শিরোনাম

সুপারকম্পিউটারে যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলল চীন

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
সুপারকম্পিউটারে যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলল চীন
চীনের লাইনশাইন কম্পিউটার সিস্টেম। ছবি: এপি

প্রযুক্তিগত সক্ষমতার দৌড়ে এক নতুন মাইলফলক অর্জন করেছে চীন। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারের তালিকায় এবার শীর্ষস্থান দখল করেছে দেশটির ‘লাইনশাইন’ নামের একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার ব্যবস্থা। এর ফলে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে উন্নত কম্পিউটিং প্রযুক্তিতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে বেইজিং।

জার্মানির হামবুর্গে প্রকাশিত সর্বশেষ ‘শীর্ষ ৫০০’ র‍্যাংকিংয়ে দেখা গেছে, চীনের শেনঝেনে অবস্থিত ন্যাশনাল সুপারকম্পিউটিং সেন্টারের লাইনশাইন বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম সুপারকম্পিউটার। এটি প্রতি সেকেন্ডে ২ দশমিক ১৯৮ এক্সাফ্লপস গতিতে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করতে পারে। যা যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় সুপারকম্পিউটার ‘এল ক্যাপিটান’-এর তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি সক্ষম।

এর আগে, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে বিশ্বের দ্রুততম সুপারকম্পিউটারের স্বীকৃতি ধরে রেখেছিল এল ক্যাপিটান। তবে নতুন র‍্যাংকিংয়ে সেটি দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে। তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রন্টিয়ার, চতুর্থ স্থানে অরোরা এবং পঞ্চম স্থানে জার্মানির জুপিটার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অর্জনের গুরুত্ব কেবল গতি বা কর্মক্ষমতায় সীমাবদ্ধ নয়। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর চিপ ও প্রযুক্তি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের মধ্যেও চীন নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।

শীর্ষ ৫০০ তালিকার অন্যতম আয়োজক এবং টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক জ্যাক ডংগারা বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কিছু ক্ষেত্রে চীনের প্রযুক্তি সংগ্রহকে জটিল করলেও দেশটিকে নিজস্ব গবেষণা ও উদ্ভাবনে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করেছে। লাইনশাইনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, এটি সম্পূর্ণ সিপিইউভিত্তিক স্থাপত্যে নির্মিত। বর্তমানে অধিকাংশ উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্ল্যাটফর্ম জিপিইউনির্ভর হলেও শুধুমাত্র সিপিইউ ব্যবহার করে ২ এক্সাফ্লপসের বেশি কর্মক্ষমতা অর্জন প্রযুক্তি বিশ্বে নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

যদিও অনেক বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই যুগে শীর্ষ ৫০০ তালিকার গুরুত্ব কিছুটা কমেছে, কারণ মাইক্রোসফট, গুগল, অ্যামাজন কিংবা এক্সএআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের বিশাল কম্পিউটিং অবকাঠামো এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয় না। তবুও বৈজ্ঞানিক গবেষণা, আবহাওয়া পূর্বাভাস, মহাকাশ প্রযুক্তি, পারমাণবিক গবেষণা এবং জাতীয় নিরাপত্তা খাতে সুপারকম্পিউটারের সক্ষমতা এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।

এদিকে, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এআই ইনডেক্স রিপোর্ট ২০২৬’ অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবধান দ্রুত কমিয়ে আনছে চীন। উন্নত মডেল উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে থাকলেও পেটেন্ট, শিল্প-রোবট এবং প্রযুক্তি উৎপাদন সক্ষমতায় চীনের অগ্রগতি বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

/এসবি/