায় এক শতাব্দী পুরোনো। মিটফোর্ড এলাকার প্রথম সুগন্ধির দোকান– ওটিস পারফিউম হাউজ। ১৯৪৫ সালে ভারতের মাদ্রাজ থেকে আসা ব্যবসায়ী কেপি মুহাম্মদের হাত ধরে এর প্রতিষ্ঠা হয়। তারা বাবা কলকাতায় সুগন্ধির ব্যবসা করতেন। সেখান থেকেই তিনি ঢাকায় এসে ব্যবসার সম্ভাবনা দেখে মুগ্ধ হন। পরবর্তীতে এখানেই স্থায়ীভাবে সুগন্ধির ব্যবসা শুরু করেন।

সময়ের সঙ্গে সেই ছোট উদ্যোগ এখন বড় বাজারে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে মিটফোর্ড এলাকায় পাঁচশর বেশি দোকানে অ্যালকোহলবিহীন সুগন্ধি বিক্রি হচ্ছে।
মিটফোর্ড টাওয়ারের নিচতলায় অবস্থিত লাহোর পাফফিউমারী হাউজের স্বত্বাধিকারী মাহমুদ হাসান বলেন, প্রায় দুই যুগ ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। আমরা নিজেরাই কাঁচামাল আমদানি করে সুগন্ধি তৈরী করি। ঈদ সামনে রেখে নতুন করে আরও প্রায় ১৫০ ধরনের সুগন্ধি আনা হয়েছে। এখন ক্রেতার চাপও আগের চেয়ে বেশি।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের পাশাপাশি ফ্রান্স, ইতালি ও ইংল্যান্ড থেকে সুগন্ধি আমদানি করা হয়। এখানে পাইকারি ও খুচরা– দুইভাবেই বিক্রি হয়। নারী, পুরুষ ও ইউনিসেক্স সব ধরনের মানুষের জন্যই সুগন্ধি পাওয়া যায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, বাংলাদেশের পারফিউম বাজারের আকার এখন শত কোটি টাকার বেশি। একসময় কেবল ধনীদের মধ্যে সুগন্ধি ব্যবহারের প্রচলন থাকলেও এখন মধ্যবিত্তের মধ্যেও এর ব্যবহার বেড়েছে। ফলে প্রতি বছরই এই বাজার বড় হচ্ছে।
শরিয়তপুর থেকে সুগন্ধি কিনতে আসা রাকিব খান বলেন, প্রতি ঈদের আগে আমি এখানে আসি। পৃথিবীর অনেক নামি ব্র্যান্ডের পারফিউম এখানে পাওয়া যায়। ঈদকে ঘিরে এলাকায় খুচরা বিক্রি করার জন্য কিনতে এসেছি।
মিটফোর্ডের আরেক ব্যবসায়ী বোরহান পারফিউমারি হাউজের মুহাম্মদ মামুন বলেন, ঢাকার বাইরে থেকেও অনেক ক্রেতা এখানে আসেন। আবার অনেকে এখান থেকে পাইকারি আতর কিনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করেন।
তিনি জানান, দোকানগুলোতে ৫০ থেকে ৩০০ মিলিলিটার পর্যন্ত বিভিন্ন আকারের বোতল পাওয়া যায়। সাধারণ সুগন্ধির দাম প্রতি মিলিলিটার ২০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। তবে আগরকাঠ, কস্তুরি বা বিশেষ ধরনের সুগন্ধির দাম প্রতি মিলিলিটার ৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে ছোট আকারের ‘পকেট পারফিউমের চাহিদাও বেড়েছে। ৬ থেকে ৩০ মিলিলিটার আকারের এসব সুগন্ধির দাম সাধারণত ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে।
শুধু সরাসরি বিক্রি নয়, অনলাইন ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত হচ্ছেন অনেকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইফতেখার আহমেদ জয় বলেন, আমি এখান থেকে পাইকারি আতর কিনে ফেসবুকের মাধ্যমে বিক্রি করি। প্রচার না করলেও মাসে ১৫-২০ হাজার টাকার বিক্রি হয়। আর বিজ্ঞাপন দিলে বিক্রি এক থেকে দেড় লাখ টাকাও হয়।
ঈদ সামনে রেখে পুরান ঢাকার এই ঐতিহ্যবাহী সুগন্ধির বাজার এখন আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে। কোলাহল আর ব্যস্ততার মাঝেও মিটফোর্ডের এই ছোট্ট সড়কে ভেসে বেড়াচ্ছে নানা ঘ্রাণের মিশেল, তা যেন পুরান ঢাকার নিজস্ব এক ইতিহাস।




