ইইউ-বাংলাদেশ সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ নিয়েছে: মাইকেল মিলার

ইইউ-বাংলাদেশ সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ নিয়েছে: মাইকেল মিলার
ঢাবি সংবাদদাতা

বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে দাতা-গ্রহীতার সম্পর্ক থেকে বর্তমানে শক্তিশালী কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলার।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস)-এর উদ্যোগে এবং এফএইচএস বাংলাদেশের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান, এফএইচএস বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ফেলিক্স গর্ডেস, সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশংসা করে মাইকেল মিলার বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একাডেমিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
বাংলাদেশ ও ইইউর সম্পর্কের বিবর্তন তুলে ধরে তিনি বলেন, কয়েক দশক আগে এ সম্পর্ক মূলত দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। বর্তমানে তা একটি শক্তিশালী কৌশলগত অংশীদারিত্বে পরিণত হয়েছে। ইইউ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য এবং বিদেশি বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান উৎস বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কার প্রসঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, মানবাধিকার সুরক্ষা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। গভীর সংস্কার সম্পন্ন করতে সময় প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইউরোপের অনেক দেশও বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে।
জলবায়ু পরিবর্তনকে বাংলাদেশের জন্য একটি জরুরি সংকট হিসেবে উল্লেখ করে মাইকেল মিলার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও জ্বালানি রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় অর্জন। উত্তরণ প্রক্রিয়া সহজ করতে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) সম্ভাবনা নিয়ে ইইউ কাজ করতে আগ্রহী।
তিনি আরও বলেন, ইইউর কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে প্রযুক্তি, উচ্চমানের দক্ষতা ও দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি নিয়ে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। তবে এর জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, আইনের শাসন এবং মেধাস্বত্বের অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
রাষ্ট্রদূত জানান, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নে ২৩ বিলিয়ন ইউরোর বেশি পণ্য রপ্তানি করেছে। এতে ইইউর ‘এভরিথিং বাট আর্মস’ (ইবিএ) নীতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
এ সময় শিক্ষার্থীদের ইইউ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সম্পর্কে আরও জানার আহ্বান জানিয়ে মাইকেল মিলার বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতির ক্ষেত্রে তরুণদের ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ভবিষ্যতে বিশ্বের শীর্ষ ৩০টি অর্থনীতির একটি হবে এবং সে যাত্রায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের পাশে থাকবে।
-CznNewsLab-1cb92d.jpg)
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞান বিতরণের জায়গা নয়; এটি নতুন চিন্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা, বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি যাচাই এবং অর্থবহ সংলাপের ক্ষেত্র। জলবায়ু পরিবর্তন, বাণিজ্য, অভিবাসন, উন্নয়ন, প্রযুক্তি, মানবাধিকার ও নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ অনুষ্ঠান শুধু একজন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য শোনার সুযোগ নয়, এটি সরাসরি কথোপকথনেরও সুযোগ। শিক্ষার্থীদের কৌতূহলী হয়ে প্রশ্ন করা এবং শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে কঠিন বিষয় নিয়েও আলোচনা করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সুযোগ, জলবায়ু সহনশীলতা ও উচ্চশিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রকে স্পর্শ করে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণা ও পেশাগত কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক পরিসরে অবদান রাখার জন্য প্রস্তুত হতে হবে।
উপাচার্য বলেন, আন্তর্জাতিকীকরণের পাশাপাশি বাংলাদেশের নিজস্ব সমাজ ও মানুষের প্রয়োজনকেও গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়, সরকার, কূটনৈতিক মিশন ও বেসরকারি খাতের মধ্যে অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে দাতা-গ্রহীতার সম্পর্ক থেকে বর্তমানে শক্তিশালী কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলার।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস)-এর উদ্যোগে এবং এফএইচএস বাংলাদেশের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান, এফএইচএস বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ফেলিক্স গর্ডেস, সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশংসা করে মাইকেল মিলার বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একাডেমিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
বাংলাদেশ ও ইইউর সম্পর্কের বিবর্তন তুলে ধরে তিনি বলেন, কয়েক দশক আগে এ সম্পর্ক মূলত দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। বর্তমানে তা একটি শক্তিশালী কৌশলগত অংশীদারিত্বে পরিণত হয়েছে। ইইউ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য এবং বিদেশি বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান উৎস বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কার প্রসঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, মানবাধিকার সুরক্ষা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। গভীর সংস্কার সম্পন্ন করতে সময় প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইউরোপের অনেক দেশও বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে।
জলবায়ু পরিবর্তনকে বাংলাদেশের জন্য একটি জরুরি সংকট হিসেবে উল্লেখ করে মাইকেল মিলার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও জ্বালানি রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় অর্জন। উত্তরণ প্রক্রিয়া সহজ করতে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) সম্ভাবনা নিয়ে ইইউ কাজ করতে আগ্রহী।
তিনি আরও বলেন, ইইউর কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে প্রযুক্তি, উচ্চমানের দক্ষতা ও দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি নিয়ে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। তবে এর জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, আইনের শাসন এবং মেধাস্বত্বের অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
রাষ্ট্রদূত জানান, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নে ২৩ বিলিয়ন ইউরোর বেশি পণ্য রপ্তানি করেছে। এতে ইইউর ‘এভরিথিং বাট আর্মস’ (ইবিএ) নীতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
এ সময় শিক্ষার্থীদের ইইউ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সম্পর্কে আরও জানার আহ্বান জানিয়ে মাইকেল মিলার বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতির ক্ষেত্রে তরুণদের ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ভবিষ্যতে বিশ্বের শীর্ষ ৩০টি অর্থনীতির একটি হবে এবং সে যাত্রায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের পাশে থাকবে।
-CznNewsLab-1cb92d.jpg)
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞান বিতরণের জায়গা নয়; এটি নতুন চিন্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা, বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি যাচাই এবং অর্থবহ সংলাপের ক্ষেত্র। জলবায়ু পরিবর্তন, বাণিজ্য, অভিবাসন, উন্নয়ন, প্রযুক্তি, মানবাধিকার ও নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ অনুষ্ঠান শুধু একজন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য শোনার সুযোগ নয়, এটি সরাসরি কথোপকথনেরও সুযোগ। শিক্ষার্থীদের কৌতূহলী হয়ে প্রশ্ন করা এবং শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে কঠিন বিষয় নিয়েও আলোচনা করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সুযোগ, জলবায়ু সহনশীলতা ও উচ্চশিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রকে স্পর্শ করে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণা ও পেশাগত কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক পরিসরে অবদান রাখার জন্য প্রস্তুত হতে হবে।
উপাচার্য বলেন, আন্তর্জাতিকীকরণের পাশাপাশি বাংলাদেশের নিজস্ব সমাজ ও মানুষের প্রয়োজনকেও গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়, সরকার, কূটনৈতিক মিশন ও বেসরকারি খাতের মধ্যে অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

ইইউ-বাংলাদেশ সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ নিয়েছে: মাইকেল মিলার
ঢাবি সংবাদদাতা

বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে দাতা-গ্রহীতার সম্পর্ক থেকে বর্তমানে শক্তিশালী কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলার।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস)-এর উদ্যোগে এবং এফএইচএস বাংলাদেশের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান, এফএইচএস বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ফেলিক্স গর্ডেস, সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশংসা করে মাইকেল মিলার বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একাডেমিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
বাংলাদেশ ও ইইউর সম্পর্কের বিবর্তন তুলে ধরে তিনি বলেন, কয়েক দশক আগে এ সম্পর্ক মূলত দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। বর্তমানে তা একটি শক্তিশালী কৌশলগত অংশীদারিত্বে পরিণত হয়েছে। ইইউ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য এবং বিদেশি বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান উৎস বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কার প্রসঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, মানবাধিকার সুরক্ষা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। গভীর সংস্কার সম্পন্ন করতে সময় প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইউরোপের অনেক দেশও বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে।
জলবায়ু পরিবর্তনকে বাংলাদেশের জন্য একটি জরুরি সংকট হিসেবে উল্লেখ করে মাইকেল মিলার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও জ্বালানি রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় অর্জন। উত্তরণ প্রক্রিয়া সহজ করতে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) সম্ভাবনা নিয়ে ইইউ কাজ করতে আগ্রহী।
তিনি আরও বলেন, ইইউর কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে প্রযুক্তি, উচ্চমানের দক্ষতা ও দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি নিয়ে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। তবে এর জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, আইনের শাসন এবং মেধাস্বত্বের অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
রাষ্ট্রদূত জানান, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নে ২৩ বিলিয়ন ইউরোর বেশি পণ্য রপ্তানি করেছে। এতে ইইউর ‘এভরিথিং বাট আর্মস’ (ইবিএ) নীতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
এ সময় শিক্ষার্থীদের ইইউ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সম্পর্কে আরও জানার আহ্বান জানিয়ে মাইকেল মিলার বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতির ক্ষেত্রে তরুণদের ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ভবিষ্যতে বিশ্বের শীর্ষ ৩০টি অর্থনীতির একটি হবে এবং সে যাত্রায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের পাশে থাকবে।
-CznNewsLab-1cb92d.jpg)
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞান বিতরণের জায়গা নয়; এটি নতুন চিন্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা, বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি যাচাই এবং অর্থবহ সংলাপের ক্ষেত্র। জলবায়ু পরিবর্তন, বাণিজ্য, অভিবাসন, উন্নয়ন, প্রযুক্তি, মানবাধিকার ও নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ অনুষ্ঠান শুধু একজন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য শোনার সুযোগ নয়, এটি সরাসরি কথোপকথনেরও সুযোগ। শিক্ষার্থীদের কৌতূহলী হয়ে প্রশ্ন করা এবং শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে কঠিন বিষয় নিয়েও আলোচনা করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সুযোগ, জলবায়ু সহনশীলতা ও উচ্চশিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রকে স্পর্শ করে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণা ও পেশাগত কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক পরিসরে অবদান রাখার জন্য প্রস্তুত হতে হবে।
উপাচার্য বলেন, আন্তর্জাতিকীকরণের পাশাপাশি বাংলাদেশের নিজস্ব সমাজ ও মানুষের প্রয়োজনকেও গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়, সরকার, কূটনৈতিক মিশন ও বেসরকারি খাতের মধ্যে অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

প্রভোস্টের রুমে তালা দেওয়ায় ঢাবির হল সংসদের ভিপিকে শোকজ
দীর্ঘ লড়াই শেষে হার মানলেন ঢাবি শিক্ষার্থী শুভ






