শিরোনাম

ঢাবির নারী হলে বৈষম্যহীন ও নিরাপদ পরিবেশের দাবি

ঢাবি সংবাদদাতা
ঢাবি সংবাদদাতা
ঢাবির নারী হলে বৈষম্যহীন ও নিরাপদ পরিবেশের দাবি
অবরোধবাসিনী’র প্রতীকী ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও শিক্ষার্থী-বান্ধব হল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দাবিতে মাননীয় উপাচার্য বরাবর একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন নারী শিক্ষার্থীদের তিনটি সংগঠন।

রবিবার (৩০ আগস্ট) ‘অবরোধবাসিনী’, ‘নারী হল সংস্কার আন্দোলন’ ও ‘বৈষম্যহীন নারী হল চাই’—এই তিন প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধিরা সরাসরি উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে খোলা চিঠি হস্তান্তর করেন।

খোলা চিঠিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমতা ও ন্যায়বিচারের চর্চায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসলেও নারী শিক্ষার্থীদের আবাসিক জীবন ও চলাচলের ক্ষেত্রে এখনো নানা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ বিদ্যমান। এসব নিয়ম একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী শিক্ষার্থীর স্বাধীন চলাচলের নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিতের নামে হয়রানি ও চরিত্রহননের ক্ষেত্র তৈরি করে।

চিঠিতে সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রী হলের প্রবেশ ও প্রস্থানের সময়সীমা মাত্র ১ ঘণ্টা বৃদ্ধির প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে অপ্রতুল বলে অভিহিত করা হয়। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ৩ দফা দাবি তুলে ধরেন:

১. সার্বক্ষণিক যাতায়াত ও নিরাপত্তা: হলের গেটে সার্বক্ষণিক প্রহরী নিয়োগ করে নির্ধারিত সময়ের পর প্রবেশের ক্ষেত্রে ফ্লোর শিক্ষককে অবহিত করা, লিখিত আবেদন ও লেটপাসের নামে আমলাতান্ত্রিক হয়রানি বন্ধ করে সার্বক্ষণিক প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে।

২. অন্যান্য নারী শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার: বৈধ আইডি কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে আবাসিক ও অনাবাসিক ছাত্রীদের যেকোনো ছাত্রী হলে প্রবেশ এবং অনুমতি সাপেক্ষে অনাবাসিক ছাত্রীদের নিজ হলে রাত্রিযাপনের সুযোগ দিতে হবে।

৩. নারী স্বজনদের প্রবেশের অনুমতি: যথাযথ পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে ছাত্রীর নিজ হলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মা-বোনসহ নারী স্বজনদের প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে।

প্রতিনিধিরা জানান, তারা কোনো বিশেষ সুবিধা চান না; বরং পরিচয় যাচাই, প্রবেশ-প্রস্থান নিবন্ধন, সিসিটিভি ক্যামেরা ও সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাকর্মীর মতো আধুনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন। প্রশাসন দ্রুত এসব যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়ন করে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও মুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

/এমআর/