শিরোনাম

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে এতো অভিযোগ, শাস্তি শুধু ‘তিরস্কার’

নিজস্ব প্রতিবেদক
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে এতো অভিযোগ, শাস্তি শুধু ‘তিরস্কার’

অনিয়ম দুর্নীতি আর প্রভাব বিস্তার করে নিজ স্ত্রীর নামে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ ওঠে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে বিস্তর অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে এ প্রকৌশলীকে তিরস্কার দিয়ে সম্প্রতি দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

তবে কৌশলে তদন্ত কর্মকর্তা ও মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক প্রধান গণপূর্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম দায়মুক্তির চিঠিতে সব অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। যাতে ভবিষ্যতে তদন্তকারীদের কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে। এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে পূর্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আসে মন্ত্রণালয়ে। ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর আমিরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি এসব অভিযোগ করেন।

অভিযোগে বলা হয়, তিনি (আতিকুল ইসলাম) দীর্ঘদিন ধরে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক চেয়ারে বসে বিপুল অর্থ অবৈধভাবে আয় করেছেন। তাছাড়া, তার স্ত্রী বেগম কানিজা মুনতারিনার নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে ৫০ শতাংশ মালিকানা ব্যবহার করে প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া, ঢাকা সার্কিট হাউস নির্মাণকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এমন অবস্থায় উপদেষ্টা ও সচিবের নাম ব্যবহার করে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগও উঠেছিল।

অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ‘অসদাচরণ’-এর দায়ে ২০২৫ নম্বর বিভাগীয় মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। অভিযুক্ত লিখিত জবাব দেন এবং ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারি ব্যক্তিগত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি ও নথিপত্র পর্যালোচনার পর কর্তৃপক্ষ লঘুদণ্ড হিসেবে তিরস্কারের সিদ্ধান্ত নেন।

তবে অভিযোগের ধরন ও আর্থিক অনিয়মের মাত্রার সঙ্গে শাস্তির এই সিদ্ধান্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না-সে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকেই। এসব বিষয়ে জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুল ইসলামের ব্যক্তিগত মোবাইলে এ প্রতিবেদক একাধিক ফোন দিলেও তিনি ধরেননি। পরে পরিচয় দিয়ে ম্যাসেজ করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

/টিই/