মেসির বিদায়: আর্জেন্টিনার ‘নাম্বার টেন’ হওয়ার দৌড়ে ৩ তরুণ

মেসির বিদায়: আর্জেন্টিনার ‘নাম্বার টেন’ হওয়ার দৌড়ে ৩ তরুণ
সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক
-CznNewsLab-32d440.jpg)
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নিয়েছেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসি। সোমবার (৩১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ পথচলার ইতি টানেন ৩৯ বছর বয়সী এ মহাতারকা। এর মধ্য দিয়ে অবসান ঘটলো আকাশী-সাদা জার্সিতে দুই দশকের অবিশ্বাস্য অধ্যায়ের।
বিদায়লগ্নে নিজের হাতে লেখা একটি নোট প্রকাশ করেন মেসি। তিনি জানান, অনেক ভেবেচিন্তেই জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সিদ্ধান্তটি তাকে ভেতর থেকে কষ্ট দিয়েছে এবং এখনও দিচ্ছে। তবে এখনই সরে দাঁড়ানোর সঠিক সময় বলে মনে করছেন তিনি।
দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনার আইকনিক ১০ নম্বর জার্সিটি ছিল মেসির সমার্থক। দিয়েগো ম্যারাডোনার উত্তরসূরি হিসেবে এ জার্সির মর্যাদা তিনি নিয়ে গেছেন অন্য এক উচ্চতায়। দেশের হয়ে ২০৭ ম্যাচে ১২৫টি গোল করার পাশাপাশি আর্জেন্টিনাকে জিতিয়েছেন একটি বিশ্বকাপ ও দুটি কোপা আমেরিকার শিরোপা।
বয়স ৩৯ ছুঁলেও শেষ বিশ্বকাপে দলের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন তিনিই। ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে নেমে নিজে করেন ৮টি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করান আরও ৪টি। অর্থাৎ টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার করা ১৯টি গোলের ৬৩ শতাংশেই (১২টি গোল) ছিল এ অধিনায়কের সরাসরি অবদান। মেসির বিদায়ে আর্জেন্টিনা ফুটবলে এখন নতুন এক যুগের সূচনা। ১০ নম্বর জার্সির যে ভার আর আবেগ মেসি রেখে গেছেন, তা বহন করা যেকোনো ফুটবলারের জন্যই বিশাল চ্যালেঞ্জ। মেসির এ বিশাল শূন্যতা কাটিয়ে দলকে সামনে এগিয়ে নিতে এবং ঐতিহাসিক ১০ নম্বর জার্সির দায়িত্ব নিতে ইতোমধ্যেই আলোচনায় উঠে এসেছে তিন তরুণ তারকার নাম।

হুলিয়ান আলভারেজ
মেসির উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে প্রথম দিকেই রয়েছে হুলিয়ান আলভারেজের নাম। ২০২৪ সালের আগস্টে ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে রেকর্ড ১০ কোটি ৪ লাখ ডলার ট্রান্সফার ফি-তে আতলেতিকো মাদ্রিদে যোগ দেন এ স্ট্রাইকার। স্প্যানিশ ফুটবলে নিজের প্রথম মৌসুমেই লিগের ৩০ ম্যাচে মাঠে নেমে ১৭ গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করে নিজের জাত চেনান তিনি।
জাতীয় দলের হয়ে সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে শুরুতে একাদশে অনিয়মিত হলেও জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মেসির সঙ্গে আক্রমণভাগের দায়িত্ব সামলান আলভারেজ। এরপর সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে তার চমৎকার ডান পায়ের শটেই আসে ম্যাচের একমাত্র জয়সূচক গোলটি। বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ কিছুটা কম হলেও ক্লাব ফুটবলে টানা পারফর্ম করে নিজেকে ফুটিয়ে তুলেছেন আলভারেজ। মেসির বিদায়ের পর আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ সামলানোর অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে তাকেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
-CznNewsLab-faedb5.jpg)
জুলিয়ানো সিমিওনে
মেসির যোগ্য উত্তরসূরি হওয়ার লড়াইয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে ২৩ বছর বয়সী আক্রমণভাগের খেলোয়াড় জুলিয়ানো সিমিওনের নাম। ২০২৪ সালে প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পান। ২০২৫ সালের মার্চে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের বিপক্ষে গোল করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের শক্ত অবস্থানের জানান দেন তিনি। সেই ম্যাচে ৪-১ গোলে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপের মঞ্চেও সিমিওনে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ডান মিডফিল্ডে ৭১ মিনিট খেলে জাতীয় দলের হয়ে তার অভিষেক হয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনালেও একই পজিশনে খেলে ডান প্রান্ত দিয়ে মেসির সঙ্গে চমৎকার সমন্বয় গড়ে তোলেন তিনি। ফাইনালের মহা লড়াইয়েও ৫০ মিনিট মাঠে ছিলেন এই তরুণ।
জাতীয় দলের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও বর্তমানে দুরন্ত ফর্মে আছেন সিমিওনে। সম্প্রতি ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ১০ জনের দল নিয়েও আতলেতিকোকে ২-২ গোলে ড্র করাতে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে দলের নায়ক হয়ে ওঠেন তিনি।
-CznNewsLab-0cd55d.jpg)
নিকো পাজ
তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় উত্তরসূরি হিসেবে যাকে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে, তিনি ২১ বছর বয়সী অ্যাটাকার নিকো পাজ। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলের সবচেয়ে কম বয়সী সদস্য ছিলেন এ তরুণ।
২০২৪ সালে জাতীয় দলে অভিষেক হওয়া পাজ বিশ্বকাপে লম্বা সময় খেলার সুযোগ না পেলেও বদলি হিসেবে নেমে নিজের অসাধারণ সৃজনশীলতার ঝলক দেখিয়েছেন। তবে মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়েও মেসির কাছে থেকে সরাসরি শিখতে পারাটাই ছিল তার বড় প্রাপ্তি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে মেসির দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকের পর ৮০ মিনিটে তার বদলি হিসেবেই মাঠে নেমেছিলেন পাজ। এরপর জর্ডানের বিপক্ষে শুরু থেকেই একাদশে জায়গা পান এবং আলভারেজ ও লাওতারো মার্তিনেসের ঠিক পেছনে থেকে আক্রমণ সাজানোর মূল দায়িত্ব সামলান।
ক্লাব ফুটবলেও চমৎকার সময় পার করছেন পাজ। ইতালিয়ান ক্লাব কোমোর হয়ে গত মৌসুমে সিরি আ-তে ১২টি গোল করার পাশাপাশি ৬টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। এবার তার সামনে নিজেকে প্রমাণের আরও বড় মঞ্চ। কারণ প্রথমবারের মতো ইউরোপ সেরা টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলতে যাচ্ছে তার দল।
তবে দিনশেষে মেসির মতো ফুটবলার দ্বিতীয়টি খুঁজে পাওয়া আর্জেন্টিনার জন্য প্রায় অসম্ভব। তাই তার রেখে যাওয়া বিশাল শূন্যতা পূরণে একক কোনো ফুটবলারের ওপর চাপ না দিয়ে আলভারেজ, সিমিওনে ও পাজদের সম্মিলিত শক্তির ওপরই ভরসা রাখতে হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
-CznNewsLab-32d440.jpg)
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নিয়েছেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসি। সোমবার (৩১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ পথচলার ইতি টানেন ৩৯ বছর বয়সী এ মহাতারকা। এর মধ্য দিয়ে অবসান ঘটলো আকাশী-সাদা জার্সিতে দুই দশকের অবিশ্বাস্য অধ্যায়ের।
বিদায়লগ্নে নিজের হাতে লেখা একটি নোট প্রকাশ করেন মেসি। তিনি জানান, অনেক ভেবেচিন্তেই জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সিদ্ধান্তটি তাকে ভেতর থেকে কষ্ট দিয়েছে এবং এখনও দিচ্ছে। তবে এখনই সরে দাঁড়ানোর সঠিক সময় বলে মনে করছেন তিনি।
দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনার আইকনিক ১০ নম্বর জার্সিটি ছিল মেসির সমার্থক। দিয়েগো ম্যারাডোনার উত্তরসূরি হিসেবে এ জার্সির মর্যাদা তিনি নিয়ে গেছেন অন্য এক উচ্চতায়। দেশের হয়ে ২০৭ ম্যাচে ১২৫টি গোল করার পাশাপাশি আর্জেন্টিনাকে জিতিয়েছেন একটি বিশ্বকাপ ও দুটি কোপা আমেরিকার শিরোপা।
বয়স ৩৯ ছুঁলেও শেষ বিশ্বকাপে দলের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন তিনিই। ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে নেমে নিজে করেন ৮টি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করান আরও ৪টি। অর্থাৎ টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার করা ১৯টি গোলের ৬৩ শতাংশেই (১২টি গোল) ছিল এ অধিনায়কের সরাসরি অবদান। মেসির বিদায়ে আর্জেন্টিনা ফুটবলে এখন নতুন এক যুগের সূচনা। ১০ নম্বর জার্সির যে ভার আর আবেগ মেসি রেখে গেছেন, তা বহন করা যেকোনো ফুটবলারের জন্যই বিশাল চ্যালেঞ্জ। মেসির এ বিশাল শূন্যতা কাটিয়ে দলকে সামনে এগিয়ে নিতে এবং ঐতিহাসিক ১০ নম্বর জার্সির দায়িত্ব নিতে ইতোমধ্যেই আলোচনায় উঠে এসেছে তিন তরুণ তারকার নাম।

হুলিয়ান আলভারেজ
মেসির উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে প্রথম দিকেই রয়েছে হুলিয়ান আলভারেজের নাম। ২০২৪ সালের আগস্টে ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে রেকর্ড ১০ কোটি ৪ লাখ ডলার ট্রান্সফার ফি-তে আতলেতিকো মাদ্রিদে যোগ দেন এ স্ট্রাইকার। স্প্যানিশ ফুটবলে নিজের প্রথম মৌসুমেই লিগের ৩০ ম্যাচে মাঠে নেমে ১৭ গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করে নিজের জাত চেনান তিনি।
জাতীয় দলের হয়ে সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে শুরুতে একাদশে অনিয়মিত হলেও জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মেসির সঙ্গে আক্রমণভাগের দায়িত্ব সামলান আলভারেজ। এরপর সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে তার চমৎকার ডান পায়ের শটেই আসে ম্যাচের একমাত্র জয়সূচক গোলটি। বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ কিছুটা কম হলেও ক্লাব ফুটবলে টানা পারফর্ম করে নিজেকে ফুটিয়ে তুলেছেন আলভারেজ। মেসির বিদায়ের পর আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ সামলানোর অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে তাকেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
-CznNewsLab-faedb5.jpg)
জুলিয়ানো সিমিওনে
মেসির যোগ্য উত্তরসূরি হওয়ার লড়াইয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে ২৩ বছর বয়সী আক্রমণভাগের খেলোয়াড় জুলিয়ানো সিমিওনের নাম। ২০২৪ সালে প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পান। ২০২৫ সালের মার্চে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের বিপক্ষে গোল করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের শক্ত অবস্থানের জানান দেন তিনি। সেই ম্যাচে ৪-১ গোলে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপের মঞ্চেও সিমিওনে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ডান মিডফিল্ডে ৭১ মিনিট খেলে জাতীয় দলের হয়ে তার অভিষেক হয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনালেও একই পজিশনে খেলে ডান প্রান্ত দিয়ে মেসির সঙ্গে চমৎকার সমন্বয় গড়ে তোলেন তিনি। ফাইনালের মহা লড়াইয়েও ৫০ মিনিট মাঠে ছিলেন এই তরুণ।
জাতীয় দলের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও বর্তমানে দুরন্ত ফর্মে আছেন সিমিওনে। সম্প্রতি ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ১০ জনের দল নিয়েও আতলেতিকোকে ২-২ গোলে ড্র করাতে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে দলের নায়ক হয়ে ওঠেন তিনি।
-CznNewsLab-0cd55d.jpg)
নিকো পাজ
তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় উত্তরসূরি হিসেবে যাকে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে, তিনি ২১ বছর বয়সী অ্যাটাকার নিকো পাজ। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলের সবচেয়ে কম বয়সী সদস্য ছিলেন এ তরুণ।
২০২৪ সালে জাতীয় দলে অভিষেক হওয়া পাজ বিশ্বকাপে লম্বা সময় খেলার সুযোগ না পেলেও বদলি হিসেবে নেমে নিজের অসাধারণ সৃজনশীলতার ঝলক দেখিয়েছেন। তবে মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়েও মেসির কাছে থেকে সরাসরি শিখতে পারাটাই ছিল তার বড় প্রাপ্তি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে মেসির দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকের পর ৮০ মিনিটে তার বদলি হিসেবেই মাঠে নেমেছিলেন পাজ। এরপর জর্ডানের বিপক্ষে শুরু থেকেই একাদশে জায়গা পান এবং আলভারেজ ও লাওতারো মার্তিনেসের ঠিক পেছনে থেকে আক্রমণ সাজানোর মূল দায়িত্ব সামলান।
ক্লাব ফুটবলেও চমৎকার সময় পার করছেন পাজ। ইতালিয়ান ক্লাব কোমোর হয়ে গত মৌসুমে সিরি আ-তে ১২টি গোল করার পাশাপাশি ৬টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। এবার তার সামনে নিজেকে প্রমাণের আরও বড় মঞ্চ। কারণ প্রথমবারের মতো ইউরোপ সেরা টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলতে যাচ্ছে তার দল।
তবে দিনশেষে মেসির মতো ফুটবলার দ্বিতীয়টি খুঁজে পাওয়া আর্জেন্টিনার জন্য প্রায় অসম্ভব। তাই তার রেখে যাওয়া বিশাল শূন্যতা পূরণে একক কোনো ফুটবলারের ওপর চাপ না দিয়ে আলভারেজ, সিমিওনে ও পাজদের সম্মিলিত শক্তির ওপরই ভরসা রাখতে হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

মেসির বিদায়: আর্জেন্টিনার ‘নাম্বার টেন’ হওয়ার দৌড়ে ৩ তরুণ
সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক
-CznNewsLab-32d440.jpg)
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নিয়েছেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসি। সোমবার (৩১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ পথচলার ইতি টানেন ৩৯ বছর বয়সী এ মহাতারকা। এর মধ্য দিয়ে অবসান ঘটলো আকাশী-সাদা জার্সিতে দুই দশকের অবিশ্বাস্য অধ্যায়ের।
বিদায়লগ্নে নিজের হাতে লেখা একটি নোট প্রকাশ করেন মেসি। তিনি জানান, অনেক ভেবেচিন্তেই জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সিদ্ধান্তটি তাকে ভেতর থেকে কষ্ট দিয়েছে এবং এখনও দিচ্ছে। তবে এখনই সরে দাঁড়ানোর সঠিক সময় বলে মনে করছেন তিনি।
দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনার আইকনিক ১০ নম্বর জার্সিটি ছিল মেসির সমার্থক। দিয়েগো ম্যারাডোনার উত্তরসূরি হিসেবে এ জার্সির মর্যাদা তিনি নিয়ে গেছেন অন্য এক উচ্চতায়। দেশের হয়ে ২০৭ ম্যাচে ১২৫টি গোল করার পাশাপাশি আর্জেন্টিনাকে জিতিয়েছেন একটি বিশ্বকাপ ও দুটি কোপা আমেরিকার শিরোপা।
বয়স ৩৯ ছুঁলেও শেষ বিশ্বকাপে দলের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন তিনিই। ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে নেমে নিজে করেন ৮টি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করান আরও ৪টি। অর্থাৎ টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার করা ১৯টি গোলের ৬৩ শতাংশেই (১২টি গোল) ছিল এ অধিনায়কের সরাসরি অবদান। মেসির বিদায়ে আর্জেন্টিনা ফুটবলে এখন নতুন এক যুগের সূচনা। ১০ নম্বর জার্সির যে ভার আর আবেগ মেসি রেখে গেছেন, তা বহন করা যেকোনো ফুটবলারের জন্যই বিশাল চ্যালেঞ্জ। মেসির এ বিশাল শূন্যতা কাটিয়ে দলকে সামনে এগিয়ে নিতে এবং ঐতিহাসিক ১০ নম্বর জার্সির দায়িত্ব নিতে ইতোমধ্যেই আলোচনায় উঠে এসেছে তিন তরুণ তারকার নাম।

হুলিয়ান আলভারেজ
মেসির উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে প্রথম দিকেই রয়েছে হুলিয়ান আলভারেজের নাম। ২০২৪ সালের আগস্টে ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে রেকর্ড ১০ কোটি ৪ লাখ ডলার ট্রান্সফার ফি-তে আতলেতিকো মাদ্রিদে যোগ দেন এ স্ট্রাইকার। স্প্যানিশ ফুটবলে নিজের প্রথম মৌসুমেই লিগের ৩০ ম্যাচে মাঠে নেমে ১৭ গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করে নিজের জাত চেনান তিনি।
জাতীয় দলের হয়ে সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে শুরুতে একাদশে অনিয়মিত হলেও জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মেসির সঙ্গে আক্রমণভাগের দায়িত্ব সামলান আলভারেজ। এরপর সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে তার চমৎকার ডান পায়ের শটেই আসে ম্যাচের একমাত্র জয়সূচক গোলটি। বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ কিছুটা কম হলেও ক্লাব ফুটবলে টানা পারফর্ম করে নিজেকে ফুটিয়ে তুলেছেন আলভারেজ। মেসির বিদায়ের পর আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ সামলানোর অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে তাকেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
-CznNewsLab-faedb5.jpg)
জুলিয়ানো সিমিওনে
মেসির যোগ্য উত্তরসূরি হওয়ার লড়াইয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে ২৩ বছর বয়সী আক্রমণভাগের খেলোয়াড় জুলিয়ানো সিমিওনের নাম। ২০২৪ সালে প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পান। ২০২৫ সালের মার্চে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের বিপক্ষে গোল করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের শক্ত অবস্থানের জানান দেন তিনি। সেই ম্যাচে ৪-১ গোলে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপের মঞ্চেও সিমিওনে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ডান মিডফিল্ডে ৭১ মিনিট খেলে জাতীয় দলের হয়ে তার অভিষেক হয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনালেও একই পজিশনে খেলে ডান প্রান্ত দিয়ে মেসির সঙ্গে চমৎকার সমন্বয় গড়ে তোলেন তিনি। ফাইনালের মহা লড়াইয়েও ৫০ মিনিট মাঠে ছিলেন এই তরুণ।
জাতীয় দলের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও বর্তমানে দুরন্ত ফর্মে আছেন সিমিওনে। সম্প্রতি ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ১০ জনের দল নিয়েও আতলেতিকোকে ২-২ গোলে ড্র করাতে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে দলের নায়ক হয়ে ওঠেন তিনি।
-CznNewsLab-0cd55d.jpg)
নিকো পাজ
তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় উত্তরসূরি হিসেবে যাকে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে, তিনি ২১ বছর বয়সী অ্যাটাকার নিকো পাজ। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলের সবচেয়ে কম বয়সী সদস্য ছিলেন এ তরুণ।
২০২৪ সালে জাতীয় দলে অভিষেক হওয়া পাজ বিশ্বকাপে লম্বা সময় খেলার সুযোগ না পেলেও বদলি হিসেবে নেমে নিজের অসাধারণ সৃজনশীলতার ঝলক দেখিয়েছেন। তবে মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়েও মেসির কাছে থেকে সরাসরি শিখতে পারাটাই ছিল তার বড় প্রাপ্তি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে মেসির দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকের পর ৮০ মিনিটে তার বদলি হিসেবেই মাঠে নেমেছিলেন পাজ। এরপর জর্ডানের বিপক্ষে শুরু থেকেই একাদশে জায়গা পান এবং আলভারেজ ও লাওতারো মার্তিনেসের ঠিক পেছনে থেকে আক্রমণ সাজানোর মূল দায়িত্ব সামলান।
ক্লাব ফুটবলেও চমৎকার সময় পার করছেন পাজ। ইতালিয়ান ক্লাব কোমোর হয়ে গত মৌসুমে সিরি আ-তে ১২টি গোল করার পাশাপাশি ৬টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। এবার তার সামনে নিজেকে প্রমাণের আরও বড় মঞ্চ। কারণ প্রথমবারের মতো ইউরোপ সেরা টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলতে যাচ্ছে তার দল।
তবে দিনশেষে মেসির মতো ফুটবলার দ্বিতীয়টি খুঁজে পাওয়া আর্জেন্টিনার জন্য প্রায় অসম্ভব। তাই তার রেখে যাওয়া বিশাল শূন্যতা পূরণে একক কোনো ফুটবলারের ওপর চাপ না দিয়ে আলভারেজ, সিমিওনে ও পাজদের সম্মিলিত শক্তির ওপরই ভরসা রাখতে হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।








