মধ্যরাতে ঢাবির হলে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, ভিপি-জিএসসহ আহত ৬

মধ্যরাতে ঢাবির হলে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, ভিপি-জিএসসহ আহত ৬
ঢাবি সংবাদদাতা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম (এফএইচ) হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস আল মামুনের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে হেনস্তা ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পর পদত্যাগের দাবি তাকে হল কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে উদ্ধার করে নেওয়ার সময় ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে হল সংসদের ভিপি-জিএসসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।
রবিবার (১৬ আগস্ট) দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে এ মারামারি ঘটনা ঘটে। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে, হলের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহীমকে প্রভোস্টের কক্ষে আটকে রেখে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোর করে বক্তব্য নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগের প্রতিবাদে সন্ধ্যা থেকে প্রভোস্টের পদত্যাগ এবং ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবিতে শিক্ষার্থীরা তার কার্যালয় ঘেরাও করে রাখেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, তারা প্রভোস্টের কাছে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চান। তবে ফুটেজ দেখানো হয়নি। পরে শিক্ষার্থীরা কার্যালয়ের গেটে তালা দিয়ে প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান নেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাতে সেখানে উপস্থিত হন ঢাবির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আল মোজাদ্দেদী আলফেসানী, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. ইসরাফিল প্রাংসহ প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা তাদেরও প্রভোস্টের কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান করতে বাধ্য করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা সিসিটিভি ফুটেজ শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশ না করে প্রভোস্টকে সেখান থেকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এর মধ্যেই ছাত্রদলের বিভিন্ন হলের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে প্রভোস্টের কার্যালয়ের দিকে গিয়ে প্রথমে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় শিবিরের নেতাকর্মীরা বাধা দিলে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরে আরও নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে জড়ো হলে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একপর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হল সংসদের ভিপি আবু নাঈম, জিএস ইমামুল হাসানসহ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেন। এতে অন্তত ছয়জন আহত হন। জিএস ইমামুল হাসান রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে যান এবং ভিপি আবু নাঈমের পোশাক ছিঁড়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
ধাক্কাধাক্কির মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. ইসরাফিল প্রাংও একটি পিলারের সঙ্গে ধাক্কা খান বলে জানা গেছে।
একপার্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রভোস্টকে তার কার্যালয় থেকে বের করে নিয়ে যান। পরে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।
এ ঘটনায় ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম তার ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে প্রভোস্টকে বের করে নিয়ে গেছে। তিনি ঘটনাটিকে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য আন্দোলনের ওপর হামলা হিসেবে উল্লেখ করে এর প্রতিবাদ জানান।
ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়েরও অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীরা শুরু থেকেই শুধু সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চেয়েছিলেন। তার ভাষ্য, প্রভোস্ট নির্দোষ হলে ফুটেজ প্রকাশ করতে প্রশাসনের আপত্তি থাকার কথা নয়। তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের সামনে ফুটেজ প্রকাশ না করে প্রভোস্টকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এসে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী রিয়াদুল ইসলাম জুবা বলেন, অভিযুক্ত প্রভোস্টকে এক্সিট দেওয়ার জন্য ছাত্রদল বেশ সময় নিয়ে হলের আশেপাশে সব জায়গা থেকে জড়ো হয়ে হামলা করে হলের শিক্ষার্থীদের থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রদল হামলার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। তাদের আজকের এই শিক্ষার্থী বিরোধী অবস্থান মনে রাখা হবে।
অন্যদিকে, ঘটনার বিষয়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বক্তব্যে বলা হচ্ছে, প্রভোস্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা কিংবা মব তৈরি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী দাবি করেছেন, ঘটনাস্থলে অন্য হলের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও অভিযোগ ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ ঘটনাটিকে প্রভোস্টকে ‘রক্ষা’ করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মব তৈরি এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া উপেক্ষার অভিযোগ তুলছেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রভোস্টের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ, হামলা ও মব সংস্কৃতির অবসান এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম (এফএইচ) হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস আল মামুনের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে হেনস্তা ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পর পদত্যাগের দাবি তাকে হল কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে উদ্ধার করে নেওয়ার সময় ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে হল সংসদের ভিপি-জিএসসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।
রবিবার (১৬ আগস্ট) দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে এ মারামারি ঘটনা ঘটে। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে, হলের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহীমকে প্রভোস্টের কক্ষে আটকে রেখে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোর করে বক্তব্য নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগের প্রতিবাদে সন্ধ্যা থেকে প্রভোস্টের পদত্যাগ এবং ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবিতে শিক্ষার্থীরা তার কার্যালয় ঘেরাও করে রাখেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, তারা প্রভোস্টের কাছে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চান। তবে ফুটেজ দেখানো হয়নি। পরে শিক্ষার্থীরা কার্যালয়ের গেটে তালা দিয়ে প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান নেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাতে সেখানে উপস্থিত হন ঢাবির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আল মোজাদ্দেদী আলফেসানী, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. ইসরাফিল প্রাংসহ প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা তাদেরও প্রভোস্টের কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান করতে বাধ্য করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা সিসিটিভি ফুটেজ শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশ না করে প্রভোস্টকে সেখান থেকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এর মধ্যেই ছাত্রদলের বিভিন্ন হলের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে প্রভোস্টের কার্যালয়ের দিকে গিয়ে প্রথমে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় শিবিরের নেতাকর্মীরা বাধা দিলে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরে আরও নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে জড়ো হলে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একপর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হল সংসদের ভিপি আবু নাঈম, জিএস ইমামুল হাসানসহ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেন। এতে অন্তত ছয়জন আহত হন। জিএস ইমামুল হাসান রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে যান এবং ভিপি আবু নাঈমের পোশাক ছিঁড়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
ধাক্কাধাক্কির মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. ইসরাফিল প্রাংও একটি পিলারের সঙ্গে ধাক্কা খান বলে জানা গেছে।
একপার্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রভোস্টকে তার কার্যালয় থেকে বের করে নিয়ে যান। পরে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।
এ ঘটনায় ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম তার ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে প্রভোস্টকে বের করে নিয়ে গেছে। তিনি ঘটনাটিকে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য আন্দোলনের ওপর হামলা হিসেবে উল্লেখ করে এর প্রতিবাদ জানান।
ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়েরও অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীরা শুরু থেকেই শুধু সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চেয়েছিলেন। তার ভাষ্য, প্রভোস্ট নির্দোষ হলে ফুটেজ প্রকাশ করতে প্রশাসনের আপত্তি থাকার কথা নয়। তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের সামনে ফুটেজ প্রকাশ না করে প্রভোস্টকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এসে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী রিয়াদুল ইসলাম জুবা বলেন, অভিযুক্ত প্রভোস্টকে এক্সিট দেওয়ার জন্য ছাত্রদল বেশ সময় নিয়ে হলের আশেপাশে সব জায়গা থেকে জড়ো হয়ে হামলা করে হলের শিক্ষার্থীদের থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রদল হামলার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। তাদের আজকের এই শিক্ষার্থী বিরোধী অবস্থান মনে রাখা হবে।
অন্যদিকে, ঘটনার বিষয়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বক্তব্যে বলা হচ্ছে, প্রভোস্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা কিংবা মব তৈরি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী দাবি করেছেন, ঘটনাস্থলে অন্য হলের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও অভিযোগ ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ ঘটনাটিকে প্রভোস্টকে ‘রক্ষা’ করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মব তৈরি এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া উপেক্ষার অভিযোগ তুলছেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রভোস্টের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ, হামলা ও মব সংস্কৃতির অবসান এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

মধ্যরাতে ঢাবির হলে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, ভিপি-জিএসসহ আহত ৬
ঢাবি সংবাদদাতা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম (এফএইচ) হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস আল মামুনের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে হেনস্তা ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পর পদত্যাগের দাবি তাকে হল কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে উদ্ধার করে নেওয়ার সময় ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে হল সংসদের ভিপি-জিএসসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।
রবিবার (১৬ আগস্ট) দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে এ মারামারি ঘটনা ঘটে। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে, হলের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহীমকে প্রভোস্টের কক্ষে আটকে রেখে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোর করে বক্তব্য নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগের প্রতিবাদে সন্ধ্যা থেকে প্রভোস্টের পদত্যাগ এবং ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবিতে শিক্ষার্থীরা তার কার্যালয় ঘেরাও করে রাখেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, তারা প্রভোস্টের কাছে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চান। তবে ফুটেজ দেখানো হয়নি। পরে শিক্ষার্থীরা কার্যালয়ের গেটে তালা দিয়ে প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান নেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাতে সেখানে উপস্থিত হন ঢাবির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আল মোজাদ্দেদী আলফেসানী, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. ইসরাফিল প্রাংসহ প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা তাদেরও প্রভোস্টের কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান করতে বাধ্য করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা সিসিটিভি ফুটেজ শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশ না করে প্রভোস্টকে সেখান থেকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এর মধ্যেই ছাত্রদলের বিভিন্ন হলের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে প্রভোস্টের কার্যালয়ের দিকে গিয়ে প্রথমে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় শিবিরের নেতাকর্মীরা বাধা দিলে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরে আরও নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে জড়ো হলে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একপর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হল সংসদের ভিপি আবু নাঈম, জিএস ইমামুল হাসানসহ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেন। এতে অন্তত ছয়জন আহত হন। জিএস ইমামুল হাসান রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে যান এবং ভিপি আবু নাঈমের পোশাক ছিঁড়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
ধাক্কাধাক্কির মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. ইসরাফিল প্রাংও একটি পিলারের সঙ্গে ধাক্কা খান বলে জানা গেছে।
একপার্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রভোস্টকে তার কার্যালয় থেকে বের করে নিয়ে যান। পরে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।
এ ঘটনায় ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম তার ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে প্রভোস্টকে বের করে নিয়ে গেছে। তিনি ঘটনাটিকে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য আন্দোলনের ওপর হামলা হিসেবে উল্লেখ করে এর প্রতিবাদ জানান।
ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়েরও অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীরা শুরু থেকেই শুধু সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চেয়েছিলেন। তার ভাষ্য, প্রভোস্ট নির্দোষ হলে ফুটেজ প্রকাশ করতে প্রশাসনের আপত্তি থাকার কথা নয়। তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের সামনে ফুটেজ প্রকাশ না করে প্রভোস্টকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এসে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী রিয়াদুল ইসলাম জুবা বলেন, অভিযুক্ত প্রভোস্টকে এক্সিট দেওয়ার জন্য ছাত্রদল বেশ সময় নিয়ে হলের আশেপাশে সব জায়গা থেকে জড়ো হয়ে হামলা করে হলের শিক্ষার্থীদের থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রদল হামলার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। তাদের আজকের এই শিক্ষার্থী বিরোধী অবস্থান মনে রাখা হবে।
অন্যদিকে, ঘটনার বিষয়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বক্তব্যে বলা হচ্ছে, প্রভোস্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা কিংবা মব তৈরি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী দাবি করেছেন, ঘটনাস্থলে অন্য হলের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও অভিযোগ ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ ঘটনাটিকে প্রভোস্টকে ‘রক্ষা’ করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মব তৈরি এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া উপেক্ষার অভিযোগ তুলছেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রভোস্টের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ, হামলা ও মব সংস্কৃতির অবসান এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ঢাবি ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বে আলোচনায় যারা







