শিরোনাম

মরক্কোর বিপক্ষে ড্রয়ে শুরু ব্রাজিলের হেক্সা মিশন

সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক
সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক
মরক্কোর বিপক্ষে ড্রয়ে শুরু ব্রাজিলের হেক্সা মিশন
বল দখলের লড়াইয়ে ব্রাজিলের অধিনায়ক মার্কিনিওস ও মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি

ব্রাজিল বিশ্বকাপের প্রথম দুই আসর শুরু করেছিল হার দিয়ে। এরপর ১৯৩৮ বিশ্বকাপ থেকে প্রথম ম্যাচে হারেনি তারা। এবার ব্রাজিলের ৯২ বছরের সেই রেকর্ড ভাঙতে মরিয়া ছিল মরক্কো। ‘সি’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রথমে এগিয়েও গিয়েছিল মরক্কো। তবে ভিনিসিয়ুস সমতা ফেরান। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র নিয়েই মাঠ ছেড়েছে দুই দল।

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ব্রাজিল-মরক্কো দুই দলই খেলতে নামে ৪-২-৩-১ ফরমেশনে। অনুমিতভাবেই ব্রাজিলের একাদশে ছিলেন না নেইমার। শুরুতে হাই প্রেসিংয়ের মাধ্যমে ব্রাজিলের রক্ষণকে চাপে রাখে মরক্কো। ষষ্ঠ মিনিটে গোলের জন্য প্রথম শট নেয় মরক্কো। পরের মিনিটে ডানপ্রান্ত দিয়ে হাকিমি শট নিলেও তা যায় পোস্টের অনেকটা বাইরে দিয়ে। নবম মিনিটে রাফিনিয়া শট নিলেও তা মরক্কোর এক খেলোয়াড়ের গায়ে লাগে।

ম্যাচের ১৪ মিনিটে বলার মতো আক্রমণ করে ব্রাজিল। মাঠের বাঁ-প্রান্ত থেকে উড়ে আসা ক্রসে ইগর থিয়াগো ঠিকমতো লাফিয়ে উঠে হেড করতে পারেননি। এরপর আরও বেশ কয়েকটি আক্রমণ করে সেলেসাওরা। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯ মিনিটে প্রথম কর্নার পায় তারা। তবু গোল মেলেনি। উল্টো গোল করে মরক্কো।

২১ মিনিটে গোল করেন ইসমায়েল সাইবারি। মরক্কোর অর্ধ থেকে মিডফিল্ডে বল পান দিয়াজ। মার্কিনহোস আর গ্যাব্রিয়েলের মাঝ দিয়ে থ্রু বল দেন তিনি। বল ধরে সামনে এগিয়ে গোলকিপারের আমথার উপর দিয়ে বল জালে পাঠান সাইবারি।

বাঁ-প্রান্ত দিয়ে একাই বক্সে ঢুকে পায়ের কারিকুরিতে একজনকে কাটিয়ে ডান পায়ের দুর্দান্ত শটে গোল করেন ভিনি। জাতীয় দলের জার্সিতে এটি তার দশম গোল।

৩১ মিনিটে গোল শোধ করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বাঁ-প্রান্ত দিয়ে একাই বক্সে ঢুকে পায়ের কারিকুরিতে একজনকে কাটিয়ে ডান পায়ের দুর্দান্ত শটে গোল করেন ভিনি। জাতীয় দলের জার্সিতে এটি তার দশম গোল। বিশ্বকাপে দ্বিতীয় গোলের দেখা পেলেন ভিনি। এর আগের গোলটি করেছিলেন ২০২২ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে।

৩৭ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন ব্রাজিলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরো। ৪৩ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন ব্রাজিলের ডিফেন্ডার রজার ইবানেজ। প্রথমার্ধের যগোকরা সময়ে লুকাস পাকেতার গোলের চেষ্টা ডান দিকে ঝাপিয়ে পড়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন মরক্কোর গোলকিপার বুনো।

মরক্কোর বিপক্ষে শুরুর একাদশে দুই পরিবর্তন করে দ্বিতীয়ার্ধে খেলতে নামে ব্রাজিল। রজার ইবানেজের জায়গায় দানিলো এবং কাসেমিরোর জায়গায় ফাবিনিওকে নামান আনচেলত্তি। ইবানেজ এবং কাসেমিরো প্রথমার্ধে হলুদ কার্ড দেখেছিলেন।

৫২ মিনিটে ইগোর থিয়াগোর শট সেভ করেন বুনো। ৬১ মিনিটে পাকেতার বদলে মাথিয়াস কুনহাকে নামান ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। একই সময় ইগোর থিয়াগোর বদলে নামান লুইস হেনরিককে। চার মিনিট পর মরক্কোর কোচও আনেন দুই বদল। দুই মিডফিল্ডারকে বদলে একজন মিডফিল্ডার আর একজন ফরোয়ার্ড নামান তিনি।

৭১ মিনিটে সাইবারি গোলের জন্য ভালো একটি শট নিলেও অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৭৮ মিনিটে মাঠের বাঁ-প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে ঢুকে বক্সে বল দেন ভিনিসিয়ুস। রাফিনহার দুর্বল শট রুখে দেন মরক্কোর গোলকিপার। এ সময় পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা পান তিনি। তবে একটু পরই উঠে দাঁড়ান মরক্কান গোলকিপার। একটু পর আবার ব্যথা পান মরক্কোর গোলকিপার।

দুই দলই ম্যাচে পাঁচটি করে পরিবর্তন করেছে। ম্যাচের যোগকরা সময় দেওয়া হয় ১০ মিনিট। এই সময়টাতে ব্রাজিলের দাপটই দেখা গেছে বেশি। তবে গোল করতে পারেনি কোনো দলই।

ষষ্ঠ বিশ্বকাপ অর্থাৎ ‘হেক্সা’ জেতার লক্ষ্যে প্রথম ম্যাচেই পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হলো ব্রাজিলকে।

/টিই/