শিরোনাম

উজবেকিস্তানের বিপক্ষে কি ভাস্কর্য থেকে বেরিয়ে আসবেন আসল রোনালদো

উজবেকিস্তানের বিপক্ষে কি ভাস্কর্য থেকে বেরিয়ে আসবেন আসল রোনালদো

শচীন দেববর্মন, সঙ্গীতাঙ্গনে সবাই যাকে বড় কর্তা হিসেবে চেনে; তার একটি গান আছে এ রকম– তুমি আর নেই সে তুমি। এই গানে কোনো এক প্রেমিকের তার প্রেমিকার বদলে যাওয়া নিয়ে চরম আকুতি উঠে এসেছে। এবারের বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগালের ম্যাচটি দেখে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ভক্তদেরও ঠিক একই আকুতি হতে পারে। তারাও হয়তো বুকের ভেতরে হাহাকার নিয়ে বলে উঠেছেন– রোনালদো আর নেই সে রোনালদো!

আগের সেই রোনালদো, যিনি মাঠে কয়েক সেকেন্ডের জন্যও স্থির থাকতেন না। যে রোনালদো মাঠে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের পুতুল নাচের মতো নাচাতেন; সেই রোনালদোই কিনা ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে বলতে গেলে স্থাণুবৎ দাঁড়িয়ে ছিলেন। ম্যাচজুড়ে তিনি শুধু ডান উইংয়ে নড়াচড়া করেছেন আর কখনো কখনো বক্সে ঢুকেছেন। ৯০ মিনিট মাঠে থেকে রোনালদো বল স্পর্শ করেছেন মাত্র ২৫ বার। গোলে শট নেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনবার, যার একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। তিনটি শটই অবশ্য তিনি নিয়েছিলেন বক্সের ভেতর থেকে। শুধু তার ভক্তই নয়, সাধারণ ফুটবলপ্রেমী, যারা রোনালদোকে তার ক্যারিয়ারের শুরু থেকে অনুসরণ করে এসেছেন; তাদের বুকের হাপর থেকে অজান্তেই হয়তো বেরিয়ে এসেছে– আহারে রোনালদো!

ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগালের ম্যাচের পর ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ফুটবলার এবং বর্তমানে ধারাভাষ্যকার ও ফুটবল বিশ্লেষক অ্যালান শিয়ারার রোনালদোর সমালোচনা তো করেছেনই, একই সঙ্গে ধুয়ে দিয়েছেন কোচ রবার্তো মার্তিনেজকে। রোনালদোকে কেন মাঠ থেকে তিনি তুলে নিলেন না, এটাই ছিল শিয়ারারের প্রশ্ন।

কেউ কেউ তো বলছেন, রোনালদোকে এখন বুঝতে হবে আসলেই তার সময় শেষ। কবি পূর্ণেন্দু পত্রীর একটি কবিতার দুটি লাইন এ রকম– ‘সবচেয়ে দুর্ধর্ষতম বীরত্বেরও ঘাড়ে একদিন মৃত্যুর থাপ্পড় পড়ে/ সবচেয়ে রক্তপায়ী তলোয়ারও ভাঙে মরচে লেগে।’ বাংলা কবিতা রোনালদোর পড়ার কথা নয়। কিন্তু ইংরেজি পর্তুগিজ ভাষায়ও কেউ কি এই কথাগুলো রোনালদোকে বলেনি! কেউ কি তাকে মনে করিয়ে দেয়নি– নক্ষত্রেরও মৃত্যু আছে, মহাকাশ থেকে কত তারাই না ঝরে পড়ে!

ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে রোনালদোর এভাবে ম্লান হয়ে থাকা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে সমালোচনার ঝড় বইছে। রোনালদোকে নিয়ে সমালোচনা এর আগেও হয়েছে। সব সময়ই তিনি সেই সব সমালোচনার জবাব দিয়ে এসেছেন মাঠে। দেখা গেল একটি ম্যাচে তিনি আশানুরূপ ভালো খেলতে পারেনিন, তাকে সমালোচকেরা ধুয়ে দিয়েছে। পরের ম্যাচেই রোনালদো আবির্ভূত হয়েছেন সমহিমায়।

এবার কি রোনালদো পারবেন তাকে ঘিরে চলতে থাকা সমস্ত সমালোচনার জবাব দিতে? এর জন্য কোচ যদি তাকে আগামী পরশু উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে সুযোগ দেন, রোনালদোকে জ্বলে উঠতে হবে। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে যেভাবে ভাস্কর্যের মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন, সেটা করলে চলবে না। মানে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ভাস্কর্য থেকে বেরিয়ে আসতে হবে আসল রোনালদোকে। তিনি কি পারবেন?

/আরএ/