শিরোনাম

যুবসমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চায় নারী নেতৃত্বাধীন এনজিওগুলো

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
যুবসমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চায় নারী নেতৃত্বাধীন এনজিওগুলো
কর্মশালায় নারী নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালকরা

যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অংশীদারত্বের মাধ্যমে সরকারি অর্থায়নের আহ্বান জানিয়েছেন নারী নেতৃত্বাধীন এনজিওদের প্রতিনিধিরা।

শনিবার (২৫ জুলাই) ‘যুবসমাজের দক্ষতা বৃদ্ধি ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠনের ভূমিকা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় এ আহ্বান জানানো হয়।

ইয়াং উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেট (ওয়াইডব্লিউডিআরসি) এবং নারী উন্নয়ন শক্তি (এনইউএস) এ কর্মশালার আয়োজন করে। সহযোগিতায় ছিল গ্লোবাল ওয়ার্কফোর্স সার্ভিসেস (জিডব্লিউএস) ও ফোরাম ফর কালচার অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট (এফসিএইচডি)।

ওয়াইডব্লিউডিআরসির সভাকক্ষে আয়োজিত এ কর্মশালায় নারী নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালকরা সভায় অংশ নেন।

সভাপতির বক্তব্যে নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক ড. আফরোজা পারভীন বলেন, নারী নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সংগঠনগুলো যুবসমাজের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছাতে সক্ষম। এর মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, সামাজিক সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাজার-উপযোগী দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল দক্ষতা, আইটি, ফ্রিল্যান্সিং, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, সবুজ কর্মসংস্থান, শান্তি ও সহনশীলতা শিক্ষা, কিশোর গ্যাং, মাদক ও অনলাইন উগ্রবাদ প্রতিরোধ, যুব ও নারী নেতৃত্ব বিকাশ এবং কমিউনিটি পর্যায়ে যুব স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করা প্রয়োজন। এর জন্য নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে একটি জাতীয় কর্মসূচি ও বিশেষ সরকারি তহবিল গঠন করা হোক।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়াইডব্লিউডিআরসির এক্সিকিউটিভ চেয়ারপারসন নুসরাত সুলতানা আফরোজ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনমিতিক সুযোগের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশই তরুণ। কিন্তু এই সম্ভাবনাময় জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনও দক্ষতা, মানসম্মত কর্মসংস্থান এবং ইতিবাচক সামাজিক সম্পৃক্ততার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। এর ফলে বেকারত্ব, হতাশা, মাদকাসক্তি, কিশোর গ্যাং, অনলাইন ঘৃণামূলক প্রচারণা, সহিংসতা ও সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকি বাড়ছে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, দক্ষতার ঘাটতি ও সীমিত কর্মসংস্থান তরুণদের সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং সহিংসতার ঝুঁকি বাড়ায়। অন্যদিকে দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও শান্তি শিক্ষা যুবসমাজকে ইতিবাচক নেতৃত্বে এগিয়ে নিতে নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

যুবসমাজের মধ্যে শান্তি, সহনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি বিষয়ে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করেন নারী উন্নয়ন শক্তির স্বেচ্ছাসেবী জারিন তাসনিম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নবনীতা মহিলা কল্যাণ সমিতির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আতিকা হোসেন রানি, নবারুণ নারী শিক্ষার এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হোসনে আরা ইসলাম এবং ধ্রুবতারা উইমেন্স ফাউন্ডেশনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর রীনা রানী তালুকদার।

বক্তারা বলেন, দেশের শত শত নারী নেতৃত্বাধীন ক্ষুদ্র সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে নারী, যুব ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করলেও পর্যাপ্ত সরকারি অর্থায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার অভাবে তাদের সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। যুব দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় এসব সংগঠনকে সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

তারা মনে করেন, নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলো স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে এবং সরকারি উদ্যোগের অংশীদার হলে যুব উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।

কর্মশালা থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান–

• নারী নেতৃত্বাধীন এনজিওগুলোর মাধ্যমে যুব দক্ষতা উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি জাতীয় তহবিল গঠন,

• যুব কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা উন্নয়নমূলক প্রকল্পে বিশেষ বরাদ্দ,

• জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি-এনজিও অংশীদারিত্ব জোরদার,

• শান্তি, সহনশীলতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধ বিষয়ক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ এবং

• নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ডিজিটাল রূপান্তরে সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা।

বক্তারা আরও বলেন, যুবসমাজে বিনিয়োগ মানেই বাংলাদেশের ভবিষ্যতে বিনিয়োগ। তাই টেকসই উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারী নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সংগঠনগুলোর সঙ্গে সরকারের কার্যকর অংশীদারিত্ব এবং পর্যাপ্ত অর্থায়নের কোনো বিকল্প নেই।

/এফসি/