শিরোনাম

ইন্টারনেট থেকে নিজের সব তথ্য মুছে ফেলা কি সম্ভব

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ইন্টারনেট থেকে নিজের সব তথ্য মুছে ফেলা কি সম্ভব
প্রতীকী ছবি

ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিগত জীবনের বড় একটি অংশই ইন্টারনেটনির্ভর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবায় বছরের পর বছর তথ্য জমতে থাকে। তাই চাইলেই ইন্টারনেট থেকে নিজের সব তথ্য একেবারে মুছে ফেলা সহজ নয়। তবে কিছু কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে অনলাইনে নিজের উপস্থিতি কমানো এবং ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা বাড়ানো সম্ভব।

নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাক এডি ইন্টারনেট থেকে নিজের তথ্য সরানোর দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা এবং সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতে অনলাইন থেকে ব্যক্তিগত তথ্য কমানোর কয়েকটি উপায় রয়েছে।

সার্চ ইঞ্জিনে থাকা তথ্য সরান

গুগলসহ বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনে নিজের নাম, ফোন নম্বর বা ই-মেইল ঠিকানা দিয়ে খুঁজলে অনেক সময় ব্যক্তিগত তথ্য বিভিন্ন ওয়েবসাইটে দেখা যায়। ডেটা সংগ্রহ ও বিক্রি করা প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন উৎস থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ করে অনলাইনে প্রকাশ করে থাকে।

এ ধরনের তথ্য সরাতে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে অপসারণের অনুরোধ করা যায়। চাইলে ‘ডিলিট মি’র মতো তথ্য অপসারণ সেবাও ব্যবহার করা যেতে পারে।

পুরোনো ও অপ্রয়োজনীয় অ্যাকাউন্ট বন্ধ করুন

গত এক দশক বা তারও বেশি সময়ে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবায় খোলা পুরোনো অ্যাকাউন্টের অনেকগুলোর কথাই হয়তো মনে নেই। এসব অ্যাকাউন্টের তালিকা তৈরি করে যেগুলো আর ব্যবহার করা হয় না, সেগুলো বন্ধ বা স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা যেতে পারে।

পুরোনো অ্যাকাউন্ট খুঁজে বের করতে পাসওয়ার্ড ম্যানেজারসহ বিভিন্ন টুল কাজে লাগানো যায়। এ ছাড়া ‘হ্যাভ আই বিন পন্ড’ ধরনের সেবার মাধ্যমেও নিজের ই-মেইল ঠিকানা কোনো তথ্য ফাঁসের ঘটনায় যুক্ত হয়েছে কি না, তা যাচাই করা সম্ভব।

অন্যদিকে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের মতো যেসব অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা প্রয়োজন, সেগুলোর গোপনীয়তা সেটিংস শক্তিশালী করে রাখা উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রোফাইল সীমিত বা লক করেও রাখা যায়।

পুরোনো পোস্ট ও ছবি সরিয়ে ফেলুন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বছরের পর বছর ধরে প্রকাশ করা পোস্ট, ছবি ও অন্যান্য কনটেন্ট একসঙ্গে মুছে ফেলা বেশ সময়সাপেক্ষ। বিশেষ করে একাধিক প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত পোস্ট করলে কাজটি আরও কঠিন হয়ে যায়।

তবে বিভিন্ন টুল ব্যবহার করে পুরোনো পোস্ট মুছে ফেলার কাজ সহজ করা যায়। একই সঙ্গে অন্যরা প্রকাশ করা ছবি বা পোস্টে আপনার নাম বা ট্যাগ থাকলে সেগুলোও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে ট্যাগ সরিয়ে দিতে পারেন অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পোস্ট বা ছবি মুছে ফেলার অনুরোধ করতে পারেন।

সব তথ্য মুছে ফেলা সম্ভব নয়

ইন্টারনেটে নিজের ডিজিটাল উপস্থিতি অনেকটাই কমানো গেলেও সব ধরনের তথ্য পুরোপুরি মুছে ফেলা সম্ভব নয়। জন্মনিবন্ধন, ভোটার তালিকা বা সরকারি বিভিন্ন নথির মতো কিছু তথ্য নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রয়োজনের কারণে সংরক্ষিত থাকে।

তাই ইন্টারনেট থেকে নিজের ডিজিটাল পদচিহ্ন শতভাগ মুছে ফেলার নিশ্চয়তা নেই। তবে পুরোনো অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা, অপ্রয়োজনীয় পোস্ট ও তথ্য সরানো এবং গোপনীয়তা সেটিংস শক্তিশালী করার মাধ্যমে অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্যের উপস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

/এমআর/