শিরোনাম

ভ্রমণে অচেনা পরিবেশে ঘুম আসছে না? জানুন সমাধান

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ভ্রমণে অচেনা পরিবেশে ঘুম আসছে না? জানুন সমাধান
প্রতীকী ছবি

অনেকেই নতুন জায়গায় গিয়ে ঘুমাতে পারেন না। এজন্য কোনো দেশে বা দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণে গেলে বেশ অস্বস্তি পোহাতে হয়। সারা দিনের ভ্রমণ ক্লান্তির পর ঘুমের জন্য বিছানায় গিয়েও এপাশ-ওপাশ করতে হয়। আবার কারও ঘুম এলেও বারবার ঘুম ভেঙে যায়। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। নতুন পরিবেশে প্রথম রাতের ঘুম অনেকেরই স্বাভাবিক হয় না। বিশেষজ্ঞরা একে ‘ফার্স্ট নাইট ইফেক্ট’ বলে থাকেন। অর্থাৎ, নতুন পরিবেশে মস্তিষ্কের একটি অংশ কিছুটা সতর্ক অবস্থায় থাকে।

প্রথমেই গভীর ঘুমের আশা করবেন না

নতুন জায়গায় ভ্রমণে গিয়ে যদি মনে করেন আজ জম্পেশ ঘুম দেবো, তাহলে ভুল করছেন। এতে আপনার মনে উল্টো চাপ তৈরি হতে পারে। প্রথম রাতে কিছুটা কম ঘুম হওয়া স্বাভাবিক। তাই ঘুম না আসা নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়া যাবে না। বরং শরীরকে নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময় দিন।

অভ্যাস ধরে রাখুন

বাড়িতে ঘুমানোর আগে বই পড়া, গান শোনা বা যা যা করতেন, ভ্রমণেও সেগুলো ধরে রাখার চেষ্টা করুন। পরিচিত রুটিন অনেক সময় মস্তিষ্ককে সংকেত দেয় যে, এখন বিশ্রামের সময়।

পরিবেশ নিজের মতো করে নিন

ভ্রমণে গিয়ে যে হোটেলে উঠেছেন, সেখানে অনেক সময় আলো বেশি থাকতে পারে। আবার ঘর বেশি ঠান্ডা বা গরমও লাগতে পারে। এক্ষেত্রে ঘুমানোর আগে পর্দা টেনে দিতে পারেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত কম্বল ব্যবহার করা বা কক্ষের তাপমাত্রা ঠিক করে নেওয়া আপনার জন্য স্বস্তি হতে পারে।

পরিচিত কিছু সঙ্গে রাখুন

নতুন জায়গায় যাদের ঘুম আসে না, তারা ভ্রমণে গেলে সঙ্গে করে বালিশ না হলেও বালিশের কভার, ছোট একটি কম্বল বা পরিচিত কোনো জিনিস সঙ্গে রাখতে পারেন। এগুলো শুনতে হাস্যকর মনে হলেও নতুন পরিবেশে পরিচিত গন্ধ বা পরিচিত অনুভূতি স্বস্তি এনে দিতে পারে।

ঘুমানোর আগে ভারী খাবারকে না বলুন

নতুন দেশে গিয়ে স্থানীয় খাবার খাওয়ার আগ্রহ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে সেটা দিনের বেলায় রাখুন। ঘুমাতে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত ভারী বা মশলাদার খাবার খেলে অস্বস্তি হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ ভ্রমণের পর শরীর ক্লান্ত থাকলে হালকা খাবার বেশি আরামদায়ক হয়।

ফোন বন্ধ রাখুন

ঘুম না এলে অনেকেই ফোন হাতে নিয়ে সময় কাটানো শুরু করেন। কিন্তু এতে ঘুম আরও পিছিয়ে যেতে পারে। এর পরিবর্তে আলো কমিয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া, বই পড়া বা শান্ত কোনো অডিও শোনা যেতে পারে।

দিনের বেলা বাইরে বের হন

নতুন জায়গায় গিয়ে দিনের পুরোটা সময় ঘরে কাটালে রাতে ঘুমের সমস্যা হতে পারে। এক্ষেত্রে দিনে বাইরে থেকে ঘুরে আসুন। সম্ভব হলে কিছুটা হাঁটাহাঁটি করুন। দিনের আলোতে সময় কাটানো শরীরকে নতুন পরিবেশ ও সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করতে পারে।

বার বার ঘড়ি দেখবেন না

রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর বারবার ঘড়ি দেখছেন? এটি আপনার পরিচিত অভ্যাস হলেও এর ফলে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে। কখন ঘুম আসবে, তা নিয়ে চিন্তা করলে মস্তিস্ক থেকে ঘুম উধাও হয়ে যেতে পারে।

প্রয়োজনে হেডফোন ব্যবহার করুন

নতুন জায়গার শব্দ বেশি হলে ঘুমের সমস্যা হতে পারে। এক্ষেত্রে নয়েজ-ক্যানসেলিং হেডফোন ব্যবহার করতে পারেন।

নতুন জায়গায় গিয়েই ঘুমিয়ে পড়বেন না

দীর্ঘ যাত্রার পর বিছানা দেখলেই ঘুমানোর ইচ্ছা হতে পারে। কিন্তু রাত না হলে ভুলেও ঘুমাতে যাবেন না। এতে রাতে আর ঘুম নাও আসতে পারে। এর পরিবর্তে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন, যাতে শরীর দ্রুত নতুন সময়সূচির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। তাহলে রাতের ঘুম তুলনামূলক স্বাভাবিক হবে।

অনেক সময় ঘুম না আসা নিয়ে দুশ্চিন্তাই ঘুমের ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। সকালে কাজ আছে, এখন ঘুম না এলে মিস করবো-এমন চিন্তা মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করতে পারে। তাই যত সম্ভব এমন চিন্তা বাদ দিন।

/জেএইচ/