শিরোনাম

এআই এবার নিয়ন্ত্রণ করবে আপনার স্বপ্নকে

সিটিজেন ডেস্ক
এআই এবার নিয়ন্ত্রণ করবে আপনার স্বপ্নকে

কখনও কি ভেবেছেন, ঘুমের মধ্যে দেখা স্বপ্নও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব? দুঃস্বপ্নের মাঝখানে হঠাৎ করেই যদি তা বদলে যায় সুন্দর কোনও অভিজ্ঞতায়, তবে কেমন হবে? শুনতে অবাক লাগলেও, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে এমন প্রযুক্তির দাবিই করেছে একটি মার্কিন স্টার্টআপ।

প্রফেটিক এআই নামের ওই প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তারা এমন একটি বিশেষ ডিভাইস তৈরি করেছে যা মানুষের স্বপ্নকে প্রভাবিত করতে সক্ষম।

সংস্থাটির দাবি, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘুমের মধ্যেই ব্যবহারকারী বুঝতে পারবেন যে তিনি স্বপ্ন দেখছেন এবং চাইলে সেই স্বপ্নের কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণও করতে পারবেন।

বর্তমানে এআই প্রযুক্তি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নানা ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। অফিসের কাজ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত কাজে এর ব্যবহার বাড়ছে দ্রুতগতিতে। এবার সেই প্রযুক্তিই প্রবেশ করতে যাচ্ছে মানুষের স্বপ্নের জগতে এমনটাই দাবি করছে প্রফেটিক এআই।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা দুটি নতুন ওয়্যারেবল ডিভাইস তৈরি করেছে ‘ডুয়াল’ এবং ‘ফেজ’। ডিভাইসগুলো দেখতে অনেকটা মাথায় পরার ব্যান্ডের মতো। এই ডিভাইসগুলোর সঙ্গে একটি তার যুক্ত থাকে। ঘুমানোর সময় শুধু ডিভাইসটি মাথায় পরে থাকলেই এটি কাজ শুরু করবে। ইনবিল্ট এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিভাইসটি ব্যবহারকারীর স্বপ্নের ধরন শনাক্ত করে তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।

সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, এই ডিভাইসগুলো মূলত ‘লুসিড ড্রিম’ তৈরিতে সহায়তা করে। অর্থাৎ, ঘুমের মধ্যেও ব্যবহারকারী সচেতন থাকতে পারবেন যে,তিনি স্বপ্ন দেখছেন। শুধু তাই নয়, স্বপ্নের ভেতরের কিছু পরিস্থিতিও নিজের ইচ্ছামতো পরিবর্তন করার সুযোগ মিলবে।

এই প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা হয়েছে ট্রান্সক্রেনিয়াল ফোকাসড আল্ট্রাসাউন্ড ও এআই সিস্টেম। ডিভাইসটি ঘুমের সময় মস্তিষ্কের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স অংশে আল্ট্রাসনিক সিগন্যাল পাঠাবে। মস্তিষ্কের এই অংশটি সিদ্ধান্ত নেওয়া, চিন্তা করা ও স্বপ্ন দেখার সঙ্গে সম্পর্কিত। সাধারণত গভীর ঘুমের সময় এটি কম সক্রিয় থাকে। তবে ডিভাইসটি সেই অংশকে সক্রিয় করে তুলতে পারে বলেই দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এছাড়াও ডিভাইসটিতে রয়েছে ইলেকট্রোএনসেফালোগ্রাম (ইইজি) সেন্সর। যা ঘুমের সময় মস্তিষ্কের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করবে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর ঘুম ও স্বপ্নের ধরণ বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে প্রফেটিক এআই।

দামের দিক থেকেও প্রযুক্তিটি বেশ ব্যয়বহুল। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ‘প্রফেটিক ডুয়াল’-এর দাম রাখা হয়েছে ৪৪৯ মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫২ হাজার টাকা। অন্যদিকে ‘প্রফেটিক ফেজ’-এর দাম ১ হাজার ২৯৯ মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় দেড় লাখ টাকার বেশি।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ডিভাইস দুটি নিয়ে এখনও গবেষণা ও পরীক্ষামূলক কাজ চলছে।

তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘ডুয়াল’ মডেলটি চলতি বছরের শেষ দিকে বাজারে আসতে পারে। আর ‘ফেজ’ সংস্করণটি বাজারে আসতে পারে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে।

তবে এ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশ ।

তাদের মতে, মানুষের স্বপ্ন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা এখনও অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। তাই বাস্তবে এই প্রযুক্তি কতটা কার্যকর হবে, তা জানতে আরও সময় লাগবে।

/এসবি/