‘নীরব মহামারি’ স্ক্রিন আসক্তি, ঝুঁকিতে শিশুর ভবিষ্যৎ

‘নীরব মহামারি’ স্ক্রিন আসক্তি, ঝুঁকিতে শিশুর ভবিষ্যৎ
নিজস্ব প্রতিবেদক

বয়স তার কতো আর হবে, ৯ কী ১০ বছর। রাজধানী ঢাকার একটি ভালো স্কুলে পড়ছে শিশুটি। স্কুলে যাওয়ার সময় তার ব্যাগটি গুছিয়ে দিচ্ছেন মা, হাত দিয়ে খাইয়েও দিতে হচ্ছে তাকে। এমনকি জুতার ফিতা পর্যন্ত বাঁধতে পারে না সে। এই শিশুটিই স্কুল থেকে ফিরে বসে যায় একটি মোবাইল ও একটি আইপ্যাড নিয়ে। আইপ্যাডে কঠিন কঠিন গেমস খেলছে। এর মধ্যে একটি গেম আছে রোবলক্স নাম, যেটা কয়েকজন মিলে একসঙ্গে খেলা যায়। সেই গেমস খেলার সময় মোবাইলে সে যুক্ত করছে তার স্কুলের বন্ধুকে।
কেউ কেউ আবার গেমস না খেলে আসক্ত হয়ে পড়ছে ফেসবুক রিলস বা ইউটিউব শর্টসে। কেউ কেউ তো স্কুলে ক্লাস চলাকালীনই স্মার্টফোনে স্ক্রল করে যাচ্ছে ফেসবুক, ইউটিউব বা টিকটক। শিক্ষক কী পড়াচ্ছেন তা মাথায়ই ঢুকছে না তাদের। সব মিলিয়ে শিশুদের পড়ালেখা শেখার জায়গা দখল করে নিচ্ছে মোবাইলসহ বিভিন্ন ডিভাইসের স্ক্রিন। ডিভাইসের পর্দার এই ফাঁদ যেন ছড়িয়ে পড়ছে ‘নীরব মহামারি’ হয়ে!
একটা শিশু প্রতিদিন স্ক্রিনে কতটুকু সময় কাটাতে পারবে, এমন একটি গাইডলাইন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। শিশুদের পূর্ণাঙ্গ বিকাশের জন্যই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই গাইডলাইন। কিন্তু প্রায় ৮৩ শতাংশ শিশু প্রতিদিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি সময় ডিজিটাল ডিভাইস স্ক্রিনের সামনে কাটাচ্ছে। বিষয়টি তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। আইসিডিডিআরবির এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ঢাকার শিশুরা বর্তমানে গড়ে প্রায় ৫ ঘণ্টা স্ক্রিনে কাটাচ্ছে। কারও ক্ষেত্রে এটি তিন ঘণ্টা, আবার কারও ক্ষেত্রে আট থেকে ১০ ঘণ্টাও হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, এক বছরের কম বয়সী শিশুদের কোনো স্ক্রিন টাইম থাকা উচিত নয় এবং এক থেকে চার বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে তা দিনে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা বা তার কম হওয়া উচিত। এ ছাড়া ১৭ বছরের কম বয়সিদের জন্য দিনে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা স্ক্রিন টাইমের সুপারিশ করেছে ডব্লিউএইচও। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, স্পেন, ব্রাজিল, মালয়েশিয়া, নরওয়েসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।। ‘শিশু আইন ২০১৩’-এ অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট বিধান নেই। ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮’ প্রাথমিকভাবে সাইবার অপরাধ দমনে তৈরি, শিশুদের ডিজিটাল সুরক্ষায় নয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ২০১৭ সালের ১২ অক্টোবর এক অফিস আদেশে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। কিন্তু এটির বাস্তবায়নও সে অর্থে চোখে পড়ছে না।
স্ক্রিনে অতিরিক্ত সময় কাটানোর জন্য শিশুদের মধ্যে নানা নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এর মধ্যে শিশুদের মধ্যে রেগে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। অনেকের আবার ঘুম কমে যাচ্ছে, ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক বিকাশ। ডব্লুইএচও’র এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন বয়সী শিশুদের জন্য দিনে কমপক্ষে ১১ থেকে ১৭ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। কিন্তু স্ক্রিনে সময় কাটিয়ে সেই সময়টা ঘুমের জন্য অনেকেই পাচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ঢাকার শিশুরা প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ডিজিটাল স্ক্রিনে (মোবাইল, টিভি, ট্যাব বা কম্পিউটার) এবং গেমিং ডিভাইসে সময় কাটাচ্ছে। এইসব শিশুদের ঘুমে সমস্যা হচ্ছে। শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি শিশু চোখের সমস্যায় এবং ৮০ শতাংশ শিশু প্রায়ই মাথা ব্যথায় ভুগছে।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডিজিটাল এই আসক্তি শিশু-কিশোরদের অপরাধের দিকেও ঠেলে দিচ্ছে। গত ছয় বছরে দেশে মোট ১ হাজার ১২৬ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি বিশাল অংশ ধরা পড়েছে ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পরিচালিত অভিযানে। গ্রেফতার হওয়া এসব কিশোরের মোবাইল ফোন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তারা ফেসবুক, মেসেঞ্জার, টিকটক ও বিভিন্ন অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করত।

বয়স তার কতো আর হবে, ৯ কী ১০ বছর। রাজধানী ঢাকার একটি ভালো স্কুলে পড়ছে শিশুটি। স্কুলে যাওয়ার সময় তার ব্যাগটি গুছিয়ে দিচ্ছেন মা, হাত দিয়ে খাইয়েও দিতে হচ্ছে তাকে। এমনকি জুতার ফিতা পর্যন্ত বাঁধতে পারে না সে। এই শিশুটিই স্কুল থেকে ফিরে বসে যায় একটি মোবাইল ও একটি আইপ্যাড নিয়ে। আইপ্যাডে কঠিন কঠিন গেমস খেলছে। এর মধ্যে একটি গেম আছে রোবলক্স নাম, যেটা কয়েকজন মিলে একসঙ্গে খেলা যায়। সেই গেমস খেলার সময় মোবাইলে সে যুক্ত করছে তার স্কুলের বন্ধুকে।
কেউ কেউ আবার গেমস না খেলে আসক্ত হয়ে পড়ছে ফেসবুক রিলস বা ইউটিউব শর্টসে। কেউ কেউ তো স্কুলে ক্লাস চলাকালীনই স্মার্টফোনে স্ক্রল করে যাচ্ছে ফেসবুক, ইউটিউব বা টিকটক। শিক্ষক কী পড়াচ্ছেন তা মাথায়ই ঢুকছে না তাদের। সব মিলিয়ে শিশুদের পড়ালেখা শেখার জায়গা দখল করে নিচ্ছে মোবাইলসহ বিভিন্ন ডিভাইসের স্ক্রিন। ডিভাইসের পর্দার এই ফাঁদ যেন ছড়িয়ে পড়ছে ‘নীরব মহামারি’ হয়ে!
একটা শিশু প্রতিদিন স্ক্রিনে কতটুকু সময় কাটাতে পারবে, এমন একটি গাইডলাইন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। শিশুদের পূর্ণাঙ্গ বিকাশের জন্যই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই গাইডলাইন। কিন্তু প্রায় ৮৩ শতাংশ শিশু প্রতিদিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি সময় ডিজিটাল ডিভাইস স্ক্রিনের সামনে কাটাচ্ছে। বিষয়টি তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। আইসিডিডিআরবির এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ঢাকার শিশুরা বর্তমানে গড়ে প্রায় ৫ ঘণ্টা স্ক্রিনে কাটাচ্ছে। কারও ক্ষেত্রে এটি তিন ঘণ্টা, আবার কারও ক্ষেত্রে আট থেকে ১০ ঘণ্টাও হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, এক বছরের কম বয়সী শিশুদের কোনো স্ক্রিন টাইম থাকা উচিত নয় এবং এক থেকে চার বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে তা দিনে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা বা তার কম হওয়া উচিত। এ ছাড়া ১৭ বছরের কম বয়সিদের জন্য দিনে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা স্ক্রিন টাইমের সুপারিশ করেছে ডব্লিউএইচও। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, স্পেন, ব্রাজিল, মালয়েশিয়া, নরওয়েসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।। ‘শিশু আইন ২০১৩’-এ অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট বিধান নেই। ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮’ প্রাথমিকভাবে সাইবার অপরাধ দমনে তৈরি, শিশুদের ডিজিটাল সুরক্ষায় নয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ২০১৭ সালের ১২ অক্টোবর এক অফিস আদেশে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। কিন্তু এটির বাস্তবায়নও সে অর্থে চোখে পড়ছে না।
স্ক্রিনে অতিরিক্ত সময় কাটানোর জন্য শিশুদের মধ্যে নানা নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এর মধ্যে শিশুদের মধ্যে রেগে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। অনেকের আবার ঘুম কমে যাচ্ছে, ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক বিকাশ। ডব্লুইএচও’র এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন বয়সী শিশুদের জন্য দিনে কমপক্ষে ১১ থেকে ১৭ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। কিন্তু স্ক্রিনে সময় কাটিয়ে সেই সময়টা ঘুমের জন্য অনেকেই পাচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ঢাকার শিশুরা প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ডিজিটাল স্ক্রিনে (মোবাইল, টিভি, ট্যাব বা কম্পিউটার) এবং গেমিং ডিভাইসে সময় কাটাচ্ছে। এইসব শিশুদের ঘুমে সমস্যা হচ্ছে। শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি শিশু চোখের সমস্যায় এবং ৮০ শতাংশ শিশু প্রায়ই মাথা ব্যথায় ভুগছে।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডিজিটাল এই আসক্তি শিশু-কিশোরদের অপরাধের দিকেও ঠেলে দিচ্ছে। গত ছয় বছরে দেশে মোট ১ হাজার ১২৬ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি বিশাল অংশ ধরা পড়েছে ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পরিচালিত অভিযানে। গ্রেফতার হওয়া এসব কিশোরের মোবাইল ফোন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তারা ফেসবুক, মেসেঞ্জার, টিকটক ও বিভিন্ন অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করত।

‘নীরব মহামারি’ স্ক্রিন আসক্তি, ঝুঁকিতে শিশুর ভবিষ্যৎ
নিজস্ব প্রতিবেদক

বয়স তার কতো আর হবে, ৯ কী ১০ বছর। রাজধানী ঢাকার একটি ভালো স্কুলে পড়ছে শিশুটি। স্কুলে যাওয়ার সময় তার ব্যাগটি গুছিয়ে দিচ্ছেন মা, হাত দিয়ে খাইয়েও দিতে হচ্ছে তাকে। এমনকি জুতার ফিতা পর্যন্ত বাঁধতে পারে না সে। এই শিশুটিই স্কুল থেকে ফিরে বসে যায় একটি মোবাইল ও একটি আইপ্যাড নিয়ে। আইপ্যাডে কঠিন কঠিন গেমস খেলছে। এর মধ্যে একটি গেম আছে রোবলক্স নাম, যেটা কয়েকজন মিলে একসঙ্গে খেলা যায়। সেই গেমস খেলার সময় মোবাইলে সে যুক্ত করছে তার স্কুলের বন্ধুকে।
কেউ কেউ আবার গেমস না খেলে আসক্ত হয়ে পড়ছে ফেসবুক রিলস বা ইউটিউব শর্টসে। কেউ কেউ তো স্কুলে ক্লাস চলাকালীনই স্মার্টফোনে স্ক্রল করে যাচ্ছে ফেসবুক, ইউটিউব বা টিকটক। শিক্ষক কী পড়াচ্ছেন তা মাথায়ই ঢুকছে না তাদের। সব মিলিয়ে শিশুদের পড়ালেখা শেখার জায়গা দখল করে নিচ্ছে মোবাইলসহ বিভিন্ন ডিভাইসের স্ক্রিন। ডিভাইসের পর্দার এই ফাঁদ যেন ছড়িয়ে পড়ছে ‘নীরব মহামারি’ হয়ে!
একটা শিশু প্রতিদিন স্ক্রিনে কতটুকু সময় কাটাতে পারবে, এমন একটি গাইডলাইন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। শিশুদের পূর্ণাঙ্গ বিকাশের জন্যই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই গাইডলাইন। কিন্তু প্রায় ৮৩ শতাংশ শিশু প্রতিদিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি সময় ডিজিটাল ডিভাইস স্ক্রিনের সামনে কাটাচ্ছে। বিষয়টি তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। আইসিডিডিআরবির এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ঢাকার শিশুরা বর্তমানে গড়ে প্রায় ৫ ঘণ্টা স্ক্রিনে কাটাচ্ছে। কারও ক্ষেত্রে এটি তিন ঘণ্টা, আবার কারও ক্ষেত্রে আট থেকে ১০ ঘণ্টাও হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, এক বছরের কম বয়সী শিশুদের কোনো স্ক্রিন টাইম থাকা উচিত নয় এবং এক থেকে চার বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে তা দিনে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা বা তার কম হওয়া উচিত। এ ছাড়া ১৭ বছরের কম বয়সিদের জন্য দিনে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা স্ক্রিন টাইমের সুপারিশ করেছে ডব্লিউএইচও। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, স্পেন, ব্রাজিল, মালয়েশিয়া, নরওয়েসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।। ‘শিশু আইন ২০১৩’-এ অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট বিধান নেই। ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮’ প্রাথমিকভাবে সাইবার অপরাধ দমনে তৈরি, শিশুদের ডিজিটাল সুরক্ষায় নয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ২০১৭ সালের ১২ অক্টোবর এক অফিস আদেশে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। কিন্তু এটির বাস্তবায়নও সে অর্থে চোখে পড়ছে না।
স্ক্রিনে অতিরিক্ত সময় কাটানোর জন্য শিশুদের মধ্যে নানা নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এর মধ্যে শিশুদের মধ্যে রেগে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। অনেকের আবার ঘুম কমে যাচ্ছে, ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক বিকাশ। ডব্লুইএচও’র এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন বয়সী শিশুদের জন্য দিনে কমপক্ষে ১১ থেকে ১৭ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। কিন্তু স্ক্রিনে সময় কাটিয়ে সেই সময়টা ঘুমের জন্য অনেকেই পাচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ঢাকার শিশুরা প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ডিজিটাল স্ক্রিনে (মোবাইল, টিভি, ট্যাব বা কম্পিউটার) এবং গেমিং ডিভাইসে সময় কাটাচ্ছে। এইসব শিশুদের ঘুমে সমস্যা হচ্ছে। শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি শিশু চোখের সমস্যায় এবং ৮০ শতাংশ শিশু প্রায়ই মাথা ব্যথায় ভুগছে।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডিজিটাল এই আসক্তি শিশু-কিশোরদের অপরাধের দিকেও ঠেলে দিচ্ছে। গত ছয় বছরে দেশে মোট ১ হাজার ১২৬ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি বিশাল অংশ ধরা পড়েছে ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পরিচালিত অভিযানে। গ্রেফতার হওয়া এসব কিশোরের মোবাইল ফোন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তারা ফেসবুক, মেসেঞ্জার, টিকটক ও বিভিন্ন অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করত।

মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে এসআই প্রত্যাহার







