শিরোনাম

সরকারি শিশু পরিবারে নকশিকাঁথা প্রকল্পের উদ্বোধন

রাজবাড়ী সংবাদদাতা
রাজবাড়ী সংবাদদাতা
সরকারি শিশু পরিবারে নকশিকাঁথা প্রকল্পের উদ্বোধন
আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ‘নকশিকাঁথা প্রকল্প’র উদ্বোধন করা হয়

রাজবাড়ী সরকারি শিশু পরিবারে অনাথ, এতিম ও অসহায় কন্যা শিশুদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ‘নকশিকাঁথা প্রকল্প’র উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকাল ৫টায় সরকারি শিশু পরিবার অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়।

প্রকল্পের আওতায় সরকারি শিশু পরিবারের ৭ম শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়া নিবাসীদের ৪০টি শিশু কাজ শেখার সুযোগ পাবে। এসব কন্যা শিশুকে তিন মাসব্যাপী নকশি কাঁথা তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে রাজবাড়ীর বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আরশি’।

সংগঠনের নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুন্নাহার চৌধুরী বলেন, নকশিকাঁথার কাজ কিছুটা জটিল হলেও আন্তরিকতা, ধৈর্য ও একাগ্রতার সঙ্গে অনুশীলন করলে এটি আয়ত্ত করা সম্ভব। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে একজন মেয়ে শুধু আত্মনির্ভরশীলই নয়, পরিবার ও সমাজে নিজেকে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, নিজের যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে একজন নারী সহজেই আত্মপ্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যেতে পারে এবং অসহায়ত্বের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হবে।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ পরিচালক আবু সালেহ মোহাম্মদ আলী আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন।

প্রধান অতিথি বলেন, নকশিকাঁথা বুনন একটি শৈল্পিক, সৃজনশীল ও দক্ষতাভিত্তিক কাজ। এতে ধৈর্য, নিষ্ঠা ও সৃজনশীলতার সমন্বয় ঘটে। একটি কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর তার নান্দনিক মূল্য ও গ্রাহকের স্বীকৃতি কর্মীর আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করে।

তিনি বলেন, পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও মেধার বিকাশের মাধ্যমে যে কেউ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। মেয়েদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও জীবনমুখী দক্ষতা অর্জনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের প্রশিক্ষণ তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলবে এবং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সহায়ক হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার ডা. মো. আশিকুজ্জামান, সরকারি শিশু পরিবারের উপ তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাকসহ সমাজসেবা বিভাগের কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা।

/এসআর/