শিরোনাম

ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে ডিবি পরিচয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক
সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক
ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে ডিবি পরিচয়ে নির্যাতনের অভিযোগ
জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসান। কোলাজ: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

ডিবি পরিচয়ে মারধর ও হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগে তুলেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসান। ঢাকা থেকে প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর হয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাড়ি ফেরার পথে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (১২ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে লালখানবাজার ফ্লাইওভারের মুখে ডিবির সোর্স ও পুলিশ সদস্যরা তাকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে শারীরিক নির্যাতন করে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে ২৬ বছর বয়সী জাতীয় দলের এ ক্রিকেটার জানান, ফ্লাইট বিলম্ব হওয়ায় রাতে বিমানবন্দর থেকে অটোরিকশা নিয়ে তিনি বাসায় ফিরছিলেন। লালখানবাজার এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ তার গাড়ি থামিয়ে চালকের কাগজপত্র চেক করতে শুরু করে। নাঈম নিজেই তখন পুলিশকে ব্যাগ তল্লাশি করার কথা বললে, আকস্মিকভাবে সাদা পোশাকে থাকা এক ব্যক্তি ও দুই পুলিশ সদস্য তার ওপর চড়াও হয়। তাকে গলা চিপে ধরে জোর করে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। নিজের ক্রিকেটার পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি আইডি কার্ড দেখানোর পরও তারা মারধর বন্ধ করেনি। উল্টো তাকে ‘আসামি’ আখ্যা দিয়ে পাইপ ও লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। স্থানীয় শতাধিক মানুষ জড়ো হয়ে তার পরিচয় নিশ্চিত করলেও হেনস্তা থেকে রেহাই মেলেনি। পরবর্তীতে তাকে খুলশি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

থানায় যাওয়ার পর মোবাইল ফোন হাতে পেয়ে নাঈম হাসান বিষয়টি বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালকে জানান। তামিম ইকবাল তাৎক্ষণিকভাবে খুলশি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে কথা বলেন এবং নাঈমের পরিবারকে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন। বর্তমানে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাসায় অবস্থান করছেন এ ক্রিকেটার। কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, একজন জাতীয় দলের খেলোয়াড় হয়েও যেখানে তিনি নিরাপদ নন, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? তিনি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।

এই বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আমিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, চোরাচালান সংক্রান্ত একটি তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সদস্যরা সেখানে অভিযানে গিয়েছিলেন। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি যথাযথ নিয়ম মেনে হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পুলিশিং প্রক্রিয়ায় কাউকে মারধর করার কোনো সুযোগ নেই। পুলিশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে। অপরাধী যেই হোক না কেন, ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুযায়ী কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এমএকে/