শিরোনাম

ধবল ধোলাই এড়ানোর ম্যাচে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১০৯

সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক
সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক
ধবল ধোলাই এড়ানোর ম্যাচে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১০৯
তানজিদ তামিম ও সাইফ হাসান

চট্টগ্রামে ধবল ধোলাই এড়ানোর ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়েও অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ের ফিফটিতে লজ্জার রেকর্ড থেকে মুক্তি পেয়েছে বাংলাদেশ। মাত্র ৩৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে দল টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বনিম্ন ৭০ রানে অলআউট হওয়ার শঙ্কায় ছিল। তখন দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে টাইগারদের উদ্ধার করেন অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১০৯ রান সংগ্রহ করেছে লাল-সবুজের দল।

এর আগে টসে জিতে শুরুতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তবে সাগরিকায় রানবন্যার পরিবর্তে শুরু থেকেই ডট বল আর উইকেট হারানোর মহড়ায় মাতেন স্বাগতিক ব্যাটাররা। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই দুর্ভাগ্যজনক রান আউটের শিকার হন ওপেনার তামিম। জনসনের বল সোজা খেলেছিলেন সাইফ হাসান, কিন্তু সেটি বোলারের হাতে লেগে নন-স্ট্রাইক প্রান্তের স্টাম্পে আঘাত করলে ক্রিজের সামান্য বাইরে থাকা তামিম বিদায় নেন। ব্যাটিং বিপর্যয়ের সেই শুরু, এরপর জনসনের ওভারের পঞ্চম বলে মিড অফে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাইফও। ৯ বল খেলে মাত্র ১ রান করা এই ওপেনার এশিয়া কাপ ও আফগানিস্তান সিরিজের পর টানা ব্যর্থতার বৃত্তেই আটকে রইলেন।

পাওয়ার প্লেতে রান তোলার চেয়ে ডট বল খেলতেই যেন বেশি ব্যস্ত ছিলেন ব্যাটাররা। তিনে নামা পারভেজ হোসেন ইমন নাথান এলিসের বলে ক্যাচ দেওয়ার আগে ১৩ বল খেলে করেন মাত্র ১ রান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে থাকার জন্য স্ট্রাইক রোটেশনের গুরুত্ব কতটা, তা এই বাঁহাতি ব্যাটার হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন। এ মন্থর ইনিংসে দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে অন্তত ১০ বল খেলা ব্যাটারদের মধ্যে সর্বনিম্ন স্ট্রাইকরেটের এক লজ্জার রেকর্ডও গড়েছেন ইমন। এর আগে ২০২১ সালে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১১ বলে ২ রান করে এ রেকর্ডের মালিক ছিলেন সৌম্য সরকার।

ইমনের বিদায়ের পর পঞ্চম ওভার শেষে ৩ উইকেট হারানো বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল মাত্র ১১ রান। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে নুরুল হাসান সোহান ও তাওহীদ হৃদয় বাউন্ডারি মেরে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার ইঙ্গিত দিলেও অস্ট্রেলীয় বোলিং তোপে তা স্থায়ী হয়নি। অষ্টম ওভারে অ্যাডাম জাম্পার নিচু হওয়া বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন দীর্ঘদিন পর দলে ফেরা সোহান। দলীয় ৩৪ রানে চতুর্থ উইকেট হারানোর পর শামীম পাটোয়ারীও হাল ধরতে ব্যর্থ হন। লেগ সাইডের বল খোঁচা মেরে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেওয়া শামীম আউট হন মাত্র ৩ রানে। সবশেষ চার ইনিংসে তার সংগ্রহ যথাক্রমে ০, ৭, ১ ও ৩ রান।

৩৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন হৃদয় ও রিশাদ হোসেন। তবে নিখিল চৌধুরীর বলে অনাকাঙ্ক্ষিত শট খেলে রিশাদ বিদায় নিলে এ জুটিও ভেঙে যায়। আউট হওয়ার আগে ১টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৪ বলে ১৬ রান করেন এই অলরাউন্ডার। শেষ দিকে অন্য ব্যাটারদের ব্যর্থতার মাঝেও অধিনায়ক হৃদয়ের একক লড়াইয়ে কোনোমতে শতরানের গণ্ডি পেরিয়ে সম্মানজনক এক পুঁজি পায় বাংলাদেশ।

/এমএকে/