শিরোনাম

শিশুদের জন্য নতুন নিয়ম মেটার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শিশুদের জন্য নতুন নিয়ম মেটার
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের লোগো

শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি ও এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ২৯টি অঙ্গরাজ্যের করা মামলার নিষ্পত্তিতে সর্বোচ্চ ১৮ বিলিয়ন ডলার দিতে সম্মত হয়েছে মেটা। তবে শুধু আর্থিক ক্ষতিপূরণেই শেষ হচ্ছে না বিষয়টি। অপ্রাপ্তবয়স্কদের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু বড় পরিবর্তন আনতেও রাজি হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সমঝোতা অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ডিফল্টভাবে প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা ব্যবহারের সীমা থাকবে। ৬০ ও ৯০ মিনিট ব্যবহারের পর সতর্কবার্তা দেখানো হবে। এরপর প্রতি ১৫ মিনিট পরপর বিরতি নেওয়ার জন্য দেওয়া হবে বিশেষ প্রম্পট। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম-দুই প্ল্যাটফর্মে কাটানো সময় একসঙ্গে হিসাব করেই এই সীমা নির্ধারণ করা হবে। অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া এই সীমা বাড়ানোর সুযোগ থাকবে না।

শুধু দিনের ব্যবহারেই নয়, রাতের বেলায়ও থাকবে কড়াকড়ি। রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ‘নাইট মোড’-এর আওতায় অপ্রাপ্তবয়স্করা অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবে না। আবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ‘স্কুল মোড’ চালু থাকলে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নোটিফিকেশন ও সরাসরি বার্তা ছাড়া অধিকাংশ নোটিফিকেশন বন্ধ থাকবে।

কিশোরদের অনলাইন অভিজ্ঞতাকে আরও নিয়ন্ত্রিত করতেও বেশ কিছু পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে মেটা। লাইক ও রিঅ্যাকশনের সংখ্যা ডিফল্টভাবে গোপন রাখা, অতিরিক্ত বা চরম মেকআপ ফিল্টার ব্যবহারে বাধা এবং অটোপ্লে বন্ধ করার সুবিধা থাকবে। অভিভাবকেরা চাইলে প্রচলিত ব্যক্তিকেন্দ্রিক অ্যালগরিদমের পরিবর্তে সন্তানের জন্য ‘নন-পার্সোনালাইজড ফিড’ নির্ধারণ করতে পারবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলোর করা মামলায় অভিযোগ ছিল, শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সম্ভাব্য ক্ষতি সম্পর্কে জানার পরও মেটা তাদের প্ল্যাটফর্ম এমনভাবে নকশা করেছে, যাতে তরুণ ব্যবহারকারীরা দীর্ঘসময় সেখানে সক্রিয় থাকে। মেটার বিরুদ্ধে অভিভাবকের অজ্ঞাতে শিশুদের তথ্য সংগ্রহ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘চিলড্রেন্স অনলাইন প্রাইভেসি প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ লঙ্ঘনের অভিযোগও আনা হয়। যদিও প্রস্তাবিত সমঝোতায় মেটা এসব অভিযোগ স্বীকার করেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, সমঝোতার শর্ত বাস্তবায়নে মেটার জন্য সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাগুলোর একটি হতে পারে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই। বিশেষ করে ১৩ বছরের কম বয়সী শিশু কিংবা প্রাপ্তবয়স্কের জন্মতারিখ ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট খোলা কিশোরদের শনাক্ত করতে আরও কার্যকর প্রযুক্তি তৈরি করতে হবে প্রতিষ্ঠানটিকে। বর্তমানে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বয়স যাচাইয়ের জন্য মুখের ছবি বা বায়োমেট্রিক তথ্য, সরকারি পরিচয়পত্র এবং ব্যবহারকারীর অনলাইন আচরণ বিশ্লেষণের মতো পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এসব প্রযুক্তিরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ভুল বয়স শনাক্ত হওয়ার ঝুঁকির পাশাপাশি রয়েছে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে বড় প্রশ্ন।

এই ঝুঁকি এড়াতে ব্যক্তিগত পরিচয় সংরক্ষণ না করেই বয়স যাচাইয়ের বিকল্প প্রযুক্তি নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। সম্ভাব্য একটি পদ্ধতিতে যাচাই শেষে ব্যবহারকারীর প্রকৃত পরিচয় বা জন্মতারিখ সংরক্ষণ না করে শুধু তিনি নির্দিষ্ট বয়সসীমার মধ্যে রয়েছেন কি না-এমন তথ্য বহনকারী একটি ডিজিটাল টোকেন রাখা যেতে পারে। ফলে মেটার এই সমঝোতার সাফল্য শুধু শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কতটা নিয়ন্ত্রণ আনা গেল, তার ওপর নির্ভর করবে না। একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে বয়স যাচাইয়ের নির্ভুলতা, শিশুদের নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা।

/এসবি/