শিরোনাম

দেশে জ্বালানি তেল পরিশোধনের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে টিকে গ্রুপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে জ্বালানি তেল পরিশোধনের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে টিকে গ্রুপ
চট্টগ্রামের জুলদায় টিকে গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সুপার পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি

দেশে জ্বালানি তেলের আমদানি-নির্ভরতা কমাতে বড় পরিসরে পরিশোধন ও সংরক্ষণ সক্ষমতা গড়ে তুলছে টিকে গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসি। চট্টগ্রামের জুলদায় নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠানটির নতুন রিফাইনারির কাজ এরই মধ্যে ৮০ শতাংশের বেশি শেষ হয়েছে। আগামী বছরের মার্চে এটি উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুপার পেট্রোকেমিক্যালের বর্তমান রিফাইনারির বার্ষিক পরিশোধন সক্ষমতা ৫ লাখ টন। সম্প্রসারিত রিফাইনারির সক্ষমতা ১৭ লাখ টন। সব মিলিয়ে রিফাইনারি ও স্টোরেজ সক্ষমতা দাঁড়াবে ২২ লাখ টনে।

দেশে প্রতি বছর জ্বালানি তেলের গড় চাহিদা প্রায় ৬৫ লাখ টন। এর বিপরীতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রিফাইনারিগুলোর পরিশোধন সক্ষমতা মাত্র ১৫ লাখ টন, যা মোট চাহিদার প্রায় ২৩ শতাংশ।

বর্তমানে দেশের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ মেটাতে বিপিসিকে বিদেশ থেকে পরিশোধিত ডিজেল, অকটেনসহ বিভিন্ন ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম সাধারণত অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের তুলনায় বেশি হওয়ায় এতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়।

জ্বালানি তেলের পরিশোধনে ইস্টার্ন রিফাইনারি (ইআরএল) এখন দেশের সবচেয়ে বড় রিফাইনারি। আগামী বছরের মার্চে টিকে গ্রুপের প্রতিষ্ঠান সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে চাহিদার অর্ধেকের বেশি জ্বালানি তেল দেশেই পরিশোধন করা যাবে। অর্থাৎ চাহিদার ৫৬ দশমিক ৯২ শতাংশ জ্বালানি তেল পরিশোধনের সক্ষমতা তৈরি হচ্ছে।

সুপার পেট্রোকেমিক্যালের শীর্ষ নির্বাহীরা দাবি করেছেন, বেসরকারি খাতে পরিশোধন সক্ষমতা বাড়লে বিপিসির ব্যয় ২০ কোটি ডলার কমে আসবে। সেই সঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থায়ও বাড়বে স্থিতিশীলতা।

জানা গেছে, বিগত সরকার ২০২১ সালে সিআরইউ-ভিত্তিক ফ্র্যাকশনেশন প্লান্ট ও বেসরকারি রিফাইনারিগুলোকে কনডেনসেট (লাইন ক্রুড) আমদানির অনুমতি দেয়। এতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের রিফাইনারি স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ও কারিগরি সক্ষমতা, অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য যোগ্যতার বিষয়ে বিভিন্ন শর্ত নির্ধারণ করা হয়। একইসঙ্গে বেসরকারি রিফাইনারিতে উৎপাদিত জ্বালানি তেল বাজারজাত ও সরকারের কাছে সরবরাহের ক্ষেত্রেও একটি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়। মূলত সরকারের দেওয়া এ সুযোগের আলোকেই রিফাইনারি গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, ইআরএল আমদানি করা ক্রুড অয়েল প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রেডের পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম উৎপাদনের ক্ষেত্রে উৎপাদিত ন্যাফথা দেশের ৪টি বেসরকারি পেট্রোকেমিক্যাল প্লান্টে জ্বালানি তেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যের কাঁচামাল হিসেবে সরবরাহ করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্যতম চট্টগ্রামের সুপার পেট্রোকেমিক্যাল (প্রা.) লিমিটেড, নরসিংদীর অ্যাকোয়া রিফাইনারি লিমিটেড, চট্টগ্রামের পারটেক্স পেট্রো লিমিটেড (পিপিএল) এবং পেট্রোম্যাক্স রিফাইনারি লিমিটেড (পিআরএল)।

সুপার পেট্রোকেমিক্যাল বর্তমানে আমদানিকৃত ন্যাফথা ও কনডেনসেট পরিশোধন করে ডিজেল ও অকটেন উৎপাদন করছে। উৎপাদিত এসব জ্বালানি তেল বিপিসিকে সরবরাহ করা হয়। নতুন রিফাইনারি চালুর মাধ্যমে সরবরাহের পরিধি আরো বড় করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। বিশেষ করে ডিজেল ও অকটেনের স্থানীয় উৎপাদন বাড়িয়ে বিপিসিকে আরো বেশি পরিমাণে পরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

বর্তমানে সুপার রিফাইনারির প্রধান পণ্য অকটেন। পাশাপাশি সীমিত পরিসরে ডিজেলও উৎপাদন করছে। তবে নির্মাণাধীন নতুন রিফাইনারি চালু হলে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বলছেন, এ সক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহার করা গেলে দেশের মোট জ্বালানি তেলের চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ প্রায় ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত এ রিফাইনারির মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে কোম্পানিটির উৎপাদনে অকটেনের আধিপত্য থাকলেও নতুন রিফাইনারি চালু হওয়ার পর প্রধান পণ্যে পরিণত হবে ডিজেল। সেই সঙ্গে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টন ফার্নেস অয়েল উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া মেরিন ফুয়েলসহ জাহাজ ও শিল্প খাতে ব্যবহৃত অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যও উৎপাদন করা হবে।

/এফসি/